খুঁজুন
                               
, ,
           

‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ : রাজনীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ : রাজনীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখে প্রথম জনসভাতেই চমক দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় লাখো লাখো জনতার উদ্দেশে তিনি বিশ্বখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তি ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’-এর প্রসঙ্গ টেনে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। অসাধারণ এই শব্দবন্ধ রাজনীতিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। মূলত ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর মধ্য দিয়ে তিনি একটি সুদূরপ্রসারী রাষ্ট্র পরিচালনার কথাকেই বুঝিয়েছেন। তার এই বক্তব্য মুগ্ধ করেছে দেশের মানুষকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দেশের মূলধারার গণমাধ্যমেও এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় অপপ্রচার হচ্ছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনায় দেওয়া বক্তব্য নিয়ে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের অপপ্রচার শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে, তারেক রহমান তার সম্পূর্ণ ভাষণে ভারতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এর পরও ‘এবিপি আনন্দ’ নামের একটি গণমাধ্যম অপ্রাসঙ্গিকভাবে শিরোনামে ‘ভারত নিয়ে পরিকল্পনা’ যুক্ত করেছে। প্রতিবেদনে এ দাবির কোনো প্রমাণ বা ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান টিম জানিয়েছে, ভারতের গণমাধ্যম এবিপি আনন্দ তারেক রহমানের বক্তব্যের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ অংশটুকুই ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর শিরোনাম তৈরি করেছে। তারেক রহমানের ভাষণে ভারতকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনার কথা ছিল না। তবে বক্তব্যের একটি অংশ বিকৃতভাবে তুলে ধরে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ৩০০ ফিটের গণসংবর্ধনায় তারেক রহমানের বক্তব্য প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর মধ্য দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একটি সুদূরপ্রসারী রাষ্ট্র পরিচালনার কথাকেই বুঝিয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। তা ছাড়া অতীতে বিভিন্ন সময়ে তারেক রহমানের বক্তব্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি জনগণের সমর্থনে আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, কর্মসংস্থান তৈরি, বেকার যুবকদের জন্য ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে বলেছেন। তাছাড়া একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন তিনি। মূলত ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি এসব বিষয়কেই বুঝিয়েছেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে জাতিকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তার পরিকল্পনায় একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার রূপরেখা আছে, এতে কোনো সংশয় নেই। কেননা, বিএনপি এরই মধ্যে তাদের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নতুনভাবে সাজিয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি এমন একটি নীতিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছে, যা আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে পারলে তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তাই বিএনপি প্রস্তুত করেছে আটটি বিশেষ খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং ধর্মীয় নেতাদের উন্নয়ন সেবা যার প্রতিটিই মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। তারেক রহমান পরিকল্পনার কথা বলতে এগুলোকেই বুঝিয়েছেন।’ ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, মার্টিন লুথারের যেমন স্বপ্ন ছিল, তেমনি বাংলাদেশের মানুষ ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তার এবং বিএনপির একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বলতে মূলত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা নির্দেশ করছে। যা হলো বিএনপির একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ। এর মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রের বিদ্যমান কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। এই পরিকল্পনার প্রধান দিকগুলো হলো- কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, জাতীয় সংসদে বিশিষ্টজনদের নিয়ে একটি ‘উচ্চকক্ষ’ গঠন করা হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সমন্বয় করা হবে। এছাড়া অবাধ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করে ‘রেইনবো নেশন’ গঠন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা এই প্ল্যানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সামাজিক সুরক্ষায় প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘হেলথ কার্ড’ চালুর মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে এই ৩১ দফায়। সংক্ষেপে, এটি কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও কাঠামোগত সংস্কারের একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, টেকসই গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা মূলত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ এর একটি আধুনিক ও পরিমার্জিত সংস্করণ।

বিএনপি’র শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বারবার বলে আসছেন, বাংলাদেশ কোনো একটি দলের নয়; এটি সব ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষের দেশ। তিনি উগ্রবাদ ও প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার রাজনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তৃণমূলের ক্ষমতায়ন এবং তরুণ সমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের অংশীদার করা। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে একটি স্মার্ট ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তারেক রহমানকে চরম ধৈর্যের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যু ও দীর্ঘ প্রবাস জীবন সত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার জীবনের বড় শিক্ষা হলো-বিপর্যয়ের মুখে ধৈর্য ধারণ করা এবং সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করা। সব মিলিয়ে, সংগ্রাম ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা আজ এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি : শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি : শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মেয়াদের কার্যক্রম শুরু করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত শক্তি হলো তাঁর সুস্পষ্ট পরিকল্পনায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের আগে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ এর মাধ্যমে জাতির সামনে যে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন, সম্প্রতি ব্রিটেনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যের সূচনায় আই হ্যাভ এ প্ল্যান বলে পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বের সাথে মিলিয়ে একই ভাষায় কথা বলেছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আপন, ঢাকা’র উদ্যোগে মহাত্মা ভেগাই হালদারের আবির্ভাব ও তিরোধান উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “একটু আগে দেখলাম ব্রিটেনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলেছেন। শুনে মনে হয়েছে, পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বের যে দর্শন তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, সেই একই ভাষায় জনগণের কাছে ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়ক যখন জাতির সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন, তখন জনগণ সেই পরিকল্পনার মধ্যেই দেশের ভবিষ্যৎ দেখতে পায় এবং সেই নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখে। বাংলাদেশের মানুষও তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এ ঘোষিত রাষ্ট্রচিন্তা ও কর্মপরিকল্পনার প্রতি বিশ্বাস রেখেই তাঁকে এবং তাঁর দলকে বিপুল সমর্থন দিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হলো ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতিসত্তা ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা।

মাহাত্মা ভেগাই হালদারও অনুরূপ মানবিক মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা প্রচার করে গিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে এবং বিভাজনের রাজনীতির কোনো স্থান এখানে হবে না।

তিনি বলেন, যারা একক ধর্ম, একক সংস্কৃতি বা একদলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তারা প্রকৃতির নিয়ম, মানবতা ও সভ্যতার বিরোধী।  বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আপন, ঢাকার সভাপতি শচীন্দ্র নাথ হালদার।

কালের আলো/এম/এএইচ

কাবাডিতে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা, জাইমা রহমানের উচ্ছ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
কাবাডিতে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা, জাইমা রহমানের উচ্ছ্বাস

ঘরের মাঠে নেপাল জাতীয় নারী কাবাডি দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজটা দারুণভাবেই শুরু করল বাংলাদেশ। শুক্রবার(১৭ জুলাই) ঢাকার জাতীয় কাবাডি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৩৪-২৪ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে ১-০ তে লিড নিল স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের এই জয়ের ম্যাচে বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান।

ম্যাচের শুরু থেকেই নেপালিদের ওপর আগ্রাসী মেজাজ নিয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। কৌশলী আক্রমণ ও রক্ষণভাগে অটুট থেকে প্রথমার্ধেই ১৪-১০ পয়েন্টের লিড নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন স্বাগতিক মেয়েরা। দ্বিতীয়ার্ধে নেপাল ম্যাচে ফেরার জোর চেষ্টা চালালেও আর পেরে উঠেনি। শেষ পর্যন্ত ১০ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক শ্রাবণী মল্লিক।

ম্যাচটি বাড়তি মাত্রা পেয়েছিল প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমানের উপস্থিতিতে। ম্যাচের শুরুতে দুই দলের খেলোয়াড়দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন তিনি। এরপর ভিআইপি বক্সের গাম্ভীর্য ছাপিয়ে এক পর্যায়ে তিনি নিচে নেমে এসে সাধারণ দর্শকের মতোই দাঁড়িয়ে পুরো খেলা উপভোগ করেন।

ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেছেন তিনি। খেলা শেষে তিনি নিজেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের কাছে ডাকেন। তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং দলের সাফল্যের অংশীদার হয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সেলফি তুলতে দেখা যায় তাকে। জাইমা রহমানের এমন আন্তরিকতা খেলোয়াড়দের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

এর আগে সিরিজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, কাবাডি আমাদের জাতীয় খেলা এবং সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য আমাদের ক্রীড়া ঐতিহ্যের গর্ব। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার এই সিরিজ দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া) আমেনা বেগম, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগসহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাঠের জয় এবং গ্যালারির বাড়তি উৎসাহ সব মিলিয়ে কাবাডি স্টেডিয়ামে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। বাংলাদেশের মেয়েরা তাদের এই জয়যাত্রা পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে পারবে বলেই প্রত্যাশা দর্শকদের।

কালের আলো/এসএকে