কুনহা-ভিনির সাম্বা ম্যাজিকে লণ্ডভণ্ড হাইতি
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ড্রয়ের ধাক্কা সামলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই চেনা ছন্দে ফিরল ব্রাজিল। ফিলাডেলফিয়ার মাঠে হাইতিকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথমার্ধেই মাতেউস কুনহার জোড়া গোল এবং ইনজুরি টাইমে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ফিনিশিংয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। এই বড় জয়ে গোল ব্যবধানে মরক্কোকে টপকে গ্রুপ ‘সি’র টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতিকে চেপে ধরে ব্রাজিল। ১৩ মিনিটে দানিলোর পাস ধরে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে বল জালে পাঠিয়েছিলেন রাফিনহা। স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়লেও লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় রেফারি গোলটি বাতিল করেন। এর ঠিক ৯ মিনিট পর আবারও গোলকিপারকে একা পেয়েও লক্ষ্যে শট রাখতে পারেননি বার্সেলোনা তারকা। অবশ্য এবারও তিনি অফসাইড পজিশনেই ছিলেন।
তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য ব্রাজিলকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ঠিক পরের মিনিটেই এলোমেলো হয়ে পড়ে হাইতির রক্ষণভাগ। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের থেকে বল পেয়ে হাইতির গোলমুখে ঠেলে দেন কুনহা। বলটি প্রথমে হাইতিয়ান ডিফেন্ডার ডেলক্রোয়ার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে এবং পরে কুনহার শরীরে লেগে জালে জড়ালে ১-০ তে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
প্রথম গোলের পর আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যার ফলশ্রুতিতে ৩৬ মিনিটে আবারও হাইতির জাল কাঁপান কুনহা। ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন এই স্ট্রাইকার। এরপর কোনাকুনি শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের জোড়া গোল পূরণ করেন তিনি।
ব্রাজিলিয়ান সাম্বার আসল প্রদর্শনী তখনও বাকি ছিল প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে। মাঝমাঠ থেকে লুকাস পাকুয়েতা হাইতির ডিফেন্সের ওপর দিয়ে বল ভাসিয়ে দেন ডি-বক্সে। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাইতিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। চলতি বিশ্বকাপে এটি রিয়াল মাদ্রিদ তারকার দ্বিতীয় গোল। ভিনি-কুনহাদের এই ত্রিমুখী আক্রমণে প্রথমার্ধেই ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর মাঝেই ৩৯ মিনিটে হালকা চোট পেয়ে রাফিনিয়া মাঠ ছাড়লে বদলি নামেন রায়ান।
তিন গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে হাইতি। উইলসন ইসিদর ও ডোমিনিক সিমনকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল শুরু করে দেশটি। ৪৮ মিনিটে দানিলোর এক ভুলের সুযোগ নিয়ে ইসিদর জোরালো শট নিলেও তা ডিফেন্সে ব্লক হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে ব্রাজিল কিছুটা ছন্নছাড়া ফুটবল খেললেও সময়ের সাথে সাথে গুছিয়ে ওঠে। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচে ব্রাজিল।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে জোড়া গোল করা কুনহা ও পাকুয়েতাকে তুলে নিয়ে এন্ড্রিক এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। ৭৮ মিনিটে এন্ড্রিক বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তার গোলটি বাতিল হয়। ৮১ মিনিটে ভিনিসিয়ুস ও ব্রুনো গিমারেজকে তুলে নিয়ে দানিলো সান্তোস ও এদেরসনকে মাঠে নামানো হয়। ৮২ মিনিটে মার্তিনেল্লির পাস থেকে এন্ড্রিক সুযোগ পেলেও হাইতির রক্ষণ তা ক্লিয়ার করে। ম্যাচের শেষ দিকে হাইতি বেশ কিছু ক্রস বাড়িয়ে ব্রাজিলের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও জালের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আনচেলত্তির দল।
কালের আলো/এসএকে


আপনার মতামত লিখুন
Array