খুঁজুন
                               
, ,
           

বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে মাহদী আমিন’র প্রথম প্রেস ব্রিফিং

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে মাহদী আমিন’র প্রথম প্রেস ব্রিফিং

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথম ব্রিফিং ছিল দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন’র। দোরগোড়ায় থাকা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে কী কী বিষয়ে কথা বলেন এ নিয়ে বাড়তি নজরও ছিল। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রেস ব্রিফিং যে কারণে গণমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে ভোটের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্টের অপতৎপরতা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এক যুগেরও বেশি সময় বিএনপি’র বর্তমান চেয়ারম্যানের ভাবনা-চিন্তা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের এই শিক্ষক সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এতোদিন দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বা টকশোতে কথা বলেছেন। এবার তিনি কথা বললেন ভিন্ন এক মঞ্চে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সামগ্রিক চিত্র, জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটার বার্তা, নানা বিষয়ে দলের অবস্থান, শঙ্কা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরলেন। জানালেন সিলেট সফরের মধ্যে দিয়ে তারেক রহমানের নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হবে।

‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় অনুভূতির ক্রমাগত অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে’ বলেও তোপ দেগেছেন। ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে আমরা দুঃখজনকভাবে দেখেছি, নানা উপায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে, একটি বিতর্কিত নির্বাচন প্রক্রিয়া সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে গুলশানস্থ বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে নিচের দিকে ধানের শীষের অবস্থান, নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার, গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপির অবস্থান, তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ফেসবুক আইডি, গণমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার লক্ষ্যে বিএনপির ইতোমধ্যেই কল সেন্টার চালুসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি তুলে ধরেন আসন্ন নির্বাচনকে সুন্দর, সফল, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের বড় ভূমিকার কথাও। জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে ব্রিফিং শেষ করলেন।

গত ৪ জানুয়ারি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয় দলটির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনকে। ওইদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এখন থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে মাহদী আমিন নিয়মিত ব্রিফিং করবেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে এই ব্রিফিং শুরু করলেন সূক্ষ্ম বিশ্লেষণী শক্তির এই তরুণ রাজনীতিক।

একটি রাজনৈতিক দলের ধর্মীয় অনভূতির ক্রমাগত অপব্যবহারের বিষয়টি খোলাসা করে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা গণমাধ্যমে দেখলাম তাদের মার্কায় ভোট দিতে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করানো হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। শুধু তাই নয়, আমরা দেখেছি সেই বিশেষ রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছে, যার পেছনে অসাধু উদ্দেশ্য রয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছে, যার পেছনে অসাধু উদ্দেশ্য রয়েছে।’

অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এ নির্বাচনে জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, ‘১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আমরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এ নির্বাচনে জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ইতিপূর্বে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে, যেমন: বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও সৌদি আরবে শত শত ব্যালট একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের কাছে রয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ সংঘবদ্ধ ভোট সম্পূর্ণ বেআইনি। কোথাও একজনের নাম্বার ব্যবহার করে আরেকজনের পোস্টাল ব্যালট পেপার সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। যেহেতু বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটদান প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আমরা চাই প্রবাসীদের ভোটের ক্ষেত্রেও সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হোক। উল্লেখ্য, বিএনপিই সর্বপ্রথম প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিল।’

পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ধানের শীষ প্রতীকের অবস্থান নিচের দিকে
মাহ্দী আমিন বলেন, দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ধানের শীষ প্রতীকের অবস্থান নিচের দিকে, যা সহজে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভাঁজ করলে ধানের শীষ প্রতীক চোখে পড়ে না বা দাগের কারণে মুছে যেতে পারে। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীকের অবস্থান সহজে দেখা যায় এমন জায়গায় রাখা হয়েছে। চাইলেই কলাম বা লাইনের সংখ্যা পুনঃবিন্যাস করে প্রতীকের অবস্থানগত বৈষম্য দূর করা যেত এবং পোস্টাল ব্যালটকে স্বচ্ছ রাখা যেত।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী আমলের গুম, খুন, হামলা ও মামলার সময়ে বিএনপির কয়েকজন প্রার্থী দেশের বাইরে ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের সেখানে নাগরিকত্ব ছিল এবং মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনপত্র থাকার পরও নির্বাচন কমিশনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবিধানের আর্টিকেল ৬৬ অনুযায়ী এখানে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের অবকাশ নেই।

অন্য দল ও নেতারা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন
মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা দেখেছি, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রতীকসহ সরাসরি প্রার্থী ও দলের জন্য ভোট চাইছে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং অনলাইনের মাধ্যমে। অথচ, বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ব্যক্তিগত সফরে তার নানীর কবর জিয়ারত বা মওলানা ভাসানী ও গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদদের কবর জিয়ারতে বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় যেতে চাইলেও সেই ব্যক্তিগত-ধর্মীয় সফরকে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। সেই অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে তিনি নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন। অন্য দল ও নেতারা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। নির্বাচন কমিশনের এই নির্লিপ্ততা অনাকাঙ্ক্ষিত।

তিনি বলেন, এটি দুঃখজনক যে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার চলছে। মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ও ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন করা হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে ফ্যাক্ট-চেকিং সেল গঠনের দাবি জানিয়েছে। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, দেশজুড়ে ফ্যাক্ট-চেকিং সেল দ্রুত কার্যকর করা হোক।

জাইমা রহমানের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ভেরিফাই
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার তধরসধ জধযসধহ ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি সম্প্রতি মেটা কর্তৃক ভেরিফাই করা হয়েছে। ব্লু টিক ছাড়া তার আর কোনো অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নেই। মাহ্দী আমিন বলেন, বিএনপির আইসিটি দপ্তর কর্তৃক ৫০টিরও বেশি ফেইক আইডি ও পেজ রিমুভ করা হয়েছে। এসব হ্যান্ডেল থেকে ডিপফেইক ও এআই-জেনারেটেড ভিডিও পোস্ট করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছিল। আরও কিছু আইডি ও পেজ অবশিষ্ট আছে; সেগুলো অপসারণের বিষয়ে মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলমান।

ডা. জুবাইদা রহমানের কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা পেজ নেই
তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের নামে অনেক ফেইক ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। এসব পেজে এআই দিয়ে তৈরি বানোয়াট ও মিথ্যা ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। ডা. জুবাইদা রহমানের কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা পেজ নেই। তাই সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। নির্বাচনের সময়ে গণমানুষের সাথে সম্পৃক্ততার লক্ষ্যে বিএনপি ইতিমধ্যে কল সেন্টার চালু করেছে। যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো বিষয়ে অনুসন্ধান, তথ্য, পরামর্শ বা অভিযোগ জানাতে ১৬৫৪৩ নম্বরে কল করতে পারবেন।

তিনি বলেন, বিএনপি প্রণীত বিভিন্ন পলিসির জনমত তৈরি ও গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণের লক্ষ্যে ‘Match My Policy’ কার্যক্রম শুরু করেছে। ওয়েবসাইটের লিংক: https://www.matchmypolicy.net/। এখানে বিএনপির প্রতিটি সেক্টরের মূল পলিসি বিষয়ে যে কেউ ব্যক্তিগত মতামত, পছন্দ-অপছন্দ জানাতে পারবেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের মতামতকে সম্মান ও প্রাধান্য দেওয়া।

সিলেট সফরের মধ্যে দিয়ে তারেক রহমানের নির্বাচন কার্যক্রম শুরু
মাহ্দী আমিন বলেন, আমাদের সম্মানিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবেন আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট সফরের মধ্য দিয়ে। বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে। তিনি বলেন, গণভোটের ক্ষেত্রে বিএনপি সবসময় গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে। ২০১৬ সালের ভিশন ২০৩০, ২০২২ সালের ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালের ৩১ দফার ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। জুলাই চার্টারে আমাদের অবস্থান এবং নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।

কালের আলো/জেএন/এমকে

‘সংসদে গণতান্ত্রিক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে জামায়াত’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
‘সংসদে গণতান্ত্রিক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে জামায়াত’

সংসদে ফাইল ছোড়াছুড়ি, চেয়ার তুলে স্পিকারের দিকে তেড়ে যাওয়াসহ কোনো ধরনের অসভ্য আচরণ করবে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচিত হলে দলটির সংসদ সদস্যরা সরকারি নামমাত্র মূল্যের প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধাও নেবেন না বলে জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে ‘জামায়াত বিট’-এর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে জামায়াত গণতান্ত্রিক, আইনসম্মত ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। ফাইল ছোড়া কিংবা স্পিকারের দিকে চেয়ার নিয়ে তেড়ে যাওয়ার মতো আচরণ তারা করবেন না।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে নামমাত্র মূল্যে সরকারি প্লট বা শুল্কমুক্ত গাড়ি—কোনোটিই তারা নেবেন না। জনগণের সেবা করতেই সংসদে যেতে চান, ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। দেশের মানুষ যখন অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে, তখন জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের কোনো প্রস্তাব সংসদে এলে জামায়াত এর বিরোধিতা করবে বলেও জানান।

তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ক্রেতারা অর্ডার প্রত্যাহার করছেন। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিপুলসংখ্যক কারখানা বন্ধ হয়ে কর্মসংস্থানে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে এবং নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের কোনো অদৃশ্য চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সাহসের সঙ্গে সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।

তিনি বলেন, জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকবে। বাসে আগুন দেওয়া কিংবা জনজীবন অস্থিতিশীল করার রাজনীতিতে দলটি বিশ্বাস করে না।

মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

দল ‘নিবন্ধিত’ সংগঠন ‘অদৃশ্য’

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
দল ‘নিবন্ধিত’ সংগঠন ‘অদৃশ্য’

মিরপুর ডিএইচএসের একটি বাড়ির ঠিকানায় গিয়ে খোঁজ করা হলো বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ইসির নথিতে ঠিকানাটি স্পষ্ট। কিন্তু বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীর পরিবার জানাল, সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস নেই। থাকেন দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর পরিবার। দলের কার্যালয়ের বদলে ভবনটি এখন কার্যত একটি আবাসিক ঠিকানা।

  • রাজধানীতে ৮ নিবন্ধিত দলের কার্যালয়ের হদিস নেই; ৩টি তালাবদ্ধ
  • মাঠপর্যায়ে ৩৬ দলের সংগঠনের হদিস নেই
  • কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা—কার্যালয় ও কর্মীহীনতার চিত্র

মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় জাতীয় পার্টি-জেপির যে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকার কথা, সেখানেও নেই কোনো দলীয় তৎপরতা। দরজার ওপাশে রাজনৈতিক কর্মী নয়, থাকছেন ব্যাচেলর ভাড়াটেরা। পুরানা পল্টনের তোপখানা রোডে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের নামে দেওয়া ঠিকানাতেও মিলল না দলের কোনো চিহ্ন। ভবন মালিকের ভাষ্য, দলটি প্রায় এক বছর আগেই চলে গেছে।

আরও এক ধাপ এগিয়ে পুরানা পল্টনের ইশরাত টাওয়ার। ইসির নথিতে এখানে গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকার কথা। বাস্তবে নেই অফিস, নেই দলীয় কার্যক্রমও। দলের সভাপতিই বলছেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি সেখানে নেই। দলের কার্যক্রমও নেই।’ অর্থাৎ ইসির কাগজে যে ঠিকানাগুলো এখনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় বহন করছে, সরেজমিনে তার অনেকগুলোর অস্তিত্বই মিলছে না।

কোথাও অফিস নেই, কোথাও অফিস থাকলেও মাসের পর মাস তালাবদ্ধ। আবার কোনো দলের কার্যালয় এখন ব্যক্তিগত বাসা, কোনোটি আইনজীবীর চেম্বার কিংবা অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক বাস্তবতা খুঁজতে গিয়ে এমনই এক অস্বস্তিকর চিত্র উঠে এসেছে।

৬০ দলের মধ্যে ঢাকাতেই ৮টির কার্যালয় নেই
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৬০টি। এর মধ্যে রাজধানীতে ইসির দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে আটটি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পাওয়া যায়নি। আরও তিনটি দলের কার্যালয় থাকলেও সেগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগ এই হিসাবের বাইরে।

ইসিতে নিবন্ধিত ৪৮টি দলের কার্যালয় ঘুরে, ভবন কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধনের সময় দলগুলো যে সাংগঠনিক উপস্থিতির দাবি করেছিল, তার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার অনেক ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

কাগজে কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বাস্তবে অন্য ঠিকানা
বিএনএফের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদে তাঁদের পুরোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর সেখানে আর যাওয়া হয়নি। বর্তমানে ডিওএইচএসের একটি ছোট জায়গা সভাপতির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রয়োজন হলে রেস্তোরাঁ বা কারও বাসায় বৈঠক করতে হয়।

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মিরপুরের ঠিকানায় গিয়ে কোনো কার্যালয় পাওয়া যায়নি। দলটির প্রধান আবু লায়েস মুন্না জানিয়েছেন, অফিস এখন বন্ধ এবং পল্টন এলাকায় নতুন কার্যালয় খোঁজা হচ্ছে।

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের গুলশানের ঠিকানাতেও নেই দলটির কার্যালয়। মহাসচিব শেখ রায়হান রাহবার জানিয়েছেন, মার্চের পর তাঁরা ওই অফিস ছেড়েছেন; এখনো নতুন জায়গা পাননি।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির পুরানা পল্টনের অফিসও নেই। দলের সংশ্লিষ্ট নেতার ভাষ্য, পুরোনো কার্যালয় ছেড়ে বায়তুল মোকাররমের আশপাশে নতুন অফিস নেওয়া হয়েছে। তবে সেই কার্যালয়ের সুনির্দিষ্ট ঠিকানাও তিনি জানাতে পারেননি।

কোথাও সাইনবোর্ড আছে, ভেতরে নীরবতা
তৃণমূল বিএনপির ক্ষেত্রে আবার ইসির ঠিকানায় দলীয় সাইনবোর্ড রয়েছে। তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার ১৬ তলায় কার্যালয় থাকলেও সেটি তালাবদ্ধ। ভবনের কর্মচারী জানান, নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম সেখানে হয় না; জায়গাটি মূলত ‘দ্য চ্যানচেরি চেম্বারস’ ল ফার্মের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ধানমণ্ডির বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের কার্যালয়ের অবস্থাও প্রায় একই। ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর দাবি, তিন মাসে মাত্র দুদিন কয়েকজনকে সেখানে দেখা গেছে। বাকি সময় কার্যালয় বন্ধ থাকে।

ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির কার্যালয় রয়েছে, কিন্তু সেটিও নিয়মিত খোলে না। নিরাপত্তাকর্মীর ভাষ্য, ৫ আগস্টের আগে সেখানে একজন নিয়মিত থাকতেন; এরপর বিচ্ছিন্নভাবে এক-দুজন এলেও কার্যালয় প্রায় সবসময় বন্ধ।

মোহাম্মদপুরে বিএনএমের নামে একটি কক্ষ থাকলেও সাইনবোর্ড নেই। ভবনের নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পর দলটির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। দলটির চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরও বলেছেন, এখন আর দলের কার্যক্রম নেই এবং কার্যালয়ও বন্ধ থাকে।

ঢাকার বাইরে চিত্র আরও ফ্যাকাশে
রাজধানীর বাইরের বাস্তবতা আরও দুর্বল। নিবন্ধনের সময় অন্তত ২১টি জেলা এবং ১০০টি উপজেলা বা থানায় দলীয় কার্যালয়ের তথ্য দিয়েছিল বিভিন্ন দল। কিন্তু সরেজমিনে এসব কার্যালয়ের বড় একটি অংশের অস্তিত্ব বা নিয়মিত কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।

নড়াইলে জাতীয় পার্টি, সিপিবি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি, বাসদ, এনপিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড রয়েছে। তবে বেশির ভাগ কার্যালয় বছরের পর বছর তালাবদ্ধ।

নিয়মিত কার্যক্রমের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে দেখা যায় বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার ও এনসিপির। ঝালকাঠিতেও কয়েকটি নিবন্ধিত দলের কার্যালয় রয়েছে। তবে সব দলের সাংগঠনিক তৎপরতা সমান নয়।

নিবন্ধনের শর্ত কি শুধু কাগজেই?
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের সঙ্গে সাংগঠনিক উপস্থিতির বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। অথচ নিবন্ধনের পর সেই কাঠামো বাস্তবে কতটা টিকে আছে, তা নিয়মিত যাচাইয়ের প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, কার্যালয় ও কার্যক্রমহীন দলকে এভাবে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং এ ক্ষেত্রে ইসির নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

নামের সঙ্গে সংগঠনও কি আছে?
নিবন্ধিত ৬০টি দলের সবাই যে একই অবস্থায় রয়েছে, তা নয়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপিসহ কয়েকটি দলের নিয়মিত রাজনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান। আবার অনেক দলের কার্যক্রম সীমিত, কোনো কোনো দলের ক্ষেত্রে তা প্রায় অদৃশ্য।

তবে প্রশ্নটি থেকেই যায়—নিবন্ধনের সময় যে সাংগঠনিক কাঠামো দেখিয়ে একটি দল রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেল, কয়েক বছর পর সেই কাঠামোর অস্তিত্ব কোথায়? কেন্দ্রীয় কার্যালয় নেই, জেলা-উপজেলায় সংগঠন নেই, নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রমও নেই—তবু নিবন্ধন বহাল থাকছে কোন বাস্তবতার ভিত্তিতে?

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কেবল একটি নাম, প্রতীক ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রশ্ন। তাই ইসির নথিতে থাকা ঠিকানার সঙ্গে মাঠের বাস্তবতা মিলিয়ে দেখা এখন আর নিছক প্রশাসনিক কাজ নয়; এটি নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও যুক্ত।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

আসিফ মাহমুদের চ্যালেঞ্জের জবাব তদন্ত প্রতিবেদনে: শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
আসিফ মাহমুদের চ্যালেঞ্জের জবাব তদন্ত প্রতিবেদনে: শাহে আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা তদন্ত প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্যক্তি বা দলের পরিচয় বিবেচনা করে নয়, অনিয়মের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচিবের অনুপস্থিতিতে বিলে সই করার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের জেরে আসিফ মাহমুদ যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, তার জবাবও তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে পাওয়া যাবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হিসেবে চাইলেই গোপনীয় নথি প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষ হলে পুরো বিষয়টি দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার হবে।

তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ মাস মেয়াদি একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী চাকরিচ্যুতি, মামলা, জেল ও জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্নীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী পিরোজপুরের একটি বড় প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার দাবি, প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্পে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কোনো কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারি খাত নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বন্ধ এবং সৎ ব্যবসায়ীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস’ (পিপিআর) ও সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ সংশোধনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া অভিযোগগুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রকৌশলীদের প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কার্পেটিংয়ের পর তা টেকসই হতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হয় উল্লেখ করে কারিগরি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিগগিরই সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে উন্নয়নকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান মীর শাহে আলম।

কালের আলো/এমএসআইপি