খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

প্রধান উপদেষ্টার দূরদর্শী কূটনীতির সাফল্য, কাতারের সশস্ত্র বাহিনীতে দক্ষ জনবল পাঠানোর নতুন দ্বার উন্মোচন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রধান উপদেষ্টার দূরদর্শী কূটনীতির সাফল্য, কাতারের সশস্ত্র বাহিনীতে দক্ষ জনবল পাঠানোর নতুন দ্বার উন্মোচন

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো: 

প্রায় ৭ মাস আগে আর্থনা (আমাদের পৃথিবী) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কাতার সফর করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিলেও সফরকালে কাতারের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। এই সফরের মধ্যে দিয়েই নির্ধারিত হয় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী থেকে কাতার সশস্ত্র বাহিনীতে জনবল নিয়োগের বিষয়টি। দেশটির বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নেওয়ার সুসংবাদ ওই সময়ই দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শুধু ছিল অধীর অপেক্ষা। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রেষণে জনবল নিয়োগ সম্পর্কিত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) কাতারের দোহায় এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান ও কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (পাইলট) জাসিম বিন মোহাম্মদ আল মান্নাই এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হজরত আলী খান, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য ও দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ও আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কাতারের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রেষণে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে প্রাথমিকভাবে আনুমানিক ৮০০ জনকে কাতারে পাঠানো হবে এবং ভবিষ্যতে এই জনবলের সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর যেসব সদস্যকে কাতারে পাঠানো হবে, তাঁরা প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন। তাঁদের কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে নিয়োগের মেয়াদ ছয় বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে।

এই চুক্তির ফলে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীতে দক্ষ জনবল পাঠানোর নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো উল্লেখ করে প্রেস উইং বলেছে, এতে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সদস্যরা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন এবং বাংলাদেশ সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সমর্থ হবে। প্রেস উইং জানিয়েছে, কাতারে এই সফরকালে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান কাতার সরকার, সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক শিল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দূরদর্শিতার দৌলতেই এমন সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কাতার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ঘনিষ্ঠতাও এই দক্ষ জনবল নিয়োগের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেওয়ার পেছনে অন্যতম নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছে। মুসলিম বন্ধুপ্রতিম দু’টি দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ও পরিশ্রমের অনন্য এক স্বীকৃতি হিসেবেও এই বিষয়কে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে সৈনিকদের জীবনযাত্রার সার্বিক মানের সঙ্গেই বাংলাদেশেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়বে।

কাতারের আগে কুয়েতেও দেশটিকে মাইনমুক্ত ও পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সেখানে সাহসিকতার সাথে ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজ করে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে গর্বিত সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। এ কারণে গোটা কুয়েতেই বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, সাহস, নৈতিক মনোবল আর আত্মত্যাগকে বিশেষ মর্যাদায় দেখা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পারস্পরিক কল্যাণে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাওয়া বাংলাদেশ ও কাতার সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার সুস্পর্ক আরও জোরদার হয় চলতি বছরের এপ্রিলে প্রধান উপদেষ্টার কাতার সফরের মধ্যে দিয়ে। ওই সময় ড.ইউনূস কাতার সরকারের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টার সেই সফর ও ফলপ্রসূ কূটনীতির ফলে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও কাতার সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষর ত্বরান্বিত হয়েছে বলে মনে করছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

কালের আলো/এমএএএমকে

আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকত না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল টিকে থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার সাহস বা ইচ্ছা অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জড়িত না হলে ইসরায়েল অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত।’

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তার মতে, বৈরুতে ইসরাইলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ভালো। তবে লেবানন ইস্যুতে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আরও সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কিন্তু এখন লেবাননের বিষয়ে তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘একসময় লেবানন ছিল একটি মহান দেশ। সেখানে অসংখ্য অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবী ছিলেন। অনেক মেধাবী মানুষ লেবাননে বাস করতেন। কিন্তু এখন দেশটির অবস্থা খুবই খারাপ।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামলার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিস্মিত হন। কারণ এর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে আক্রমণ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি খুবই খারাপ ছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমাদের চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এটি ঘটেছে।’

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘বিবিকে কেন এই জঘন্য হামলাটি করতে হলো? আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম এবং তাকে তা জানিয়েছি।’

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির অন্যতম শর্ত হবে লেবাননের যেসব এলাকা চলমান সংঘাতের সময় ইসরায়েল দখল করেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার।

আরাঘচির ভাষ্য, ‘যুদ্ধ চলাকালে দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে না যাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।’

তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই। এদিকে নেতানিয়াহুও বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরাইল দীর্ঘ সময় লেবাননে অবস্থান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৪ বছর পর মাঠে নামল সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই অঘটনের স্মৃতি অনুপ্রাণিত রেখেছিল তাদের। প্রথমার্ধে তারাই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারল না। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য।

নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

গত দুইবারের ফাইনালিস্ট কোনো ধরনের অঘটনে না পড়তে চাইলে দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি