বিরল এক সম্মান, মর্যাদাপূর্ণ বিএমএ ‘হল অব ফেম’ এ অভিষিক্ত নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান
বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) গৌরবমণ্ডিত ‘হল অব ফেম’। বিএমএ থেকে প্রশিক্ষণ ও কমিশনপ্রাপ্ত যেসব কর্মকর্তা নিজ নিজ বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হন তাঁদের প্রতিকৃতিসহ কৃতিত্বপূর্ণ কর্মময় জীবনের আলোকোজ্জ্বল সারসংক্ষেপ সংযোজিত হয় ‘হল অব ফেম’ এ। ইতোপূর্বে এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন মাত্র ৭জন সেনাবাহিনী প্রধান। এবার এই বর্ণিল তালিকায় অভিষিক্ত হয়েছেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর উপস্থিতিতে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ)-তে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে তাঁরা গৌরবমণ্ডিত ‘হল অব ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত হন।
‘হল অব ফেম’ এর সূচনা হওয়ার পর এই পর্যন্ত ৭ জন সেনাপ্রধান এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। তাঁরা হলেন- জেনারেল (অব:) মঈন ইউ আহমেদ, জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ আবদুল মুবীন, জেনারেল (অব:) ইকবাল করিম ভূঁইয়া, জেনারেল (অব:) আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, জেনারেল (অব:) আজিজ আহমেদ ও জেনারেল (অব:) এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গত বছরের সোমবার (১১ নভেম্বর) সপ্তম সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হন।

প্রথম কোন নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে যথাক্রমে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবার এই বিরল সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে বিএমএ এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা। স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত এই মুহুর্তটিতে নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানের সঙ্গে তাদের সহধর্মিণীগণও উপস্থিত ছিলেন।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ‘হল অব ফেম’ হলো একটি ঐতিহ্যগত সর্বোচ্চ সম্মাননা, যা কোন নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ কোন ব্যক্তিকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনের অধিকারী নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান ১৩তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সঙ্গে ১৯৮৪ সালে দ্বিতীয় যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণে (জয়েন্ট সার্ভিস ট্রেনিং) বিএমএ’তে অংশগ্রহণ করেন। আইএসপিআর আরও জানায়, ১০ সপ্তাহের যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে বাহিনী প্রধানগণ নিজ নিজ একাডেমি থেকে ১৯৮৬ সালে কমিশন লাভ করেন।
জানা যায়, পরবর্তীতে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই ১৭তম নৌবাহিনী প্রধান এবং এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ২০২৪ সালের ১১ জুন ১৭তম বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। গভীর দেশপ্রেম, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা, উন্নত রুচিবোধ ও পরিণতবোধের এক নবদ্যুতির আলোকে অসাধারণ সৃজনক্ষমতায় এক নিরন্তর গতিপ্রবাহকেই সন্নিবেশিত করেছেন দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিভূ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক দেশপ্রেমিক নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর এই দুই প্রধান।

অনুষ্ঠানে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল খন্দকার মোহাম্মদ শাহিদুল এমরান, চা বোর্ড চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদসহ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন ও বিভিন্ন পদবীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এমএএএমকে



আপনার মতামত লিখুন
Array