খুঁজুন
                               
, ,
           

দৃঢ় ও অবিচল সশস্ত্র বাহিনী সমুন্নত রেখেছে দেশের গৌরব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
দৃঢ় ও অবিচল সশস্ত্র বাহিনী সমুন্নত রেখেছে দেশের গৌরব

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

পরাধীনতার বৃত্ত ভেঙে স্বাধীনতার আলোয় আলোকিত হতে চেয়েছিল বীরের জাতি বাঙালি। স্বাধীনতাপ্রিয় বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ বছরের মুক্তির সংগ্রাম নানা বাঁক ও পথ পেরিয়ে অবশেষে খুঁজে পেয়েছিল সাফল্যের মোহন ঠিকানা। মহান স্বাধীনতার চিরভাস্বর সূর্য উদয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালেই ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। প্রবল প্রদীপ্ত আন্দোলনের জোয়ারে সেই সময় দেশপ্রেমী সশস্ত্র বাহিনীর হৃদয়েও আঁকা হয় একটি লাল-সবুজ পতাকা। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের ছবি। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যৌথভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করেন। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সৈনিকরা অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করে হাজারো মুক্তিযোদ্ধাকে। আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় হানাদাররা। ৯ মাসের গণযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর উড়েছিল বিজয় নিশান। অভ্যুদয় ঘটেছিল বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের।

সেই থেকে ২১ নভেম্বর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এক বিশেষ গৌরবময় দিন। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অসামান্য আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাঁথা বাঙালি জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গেই স্মরণ করে। মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায় প্রতিবছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। এবারও যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করা হবে স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী সশস্ত্র বাহিনীর বীর সন্তানদের। মুক্তিযুদ্ধের রোমাঞ্চকর ও চাঞ্চল্যময় দিনগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বাঙালি সেনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। প্রথম ইস্ট বেঙ্গল যশোর সেনানিবাস, দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল জয়দেবপুর, তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল সৈয়দপুর, চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল কুমিল্লা ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল চট্টগ্রাম বিদ্রোহ করে এবং সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। এই পর্যায়ে সুসংহত ও সমন্বিত যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় ত্বরান্বিত করার প্রয়াসে গঠন করা হয় এস ফোর্স, জেড ফোর্স ও কে ফোর্স নামে সেনাবাহিনীর নিয়মিত তিনটি ব্রিগেড। যুদ্ধে গোলন্দাজ সহায়তা প্রদানের জন্য মুক্তিযোদ্ধার সময় গঠিত হয় রওশন আরা ব্যাটারি ও স্বতন্ত্র রকেট ব্যাটারি। নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সারাদেশজুড়ে কিলো ফ্লাইট ও অপারেশন জ্যাকপটের মতো অপারেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী দেশের আপামর জনসাধারণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয় লাভ করে।

  • সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা দখলদারদের বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করেন
  • সশস্ত্র বাহিনীর সূর্য সন্তানেরা দেশের প্রতিটি সঙ্কটে শেষ ভরসা
  • শান্তির অনন্য দূত বাংলাদেশ, বিশ্ব শান্তিরক্ষায় দেশটির নাম আজ সর্বজনবিদিত

সশস্ত্র বাহিনীর সূর্য সন্তানেরা দেশের প্রতিটি সঙ্কটে শেষ ভরসা। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনেও প্রভাবকের ভূমিকা পালন করে দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সেদিনের মহাসঙ্কট ও সন্ধিক্ষণে দৃঢ়তা ও শুদ্ধতার সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দেশপ্রেমের শ্বাশ্বস প্রেরণা ও অবিনাশী চেতনায় তাদের সেদিনের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন স্বয়ং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসও। বুধবার (১৯ নভেম্বর) মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে ডিএসসিএসসি-২০২৫-এর গ্র্যাজুয়েশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সৌভাগ্যবান দেশ যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রধানদের নেতৃত্বে দেশের মানুষের পক্ষে প্রতিশ্রুত ছিল। যার কারণে বিগত শাসনের অবসান দ্রুত হয়েছে।’ এছাড়া চলতি বছরের সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, শিল্প-কারখানায় নিরাপত্তা প্রদানসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র উদ্ধারসহ সব কার্যক্রমে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের জন্য আমি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই।’

‘আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যগণ অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে চলেছেন। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও প্রশংসনীয় করেছে। আমি আশা করি ভবিষ্যতেও এই ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। দেশের সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্বিপাকের সময় সশস্ত্র বাহিনীর বলিষ্ঠ ভূমিকা এই বাহিনীকে জাতির আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে’-সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এমনটিই বলেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।

বাস্তবিক অর্থেই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এর বলিষ্ঠ ও প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী শক্তিশালী ও পেশাদার এক বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জাতির যেকোন সঙ্কটে সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্য সর্বদা প্রস্তুত। বিভিন্ন সময়ে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে অত্যাধুনিক সাজোয়া যান ও গোলন্দাজ কোরে মাঝারি ও দূরপাল্লার এমএলআরএস রেজিমেন্ট। আকাশ বিধ্বংসী ভি-শোরাড ও সর্বাধুনিক অরলিকন গান ও মিসাইল সিস্টেম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষায় সূচিত হয়েছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। অত্যাধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও সিগন্যাল সরঞ্জামাদি ছাড়াও বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র, হেলিকপ্টার, ইউএসবি, মডার্ন ইনফ্রেন্টি গেজেট, ট্যাংক এমবিটি ২০০০, এমএলআরএস, এপিসি, এসপি গান, এফএম ৯০ মিসাইলসহ আরও নানাববিধ অস্ত্র সরঞ্জামাদি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংযুক্ত হয়েছে।

বীর বাঙালির রক্তস্নাত স্বাধীনতার মূল্যবোধে জাগ্রত নৌবাহিনী আজ একটি সক্ষম, সুশৃঙ্খল ও মানসম্পন্ন বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। নৌবাহিনীতে অনেক আগেই সংযোজিত হয়েছে দুটি আধুনিক সাবমেরিন, বানৌজা নবযাত্রা ও জয়যাত্রা। আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ জাহাজ, ফ্রিগেট, কর্ভেট, নার্জ প্যাট্রল ক্রাফট, পেট্রোল ক্রাফট ও বিশেষ নৌ কমান্ডো দল সোয়াডস। এছাড়া সমুদ্রে জরুরি উদ্ধার ও টহল পরিচালনার জন্য নৌ বহরে অন্তভূর্ক্ত হয়েছে মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার সুবিধা সম্বলিত নেভাল এভিয়েশন। নিজস্ব প্রযুক্তির ড্রোন, জাহাজসমূহের আধুনিক ইলেকট্রনিক্স সিস্টেম, যোগাযোগ সরঞ্জামাদি, সাইবার নিরাপত্তা এবং আধুনিক নৌ প্রযুক্তি সংযোজন ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

স্বাধীনতা অর্জনের পর পরই অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিগ-২১ যুদ্ধবিমানসহ হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান, এয়ার ডিফেন্স রাডার ইত্যাদি বিমান বাহিনীতে সংযোজন করা হয়। এরই মাধ্যমে এই দেশে একটি আধুনিক বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। বিভিন্ন সময়ে বিমানবাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক মাল্টিরোল কমবেট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), অ্যাটাক হেলিকপ্টার, মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল (এমএসএএম) ও লং রেঞ্জ রাডারস অন্তর্ভূক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় ও অবিচল সশস্ত্র বাহিনী প্রতিটি দুর্যোগে-দুর্বিপাকে-সঙ্কটে সবার আগে এগিয়ে এসে সমুন্নত রেখেছে দেশের গৌরব।

শান্তির অনন্য দূত বাংলাদেশ। বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের নাম আজ সর্বজনবিদিত। বাংলাদেশ আজ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১২২টি দেশের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হবার বিরল গৌরব অর্জন করেছে। গত তিন দশকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের ৪০টি দেশের ৫৫টি শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ গ্রহণ করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলায় যোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং বা বিপসট আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শান্তিরক্ষী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েনের পূর্বে সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিরক্ষীরা প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ে বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী শান্তিরক্ষীদের অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদিতে সজ্জিত করে মিশন এলাকায় মোতায়েন করা হয়। অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদিতে সজ্জিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শান্তরক্ষীদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আভিযানিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিরক্ষীরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে দিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

 

বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

গত জুন মাসজুড়ে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান ও পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলামী এতথ্য নিশ্চিত করেন।

জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৫ কেজি ৫৯২ গ্রাম স্বর্ণ, ১ হাজার ৮১৫টি শাড়ি, ৩ হাজার ২৫২টি থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল, ৯ হাজার ৫৫১টি তৈরি পোশাক, ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৮টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৩ পিস আতশবাজি, ৭ হাজার ৪৬৪ ঘনফুট কাঠ, ৭ হাজার ৩১৬ কেজি চা পাতা, ৪ হাজার ২৭০ কেজি সুপারি, ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ কেজি কয়লা, ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৮ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৪৯৭টি মোবাইল, ১ হাজার ৮৬৫পিস মোবাইলের ডিসপ্লে, ৪১ হাজার ১৬২ পিস মোবাইলের যন্ত্রাংশ, ১৫ হাজার ৫৬ পিস ইলেকট্রিক সামগ্রী, ২২ হাজার ৬১২টি চশমা, ৫২ হাজার ৭৩৬ কেজি জিরা, ৪ হাজার ২৮৫ কেজি রসুন, ১৮ হাজার ৭৯৮ কেজি চিনি, ১০ হাজার ২২৪ কেজি সার, ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৯ পিস চিংড়ি মাছের পোনা, ৩ হাজার ২৮২ লিটার ভোজ্যতেল/ডিজেল/অকটেন/পেট্রোল/মবিল, ২ হাজার ২৭৬ প্যাকেট কীটনাশক, ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪১৯ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, ৬৯৪ কেজি বিভিন্ন প্রকার বীজ, ১ হাজার ২৩৯ পিস যানবাহন যন্ত্রাংশ, ১১টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান, ৫টি পিকআপ ভ্যান, ৩টি প্রাইভেটকার/বাস, ৩টি ট্রাক্টর, ২০টি ট্রলি/মাইক্রোবাস, ৬৮টি সিএনজি/ইজিবাইক/ অটোরিকশা, ৩৫টি মোটরসাইকেল ও ৫৩টি বাইসাইকেল/ভ্যান।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ৮টি দেশি/বিদেশি পিস্তল, ১টি রাইফেল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৬৩০ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি মাইন, ৬টি গ্রেনেড ও ৬টি অন্যান্য অস্ত্র।

এ ছাড়া গত মাসে বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২ পিস ইয়াবা, ১৮ কেজি ১৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৬০৭ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৪২২ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৮ বোতল বিদেশি মদ, ৩৯৫ লিটার বাংলা মদ, ৩ হাজার ২৬৮ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৭১০ কেজি ৪৭০ গ্রাম গাঁজা, ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ২৪ হাজার ২০১ বোতল বিভিন্ন প্রকার সিরাপ ও ৮২ হাজার ৭১৫ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ/ট্যাবলেট।

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১২ জন চোরাচালানি এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক, একজন ভারতীয় নাগরিক ও ২৮৪ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু অক্টোবরে, রোডম্যাপ করছে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু অক্টোবরে, রোডম্যাপ করছে ইসি

আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য রোডম্যাপ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এরইমধ্যে রোডম্যাপ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিল আসার ব্যাপারে জনগণের অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে খাদ্য চাষ এবং সংরক্ষণ পর্যায়ে খাদ্যপণ্যে অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দেশের খাদ্য ব্যবসায়ীদের ডাটা সংগ্রহ করে একটি তথ্য ভান্ডার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সচেতন করার পাশাপাশি, অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাভারে এনসিপির জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত হবে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এর সঙ্গে জড়িতদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তির বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাই নিয়ে কটূক্তি করা, মন্তব্য করা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে আইনি কাঠামো অনুযায়ী এটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। এসব মন্তব্য ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে গণ্য করা হবে কিনা সেই আলোচনা চলতে পারে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা কাটেনি, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ
উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা কাটেনি, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল

স্থল নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার আভাস থাকলেও উপকূলে ঝড়ের আশঙ্কা কাটেনি। তাই সব সমুদ্রবন্দরে বহাল তিন নম্বর সংকেত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পূর্ব মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এই অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন