খুঁজুন
                               
, ,
           

দৃঢ় ও অবিচল সশস্ত্র বাহিনী সমুন্নত রেখেছে দেশের গৌরব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
দৃঢ় ও অবিচল সশস্ত্র বাহিনী সমুন্নত রেখেছে দেশের গৌরব

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

পরাধীনতার বৃত্ত ভেঙে স্বাধীনতার আলোয় আলোকিত হতে চেয়েছিল বীরের জাতি বাঙালি। স্বাধীনতাপ্রিয় বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ বছরের মুক্তির সংগ্রাম নানা বাঁক ও পথ পেরিয়ে অবশেষে খুঁজে পেয়েছিল সাফল্যের মোহন ঠিকানা। মহান স্বাধীনতার চিরভাস্বর সূর্য উদয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালেই ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। প্রবল প্রদীপ্ত আন্দোলনের জোয়ারে সেই সময় দেশপ্রেমী সশস্ত্র বাহিনীর হৃদয়েও আঁকা হয় একটি লাল-সবুজ পতাকা। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের ছবি। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যৌথভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করেন। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সৈনিকরা অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করে হাজারো মুক্তিযোদ্ধাকে। আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় হানাদাররা। ৯ মাসের গণযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর উড়েছিল বিজয় নিশান। অভ্যুদয় ঘটেছিল বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের।

সেই থেকে ২১ নভেম্বর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এক বিশেষ গৌরবময় দিন। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অসামান্য আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাঁথা বাঙালি জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গেই স্মরণ করে। মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায় প্রতিবছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। এবারও যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করা হবে স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী সশস্ত্র বাহিনীর বীর সন্তানদের। মুক্তিযুদ্ধের রোমাঞ্চকর ও চাঞ্চল্যময় দিনগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বাঙালি সেনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। প্রথম ইস্ট বেঙ্গল যশোর সেনানিবাস, দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল জয়দেবপুর, তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল সৈয়দপুর, চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল কুমিল্লা ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল চট্টগ্রাম বিদ্রোহ করে এবং সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। এই পর্যায়ে সুসংহত ও সমন্বিত যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় ত্বরান্বিত করার প্রয়াসে গঠন করা হয় এস ফোর্স, জেড ফোর্স ও কে ফোর্স নামে সেনাবাহিনীর নিয়মিত তিনটি ব্রিগেড। যুদ্ধে গোলন্দাজ সহায়তা প্রদানের জন্য মুক্তিযোদ্ধার সময় গঠিত হয় রওশন আরা ব্যাটারি ও স্বতন্ত্র রকেট ব্যাটারি। নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সারাদেশজুড়ে কিলো ফ্লাইট ও অপারেশন জ্যাকপটের মতো অপারেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী দেশের আপামর জনসাধারণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয় লাভ করে।

  • সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা দখলদারদের বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করেন
  • সশস্ত্র বাহিনীর সূর্য সন্তানেরা দেশের প্রতিটি সঙ্কটে শেষ ভরসা
  • শান্তির অনন্য দূত বাংলাদেশ, বিশ্ব শান্তিরক্ষায় দেশটির নাম আজ সর্বজনবিদিত

সশস্ত্র বাহিনীর সূর্য সন্তানেরা দেশের প্রতিটি সঙ্কটে শেষ ভরসা। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনেও প্রভাবকের ভূমিকা পালন করে দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সেদিনের মহাসঙ্কট ও সন্ধিক্ষণে দৃঢ়তা ও শুদ্ধতার সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দেশপ্রেমের শ্বাশ্বস প্রেরণা ও অবিনাশী চেতনায় তাদের সেদিনের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন স্বয়ং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসও। বুধবার (১৯ নভেম্বর) মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে ডিএসসিএসসি-২০২৫-এর গ্র্যাজুয়েশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সৌভাগ্যবান দেশ যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রধানদের নেতৃত্বে দেশের মানুষের পক্ষে প্রতিশ্রুত ছিল। যার কারণে বিগত শাসনের অবসান দ্রুত হয়েছে।’ এছাড়া চলতি বছরের সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, শিল্প-কারখানায় নিরাপত্তা প্রদানসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র উদ্ধারসহ সব কার্যক্রমে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের জন্য আমি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই।’

‘আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যগণ অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে চলেছেন। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও প্রশংসনীয় করেছে। আমি আশা করি ভবিষ্যতেও এই ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। দেশের সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্বিপাকের সময় সশস্ত্র বাহিনীর বলিষ্ঠ ভূমিকা এই বাহিনীকে জাতির আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে’-সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এমনটিই বলেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।

বাস্তবিক অর্থেই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এর বলিষ্ঠ ও প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী শক্তিশালী ও পেশাদার এক বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জাতির যেকোন সঙ্কটে সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্য সর্বদা প্রস্তুত। বিভিন্ন সময়ে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে অত্যাধুনিক সাজোয়া যান ও গোলন্দাজ কোরে মাঝারি ও দূরপাল্লার এমএলআরএস রেজিমেন্ট। আকাশ বিধ্বংসী ভি-শোরাড ও সর্বাধুনিক অরলিকন গান ও মিসাইল সিস্টেম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষায় সূচিত হয়েছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। অত্যাধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও সিগন্যাল সরঞ্জামাদি ছাড়াও বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র, হেলিকপ্টার, ইউএসবি, মডার্ন ইনফ্রেন্টি গেজেট, ট্যাংক এমবিটি ২০০০, এমএলআরএস, এপিসি, এসপি গান, এফএম ৯০ মিসাইলসহ আরও নানাববিধ অস্ত্র সরঞ্জামাদি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংযুক্ত হয়েছে।

