খুঁজুন
                               
, ,
           

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় বিড়ি ও কারেন্ট জাল আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় বিড়ি ও কারেন্ট জাল আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ভারতীয় পাতার বিড়ি ও কারেন্ট জাল আটক করেছে বিজিবি।

রোববার (২২ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের রামদাসপুর বিল এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় এসব জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ পিস ভারতীয় পাতার বিড়ি এবং ১৫৭ কেজি কারেন্ট জাল। যার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা।

১৬ বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, রাত পৌনে ৩টার দিকে রহনপুর বিওপি ও রামদাসপুর বিওপির যৌথ টহল দল অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল উদ্ধার করে। তবে অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত মালামাল রহনপুর শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

জাহাজবাড়িতে অভিযান নিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানি নভেম্বরে

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
জাহাজবাড়িতে অভিযান নিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানি নভেম্বরে

রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজবাড়ি’তে অভিযান চালিয়ে নয় তরুণকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আট আসামির এ মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ২০১৬ সালে কল্যাণপুরের একটি বাড়িতে পুলিশের অভিযানে নয় তরুণ নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অভিযানে কথিত জঙ্গি আস্তানার পরিচয় দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

আসামিপক্ষের আবেদনে শুনানি পেছাল
মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য বুধবার দিন নির্ধারিত ছিল। তবে আসামিপক্ষ সময় আবেদন করায় ট্রাইব্যুনাল শুনানি পিছিয়ে ১৭ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের কল্যাণপুর অভিযানে কথিত জঙ্গি নাটক সাজিয়ে নয় তরুণকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির পর মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৬ সালে কল্যাণপুরে ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনার পর ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ‘তাজ মঞ্জিল’ নামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ভবনটির আকৃতির কারণে স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি ‘জাহাজবাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল।

‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামে পরিচালিত ওই অভিযানে নয় তরুণ গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় হাসান নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং আরেকজন পালিয়ে যান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানটি নিয়ে পরবর্তী সময়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে আসে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই অভিযানে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে নয় তরুণকে হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়।

কারাগারে দুই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। এ ছাড়া মামলার ছয় আসামি পলাতক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় এবং তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

পরবর্তী শুনানি ১৭ নভেম্বর
আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করায় ওই দিন মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর থাকবে। অভিযোগ গঠন হলে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

‘ইসলামবিরোধী’ দাবি করে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধ, দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে শত শত আফগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
‘ইসলামবিরোধী’ দাবি করে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধ, দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে শত শত আফগান

‘ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়’—এমন যুক্তি দেখিয়ে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা হারাতে পারেন দেশটির শত শত মানুষ। চিকিৎসকেরা বলছেন, দুর্ঘটনা, বিস্ফোরণ ও বিভিন্ন আঘাতে কর্নিয়ার ক্ষতি হওয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই অস্ত্রোপচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তালেবান কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তির আশঙ্কা থাকায় চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার চালিয়ে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে দেশটিতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের যে কার্যক্রম সম্প্রতি গড়ে উঠেছিল, তা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।

কয়েক মাসের উদ্যোগেই বাধা
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম চালু করতে স্থানীয় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছিল একটি চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা। চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বাইরে আফগানিস্তানেও এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু কার্যক্রম শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।

কাবুলের নূর চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক নূর জামান হাশিম জানান, কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আগে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাঁদের কর্মীরা ৯০টি কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করেছিলেন। হাসপাতালে এ চিকিৎসার জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাঁদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী।

আঘাত, জখম, বিস্ফোরণ এবং ঝালাইয়ের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কারণে এসব রোগীর অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। কর্নিয়া প্রতিস্থাপন তাঁদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ছিল।

পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও কর্নিয়ার সংকট
আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মতো বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতাও সীমিত।

নূর জামান হাশিম বলেন, ‘কয়েক দশকের সহিংসতায় আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চক্ষুবিশেষজ্ঞ আমাদের নেই। স্থানীয়ভাবেও প্রয়োজনীয় কর্নিয়া পাওয়া যায় না।’

তালেবান কর্তৃপক্ষের নির্দেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তালেবান কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে আমাদের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। কঠোর শাস্তির ভয়ে কেউ তাদের নির্দেশ অমান্য করার সাহস পাচ্ছেন না।’

চিকিৎসকদের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে যাঁদের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে বা হারিয়ে গেছে, তাঁদের জন্য বিকল্প চিকিৎসার সুযোগ সীমিত।

পাকিস্তান থেকে কর্নিয়া সরবরাহের উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস অব পাকিস্তানি ডিসেন্ট অব নর্থ আমেরিকা (এপিপিএনএ) ২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানে বিনা মূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ করে আসছে। অঙ্গদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা এসব কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে রোগীদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

চলতি বছরের শুরুতে সংস্থাটি আফগানিস্তানেও এ কর্মসূচি চালু করে। এর ফলে দেশটিতে ১৫০টিরও বেশি কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এসব অস্ত্রোপচার পরিচালনার জন্য তিনজন আফগান চক্ষু বিশেষজ্ঞকে পাকিস্তানের পেশোয়ারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এপিপিএনএর কর্নিয়া কর্মসূচির প্রধান এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জাফর মীর ফাউন্ডেশনের প্রধান চিকিৎসক ফাওয়াদ জাফর বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে আমরা পাকিস্তানে বিনা মূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ করে আসছি। এ পর্যন্ত ১০ হাজার মানুষ এই কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছেন।’

আফগানিস্তানে কর্মসূচি সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রায় চার মাস আগে আমরা আফগানিস্তানেও এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করি। দেশটিতে শত শত মানুষের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তালেবান সরকারের নির্দেশে কর্মসূচিটি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।’

চিকিৎসাসেবা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
২০২১ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর তালেবান সরকারের বিভিন্ন নীতির কারণে আফগানিস্তানে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্নিয়া প্রতিস্থাপনে নিষেধাজ্ঞা সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে চোখের ক্ষতিগ্রস্ত স্বচ্ছ অংশ বদলে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে আঘাত বা দুর্ঘটনায় কর্নিয়া নষ্ট হওয়া রোগীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা। এ কার্যক্রম বন্ধ থাকলে অনেক রোগীর চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে শুধু চলমান কর্মসূচিই থেমে যায়নি, ভবিষ্যতে নতুন রোগীদের চিকিৎসার সুযোগও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশটিতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন থাকা মানুষের জন্য এখন বড় প্রশ্ন—কবে আবার এই চিকিৎসা চালু হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

শাদমান-হৃদয়ের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
শাদমান-হৃদয়ের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়লেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের দ্রুত বিদায় এবং মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেছেন শাদমান ইসলাম ও তাওহীদ হৃদয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের চা বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৭৭ রান। চতুর্থ উইকেটে শাদমান ও হৃদয়ের অবিচ্ছিন্ন জুটি স্বাগতিকদের ইনিংসে স্থিতি এনে দিয়েছে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। দলীয় ৯ রানে মাত্র ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম উইকেট হারানোর পর শাদমান ইসলামের সঙ্গে জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মুমিনুল হক। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ।

মুমিনুলের সঙ্গে শাদমানের ৫৯ রানের জুটি
দ্বিতীয় উইকেটে শাদমান ও মুমিনুল হক মিলে ৫৯ রান যোগ করেন। তাঁদের এই জুটি প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। তবে দলীয় ৬৮ রানে ভাঙে এই জুটি। ব্যক্তিগত ২৮ রান করে জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে আউট হন মুমিনুল হক। এরপর শাদমানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক শান্ত। কিন্তু শান্তও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৯ রান করে তিনি ফিরে গেলে ১১০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ফলে আবারও চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।

শাদমান-হৃদয়ের ব্যাটে স্বস্তি
তৃতীয় উইকেট পতনের পর দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শাদমান ইসলাম ও তাওহীদ হৃদয়। দুজনই পরিস্থিতি বুঝে সতর্কতার সঙ্গে ব্যাটিং করেন এবং উইকেট ধরে রেখে রান বাড়াতে থাকেন। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের অবিচ্ছিন্ন জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে এগিয়ে নেয়। দ্বিতীয় সেশনে শান্তর উইকেট হারানোর পর আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি তাঁরা। এতে চা বিরতির আগে ম্যাচে স্বস্তির অবস্থানে ফেরে স্বাগতিকরা। চা বিরতিতে শাদমান ১৬৭ বলে ৭৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার ছাপ। অন্যদিকে হৃদয় ৭৪ বলে ৩৬ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন।

ওয়ারিক্যানের দুই উইকেট
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল জোমেল ওয়ারিক্যান। তিনি বাংলাদেশের দুটি উইকেট নিয়েছেন। আরেকটি উইকেট পেয়েছেন জেইডেন সিলস। প্রথম সেশনে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও দ্বিতীয় সেশনে শাদমান ও হৃদয়ের ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। দিনের বাকি সময়ে এই জুটি কতটা বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দিতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি