খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ : রাজনীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ : রাজনীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখে প্রথম জনসভাতেই চমক দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় লাখো লাখো জনতার উদ্দেশে তিনি বিশ্বখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তি ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’-এর প্রসঙ্গ টেনে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। অসাধারণ এই শব্দবন্ধ রাজনীতিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। মূলত ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর মধ্য দিয়ে তিনি একটি সুদূরপ্রসারী রাষ্ট্র পরিচালনার কথাকেই বুঝিয়েছেন। তার এই বক্তব্য মুগ্ধ করেছে দেশের মানুষকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দেশের মূলধারার গণমাধ্যমেও এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় অপপ্রচার হচ্ছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনায় দেওয়া বক্তব্য নিয়ে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের অপপ্রচার শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে, তারেক রহমান তার সম্পূর্ণ ভাষণে ভারতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এর পরও ‘এবিপি আনন্দ’ নামের একটি গণমাধ্যম অপ্রাসঙ্গিকভাবে শিরোনামে ‘ভারত নিয়ে পরিকল্পনা’ যুক্ত করেছে। প্রতিবেদনে এ দাবির কোনো প্রমাণ বা ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান টিম জানিয়েছে, ভারতের গণমাধ্যম এবিপি আনন্দ তারেক রহমানের বক্তব্যের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ অংশটুকুই ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর শিরোনাম তৈরি করেছে। তারেক রহমানের ভাষণে ভারতকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনার কথা ছিল না। তবে বক্তব্যের একটি অংশ বিকৃতভাবে তুলে ধরে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ৩০০ ফিটের গণসংবর্ধনায় তারেক রহমানের বক্তব্য প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর মধ্য দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একটি সুদূরপ্রসারী রাষ্ট্র পরিচালনার কথাকেই বুঝিয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। তা ছাড়া অতীতে বিভিন্ন সময়ে তারেক রহমানের বক্তব্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি জনগণের সমর্থনে আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, কর্মসংস্থান তৈরি, বেকার যুবকদের জন্য ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে বলেছেন। তাছাড়া একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন তিনি। মূলত ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি এসব বিষয়কেই বুঝিয়েছেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে জাতিকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তার পরিকল্পনায় একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার রূপরেখা আছে, এতে কোনো সংশয় নেই। কেননা, বিএনপি এরই মধ্যে তাদের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নতুনভাবে সাজিয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি এমন একটি নীতিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছে, যা আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে পারলে তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তাই বিএনপি প্রস্তুত করেছে আটটি বিশেষ খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং ধর্মীয় নেতাদের উন্নয়ন সেবা যার প্রতিটিই মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। তারেক রহমান পরিকল্পনার কথা বলতে এগুলোকেই বুঝিয়েছেন।’ ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, মার্টিন লুথারের যেমন স্বপ্ন ছিল, তেমনি বাংলাদেশের মানুষ ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তার এবং বিএনপির একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বলতে মূলত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা নির্দেশ করছে। যা হলো বিএনপির একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ। এর মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রের বিদ্যমান কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। এই পরিকল্পনার প্রধান দিকগুলো হলো- কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, জাতীয় সংসদে বিশিষ্টজনদের নিয়ে একটি ‘উচ্চকক্ষ’ গঠন করা হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সমন্বয় করা হবে। এছাড়া অবাধ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করে ‘রেইনবো নেশন’ গঠন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা এই প্ল্যানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সামাজিক সুরক্ষায় প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘হেলথ কার্ড’ চালুর মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে এই ৩১ দফায়। সংক্ষেপে, এটি কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও কাঠামোগত সংস্কারের একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, টেকসই গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা মূলত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ এর একটি আধুনিক ও পরিমার্জিত সংস্করণ।

বিএনপি’র শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বারবার বলে আসছেন, বাংলাদেশ কোনো একটি দলের নয়; এটি সব ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষের দেশ। তিনি উগ্রবাদ ও প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার রাজনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তৃণমূলের ক্ষমতায়ন এবং তরুণ সমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের অংশীদার করা। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে একটি স্মার্ট ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তারেক রহমানকে চরম ধৈর্যের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যু ও দীর্ঘ প্রবাস জীবন সত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার জীবনের বড় শিক্ষা হলো-বিপর্যয়ের মুখে ধৈর্য ধারণ করা এবং সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করা। সব মিলিয়ে, সংগ্রাম ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা আজ এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

রাজশাহীর বিভিন্ন পশু হাটে  অতিরিক্ত হাসিল আদায়

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহীর বিভিন্ন পশু হাটে  অতিরিক্ত হাসিল আদায়

রাজশাহীর বিভিন্ন পশুহাটে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দেওয়া রশিদে আদায়কৃত টাকার পরিমাণও উল্লেখ করা হচ্ছে না। এতে কোরবানির পশু কিনতে আসা সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

