খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

১২৫ বার পেছালো সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
১২৫ বার পেছালো সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পি‌ছিয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল।

এদিন মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইর তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। তাই আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ মে নতুন দিন ধার্য করেন। এনিয়ে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৫ বার পেছালো।

সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কাছে তদন্তাধীন ছিল। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্তের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের আদেশ দেন হাইকোর্ট। বর্তমানে পিবিআই মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অপর আসামিরা হলেন, বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ রুদ্র জামিনে আছেন। বাকিরা এখনো কারাগারে।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন শেরে বাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত ভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর।
এর দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

আস্থার সংকট ‘এক রাতে’ দূর হবে না : ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
আস্থার সংকট ‘এক রাতে’ দূর হবে না : ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ব্যাপক মাত্রায় আস্থার সংকট রয়েছে এবং তা ‘এক রাতে’ দূর হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তবে ইরান যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আসতে চায়— এ ব্যাপারটিকে ‘খুব ইতিবাচক’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’ নামের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভ্যান্স বলেন, “ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অবশ্যই ব্যাপক মাত্রার আস্থার সংকট রয়েছে। এক রাতে এই সংকটের সমাধান হবে না। তবে তারা যে আমাদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসতে চাইছে— এটা ইতিবাচক এবং এ ইস্যুতে আমরা এখন যে অবস্থানে আছি, তাতে আমি খুবই খুশি।”

ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

এই যুদ্ধবিরতেকে স্থায়ী যুদ্ধাবসানের দিকে নিয়ে যেতে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা। সেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।

বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর। কিন্তু ২২ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো চুক্তিস্বাক্ষর ছাড়াই শেষ হয়েছে ইসলামাবাদ বৈঠক।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেছেন, শিগগিরই ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসবেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা।

সূত্র : রয়টার্স

কালের আলো/এসএকে

১৭ বছর পর ভাত খেলেন সেই ইনু মিয়া!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
১৭ বছর পর ভাত খেলেন সেই ইনু মিয়া!

ভোটকেন্দ্রে লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিবাদে এবং নিজের প্রিয় দল ও নেতার বিজয়ের প্রতীক্ষায় দীর্ঘ ১৭ বছর ভাত না খাওয়ার কঠিন প্রতিজ্ঞা অবশেষে ভাঙলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের বৃদ্ধ মো. ইনু মিয়া (৮০)।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের উপস্থিতিতে শত নেতাকর্মীর মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাত খেয়ে তিনি তার দীর্ঘ শপথের অবসান ঘটান।

ইনু মিয়া কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদি ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় দিনমজুর এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার একনিষ্ঠ ভক্ত এই বৃদ্ধ পড়ালেখা না জানলেও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে। স্থানীয় জগৎচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে ইনু মিয়াকে বাধা দেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় তাকে লাইন থেকে টেনে বের করে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে অপদস্থ করা হয়। সেই অপমান সইতে না পেরে ইনু মিয়া প্রতিজ্ঞা করেন- যতদিন না বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরবে এবং শরীফুল আলম এমপি নির্বাচিত হবেন, ততদিন তিনি আর অন্ন স্পর্শ করবেন না।

সেই থেকে টানা ১৭ বছর তিনি ভাত ছাড়াই দিনাতিপাত করেছেন। পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী এমনকি জুলাই বিপ্লবের পর শরীফুল আলম নিজে তার বাড়িতে গিয়ে অনুরোধ করলেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কেবল রুটি, কলা, মুড়ি ও চিড়া খেয়ে বেঁচে ছিলেন।

ইনু মিয়ার স্ত্রী জোস্না বেগম জানান, তাকে ছাড়া ভাত খেতে পরিবারের সবার কষ্ট হলেও ইনু মিয়াকে কোনোভাবেই রাজি করানো যায়নি। অবশেষে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিএনপি ক্ষমতায় আসায় এবং প্রিয় নেতা শরীফুল আলম এমপি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় ইনু মিয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের হাতে ভাত খাওয়ার মাধ্যমে তার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।

এ সময় আবেগাপ্লুত প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, ইনু মিয়ার মতো নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী কর্মীরাই বিএনপির আসল প্রাণশক্তি। তাদের কারণেই নানা ষড়যন্ত্র ও নির্যাতনের পরও দল বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি ইনু মিয়াকে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানেরও ঘোষণা দেন।

কালের আলো/ এসাআর/ এএএন 

ইরানের তেলে আর কোনো ছাড় হবে না: ট্রাম্প 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
ইরানের তেলে আর কোনো ছাড় হবে না: ট্রাম্প 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

সমুদ্রে আটকা পড়ে থাকা ইরানি তেল বিক্রির যে স্বল্পমেয়াদী অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের আগে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

একাধিক জাহাজে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত করে রেখেছিল ইরান। ছিল পেট্রোকেমিক্যালস পণ্যও। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ় প্রণালী কার্যত বন্ধ। তেলের বাজারে শুরু হয় হাহাকার। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে দাম। এই পরিস্থিতিতে সাপ্লাই চেন বজায় রাখতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মজুত তেলের পুরোটাই বিক্রি করতে পারে ইরান।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি দফতর জানায়, ‘সমুদ্রে থাকা জাহাজে মজুত তেলের উপরে যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে। তার পরে আর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো হবে না।’ ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ফিউরি’ নামে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে দেশটি।

এই নিষেধাজ্ঞা তারই অংশ। শুধু তেল নয় ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করলে সেই দেশ বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত শনিবার ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরেই হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ শুরু করে মার্কিন সেনারা।  কোনো দেশের জাহাজই ঢুকতে বা বেরতে পারছে না। এই আবহেই আগামী দুদিনের মধ্যে ফের আলোচনায় বসতে চলেছে দুই দেশ। তার আগে ছাড় তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইরানের উপরে চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান ২০ বছরের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ রাখুক। কিন্তু ইরান ৫ বছরের বেশি রাজি না হওয়ায় প্রথম দফার বৈঠক সফলতার মুখ দেখেনি। তবে গত কয়েক দিনের আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফা শান্তি বৈঠকের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে করে তুলে নেওয়া হতে পারে অবরোধ। খুলে যেতে পারে হরমুজ প্রণালিও।

কালের আলো/ এসাআর/এএএন