খুঁজুন
                               
, ,
           

জয় বাংলার পরিবর্তে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
জয় বাংলার পরিবর্তে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

পরিবর্তন বলতে শুধু জয় বাংলার পরিবর্তে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এক দলের জায়গায় আরেক দল বসেছে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানী উত্তরার ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা সাংগঠনিক বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু আগে জয় বাংলা বলে বক্তব্য শেষ করতেন, এখন জিন্দাবাদ বলে বক্তব্য শেষ করছেন। গোটা দেশ এভাবে চলছে। শুধু জয় বাংলার পরিবর্তে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ হয়েছে। শুধু একটি দলের জায়গা আরেকটি দল বসেছে। মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।’

বিএনপি সরকার গঠনের পর সারা দেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বেড়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার কারণে নোয়াখালীর হাতিয়ায় নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সারা দেশে নারী নিপীড়ন, শিশু ধর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

এতকিছুর পরও সুশীল সমাজ, নারী অধিকার কর্মীরা চুপ আছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সবাই চুপ থাকলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি চুপ করে থাকবে না। মানুষের অধিকার নিশ্চিতে এনসিপি সবসময় সরব থাকবে।

ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিভাগীয় নেতারা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

২২৪ স্কুলের ৭০টিতে মাঠ নেই, সংকটে শাহজাদপুরের প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
২২৪ স্কুলের ৭০টিতে মাঠ নেই, সংকটে শাহজাদপুরের প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। এতে খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী। মাঠের অভাবে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণেও পিছিয়ে পড়ছে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত বসছে সাপ্তাহিক হাট।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুরের ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে ৭০টি বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই। শাহজাদপুর পৌর এলাকার চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও মাঠের সংকট রয়েছে।

মাঠ না থাকায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতে হয়। এতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো বিদ্যালয় ভালো ফল করলেও তা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের খাষ কাদাই বাদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত সাপ্তাহিক হাট বসে। উপজেলা পরিষদ প্রতিবছর টেন্ডারের মাধ্যমে হাটটি ইজারা দিলেও এ থেকে বিদ্যালয়ের তহবিলে কোনো অর্থ জমা হয় না বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির হিল্টন।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানো হলেও সেখান থেকে স্কুলের তহবিলে কোনো টাকা জমা হয় না। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের কেউ অবগত নন। তিনি যোগদানের অনেক আগে থেকেই মাঠে হাট বসছে।

শাহজাদপুর পৌর সদরের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিরণবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দরগাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইব্রাহিম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও মাঠসংকটে রয়েছে।

কিরণবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজা খাতুন বলেন, মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সমস্যায় পড়তে হয়। এমনকি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষেই অ্যাসেম্বলি করতে হয়।

শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য আল-মাহমুদ জানান, শত বছরের পুরোনো এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফল করলেও খেলাধুলায় পিছিয়ে রয়েছে। মাঠের অভাবে জাতীয় দিবস ও আন্তবিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও ভালো ফল করা সম্ভব হচ্ছে না।

তাঁরা জানান, বিদ্যালয়ের কাছেই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন রয়েছে। সেখানে সরকারের কিছু ফাঁকা জমি আছে, যা স্থানীয় ভূমি অফিসের মাধ্যমে বরাদ্দ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে এগিয়ে আসতে হবে।

উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আহসান হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক পাপ্পু জানান, যেসব বিদ্যালয়ে এখনো খেলার মাঠ নেই, সেসব বিদ্যালয়ের জন্য মাঠের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগী হতে হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুরাদ হোসেন বলেন, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলাও জরুরি। যেসব বিদ্যালয়ে মাঠ নেই, সেখানে মাঠের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এদিকে বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত হাটবাজার বসানোর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, স্কুলের মাঠে নিয়মিত হাটবাজার বসানোর কোনো সুযোগ নেই। তাঁর উপজেলায় টেন্ডারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জায়গায় হাট বসানো হচ্ছে—এমন বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আজান ও কাঁসর-ঘণ্টার সুরে সম্প্রীতির বন্ধনে ফরিদপুর

ফরিদপুর সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
আজান ও কাঁসর-ঘণ্টার সুরে সম্প্রীতির বন্ধনে ফরিদপুর

একদিকে মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের সুর, অন্যদিকে পূজামণ্ডপে বাজে কাঁসর-ঘণ্টা। নামাজের সময় বন্ধ রাখা হয় মণ্ডপের বাদ্যযন্ত্রের শব্দ। নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ধর্মীয় সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের এমন অনন্য চিত্র দেখা গেছে ফরিদপুর শহরের ভাঙা রাস্তার মোড়ে।

শহরের ভাঙা রাস্তার মোড়সংলগ্ন মডেল মসজিদের দুই পাশে রয়েছে জেলা বাস মালিক সমিতি ও জেলা মিনিবাস মালিক সমিতির দুটি দুর্গাপূজার মণ্ডপ। মসজিদ ও পূজামণ্ডপের পাশাপাশি অবস্থান ঘিরে সেখানে বিরাজ করছে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে নানা আয়োজন। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন, অন্যদিকে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাও মসজিদে নামাজ আদায় করছেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষই পরস্পরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজ নিজ ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

নামাজের সময় মণ্ডপের বাদ্যযন্ত্রের শব্দ বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সমন্বয় স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবেই অসাম্প্রদায়িক শহর। মাঝখানে মসজিদ এবং দুই পাশে পূজামণ্ডপ থাকলেও এ নিয়ে কখনো ধর্মীয় বিভেদ তৈরি হয়নি। পরস্পরের বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বহু বছর ধরে পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন তাঁরা। দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায় থেকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে। উৎসবের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই ফরিদপুরে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস ও উৎসব পালন করে আসছেন। এই সম্প্রীতির পরিবেশ ধরে রাখতে রাজনৈতিকভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা রেঞ্জের আনসার ব্যাটালিয়নের উপপরিচালকের পক্ষে মাদারীপুর আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক তানজিনা জানান, এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। একই স্থানে মসজিদ ও পূজামণ্ডপের সহাবস্থান সারা দেশের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সুষ্ঠু ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।

ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব, ফরিদপুরের ভাঙা রাস্তার মোড় তারই একটি দৃষ্টান্ত। উৎসবের এই পরিবেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

অতিথি পাখির কলকাকলিতে প্রাণ ফিরেছে চলনবিলে

নাটোর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
অতিথি পাখির কলকাকলিতে প্রাণ ফিরেছে চলনবিলে

ভোরের আলো ফুটতেই জলরাশির ওপর ডানা মেলে উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। কোথাও সাদাবকের মাছ শিকার, কোথাও পানকৌড়ির ডুবসাঁতার, আবার কোথাও বালিহাঁসের দলবদ্ধ বিচরণ। পাখির কলকাকলি আর মাছের অবাধ বিচরণে প্রাণ ফিরে পেয়েছে উত্তরাঞ্চলের মৎস্য ও শস্যভান্ডারখ্যাত চলনবিল। শীতের আগমনে অতিথি পাখির আনাগোনায় বিলজুড়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ।

প্রচলিত আছে—গ্রাম দেখলে কলম, আর বিল দেখলে চলন। নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলাজুড়ে বিস্তৃত এ বিলের বিস্তীর্ণ জলাভূমি প্রতি বছর নানা প্রজাতির পাখির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হয়ে ওঠে। এ বছরও বিলের বিভিন্ন এলাকায় পাখির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। সাদাবক, গাংচিল, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুক ও শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বিচরণে মুখর হয়ে উঠেছে বিলের জলরাশি।

বিশেষ করে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের দুই পাশের জলাভূমি এবং সিংড়া-বারুহাঁস-তাড়াশ ডুবন্ত সড়কের আশপাশে পাখির আনাগোনা চোখে পড়ছে। ভোরের আলোয় দলবদ্ধ পাখির উড়ে চলা, অগভীর পানিতে মাছ শিকার এবং জলাভূমিতে তাদের ছোটাছুটি প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে।

চলনবিলের অগভীর পানিতে টেংরা, পুঁটি, পাতাসি, শিং ও মলা মাছের বিচরণ পাখিদের খাবারের জোগান দিচ্ছে। পানিতে ডুব দিয়ে মাছ ধরে খাওয়ার দৃশ্য বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। জলাভূমির এই পরিবেশ শুধু পাখির খাদ্য ও আশ্রয়ের জোগানই দেয় না, বরং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি ও বিল হালতী ত্রিমোহনী কলেজের সহকারী অধ্যাপক আখতারুজ্জামান জানান, প্রতি বছর এ সময় খাবারের সন্ধানে বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি চলনবিলে আসে। পাখিদের বিচরণে বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

তবে পাখির এই নিরাপদ বিচরণ সব সময় নির্বিঘ্ন থাকে না। একশ্রেণির শিকারি ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে। এ কারণে পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাঁদের সংগঠন ২০১২ সাল থেকে বিলের দুর্গম এলাকায় কাজ করছে। পাখি শিকারের ঘটনা প্রশাসনকে জানানো এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, চলনবিল জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি জলাভূমি। এখানে অসংখ্য পাখির আগমন ঘটেছে। পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা ভোর থেকে কাজ করছেন। তাঁদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে কয়েকজন পাখি শিকারির বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চলনবিলকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। বিলের পাখি ও পরিবেশ সংরক্ষণে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এ কাজে প্রশাসন ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর পাখির কলকাকলিতে চলনবিল এখন এক অনন্য দৃশ্যপট। তবে এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে পাখি শিকার বন্ধ, জলাভূমি সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা জরুরি। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া গেলে চলনবিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি