খুঁজুন
                               
, ,
           

‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ : রাজনীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ : রাজনীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখে প্রথম জনসভাতেই চমক দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় লাখো লাখো জনতার উদ্দেশে তিনি বিশ্বখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তি ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’-এর প্রসঙ্গ টেনে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। অসাধারণ এই শব্দবন্ধ রাজনীতিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। মূলত ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর মধ্য দিয়ে তিনি একটি সুদূরপ্রসারী রাষ্ট্র পরিচালনার কথাকেই বুঝিয়েছেন। তার এই বক্তব্য মুগ্ধ করেছে দেশের মানুষকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দেশের মূলধারার গণমাধ্যমেও এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় অপপ্রচার হচ্ছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনায় দেওয়া বক্তব্য নিয়ে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের অপপ্রচার শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে, তারেক রহমান তার সম্পূর্ণ ভাষণে ভারতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এর পরও ‘এবিপি আনন্দ’ নামের একটি গণমাধ্যম অপ্রাসঙ্গিকভাবে শিরোনামে ‘ভারত নিয়ে পরিকল্পনা’ যুক্ত করেছে। প্রতিবেদনে এ দাবির কোনো প্রমাণ বা ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান টিম জানিয়েছে, ভারতের গণমাধ্যম এবিপি আনন্দ তারেক রহমানের বক্তব্যের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ অংশটুকুই ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর শিরোনাম তৈরি করেছে। তারেক রহমানের ভাষণে ভারতকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনার কথা ছিল না। তবে বক্তব্যের একটি অংশ বিকৃতভাবে তুলে ধরে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ৩০০ ফিটের গণসংবর্ধনায় তারেক রহমানের বক্তব্য প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর মধ্য দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একটি সুদূরপ্রসারী রাষ্ট্র পরিচালনার কথাকেই বুঝিয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। তা ছাড়া অতীতে বিভিন্ন সময়ে তারেক রহমানের বক্তব্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি জনগণের সমর্থনে আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, কর্মসংস্থান তৈরি, বেকার যুবকদের জন্য ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে বলেছেন। তাছাড়া একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন তিনি। মূলত ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি এসব বিষয়কেই বুঝিয়েছেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে জাতিকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তার পরিকল্পনায় একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার রূপরেখা আছে, এতে কোনো সংশয় নেই। কেননা, বিএনপি এরই মধ্যে তাদের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নতুনভাবে সাজিয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি এমন একটি নীতিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছে, যা আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে পারলে তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তাই বিএনপি প্রস্তুত করেছে আটটি বিশেষ খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং ধর্মীয় নেতাদের উন্নয়ন সেবা যার প্রতিটিই মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। তারেক রহমান পরিকল্পনার কথা বলতে এগুলোকেই বুঝিয়েছেন।’ ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, মার্টিন লুথারের যেমন স্বপ্ন ছিল, তেমনি বাংলাদেশের মানুষ ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তার এবং বিএনপির একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বলতে মূলত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা নির্দেশ করছে। যা হলো বিএনপির একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ। এর মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রের বিদ্যমান কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। এই পরিকল্পনার প্রধান দিকগুলো হলো- কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, জাতীয় সংসদে বিশিষ্টজনদের নিয়ে একটি ‘উচ্চকক্ষ’ গঠন করা হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সমন্বয় করা হবে। এছাড়া অবাধ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করে ‘রেইনবো নেশন’ গঠন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা এই প্ল্যানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সামাজিক সুরক্ষায় প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘হেলথ কার্ড’ চালুর মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে এই ৩১ দফায়। সংক্ষেপে, এটি কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও কাঠামোগত সংস্কারের একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, টেকসই গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা মূলত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ এর একটি আধুনিক ও পরিমার্জিত সংস্করণ।

বিএনপি’র শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বারবার বলে আসছেন, বাংলাদেশ কোনো একটি দলের নয়; এটি সব ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষের দেশ। তিনি উগ্রবাদ ও প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার রাজনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তৃণমূলের ক্ষমতায়ন এবং তরুণ সমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের অংশীদার করা। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে একটি স্মার্ট ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তারেক রহমানকে চরম ধৈর্যের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যু ও দীর্ঘ প্রবাস জীবন সত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার জীবনের বড় শিক্ষা হলো-বিপর্যয়ের মুখে ধৈর্য ধারণ করা এবং সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করা। সব মিলিয়ে, সংগ্রাম ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা আজ এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

গত জুন মাসজুড়ে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান ও পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলামী এতথ্য নিশ্চিত করেন।

জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৫ কেজি ৫৯২ গ্রাম স্বর্ণ, ১ হাজার ৮১৫টি শাড়ি, ৩ হাজার ২৫২টি থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল, ৯ হাজার ৫৫১টি তৈরি পোশাক, ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৮টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৩ পিস আতশবাজি, ৭ হাজার ৪৬৪ ঘনফুট কাঠ, ৭ হাজার ৩১৬ কেজি চা পাতা, ৪ হাজার ২৭০ কেজি সুপারি, ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ কেজি কয়লা, ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৮ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৪৯৭টি মোবাইল, ১ হাজার ৮৬৫পিস মোবাইলের ডিসপ্লে, ৪১ হাজার ১৬২ পিস মোবাইলের যন্ত্রাংশ, ১৫ হাজার ৫৬ পিস ইলেকট্রিক সামগ্রী, ২২ হাজার ৬১২টি চশমা, ৫২ হাজার ৭৩৬ কেজি জিরা, ৪ হাজার ২৮৫ কেজি রসুন, ১৮ হাজার ৭৯৮ কেজি চিনি, ১০ হাজার ২২৪ কেজি সার, ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৯ পিস চিংড়ি মাছের পোনা, ৩ হাজার ২৮২ লিটার ভোজ্যতেল/ডিজেল/অকটেন/পেট্রোল/মবিল, ২ হাজার ২৭৬ প্যাকেট কীটনাশক, ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪১৯ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, ৬৯৪ কেজি বিভিন্ন প্রকার বীজ, ১ হাজার ২৩৯ পিস যানবাহন যন্ত্রাংশ, ১১টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান, ৫টি পিকআপ ভ্যান, ৩টি প্রাইভেটকার/বাস, ৩টি ট্রাক্টর, ২০টি ট্রলি/মাইক্রোবাস, ৬৮টি সিএনজি/ইজিবাইক/ অটোরিকশা, ৩৫টি মোটরসাইকেল ও ৫৩টি বাইসাইকেল/ভ্যান।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ৮টি দেশি/বিদেশি পিস্তল, ১টি রাইফেল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৬৩০ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি মাইন, ৬টি গ্রেনেড ও ৬টি অন্যান্য অস্ত্র।

এ ছাড়া গত মাসে বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২ পিস ইয়াবা, ১৮ কেজি ১৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৬০৭ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৪২২ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৮ বোতল বিদেশি মদ, ৩৯৫ লিটার বাংলা মদ, ৩ হাজার ২৬৮ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৭১০ কেজি ৪৭০ গ্রাম গাঁজা, ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ২৪ হাজার ২০১ বোতল বিভিন্ন প্রকার সিরাপ ও ৮২ হাজার ৭১৫ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ/ট্যাবলেট।

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১২ জন চোরাচালানি এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক, একজন ভারতীয় নাগরিক ও ২৮৪ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু অক্টোবরে, রোডম্যাপ করছে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু অক্টোবরে, রোডম্যাপ করছে ইসি

আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য রোডম্যাপ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এরইমধ্যে রোডম্যাপ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিল আসার ব্যাপারে জনগণের অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে খাদ্য চাষ এবং সংরক্ষণ পর্যায়ে খাদ্যপণ্যে অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দেশের খাদ্য ব্যবসায়ীদের ডাটা সংগ্রহ করে একটি তথ্য ভান্ডার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সচেতন করার পাশাপাশি, অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাভারে এনসিপির জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত হবে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এর সঙ্গে জড়িতদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তির বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাই নিয়ে কটূক্তি করা, মন্তব্য করা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে আইনি কাঠামো অনুযায়ী এটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। এসব মন্তব্য ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে গণ্য করা হবে কিনা সেই আলোচনা চলতে পারে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা কাটেনি, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ
উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা কাটেনি, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল

স্থল নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার আভাস থাকলেও উপকূলে ঝড়ের আশঙ্কা কাটেনি। তাই সব সমুদ্রবন্দরে বহাল তিন নম্বর সংকেত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পূর্ব মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এই অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন