খুঁজুন
                               
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২৯ চৈত্র, ১৪৩২
           

ঈদসামগ্রী বিতরণ নিয়ে জামায়াতের বক্তব্যে চীনা দূতাবাসের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ
ঈদসামগ্রী বিতরণ নিয়ে জামায়াতের বক্তব্যে চীনা দূতাবাসের উদ্বেগ

বাংলাদেশের চীনা দূতাবাস গত মঙ্গলবার ঢাকা-১৫ আসন এলাকায় এক হাজারের বেশি মানুষকে ঈদসামগ্রী দিয়েছে। এ অনুদানকে যৌথ বলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে দূতাবাস।

ঈদসামগ্রী বিতরণের সময় ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং চীনের রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে বিতর্ক শুরু হয় জামায়াতের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। দলটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে জানায়, মিরপুর-১০ এ অবস্থিত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও চীনের যৌথ উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে ফুডপ্যাক বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত থেকে ফুডপ্যাক বিতরণ করেন আমিরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

এরপর রাত ১০টা ১৬ মিনিটে দলটি জানায়, মিরপুর-১০ এ অবস্থিত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১৭ মার্চ দুস্থদের মধ্যে ফুডপ্যাক বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত থেকে ফুডপ্যাক বিতরণ করেন আমিরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আবার রাত ১০টা ৩৪ মিনিটে ফেসবুক পেজে জামায়াত জানায়, ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার বেলা ১১টায়, ঢাকাস্থ চায়না এমবাসির পক্ষ থেকে ঢাকা-১৫ আসনের জনসাধারণের জন্য ফুড প্যাকেট উপহার প্রদান করা হয়। আমিরে জামায়াত, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই ফুড প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ চায়না এমবাসির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

সর্বশেষ রাত ১১টা ২৩ মিনিটে দলটি জানায়, ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার বেলা ১১টায়, ঢাকাস্থ চায়না এমবাসির পক্ষ থেকে ঢাকা-১৫ আসনের জনসাধারণের জন্য ফুড প্যাকেট উপহার দেওয়া হয়। এ সময় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই ফুড প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ চায়না এমবাসির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) এবং চায়না এমবাসির পলিটিক্যাল ডিরেক্টর।

একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে চীনা দূতাবাস জানায়, ১৭ই মার্চ, বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য ঈদুল ফিতরের খাদ্য সামগ্রী দান করেছে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে হাজারেরও বেশি স্থানীয় বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন ও বাংলাদেশ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগী অংশীদার। ঈদুল ফিতর হলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং আশীর্বাদ বিনিময়ের সময়। এই দানের মাধ্যমে চীন একটি শান্তিপূর্ণ উৎসব উদযাপনে বাসিন্দাদের প্রতি উষ্ণতা ও সমর্থন জানাতে চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চীন ও বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের একটি সম্প্রদায়। চীন এমন আরও প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে যা জনগণের উপকারে আসবে এবং উভয় দেশের কল্যাণ বৃদ্ধি করবে।

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এই উদার দানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এসব খাদ্যসামগ্রী বাংলাদেশের জনগণের প্রতি চীনের আন্তরিক বন্ধুত্বের প্রতিফলন। তিনি চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি দুই দেশের আন্তঃদলীয় বিনিময় গভীরতর করা ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এর আগে গত বছর গাজীপুরে কম্বল বিতরণের এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ও চীনা রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিষয়টি সবার নজরে আসে মঙ্গলবার রাতে চীনা দূতাবাস সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কনটেন্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর। রাত ১১টা ৫ মিনিটে দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলে, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত সকালে একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। দূতাবাস উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে যে, এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত কিছু কনটেন্ট বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তারা বাংলাদেশের প্রতি চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ নীতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করছে। তারা জোর দিয়ে বলছে, নির্বাচিত সরকারের নির্বিঘ্নে দেশ পরিচালনায় চীন সমর্থন জানায়। দুই দেশের জনগণের অধিকতর কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করে বন্ধুত্ব আরও জোরদার করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

কালের আলো/এসএকে

সমঝোতা ছাড়াই ‘ভেস্তে গেল’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
সমঝোতা ছাড়াই ‘ভেস্তে গেল’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

শান্তি আলোচনায় ইরানের নেতৃত্ব দেন স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ আলোচনার পরও ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত ভেস্তে গেছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স জানান, আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল এখন পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। সূত্র: বিবিসি ও ডনের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা শুরু করে ইরান। একই সঙ্গে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে প্রায় সারা বিশ্বে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়। এতে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়।

এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এরপর ইরানও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর ধারাবাহিকতায় যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করতে গতকাল ইসলামাবাদে আলোচনায় বসে দুই পক্ষ। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি হোটেলে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি এ আলোচনা শুরু হয়।

আলোচনায় লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলা, হরমুজ প্রণালি পরিস্থিতি, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় দেওয়ার প্রসঙ্গসহ নানা বিষয় উঠে আসে। দীর্ঘ প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, দুই পক্ষের দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে মার্কিন প্রতিনিধি দল এখন পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বন্ধ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘সরল সত্য হলো, আমাদের এমন একটি স্পষ্ট অঙ্গীকার দেখতে হবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো উপায়ও অনুসরণ করবে না, যার মাধ্যমে দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা সম্ভব।’

এটিকে ট্রাম্পের ‘মূল লক্ষ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংস করা হয়েছে’, তবে ভবিষ্যতে তারা যেন পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরি করে এ বিষয়ে ‘সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ প্রয়োজন। কিন্তু এ ধরনের অঙ্গীকার আমরা এখনো দেখিনি। তবে আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে দেখব।’

যুক্তরাষ্ট্র ‘সদিচ্ছা নিয়েই’ আলোচনায় এসেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নমনীয়তা ও ‘সদিচ্ছা’ নিয়ে অংশ নিয়েছিল। আমরা একটি খুবই স্পষ্ট প্রস্তাব নিয়ে এখানে এসেছিলাম, এটিই আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। এখন দেখা যাক, ইরান এটি গ্রহণ করে কি না।’

কালের আলো/এসাআর/এএএন 

ফেনীর শহীদ হারুনের পরিবারকে নতুন বাড়ি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
ফেনীর শহীদ হারুনের পরিবারকে নতুন বাড়ি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ফেনীর ট্রাঙ্ক রোডে হরতালের পক্ষে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত ফেনীর যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের পরিবারকে নতুন বাড়ি উপহার দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১২ এপ্রিল) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল নতুন বাড়ি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। আমরা বিএনপি পরিবার সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

ফেনী সদর উপজেলার ১৩ নম্বর ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজারের যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর হরতালের পক্ষে মিছিল করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। তারেক রহমানের নির্দেশে হারুনুর রশিদকে নতুন বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এই বাড়ি নির্মাণের কাজটা তদারকি করবে। এই সংগঠন সারাদেশে বিএনপির বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষদের সহায়তা দিয়ে আসছে। সংগঠনটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন ও সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন দায়িত্ব পালন করছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এই মুহূর্তেই আমাদের মেয়েটির ডেডবডি আনতে পারব না, সচেষ্ট আছি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ফরিদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
এই মুহূর্তেই আমাদের মেয়েটির ডেডবডি আনতে পারব না, সচেষ্ট আছি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, আপনারা জানেন যে লেবাননে এখন একটি যুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করছে। আমাদের ফ্লাইট এখন সুবিধাজনক নয় যে আমরা এই মুহূর্তেই আমাদের এই মেয়েটির ডেডবডি আনতে পারব। আমরা সচেষ্ট আছি, খুব শিগগিরই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লেবাননে আমাদের যে মিশন আছে, তারা কাজ করছে—কীভাবে নিরাপদভাবে মেয়েটিকে (মরদেহ) আমরা শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, গত দুই দিন আগে লেবাননে যে হামলাটা হয়েছে, সেই হামলায় ৩০০ জনের মতো ক্যাজুয়ালটি (যুদ্ধে হতাহত) হয়েছে। তার মধ্যে আমাদের একজন বাংলাদেশি মেয়ে, সে লেবাননে কাজ করতো, সে নিহত হয়েছে একটি পরিবারের সাথে। সেই পরিবারটিও নিহত হয়েছে। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলায়। ইতিমধ্যে তার পরিবারের সাথে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। কথা বলা হয়েছে। এখানে তার যে বোন থাকে, সেই বোনের সাথেও আমরা যোগাযোগ করেছি। আমাদের জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক ইতিমধ্যে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন, ফ্যামিলির সাথে যোগাযোগ করেছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন,আমি শুধু আমার জেলার মেয়ে হিসেবে বলতে পারি যে, আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তায়ালা তার পরিবারকে সেই শোক সহ্য করার শক্তি দিন এবং আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার সচেষ্ট আছে, যাতে আমাদের বাংলাদেশিরা যারা এসব দেশে আছে তারা যেন নিরাপদে থাকে। যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে একটি নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করতে। মিশনগুলো কাজ করছে। যেমন- লেবাননে আমাদের যে বাংলাদেশিরা আছে, তাদেরকে আমরা একটি নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করেছি এবং তারা যেন নিরাপদে থাকে, সে চেষ্টা করছি। ওই দেশগুলোতে যারা বাংলাদেশি দেশে আসতে চায়, নিরাপত্তার অভাবে—তারা যেন নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে পারে, সে ব্যবস্থাও আমরা করছি।

তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে কিছু বাংলাদেশিকে বিমানের একটি চার্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে ফেরত এনেছি এবং যারা আসতে চায় তাদেরও আসার ব্যবস্থা করছি। এখন পর্যন্ত আমাদের আটজন বাংলাদেশি এই যুদ্ধে নিহত হয়েছে বিভিন্ন দেশে এবং এই প্রথম একজন নারী নিহত হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করছি এবং সরকার সচেষ্ট আছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের যেসব রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিদেশে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরছে, তারা যেন আবার কোনো কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারে—সেটার জন্য বাংলাদেশ সরকার অবশ্যই দেখবে এবং আমরা সচেষ্ট আছি। এটা আমাদের ম্যানিফেস্টোর একটি অংশ এবং আমরা অবশ্যই দেখব, যাতে আমাদের ভাইয়েরা যারা এতদিন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে বিদেশে ছিলেন, দেশের রেমিট্যান্স ও অর্থনীতিতে সহযোগিতা করেছেন, তারা যেন আবার একটি কর্মে যুক্ত হতে পারেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