খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল ২.৯ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল ২.৯ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে জ্বালানি তেলের বাজারে। মাঝে কিছুটা কমলেও আবারও বেড়েছে তেলের দাম। এশিয়ার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের বেশি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ১১৫ দশমিক ৮৪ ডলার, যা আগের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। খবর বিবিসির।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর আগে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়তে থাকে ।

গত ১৯ মার্চ তেলের দাম সর্বোচ্চ ১১৮ ডলারে পৌঁছায়। এরপর কিছুটা কমে গেলেও শুক্রবার পর্যন্ত তা ১১২ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছিল, যা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে প্রতিটি দেশ। জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে দেশগুলো। নানা উপায়ে এই সংকট মোকাবেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লেই বছরে অতিরিক্ত প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়ে। আর যদি দীর্ঘ সময় ধরে দাম ১২০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে, যা প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা। সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন প্রাক্কলন তুলে ধরা হয়।

কালের আলো/এসাআর/এএএন

গণভোটের একটি প্রশ্নের অর্ধেক নিয়ে দ্বিমত আছে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
গণভোটের একটি প্রশ্নের অর্ধেক নিয়ে দ্বিমত আছে: আইনমন্ত্রী

গণভোটের চারটি প্রশ্নের মধ্যে সাড়ে তিনটি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই, তবে একটি প্রশ্নের অর্ধেক অংশ নিয়ে মতভেদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর দাবি, ওই অংশটি জুলাই সনদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে মনে হচ্ছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, গণভোটের সাড়ে তিনটি প্রশ্ন নিয়ে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। তবে অর্ধেক প্রশ্ন নিয়ে দ্বিমতের জায়গা রয়েছে। তাঁর মতে, ওই অংশটি জুলাই সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জুলাই সনদের ৬ নম্বর ধারার ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির কোনো আপত্তি নেই। তবে উচ্চকক্ষের সদস্যরা জনগণের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী নির্বাচিত হবেন—এমন প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি এ বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল এবং তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। বিএনপির অবস্থান ছিল, উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচন সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক হারে হওয়া উচিত।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এটি বাস্তবায়নের জন্য ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি আইন করা প্রয়োজন। সংবিধান সংশোধনের সমপর্যায়ের কোনো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা হলে তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে এ ধরনের আইন করার সুযোগ আর রাখা হয়নি। আইন করতে হলে তা সংসদে পাস করতে হবে। সংসদ না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।

আলোচনা সভায় সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. আহমদ আব্দুল কাদের ও সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হোসেনসহ অনেকে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নাইজেরিয়ায় মসজিদে হামলা, প্রায় ৬০০ নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষকে অপহরণের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
নাইজেরিয়ায় মসজিদে হামলা, প্রায় ৬০০ নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষকে অপহরণের দাবি

নাইজেরিয়ার উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় নাইজার রাজ্যে একটি মসজিদে হামলার পর প্রায় ৬০০ নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী অপহৃতদের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে জঙ্গল এলাকায় বহু মানুষকে মাটিতে বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের চারপাশে অস্ত্রধারী কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। ভিডিওতে শিশুদের কান্নার শব্দও শোনা যায়। তবে রয়টার্স ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ডেকারা গ্রামের একটি মসজিদে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। একই সময়ে আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও হামলা চালিয়ে মানুষকে অপহরণ করা হয়। পুলিশ মসজিদে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করলেও অপহৃতের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি।

ভিডিওতে হাউসা ভাষায় কথা বলা এক বন্দুকধারী অপহৃতদের স্বজনদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের শনাক্ত করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা জামিলু ইব্রাহিম জানান, অপহৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে। তাদের দ্রুত উদ্ধারে নাইজেরিয়ার কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলে মুক্তিপণের জন্য গণ-অপহরণ দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা। সশস্ত্র দলগুলো নিয়মিত গ্রাম, স্কুল ও মহাসড়কে হামলা চালিয়ে মানুষকে অপহরণ করে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো /এসএ

রাষ্ট্র সংস্কারে সব পক্ষের সহযোগিতা চাইলেন আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্র সংস্কারে সব পক্ষের সহযোগিতা চাইলেন আইনমন্ত্রী

রাষ্ট্র সংস্কারের যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সংস্কারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে এবং সেই অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক দলগুলো কর্মসূচি পালন করবে এবং সরকারের সমালোচনা করবে—এটাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ।

সমাজে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারে উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মতপ্রকাশের কারণে লেখক, সাংবাদিক, কার্টুনিস্টসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হয়রানি বা গ্রেপ্তারের অতীত সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আইন ও নীতিমালার বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় মনে করে না জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো আইন বাস্তবে প্রয়োগের পর সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার তা সংশোধনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মানুষের প্রয়োজনেই আইন প্রণয়ন করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা সংশোধন করা যায়।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদকে সামনে রেখে সরকার সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখেই প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ প্রয়োজন। সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে যৌক্তিক প্রস্তাব ও মতামত বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে গঠনমূলকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামোসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধান বিবেচনায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দক্ষতা ও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করা।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কমিশন গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের দায়িত্ব পালনে ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সংস্কারের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য সরকারের কার্যক্রম নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা ও যৌক্তিক পরামর্শকে স্বাগত জানানো হবে।

তিনি বলেন, “আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পিছনে ফিরতে চাই না।”

অনুষ্ঠানে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যম ও আইন পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। আলোচনায় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, জনগণের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক জবাবদিহি, সুশাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।