বীর বাঙালির রক্তস্নাত স্বাধীনতার মূল্যবোধে জাগ্রত নৌবাহিনী আজ একটি সক্ষম, সুশৃঙ্খল ও মানসম্পন্ন বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। নৌবাহিনীতে অনেক আগেই সংযোজিত হয়েছে দুটি আধুনিক সাবমেরিন, বানৌজা নবযাত্রা ও জয়যাত্রা। আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ জাহাজ, ফ্রিগেট, কর্ভেট, নার্জ প্যাট্রল ক্রাফট, পেট্রোল ক্রাফট ও বিশেষ নৌ কমান্ডো দল সোয়াডস। এছাড়া সমুদ্রে জরুরি উদ্ধার ও টহল পরিচালনার জন্য নৌ বহরে অন্তভূর্ক্ত হয়েছে মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার সুবিধা সম্বলিত নেভাল এভিয়েশন। নিজস্ব প্রযুক্তির ড্রোন, জাহাজসমূহের আধুনিক ইলেকট্রনিক্স সিস্টেম, যোগাযোগ সরঞ্জামাদি, সাইবার নিরাপত্তা এবং আধুনিক নৌ প্রযুক্তি সংযোজন ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

স্বাধীনতা অর্জনের পর পরই অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিগ-২১ যুদ্ধবিমানসহ হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান, এয়ার ডিফেন্স রাডার ইত্যাদি বিমান বাহিনীতে সংযোজন করা হয়। এরই মাধ্যমে এই দেশে একটি আধুনিক বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। বিভিন্ন সময়ে বিমানবাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক মাল্টিরোল কমবেট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), অ্যাটাক হেলিকপ্টার, মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল (এমএসএএম) ও লং রেঞ্জ রাডারস অন্তর্ভূক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় ও অবিচল সশস্ত্র বাহিনী প্রতিটি দুর্যোগে-দুর্বিপাকে-সঙ্কটে সবার আগে এগিয়ে এসে সমুন্নত রেখেছে দেশের গৌরব।

শান্তির অনন্য দূত বাংলাদেশ। বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের নাম আজ সর্বজনবিদিত। বাংলাদেশ আজ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১২২টি দেশের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হবার বিরল গৌরব অর্জন করেছে। গত তিন দশকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের ৪০টি দেশের ৫৫টি শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ গ্রহণ করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলায় যোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং বা বিপসট আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শান্তিরক্ষী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েনের পূর্বে সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিরক্ষীরা প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ে বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী শান্তিরক্ষীদের অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদিতে সজ্জিত করে মিশন এলাকায় মোতায়েন করা হয়। অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদিতে সজ্জিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শান্তরক্ষীদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আভিযানিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিরক্ষীরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে দিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

 

একদিনে হামের উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
একদিনে হামের উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি সেপ্টেম্বর মাসের সর্বোচ্চ।

এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭০ জন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০৭৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০১ জন এবং হাম সন্দেহে ৯৭৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে মারা যাওয়াদের মধ্যে ছয়জন ঢাকা বিভাগের। এর মধ্যে পাঁচজনই ঢাকার দুই সিটির বাসিন্দা।

এছাড়া মৃতদের মধ্যে সিলেটের একজন, চট্টগ্রামের দুজন, খুলনার একজন এবং রংপুরের একজন রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন মৃত্যুর বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বরের চারটি অপ্রকাশিত মৃত্যু আজকের রিপোর্টে যোগ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন আরও বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১১৩ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগী ১ হাজার ১৫৭ জন।

এ নিয়ে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার ৩০০। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ২০ হাজার ৮৫১ এবং সন্দেহজনক হাম রোগী ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জন।

এছাড়া চলতি বছরে মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ২০০ ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ২০০ ছাড়াল

ভয়ানক হয়ে ওঠা ডেঙ্গু জ্বরে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন।

এই সময়ের মধ্যে রোগটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬৮ জন।

এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে হয়ে গেল ২০১ জন। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গু বিষয়ক বিশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এদিন আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৮৭২ জন, যা চলতি বছরে সর্বোচ্চ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

অনির্দিষ্টকাল ধরে রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব কেবল বাংলাদেশের ওপর বহন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তার উদারতা কখনোই রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য শরণার্থী শিবিরগুলো আদর্শ নয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাও কমছে। ২০২৬ সালের জন্য সহায়তার আবেদন কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি।

তিনি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ ভূমিতে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রথমত, দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণ ও রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধ করে নিজ ভূমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইসিজে ও আইসিসিসহ আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্তব্যবস্থাকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

পঞ্চমত, মাদক, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্রসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। বাংলাদেশ মানবিকতার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করেছে; এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ যেন নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির গল্প না হয়ে ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও আশার গল্প হয়—এ লক্ষ্যে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/এমএসআইপি