খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে মাঠে জাইমা রহমান

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে মাঠে জাইমা রহমান

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে নামছে টাইগাররা। ম্যাচটি শুরু হয় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে।

বুধবার(১১ মার্চ) ম্যাচ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেটে উপস্থিত হন জাইমা রহমান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ সময় বিসিবির পরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্টস বক্সে অবস্থান করছেন।

এর আগে, বুধবার (১১ মার্চ) মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছে পাকিস্তান। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই সিরিজকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখছে দুই দলই।

সবশেষ গত ২ ডিসেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলেছিল টাইগাররা। এরপর ৯৯ দিনের বিরতি শেষে আবার মাঠে ফিরেছে তারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার হতাশা পেছনে ফেলে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে নতুন উদ্যমে শুরু করেছে বাংলাদেশ।

২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে পারবে ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের সেরা আটটি দল। পাশাপাশি স্বাগতিক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়াও সরাসরি খেলবে। দক্ষিণ আফ্রিকা যদি র‍্যাংকিংয়ের সেরা আটে থাকে, সেক্ষেত্রে সেরা নয় দল সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। বর্তমানে ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে দশম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তাই সেরা নয়ের মধ্যে জায়গা করে নিতে এই সিরিজটি টাইগারদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়েই মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জানিয়েছেন, আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভালো ব্যাটিং উইকেটে খেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে দলের ক্রিকেটারদের।

বাংলাদেশের মাটিতে সর্বশেষ ২০১৫ সালে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল পাকিস্তান। সেই সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল তারা। এছাড়া গত বছর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে এসে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল পাকিস্তান।

সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৯টি ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এরমধ্যে বাংলাদেশের জয় ৫টিতে, পাকিস্তান জিতেছে ৩৪ ম্যাচে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৫ জয়ের চারটি এসেছে ২০১৫ সালে।

কালের আলো/এসএকে

ডিআইজি-এসপিসহ পুলিশের ২৪ কর্মকর্তার দপ্তর বদল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
ডিআইজি-এসপিসহ পুলিশের ২৪ কর্মকর্তার দপ্তর বদল

পুলিশের ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এসব বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটের (এসআরইউ) ডিআইজি ড. মো. আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়াকে পুলিশ স্টাফ কলেজে, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মো. মাহমুদুর রহমানকে পুলিশ স্টাফ কলেজে এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিআইজি মোহাম্মদ হাসান বারী নূরকে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটে (মেট্রোরেল) পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিআইডির পুলিশ সুপার এ টি এম মোশাররফ হোসেন ও ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলমকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সংযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে ট্যুরিস্ট পুলিশে এবং এসবির পুলিশ সুপার আশ্রাফুজ্জামানকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুনকে এসবিতে, পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি নিশাত এ্যঞ্জেলাকে ট্যুরিস্ট পুলিশে এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইনকে এসআরইউয়ের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার কবীর আহম্মেদকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্য এক প্রজ্ঞাপনে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার শেখ শরীফুল ইসলামকে শেরপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার এম এম শাকিলুজ্জামানকে ময়মনসিংহ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার ড. মো. সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ারকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে। রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) শাহ মমতাজুল ইসলামকে চট্টগ্রাম আরআরএফের কমান্ড্যান্ট অতিরিক্ত ডিআইজি এবং টিডিএসের অতিরিক্ত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে রংপুর পিটিসিতে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া এসআরইউয়ের পুলিশ সুপার মোছা. শিরিন আক্তার জাহানকে পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি ড. মো. মঞ্জুরে আলম প্রামাণিককে ট্যুরিস্ট পুলিশে, এসআরবির পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেনকে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি, টিডিএসের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল হালিমকে সিআইডিতে এবং সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদকে সাতক্ষীরা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিআইডির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে নীলফামারী ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে বর্তমানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাতেও পড়ছে।

বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক সহায়তা দিন দিন কমে আসছে। এতে বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা আগের মতো উচ্চ পর্যায়ে অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের পথ সহজ হবে।

আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইআইএমএমের দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দুই শতাধিক ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এসব তথ্য ও প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আইআইএমএমের তদন্ত শুধু ২০১৭ সালের ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘাতে বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সীমান্তে মিয়ানমার অংশে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার কারণে এসব মাইন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসায় কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে আইআইএমএম। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

কে সাংবাদিক, কে ‘ভুয়া’—ফয়সালার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
কে সাংবাদিক, কে ‘ভুয়া’—ফয়সালার উদ্যোগ

সাংবাদিকতার পরিচয় ও পেশাগত স্বীকৃতির সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণে এবার নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানাল সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেছেন, কারা সাংবাদিক এবং কাদের সাংবাদিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে—এ বিষয়ে এখন আর অস্পষ্টতার সুযোগ নেই। অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য যেমন হুমকি তৈরি করছে, তেমনি তা জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

  • পরিচয়ের অপব্যবহার শুধু সাংবাদিকতা নয়, জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্যও হুমকি: ইয়াসের খান
  • অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া সাংবাদিকতা ঠেকাতে সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রস্তাব চাইল সরকার

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকতার পরিচয় নির্ধারণে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সম্মিলিত প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সেই প্রস্তাব পাওয়ার পর সরকার তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।

‘সাংবাদিক’ পরিচয়ের আড়ালে কারা?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে সাংবাদিকতার প্রচলিত কাঠামোর বাইরে নানা ধরনের প্ল্যাটফর্ম ও ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে। ফেসবুক পেজ কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। এই বাস্তবতাকেই সামনে এনে পেশাটির একটি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেন প্রতিমন্ত্রী।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও পেশাগত সংজ্ঞা নির্ধারণ জরুরি। ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড শুধু প্রকৃত সাংবাদিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, সাধারণ মানুষকেও বিভ্রান্ত ও হয়রানির মুখে ফেলছে। এর নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপরও পড়তে পারে।

সাইবার আইন: স্বাধীনতা নাকি নিরাপত্তা?

মতবিনিময়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে সাংবাদিক নেতাদের উদ্বেগও উঠে আসে। জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ কিংবা সাংবাদিকদের লেখার স্বাধীনতা খর্ব করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। সাইবার জগতে জনগণ ও সাংবাদিকদের নিরাপদ রাখাই আইনের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, সাইবার সিকিউরিটি শুধু কাউকে নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়; নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করাও এর উদ্দেশ্য। সাংবাদিকদের মতামত নিয়ে আইনটির কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

গণমাধ্যমের জন্য বিশেষ সুরক্ষার ভাবনা

সাইবার সুরক্ষা আইনে গণমাধ্যমের জন্য বিশেষ সুরক্ষা রাখার একটি প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সাংবাদিক নেতাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল বা নিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে ভুলবশত এমন কিছু প্রকাশিত হলে, যা আইনের ব্যত্যয় ঘটায়, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতির বিধান রাখা যেতে পারে।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবটি সরকার বিবেচনা করছে। বিষয়টি আইনে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং এর ভাষা কী হবে, তা নিয়ে কাজ চলছে।

ভুয়া অ্যাকাউন্টের আড়ালে হয়রানি ও গুজব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মানুষকে হয়রানি ও হেনস্তার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এসব ঘটনায় কেউ কেউ আত্মহত্যাপ্রবণ পর্যায়েও চলে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়ানোর প্রবণতা ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। তাঁর ভাষ্য, সাংবাদিকদের নিরাপদ না রেখে গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সাইবার নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ

মতবিনিময়ে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদার পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরেন ডিইউজে নেতারা। সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও অনেকেই ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ চান তিনি।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া উচিত নয়। ফেসবুক পেজ খুলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার অবিলম্বে দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি জানান। একই সঙ্গে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করে না—এমন পত্রিকা ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে সরকারি বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় শেষে সাংবাদিক নেতাদের দাবি ও প্রস্তাব লিখিতভাবে দেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। লিখিত প্রস্তাব পেলে সেগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া সহজ হবে বলে জানান তিনি।

কালের আলো/এমএএএমকে