খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশে ঈদ কবে, যা জানা গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ঈদ কবে, যা জানা গেল

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে উদযাপিত হবে, তা নির্ধারণে আগামী ১৯ মার্চ বৈঠকে বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ওইদিন সন্ধ্যায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সভা থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এদিকে চলতি বছরের পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, আগামী ২০ মার্চ শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

ইমেরাতস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, আগামী ১৮ মার্চ বুধবার আকাশে নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার দুবাই সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে নতুন চাঁদের জন্ম হবে এবং ওই দিন সূর্যাস্তের পর প্রায় ২৯ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দিগন্তের ওপরে অবস্থান করবে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ওই দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে ২০ মার্চ শুক্রবার শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

আল জারওয়ান আশা প্রকাশ করেছেন, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই সূচকগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশ এবার একই দিনে ঈদ শুরুর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে।

তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিটি দেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকেই আসবে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের এক দিন পর বাংলাদেশে রোজা ও ঈদ শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় যদি সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ২০ মার্চ ঈদ হয়, তবে বাংলাদেশে ২১ মার্চ শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২১ মার্চ সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ধরে ছুটির ক্যালেন্ডার সাজিয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই নতুন পূর্বাভাস সরকারি সেই পরিকল্পনার সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে।

কালের আলো/এসএম/এএএন

শিলিগুড়ির এজলাসে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান, আদালতকক্ষে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
শিলিগুড়ির এজলাসে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান, আদালতকক্ষে বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের এজলাসে হিজাব পরা এক নারী বিচারককে দেখে এক অভিযুক্ত ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের ৪ নম্বর এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে আদালতকক্ষে বিতর্ক তৈরি হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের একটি মামলায় অভিযুক্তদের উপস্থিতি নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। ওই মামলার সূত্রপাত একটি আন্তঃধর্মীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে। সে সময় ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন আগেই জামিন পেয়েছিলেন। পরে কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়।

নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের একজন বিচারকের পোশাক দেখে ‘জয় শ্রীরাম’ বলেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে আদালতকক্ষে আলোচনা শুরু হলে অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা চান।

শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উদয়শঙ্কর মালাকার ঘটনাটিকে অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আদালতকক্ষে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয় এবং আদালত চাইলে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলাও করতে পারত।

অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক দিবাকর রায়ও আদালতকক্ষে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তার বক্তব্য, আদালত নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার জায়গা।

এদিকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের আইনজীবী ও পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য অলকেশ চক্রবর্তী বলেন, আদালতে বিচারক বা বিচারপ্রার্থীর পোশাক নিয়ে মন্তব্য করা যায় না। পোশাক দেখে ওই স্লোগান দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুতর বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, স্লোগানটি বিচারককে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়নি। নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের একজন না বুঝেই ওই কথা বলে ফেলেছেন। তিনি বলেন, অনেকে সম্ভাষণের সময় ‘জয় শ্রীরাম’ বা এ ধরনের বাক্য ব্যবহার করেন। এরপরও ঘটনার জন্য আদালতকক্ষেই তিনি ও তার পক্ষের অন্যরা ক্ষমা চেয়েছেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার বিষয়ে বিচারকের কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য বা আদালতের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত আইনি পদক্ষেপের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সম্ভাব্য ‘মেগা ডিজাস্টার’ মোকাবিলায় কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ ফায়ার সার্ভিসের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
সম্ভাব্য ‘মেগা ডিজাস্টার’ মোকাবিলায় কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ ফায়ার সার্ভিসের

বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর একসঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সম্ভাব্য ‘মেগা ডিজাস্টার’ মোকাবিলায় জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ রেসকিউ টিম (এসআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে গঠন করা হয়েছে ২০ সদস্যের পৃথক বিশেষ রেসকিউ টিম। ঢাকার আশপাশের আরও ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি প্রয়োজনে রাজধানীতে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

  • ৪১ পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম
  • পূর্বাচলে বিশেষ রেসকিউ টিম
  • ঢাকার সহায়তায় প্রস্তুত ১০০ ফায়ার স্টেশন

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, বড় ভূমিকম্পে একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই জনবল, সরঞ্জাম ও কমান্ড ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক জায়গায় সব সরঞ্জাম নয়

ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে থাকা বিপুল পরিমাণ উদ্ধার সরঞ্জামও আটকে পড়তে পারে। এতে পুরো উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকি কমাতে ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম ভাগ করে রাখা হয়েছে। ফলে কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কাছাকাছি অন্য স্টেশন থেকে সরঞ্জাম এনে উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হবে।

পূর্বাচলে বিশেষ রেসকিউ টিম

বড় ভূমিকম্পে সাধারণ ফায়ার স্টেশনের জনবল দিয়ে একসঙ্গে সব এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হতে পারে। এ জন্য পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি স্পেশাল রেসকিউ টিম (এসআরটি) মোতায়েন রাখা হয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতেও বিভিন্ন স্টেশন থেকে প্রশিক্ষিত জনবল নিয়ে ২০ সদস্যের করে এসআরটি গঠন করা হয়েছে। এসব দলকে ধসে পড়া ভবনে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার সহায়তায় প্রস্তুত ১০০ স্টেশন

