খুঁজুন
                               
, ,
           

আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান

একদিনে দ্বিতীয় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান। বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করেছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ইরান সম্ভবত আরও একটি শত্রুভাবাপন্ন মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। যেহেতু ছবিতে কেবল একটি ইঞ্জিনের ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে, তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে যে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটি একটি এফ-১৬ বা এফ-৩৫; তবে এফ-১৬ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

তাসনিম নিউজ আরও জানিয়েছে, শুক্রবার রাতভর তেহরানসহ ইরানের বেশ কয়েকটি শহরের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের ভারী গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান।

এই যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে কয়েকটি ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোলাবর্ষণ এড়ানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে একটি সম্ভবত গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল।

যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইরানের ইসলামীক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

এরআগে আইআরজিসি দাবি করে, শুক্রবার সকালে মধ্য ইরানের আকাশে তাদের নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এর পাইলট বিমান থেকে বেরিয়ে এসে ইরানের মাটিতে অবতরণ করেন। ওই পাইলট জীবিত আছেন নাকি নিহত হয়েছেন সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রকাশিত বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি দেখে ধারণা করা হচ্ছে এফ-৩৫ নয় এটি একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। এক্ষেত্রে যদি এটি একটি এফ-৩৫ হয়, যেটিতে একটি আসন রয়েছে, সেখানে কেবল একজন পাইলটই থাকার কথা। আর যদি এটি একটি এফ-১৫ হয়, যার দুটি আসনে দুইজন পাইলট থাকতে পারে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাইলটদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই অভিযানে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং একটি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান অংশ নিচ্ছে; তবে, তাদের প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। ভূপাতিত পাইলট বা ক্রুদের অবস্থান এখনো মার্কিন বাহিনীর নাগালের বাইরে রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অভিযানে গিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শিকার হয়েছে একটি মার্কিন হেলিকপ্টারও। তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স দেশটির সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হেলিকপ্টারটি একটি ব্ল্যাক হক ছিল এবং সেটি ইরানের আকাশসীমা ছেড়ে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে সূত্রের বরাত দিয়ে এক্সিওস জানিয়েছে, বিমানটির ২ জন ক্রু’র মধ্যে একজনকে ইতোমধ্যে উদ্ধার করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশেষ শাখা ইউএস স্পেশাল ফোর্স।  আরেক একজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, তবে তার সন্ধান পেতে জোর তৎপরতা জারি আছে।

আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ভূপাতিত হওয়া বিমানটি ছিল মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই ছিল। এতে যে দু’জন ক্রু ছিলেন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন পাইলট এবং অপরজন ছিলেন উইপন-সিস্টেম কর্মকর্তা। তবে যাকে উদ্ধার করা হয়েছে, তিনি পাইলট নাকি উইপন-সিস্টেম কর্মকর্তা— তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসাআর/ এএএন

ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ায় নৌকাডুবি, নিহত ১১ নিখোঁজ ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ায় নৌকাডুবি, নিহত ১১ নিখোঁজ ৬

ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) তিউনিসিয়ার ন্যাশনাল গার্ডের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড, সেনাবাহিনী ও সিভিল প্রোটেকশন বিভাগের সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছেন। দুইটি হেলিকপ্টারও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে।

নৌকাটি গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোরে তিউনিসিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। এতে বেশিরভাগই তরুণ অভিবাসী ছিলেন।

তিউনিসিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, নৌকাটিতে একই পরিবারের সাতজন সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া এক ব্যক্তি তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে নৌকায় উঠেছিলেন।

দুর্ঘটনার পর মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, উদ্ধারের আগে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সাগরে ভেসে ছিলেন। পরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাঁকে উদ্ধার করে।

নৌকায় থাকা সবাই তিউনিসিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেন গেরদানে এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান জোরদারের দাবিতে শনিবার রাতে শহরটিতে কয়েক ডজন তরুণ বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

কালের আলো/এসএ

‘এক ফোঁটা তেলও যেতে দেব না’, হরমুজ নিয়ে ইরানের হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
‘এক ফোঁটা তেলও যেতে দেব না’, হরমুজ নিয়ে ইরানের হুমকি

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের তেল পরিবহন করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন প্রধান মোহসেন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালি কিংবা পারস্য উপসাগরের কোনো পথ দিয়েই ইরান এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেবে না।

ইরানি এই কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে অবৈধ বলে দাবি করেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক নীতিকে যেসব দেশ সমর্থন বা সহযোগিতা করবে, তাদের ভূমিকাকে তেহরান ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে।

এর আগে ইরান জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা স্থানীয় উপকূলীয় দেশগুলোর হাতেই থাকা উচিত।

এ ছাড়া যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি পরিচালনার সুযোগ দেবে কিংবা ওয়াশিংটনকে অন্য কোনো ধরনের সহায়তা করবে, তাদেরও কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদক দেশগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই সরু জলপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এখানে তেল চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

ইরানের এই হুমকি তাই শুধু দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের বিষয় নয়; এর প্রভাব বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

কালের আলো/এসএ

ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল বিক্রি ৩৩ লাখ ডলারে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল বিক্রি ৩৩ লাখ ডলারে

১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল নিলামে বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ পাউন্ডে, যা ৩৩ লাখ ডলারেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের হেরিটেজ অকশনসে শনিবার বলটি বিক্রি হয়।

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২–১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথম গোলটি করেছিলেন ম্যারাডোনা—গোলরক্ষক পিটার শিলটনের মাথার ওপর দিয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। তিউনিসিয়ার রেফারি আলী বিন নাসের গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন।

ম্যাচের পর গোলটি নিয়ে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, সেটি হয়েছিল ‘কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে এবং কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে। এরপর থেকেই গোলটি ফুটবল ইতিহাসে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

একই ম্যাচে ম্যারাডোনা আরও একটি অবিশ্বাস্য গোল করেন। ইংল্যান্ডের পাঁচজন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে পরাস্ত করে গোলটি করেন তিনি। পরে সেটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

নিলামের আগে ধারণা করা হয়েছিল, ঐতিহাসিক অ্যাডিডাস আজটেকা বলটির দাম প্রায় ৭৩ লাখ পাউন্ড বা এক কোটি ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এটি বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ পাউন্ডে।

নিলামের আগে হেরিটেজ অকশনসের বিশেষজ্ঞ মাইক প্রোভেনজালে বলটিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ম্যাচের পর বলটি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন রেফারি আলী বিন নাসের। তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি এটি সংরক্ষণ করেন। ২০২৩ সালে স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে বিন নাসের নিশ্চিত করেন, পুরো ম্যাচে এই একটি বলই ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে স্বাধীন যাচাইয়েও এর সত্যতা নিশ্চিত হয়।

এর আগে ২০২২ সালে বলটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে নতুন মালিক আবার সেটি নিলামে তুললেও নির্ধারিত সর্বনিম্ন দাম না ওঠায় বিক্রি হয়নি।

এদিকে ওই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সিও ২০২২ সালে নিলামে ৭১ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছিল

কালের আলো/এসএ