প্রধান উপদেষ্টার দূরদর্শী কূটনীতির সাফল্য, কাতারের সশস্ত্র বাহিনীতে দক্ষ জনবল পাঠানোর নতুন দ্বার উন্মোচন
বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রায় ৭ মাস আগে আর্থনা (আমাদের পৃথিবী) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কাতার সফর করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিলেও সফরকালে কাতারের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। এই সফরের মধ্যে দিয়েই নির্ধারিত হয় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী থেকে কাতার সশস্ত্র বাহিনীতে জনবল নিয়োগের বিষয়টি। দেশটির বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নেওয়ার সুসংবাদ ওই সময়ই দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শুধু ছিল অধীর অপেক্ষা। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রেষণে জনবল নিয়োগ সম্পর্কিত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) কাতারের দোহায় এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান ও কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (পাইলট) জাসিম বিন মোহাম্মদ আল মান্নাই এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হজরত আলী খান, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য ও দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ও আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কাতারের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রেষণে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে প্রাথমিকভাবে আনুমানিক ৮০০ জনকে কাতারে পাঠানো হবে এবং ভবিষ্যতে এই জনবলের সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর যেসব সদস্যকে কাতারে পাঠানো হবে, তাঁরা প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন। তাঁদের কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে নিয়োগের মেয়াদ ছয় বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে।
এই চুক্তির ফলে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীতে দক্ষ জনবল পাঠানোর নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো উল্লেখ করে প্রেস উইং বলেছে, এতে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সদস্যরা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন এবং বাংলাদেশ সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সমর্থ হবে। প্রেস উইং জানিয়েছে, কাতারে এই সফরকালে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান কাতার সরকার, সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক শিল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দূরদর্শিতার দৌলতেই এমন সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কাতার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ঘনিষ্ঠতাও এই দক্ষ জনবল নিয়োগের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেওয়ার পেছনে অন্যতম নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছে। মুসলিম বন্ধুপ্রতিম দু’টি দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ও পরিশ্রমের অনন্য এক স্বীকৃতি হিসেবেও এই বিষয়কে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে সৈনিকদের জীবনযাত্রার সার্বিক মানের সঙ্গেই বাংলাদেশেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়বে।
কাতারের আগে কুয়েতেও দেশটিকে মাইনমুক্ত ও পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সেখানে সাহসিকতার সাথে ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজ করে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে গর্বিত সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। এ কারণে গোটা কুয়েতেই বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, সাহস, নৈতিক মনোবল আর আত্মত্যাগকে বিশেষ মর্যাদায় দেখা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পারস্পরিক কল্যাণে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাওয়া বাংলাদেশ ও কাতার সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার সুস্পর্ক আরও জোরদার হয় চলতি বছরের এপ্রিলে প্রধান উপদেষ্টার কাতার সফরের মধ্যে দিয়ে। ওই সময় ড.ইউনূস কাতার সরকারের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টার সেই সফর ও ফলপ্রসূ কূটনীতির ফলে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও কাতার সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষর ত্বরান্বিত হয়েছে বলে মনে করছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
কালের আলো/এমএএএমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array