ভূমিকম্পে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বড় শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিভাগীয় শহরের বাইরের ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে ‘এয়ারমার্ক’ করা হয়েছে। রাজধানীর কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন হলে এসব স্টেশন থেকে দ্রুত জনবল ও সরঞ্জাম এনে ঢাকার উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হবে।

তবে বড় ভূমিকম্পে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কীভাবে এসব জনবল ও সরঞ্জাম ঢাকায় আনা হবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে রেসকিউ টিম ও সরঞ্জাম স্থানান্তরের বিষয়ে বিমান বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পে কমান্ড সচল রাখার প্রস্তুতি

ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রমে কমান্ড ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুরান ঢাকার সদর দপ্তর কোনো বড় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে নেতৃত্ব ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল থাকে, সে অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে দুজন পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কমান্ড কর্মকর্তাদের মিরপুরে অফিস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের মূল অংশও সেখানে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মিরপুর-১০-এর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পূর্বাচলের নতুন মাল্টিপারপাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মিরপুরে ভূমিকম্প প্রতিরোধক সদর দপ্তর

পুরান ঢাকার সদর দপ্তরের ঝুঁকি বিবেচনায় মিরপুর-১০-এ নির্মাণ করা হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের নতুন বহুতল সদর দপ্তর। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নির্মাণাধীন ভবনটিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বেজ আইসোলেশন প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটির মাধ্যমে ভবনটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ধসে পড়া থেকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ২০২৮ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। এরপর ফায়ার সার্ভিসের পুরো অধিদপ্তর সেখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিচ্ছিন্ন হলেও সচল থাকবে যোগাযোগ

বড় ভূমিকম্পে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক, মোবাইল টাওয়ার ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এ ঝুঁকি বিবেচনায় গত আগস্টে দেশব্যাপী কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ করেছে ফায়ার সার্ভিস। অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আরাব) সহায়তায় আয়োজিত ওই মহড়ায় বেতার, মোবাইল ও ল্যান্ডফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে বিকল্প ব্যবস্থায় ফায়ার স্টেশনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সচল রাখার অনুশীলন করা হয়।

বড় চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে বহু বিপর্যয়

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বড় ভূমিকম্পের পর একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত বিপর্যয় মোকাবিলাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার ভাষ্য, ভবনধসের পাশাপাশি গ্যাসলাইন থেকে আগুন, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও মানুষের আটকে পড়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ঢাকার সরু সড়ক, যানজট, অবৈধ পার্কিং ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেও সমস্যা হতে পারে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের স্থিতিশীলতা যাচাই না করে উদ্ধারকারীদের প্রবেশ করানোও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই পরিস্থিতি দ্রুত মূল্যায়ন, আটকে পড়াদের শনাক্তকরণ, অগ্রাধিকারভিত্তিতে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নয়, প্রস্তুতিই ভরসা

ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের মতে, বড় ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময় আগে থেকে জানানোর মতো প্রযুক্তি এখনো নেই। তাই ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত মহড়ার বিকল্প নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে; বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝুঁকি বেশি। তাই সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন। তার মতে, বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, নিয়মিত মহড়া এবং সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ও সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।

বড় ভূমিকম্প উন্নত দেশগুলোর জন্যও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকেও বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে।

সরঞ্জাম বাড়ানোর উদ্যোগ

ভূমিকম্প ও বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম বাড়াতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে ফায়ার সার্ভিস। এসব বৈঠকে মেগা ডিজাস্টার মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সক্ষমতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নতুন সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, বড় ভূমিকম্প কখন হবে তা আগাম বলা সম্ভব না হলেও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই একক সদর দপ্তরনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে জনবল, সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও কমান্ড কাঠামোকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

সিইসি’র বিরুদ্ধে আন্দোলন ঠেকাতে

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ  দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২ অক্টোবর) নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত ওই এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ১১টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, মন্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাঁদনি চকসহ ১১টি স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। কয়েকটি স্টেশনে অবশ্য আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থা চালু ছিল।

যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্য মোতায়েন করা হয়। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ দিল্লি জেলায় প্রায় ৫ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই আম আদমি পার্টির দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। এএপি নেতা অতিশী ও সঞ্জীব ঝাকেও আটকের খবর পাওয়া যায়। সৌরভ ভরদ্বাজ দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হওয়া সত্ত্বেও তাদের আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, অনুমতি না থাকায় বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের অন্যতম বিষয় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসআইআরের আওতায় ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নির্বাচন কমিশন তাদের ভোটার-তালিকা ব্যবস্থার সফটওয়্যার পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা উচিত।

এদিকে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, এসআইআর বাতিল এবং ভোটপ্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছে। আম আদমি পার্টি, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের শুক্রবারের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কেও বিক্ষোভের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সেখানে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে ইন্ডিয়া জোট ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন ঘেরাও এবং বিভিন্ন শহরে জনসভার কর্মসূচিও রয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে এসব কর্মসূচির মধ্যে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি