কিডনি বিকল রোগীদের ৮০ ভাগই মারা যায় বিনা চিকিৎসায়
কিডনি রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। দেশে কিডনি বিকল রোগীদের প্রায় ৮০ ভাগই বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচারণার অভাবে অনেকে এখনও বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না। কিডনির রোগ নিয়ে দেশে জাতীয়ভাবে কোনো জরিপ বা গবেষণা নেই। কিডনির রোগবিশেষজ্ঞরা প্রায় দুই দশক ধরে বলে আসছেন, কোনো না কোনো কিডনির রোগে ভুগছেন, দেশে এমন মানুষ আছেন প্রায় ২ কোটি। গণমাধ্যমসহ নানা পর্যায়ে এই পরিসংখ্যানই ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, নীরব ঘাতক কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। ভেজাল খাবার এড়িয়ে চলা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখলে কিডনি রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) তথ্য অনুযায়ী, ৯ ধরনের কিডনির রোগে বাংলাদেশের মানুষ ভুগছেন। এর মধ্যে আছে: টাইপ-২ ডায়াবেটিসজনিত দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগ, উচ্চ রক্তচাপজনিত দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগ, টাইপ-১ ডায়াবেটিসজনিত দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগ, কিডনির ক্যানসার, মূত্রতন্ত্রের কিছু সমস্যাজনিত কিডনির রোগ, কিডনির পাথর, দীর্ঘস্থায়ী কিডনির প্রদাহ, তীব্র কিডনির প্রদাহ এবং বেশ কিছু অনির্দিষ্ট কারণে কিডনির রোগ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেন, কিডনির রোগের অন্যতম প্রধান কারণ টাইপ-২ ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়ে। পরিসংখ্যান বলছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসজনিত দেশে দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগে ভুগছেন ২০ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ। উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনির রোগে ভুগছেন ৩ লাখ ৮৯ হাজার মানুষ। আবার কিডনিতে ক্যানসার আছে এমন রোগী ৪ হাজার ৭১৬ জন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানও পাওয়া যায় আইএইচএমইর কাছ থেকে। তারা বলছে, দেশে প্রতিবছর ১৭ হাজার ৭৮ জন কিডনির রোগে মারা যান। সবচেয়ে বেশি মারা যান টাইপ-২ ডায়াবেটিসজনিত কিডনির রোগে। এই কারণে মারা যান সাড়ে চার হাজার মানুষ। উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনির রোগে বছরে মারা যান তিন হাজারের বেশি মানুষ। কিডনির ক্যানসারে মারা যান ৮১৩ জন।
কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এমএ সামাদ বলেন, সুস্থ জীবনধারা চর্চার মাধ্যমে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিমিত সুষম খাবার গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, শরীরে তরল ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। ফাস্টফুড, মাদক, ধূমপান পরিহার করে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখা; যারা কিডনি রোগের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের নিয়মিত চেক-আপে থাকা এবং শিশুর জন্মগত কিডনি রোগ আছে কি না পরীক্ষা করে সময়মতো চিকিৎসা নিতে হবে। দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array