রাজশাহীর সিটি হাট থেকে সোমবার ৯০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন গোলাম মোর্তজা। গরুটি কিনতে তাকে হাসিল দিতে হয়েছে এক হাজার টাকা। ইজারাদারের লোকজন রশিদ দিলেও সেখানে টাকার অংক লেখা ছিল না। তার অভিযোগ, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এভাবেই অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে।

গোলাম মোর্তজা বলেন, “সব হাটেই অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত নিলেও তা হাসিলে লেখা থাকে। সিটি হাটে হাসিলে টাকার পরিমাণই লেখা হচ্ছে না।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু সিটি হাট নয়, রাজশাহীর অন্যান্য পশুহাটেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

পবা উপজেলার নওহাটা পশুহাটেও রশিদে টাকার অঙ্ক উল্লেখ না করে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে। সেখানে গরুর জন্য এক হাজার টাকা এবং ছাগল-ভেড়ার জন্য ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অথচ নওহাটা পৌর কর্তৃপক্ষ গরুর জন্য ৫০০ টাকা ও ছাগল-ভেড়ার জন্য ৩০০ টাকা হাসিল নির্ধারণ করেছে।

অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার নওহাটা পশুহাটের ইজারাদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনুল আবেদীন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত সিটি হাটে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার গবাদিপশু কেনাবেচা হচ্ছে। করপোরেশন গরু ও মহিষের জন্য ৭০০ টাকা এবং ছাগলের জন্য ৫০০ টাকা হাসিল নির্ধারণ করে দিয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে গরুর ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা এবং ছাগলের ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি আড়াল করতেই অনেক রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সিটি হাটের ইজারাদারদের একজন শওকত আলী বলেন, “সিটি করপোরেশন নির্ধারিত হারের চেয়ে আমরা ১০০ টাকা বেশি নিচ্ছি। হাটে গত দুই দিনে প্রায় ২০০ গাড়ি মাটি ফেলতে হয়েছে। দুই ট্রাক বাঁশ-খুঁটিও পুঁতেছি। করপোরেশন এসব কাজ করেনি। আমরা নিজেরা খরচ করেছি। সেই খরচ তুলতেই কিছু বেশি নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি দাবি করেন, “রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা হচ্ছে। কিন্তু কোনো কোনো মহুরি (আদায়কারী) লিখতে ভুলে যাচ্ছে। কার কাছে এটা হচ্ছে জানতে পারলে তাকে কাজেই রাখা হবে না।”

সিটি হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব সোহেল রানা। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, নওহাটা পশুহাটের রশিদে টাকার অংক না লেখার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজশাহীর পাখিপ্রেমী হাসনাত রনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এমন একটি রশিদের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, “খাজনা বা হাসিলের রশিদ পাবেন। রশিদে সব কিছু লেখা থাকবে। শুধু কত টাকা আদায় করা হলো সেটা লেখা থাকবে না। এই টাকার ভাগ কোথায় কোথায় যায়? এ দেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে বলে আশা করেন?”

নওহাটা পশুহাটের ইজারাদার আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আকবর আলী নামের এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নওহাটা পৌরসভার প্রশাসক ইবনুল আবেদীন বলেন, “নওহাটা পশুহাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইজারাদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পবার কোনো হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করতে দেওয়া হবে না।”

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মার্কিন হামলার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন হামলার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন রুবিও

নতুন করে মার্কিন হামলা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব বলে মনে করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ভারতের জয়পুর সফরকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মার্কো রুবিও বলেন, নতুন মার্কিন হামলার পরও ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি কয়েক দিনের মধ্যেই সম্ভব হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ কাতারে কিছু আলোচনা চলছিল, তাই দেখা যাক আমরা কোনো অগ্রগতি করতে পারি কি না। আমার মনে হয় প্রাথমিক খসড়া নথির নির্দিষ্ট ভাষা নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে, তাই বিষয়টি শেষ হতে কয়েক দিন লাগবে।’

তিনি আরো জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তির আলোচনার ভাষা চূড়ান্ত করতে ‘আরও কয়েক দিন’ সময় লাগতে পারে।

মার্কো রুবিও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি করতে চান। তিনি হয় একটি ভালো চুক্তি করবেন, না হয় কোনো চুক্তিই হবে না।’

হরমুজ প্রণালির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনোভাবেই হোক না কেন, হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খোলা থাকতে হবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দেশগুলোতে হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।

৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনী যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে। এ সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান, আর মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের চেষ্টা করছে।

ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র গতকাল সোমবার ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন দফার আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচকেরা কাতারের দোহায় পৌঁছানোর পরই এসব হামলা চালানো হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ছুটির দিনে পদোন্নতি পেয়ে সচিব হলেন ৪ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
ছুটির দিনে পদোন্নতি পেয়ে সচিব হলেন ৪ কর্মকর্তা

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শুরুর দিনে চার অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির–উদ–দৌলাকে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীকে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়াকে একই মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কালের আলো/এসএকে