খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

দৌলতদিয়ায় উদ্ধার অভিযান নিয়ে সর্বশেষ যা জানালো ফায়ার সার্ভিস

রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
দৌলতদিয়ায় উদ্ধার অভিযান নিয়ে সর্বশেষ যা জানালো ফায়ার সার্ভিস

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে প্রশাসনের মাধ্যমে যার যার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। উদ্ধার অভিযানের তৃতীয় দিনেও আমরা ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা ঘাট এলাকায় অবস্থান করছি।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে দৌলতদিয়া ৩নং ফেরিঘাট এলাকায় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, বাসডুবির ঘটনায় একজন নিখোঁজ আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি, তবে সেটা নিশ্চিত না। বালিয়াকান্দি থেকে মুক্তা নামের একজন মহিলা আমাকে ফোন করে জানিয়েছে রিপন নামের তার এক ভাই ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে বালিয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডে আসে এবং এই সৌহার্দ্য পরিবহন বাসে সে রাজবাড়ী থেকে ঢাকায় যাবে বলে তার বোনকে জানিয়েছে। এই বাসে তার যাওয়ার সম্ভবনা ছিল। বাড়ি থেকে বাসস্ট্যান্ডে আসার পর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সে ঢাকায় একটি ইটের ভাটাতে কাজ করে, সেখানে সে গিয়েছে কিনা তারা খোঁজ নিয়ে দেখছে। তাকে খোঁজ করে পেলে সে আমাদের জানাবে, না পেলেও আমাদের জানাবে। এই একটা মিসিংয়ের সংবাদ আমরা পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা ঘাট এলাকায় অবস্থান করছি। অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য ও মরদেহ ভেসে গিয়েছে কিনা তা দেখতে স্পিড বোট নিয়ে আশপাশের এলাকাগুলো তল্লাশি করছি। আমরা শেষ পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে যাব। এ ছাড়া, অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা মাইকিং করছি, যদি এমন কেউ মিসিং থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা সংশ্লিষ্ট কাউকে জানানোর জন্য বলা হচ্ছে।

নিখোঁজ রিপনের বোন মুক্তা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর থেকে তার ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

কালের আলো/এসএকে

ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

কয়েকদিন ধরেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। একই সময়ে ভারতের উজানের মেঘালয় রাজ্যেও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।

এ অবস্থায় সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, বন্যা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

মেঘালয়ের দৈনিক আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যটির বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সোহরা (চেরাপুঞ্জি) এলাকায়—৭২ দশমিক ২ মিলিমিটার।

এছাড়া শিলংয়ে ২১ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং বারাপানিতে ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ভৌগোলিকভাবে মেঘালয়ের সোহরা ও খাসি পাহাড়ি অঞ্চলের টানা বৃষ্টি সিলেটের নদ-নদী ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উজান থেকে নেমে আসা পানি সুরমা, কুশিয়ারা ও অন্যান্য পাহাড়ি নদীর প্রবাহ দ্রুত বাড়িয়ে দেয়,

যা স্বল্প সময়ে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

সেখানকার আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ ও ২৭ মে মেঘালয়ের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রপাত এবং ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ ও ২৯ মে পর্যন্তও বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ১১১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এছাড়া জেলা ভিত্তিক পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জে ৮২ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ৬৫ মিলিমিটার এবং মৌলভীবাজারে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।এদিকে, মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ৩টার সর্বশেষ তথ্যে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে।

সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক শূন্য মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৮ দশমিক ৪৭ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার।

কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ৬৪ মিটার, বিপৎসীমা ১৫ দশমিক ৮০ মিটার। শেওলা পয়েন্টে ১০ দশমিক ৪৩ মিটার, বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ০৫ মিটার। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৮ দশমিক ৬১ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮৫ মিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে ৭ দশমিক ৪৮ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৫৫ মিটার।

সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৮ দশমিক ৯০ মিটার, বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৩৫ মিটার। পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ১০ মিটার, বিপৎসীমা ১৩ দশমিক শূন্য মিটার এবং গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ৭ দশমিক ৮৬ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮২ মিটার।

এছাড়া লোভাছড়া নদীর লোভাছড়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১১ দশমিক ৪২ মিটার এবং ধলা নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে ৭ দশমিক ২৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, উজানের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢল এবং সিলেটের অভ্যন্তরীণ ভারী বৃষ্টি একসঙ্গে অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

এতে সিলেটের সীমান্তবর্তী নিচু এলাকা, হাওরাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল মুঈদ বলেন, সিলেটে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে এবং উজানের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়াও হতে পারে।

এছাড়া সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ দাস বলেন, ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোতে এসে পড়ছে। একই সঙ্গে সিলেটেও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। উজানে বৃষ্টি ও ঢল চলমান থাকলে সিলেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আকস্মিক বন্যা হলেও তা স্বল্পমেয়াদি হবে এবং পানি দ্রুত নেমে যাবে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

সন্ধ্যার মধ্যে ভয়াবহ ঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরগুলোকে সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
সন্ধ্যার মধ্যে ভয়াবহ ঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরগুলোকে সতর্কতা

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের সাত জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের অনত্র পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ
মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে কী কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। 

বুধবার (২৭ মে) সকালে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুদের মৃত্যু আসলে কী কারণ, তা আমরা এখনো জানি না। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে, আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি