গণভোটের একটি প্রশ্নের অর্ধেক নিয়ে দ্বিমত আছে: আইনমন্ত্রী
গণভোটের চারটি প্রশ্নের মধ্যে সাড়ে তিনটি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই, তবে একটি প্রশ্নের অর্ধেক অংশ নিয়ে মতভেদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর দাবি, ওই অংশটি জুলাই সনদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে মনে হচ্ছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, গণভোটের সাড়ে তিনটি প্রশ্ন নিয়ে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। তবে অর্ধেক প্রশ্ন নিয়ে দ্বিমতের জায়গা রয়েছে। তাঁর মতে, ওই অংশটি জুলাই সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জুলাই সনদের ৬ নম্বর ধারার ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির কোনো আপত্তি নেই। তবে উচ্চকক্ষের সদস্যরা জনগণের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী নির্বাচিত হবেন—এমন প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি এ বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল এবং তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। বিএনপির অবস্থান ছিল, উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচন সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক হারে হওয়া উচিত।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এটি বাস্তবায়নের জন্য ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি আইন করা প্রয়োজন। সংবিধান সংশোধনের সমপর্যায়ের কোনো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা হলে তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে এ ধরনের আইন করার সুযোগ আর রাখা হয়নি। আইন করতে হলে তা সংসদে পাস করতে হবে। সংসদ না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
আলোচনা সভায় সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. আহমদ আব্দুল কাদের ও সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হোসেনসহ অনেকে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
Array