খুঁজুন
                               
, ,
           

সেনাকুঞ্জে নক্ষত্রের মেলা, উৎসবমুখর নির্বাচন করতে সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
সেনাকুঞ্জে নক্ষত্রের মেলা, উৎসবমুখর নির্বাচন করতে সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, সেনাকুঞ্জ থেকে ফিরে

ঝা চকচকে মঞ্চ। লাল গালিচায় পা মাড়িয়ে যাচ্ছেন প্রত্যেকেই। জাঁকজমক চারিদিকে। বর্ণিল সাজে সুসজ্জিত ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের সেনাকুঞ্জ। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। দেশবরেণ্য রাজনীতিক, খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান থেকে শুরু করে কে ছিলেন না অনন্য আয়োজনটিতে? বিভিন্ন শ্রেণী পেশার উজ্জ্বল সব নক্ষত্রের উপস্থিতি। তাদের মহাসম্মিলনে গোটা অনুষ্ঠান হয়ে ওঠলো আরও রঙিন। অবারিত আনন্দের এক ফল্গুধারা। যেন সব নক্ষত্রকে একীভূত করেছে দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী।

আলোকোজ্জ্বল অনুষ্ঠানটি ছিল চমকে ঠাসা। এক বছর পর আবারও সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেনাকুঞ্জে এসেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া; প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পাশের আসনে বসে তিনি উপভোগ করলেন সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল কুশল বিনিময় মন ছুঁয়েছে সবার। অনুষ্ঠানে যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা। অতিথিদের একে অপরের সঙ্গে সাধ মিটিয়ে ছবি তোলার দৃশ্যও নজর কেড়েছে। ভালো লাগা আর আনন্দের নির্যাস নিতে ভুলেননি কেউই। সেনাকুঞ্জে আয়োজিত বৈকালিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস উৎসবমুখর নির্বাচন করতে সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর করতে’ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মঞ্চে আসার পর বিউগলে জাতীয় সংগীতের সুর বেজে উঠে। পরে ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন আমন্ত্রিত অতিথি ও দর্শনার্থীরা। আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা যখন বক্তব্য শুরু করেন তখন তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। বক্তব্যের পর চা চক্র পর্বে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধান উপদেষ্টা।

নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা করব
ড.মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা শিগগিরই একটা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি। নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা করব। সেটিই আমাদের স্বপ্ন। নির্বাচন যেন সুন্দর, আনন্দমুখর, উৎসবমুখর হয়, সুন্দর যাত্রাপথ রওনা করে দিতে পারে, সেটার জন্য আমরা সবাই চেষ্টা করব। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আসন্ন নির্বাচন একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসাবে ভূমিকা রাখবে। নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর নির্বাচন হবে বলে আমার বিশ্বাস। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করবে।’

সশস্ত্র বাহিনী দিবসের দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বীরা মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে আহত ও শহীদদের পরিবারের সদস্য, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও তাদেরে পরিবারের সদস্য, কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গত বছর অভ্যুত্থানের শহীদদের পরিবার ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় ড.ইউনূস মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই অগাস্ট মাসে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের সব শহীদ, আহত ও অংশ নেওয়া সব মানুষকে স্মরণ করেন।

২১ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের একটা মাইলফলক
মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদান স্মরণ করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘একাত্তর সালের রণক্ষেত্রে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর নৃশংস আক্রমণের পরপরই ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর ও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ নভেম্বর সেনাবাহিনীর সঙ্গে নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। এ কারণেই ২১ নভেম্বরকে মুক্তিযুদ্ধের একটা মাইলফলক হিসাবে গৌরবের সাথে পালন করা হয়।’

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিকামী সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা জীবনের পরোয়া না করে, পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এদেশের আপামর জনসাধারণকে সাহস যুগিয়েছে। মানুষের সাথে কঁধে কাঁধ মিলিয়ে জল, স্থল ও আকাশ পথে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলে দেশমাত্রিকাকে পরাধিনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে এনেছেন।’

ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানেও সশস্ত্র বাহিনীর ‘অসামান্য অবদানের’ কথা স্মরণ
২০২৪ সালে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানেও দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর ‘অসামান্য অবদানের’ কথা স্মরণ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘২০২৪ এর ছাত্রজনতার অভ্যুত্থান ও চলমান দেশ পুনর্গঠন ও সংস্কারের কাজেও সশস্ত্র বাহিনী বরাবরের মত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অব্যাহতভাবে মানুষের আস্থার প্রতিদান দিয়ে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতি অনুগত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী পেশাগত দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে দেশের জন্য ত্যাগ ও তৎপরতার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখবে।’

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে সদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটি শান্তিপ্রিয় জাতি হিসাবে আমরা সব বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানে বিশ্বাসী। তথাপি যে কোনো আগ্রাসী বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদেরকে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’

ফ্যাসিস্ট আমলে বাহিনীগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো উপেক্ষিত ছিল
আগামী দিনে সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দুঃখের সাথে বলতে হয়, ফ্যাসিস্ট আমলে বাহিনীগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো উপেক্ষিত ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সব বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে দেশরক্ষা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যাপক সংখ্যক ছাত্র ও যুব সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে বিএনসিসির কার্যক্রম বহুগুণ বৃদ্ধির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সস্ত্রীক অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিবিদরা এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

গত জুন মাসজুড়ে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান ও পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলামী এতথ্য নিশ্চিত করেন।

জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৫ কেজি ৫৯২ গ্রাম স্বর্ণ, ১ হাজার ৮১৫টি শাড়ি, ৩ হাজার ২৫২টি থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল, ৯ হাজার ৫৫১টি তৈরি পোশাক, ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৮টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৩ পিস আতশবাজি, ৭ হাজার ৪৬৪ ঘনফুট কাঠ, ৭ হাজার ৩১৬ কেজি চা পাতা, ৪ হাজার ২৭০ কেজি সুপারি, ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ কেজি কয়লা, ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৮ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৪৯৭টি মোবাইল, ১ হাজার ৮৬৫পিস মোবাইলের ডিসপ্লে, ৪১ হাজার ১৬২ পিস মোবাইলের যন্ত্রাংশ, ১৫ হাজার ৫৬ পিস ইলেকট্রিক সামগ্রী, ২২ হাজার ৬১২টি চশমা, ৫২ হাজার ৭৩৬ কেজি জিরা, ৪ হাজার ২৮৫ কেজি রসুন, ১৮ হাজার ৭৯৮ কেজি চিনি, ১০ হাজার ২২৪ কেজি সার, ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৯ পিস চিংড়ি মাছের পোনা, ৩ হাজার ২৮২ লিটার ভোজ্যতেল/ডিজেল/অকটেন/পেট্রোল/মবিল, ২ হাজার ২৭৬ প্যাকেট কীটনাশক, ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪১৯ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, ৬৯৪ কেজি বিভিন্ন প্রকার বীজ, ১ হাজার ২৩৯ পিস যানবাহন যন্ত্রাংশ, ১১টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান, ৫টি পিকআপ ভ্যান, ৩টি প্রাইভেটকার/বাস, ৩টি ট্রাক্টর, ২০টি ট্রলি/মাইক্রোবাস, ৬৮টি সিএনজি/ইজিবাইক/ অটোরিকশা, ৩৫টি মোটরসাইকেল ও ৫৩টি বাইসাইকেল/ভ্যান।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ৮টি দেশি/বিদেশি পিস্তল, ১টি রাইফেল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৬৩০ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি মাইন, ৬টি গ্রেনেড ও ৬টি অন্যান্য অস্ত্র।

এ ছাড়া গত মাসে বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২ পিস ইয়াবা, ১৮ কেজি ১৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৬০৭ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৪২২ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৮ বোতল বিদেশি মদ, ৩৯৫ লিটার বাংলা মদ, ৩ হাজার ২৬৮ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৭১০ কেজি ৪৭০ গ্রাম গাঁজা, ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ২৪ হাজার ২০১ বোতল বিভিন্ন প্রকার সিরাপ ও ৮২ হাজার ৭১৫ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ/ট্যাবলেট।

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১২ জন চোরাচালানি এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক, একজন ভারতীয় নাগরিক ও ২৮৪ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু অক্টোবরে, রোডম্যাপ করছে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু অক্টোবরে, রোডম্যাপ করছে ইসি

আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য রোডম্যাপ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এরইমধ্যে রোডম্যাপ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিল আসার ব্যাপারে জনগণের অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে খাদ্য চাষ এবং সংরক্ষণ পর্যায়ে খাদ্যপণ্যে অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দেশের খাদ্য ব্যবসায়ীদের ডাটা সংগ্রহ করে একটি তথ্য ভান্ডার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সচেতন করার পাশাপাশি, অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাভারে এনসিপির জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত হবে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এর সঙ্গে জড়িতদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তির বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাই নিয়ে কটূক্তি করা, মন্তব্য করা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে আইনি কাঠামো অনুযায়ী এটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। এসব মন্তব্য ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে গণ্য করা হবে কিনা সেই আলোচনা চলতে পারে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা কাটেনি, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ
উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা কাটেনি, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল

স্থল নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার আভাস থাকলেও উপকূলে ঝড়ের আশঙ্কা কাটেনি। তাই সব সমুদ্রবন্দরে বহাল তিন নম্বর সংকেত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পূর্ব মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এই অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন