খুঁজুন
                               
, ,
           

১২৫ বার পেছালো সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
১২৫ বার পেছালো সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পি‌ছিয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল।

এদিন মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইর তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। তাই আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ মে নতুন দিন ধার্য করেন। এনিয়ে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৫ বার পেছালো।

সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কাছে তদন্তাধীন ছিল। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্তের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের আদেশ দেন হাইকোর্ট। বর্তমানে পিবিআই মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অপর আসামিরা হলেন, বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ রুদ্র জামিনে আছেন। বাকিরা এখনো কারাগারে।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন শেরে বাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত ভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর।
এর দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

দখলে হারিয়ে যাচ্ছে উজান গঙ্গাপুর খাল, দুর্ভোগে কৃষক

সিলেট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দখলে হারিয়ে যাচ্ছে উজান গঙ্গাপুর খাল, দুর্ভোগে কৃষক

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামের ‘উজান গঙ্গাপুর খাল’ দখল ও ভরাটে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময় যে খাল দিয়ে হাওরের পানি নিষ্কাশন, কৃষিজমিতে সেচ এবং নৌযান চলাচল করত, এখন সেখানে অনেক জায়গায় গড়ে উঠেছে বসতঘর ও যাতায়াতের রাস্তা। এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গঙ্গাপুর হাওর থেকে শুরু হয়ে কুশিয়ারা নদীতে মিশেছে খালটি। তবে বর্তমানে খালের অধিকাংশ অংশের কোনো অস্তিত্বই চোখে পড়ে না। কোথাও খাল ভরাট করে বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে, আবার কোথাও তৈরি করা হয়েছে চলাচলের রাস্তা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ধীরে ধীরে দখল হতে থাকে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারি খাসজমিতে খালের পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে ওঠার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। প্রকল্পের ঘর হস্তান্তরের পর বিভিন্নভাবে খালের জায়গা দখল ও ভরাট হতে থাকে বলে জানান তারা।

খালটি সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় গঙ্গাপুর হাওর থেকে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে সেচের জন্য খালের পানি ব্যবহার করাও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। খালের আশপাশের লোকজন বিভিন্ন অংশ ভরাট করে রাস্তা তৈরি করায় বর্ষা ও শুষ্ক—দুই মৌসুমেই কৃষকরা সেচ সংকটে পড়ছেন। বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে সীমিত পরিসরে ফসল উৎপাদন করতে হচ্ছে তাদের।

গঙ্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা আফতাব আলী, জুনাব আলী ও ইসমাঈল আলী বলেন, একসময় এই খাল থেকেই সহজে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করা যেত। বর্তমানে খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে বসতঘর ও রাস্তা নির্মাণ করায় সেটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।

কৃষক কুলেন্দ্র দাস ও অনন্ত দাস বলেন, একসময় বর্ষাকালে খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করত। কুরকুছি হাওর ও গঙ্গাপুর হাওরের মৎস্যজীবীরা এই খাল ব্যবহার করে কুশিয়ারা নদীতে যাতায়াত করতেন। অথচ এখন বর্ষা মৌসুমেও খালে পানি থাকে না।

স্থানীয়রা বলছেন, খালটি দখলমুক্ত করে পুনরায় খনন করা হলে পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে পারে। এতে কৃষকের পাশাপাশি খালের আশপাশের বসতবাড়ির মানুষও বর্ষায় জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবেন।

এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। খালের মালিকানা সরকারি (খাস) কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন—যেটিই হোক না কেন, জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

অসময়ের তরমুজে ভাগ্য বদল আতিয়ারের, আগ্রহ বাড়ছে অন্য কৃষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
অসময়ের তরমুজে ভাগ্য বদল আতিয়ারের, আগ্রহ বাড়ছে অন্য কৃষকদের

দিনাজপুরের হিলিতে মাচায় অসময়ের তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক আতিয়ার রহমান। প্রথমবার ৪০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করে ইতোমধ্যে লাখপতি হয়েছেন তিনি। খরচ বাদ দিয়ে আরও ভালো লাভের আশা করছেন এই কৃষক। তার সাফল্য দেখে স্থানীয় অন্য কৃষকরাও তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান স্থানীয় কৃষি অফিসের প্রদর্শনী হিসেবে ৪০ শতাংশ জমিতে মাচায় তরমুজ চাষ করেছেন। উচ্চ তাপমাত্রা ও বৃষ্টি সহনীয় ‘বেঙ্গল টাইগার’ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে ভালো ফলন এসেছে। তরমুজ পাকতে শুরু করায় ইতোমধ্যে বাজারজাতও করছেন তিনি।

কৃষক আতিয়ার রহমান জানান, বীজ রোপণ থেকে শুরু করে তরমুজ সংগ্রহ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে তিনি প্রতি মণ তরমুজ ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। প্রথম চালানেই ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। জমিতে এখনো অনেক তরমুজ রয়েছে। সব মিলিয়ে বিক্রি দুই লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ধানের তুলনায় তরমুজ চাষে লাভ বেশি। তাই আগামীতে আরও বড় পরিসরে তরমুজ চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

স্থানীয় কয়েকজন যুবক জানান, আতিয়ারের তরমুজের জমিতে কাজ করে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার সাফল্য দেখে গ্রামের আরও অনেক কৃষক মাচায় তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, মাচায় তরমুজ চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। অসময়ের ফল হওয়ায় এ চাষে কৃষক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মানুষের পুষ্টি চাহিদাও পূরণ হবে। বর্তমানে হিলিতে প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে মাচায় তরমুজ চাষ হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় আগামীতে এ আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

টানা তিন দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, বিদায় নিতে পারে মৌসুমি বায়ু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
টানা তিন দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, বিদায় নিতে পারে মৌসুমি বায়ু

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী তিন দিন বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েক ধাপে কমতে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিতে পারে। ফলে বর্ষার শেষ পর্যায়ের এই বৃষ্টির পর দেশের আবহাওয়ায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি