হঠাৎ করেই উধাও সয়াবিন তেল
রাজধানীর বেশির ভাগ বাজারেই বোতলজাত সয়াবিন তেল হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেছে বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা তথ্য দিচ্ছেন। চাহিদার চেয়ে ৪২ শতাংশ বেশি আমদানির তথ্য সরকারের তরফে দেওয়া হলেও রোজা শুরু হওয়ার আগ থেকে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিতে শুরু করে, যা এখনও কাটেনি। সরবরাহে সংকট থাকলেও এখনও দামে এর প্রভাব পড়ার অভিযোগ কাউকে করতে শোনা যায়নি।
বর্তমানে সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৭৫ টাকা। খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৫৭ টাকা। পাঁচ লিটারের বোতলজাত তেলের দাম ৮৫২ টাকা। পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে যে কয়জন বড় পাইকারি বিক্রেতা আছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ইমরোজ এন্টারপ্রাইজ। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় তেল সরবরাহ করা প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারি মোহাম্মদ হারুন মিয়া বলেন, ‘রোজা ও কোরবানির ঈদের সময়ে সয়াবিন তেল বেশি লাগে। ভাজা-পোড়া থেকে শুরু করে সব রান্নায় তেল লাগবেই। এখন মৌলভীবাজারে দিনে এক হাজার টনের চাহিদা থাকলেও আসতেছে ৪০০ টনের মত। এত ঘাটতি দিয়ে বাজার চালানো যায় না।’
রোজা উপলক্ষে দেশে যথেষ্ট পরিমাণে ভোজ্যতেল আমদানি করা হয়েছে তা স্বীকার করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত দিয়েছিল ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিল, ‘আসন্ন পবিত্র রমজান সামনে রেখে বাজারে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি ভোজ্যতেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই রমজানে বাজারে ভোজ্যতেল সরবরাহে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।’ বাজারে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের পরিমাণের দিক থেকে সংকটের কোনো সুযোগ না থাকার কথা তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছিল, ‘রমজানে বাড়তি চাহিদার কারণে কতিপয় ব্যবসায়ীর মজুদের প্রবণতা থেকে যদি সংকট হয়ে থাকে, সেটিও কেটে যাবে। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এ অবস্থায় কারও অস্বাভাবিক মুনাফার সুযোগ নেই।’
রাজধানীর মৌলভীবাজারে তীর ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল উৎপাদন ও বাজারজাতকারি সিটি গ্রুপের নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মী আনিস আহমেদ বলেন, ‘বেগম বাজারে আমাদের তেলের সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। চাহিদা মতই দেওয়া যাচ্ছে।’ এ বিক্রয়কেন্দ্রে খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করা হয়। ডিলারদের কোনো প্রকার সরবরাহ করা হয় না। মৌলভীবাজার ঘুড়ে তীর ব্র্যান্ডের ১৬ লিটারের তেলের টিনের ড্রাম দেখা গেলেও বোতলজাত তেলের দেখা মিলেনি খুব একটা। এ বাজারের মেসার্স জব্বার স্টোরের বিক্রয়কর্মী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অল্প কিছু বোতল আছে- যা আছে, তা চোখের সামনে। এ কয়টা শেষ হয়ে গেলে আর কবে পাওয়া যাবে তার ঠিক নেই।’ বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট একইভাবে দেখা গিয়েছে অবস্থা রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার, কারওয়ান বাজার ও মহাখালী বাজারেও। সয়াবিন তেলের এই সরবরাহের সমস্যার মধ্যে বাজারে অপ্রচিলত বিভিন্ন ব্রান্ডের সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে কিছু।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array