খুঁজুন
                               
, ,
           

এখনো অক্ষত ইরানের বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র, কার্যকর ড্রোন সক্ষমতাও

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
এখনো অক্ষত ইরানের বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র, কার্যকর ড্রোন সক্ষমতাও

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী পাঁচ সপ্তাহ ধরে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে প্রতিদিন শত শত বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। কিন্তু এত কিছুর পরও তেহরানের কোমর ভাঙা যায়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে, চরম আক্রমণের মুখেও ইরানের অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র (লঞ্চার) এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ইরানে ১২ হাজার ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে মার্কিন সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ অক্ষত আছে। যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে গেলেও তেহরানের ড্রোন সক্ষমতা একটুও কমেনি। তাদের গোপন অস্ত্রাগারে এখনো হাজার হাজার আত্মঘাতী ড্রোন এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অক্ষত ও মজুদ আছে, যা দিয়ে তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, কয়েক দশক ধরে এমন সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ ও গুহার এক বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছে ইরান। সেখানেই তাদের দূরপাল্লার প্রিসিশন লঞ্চারগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছে। ফলে অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট দিয়েও সেগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এদিকে, পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অবশ্য সিএনএনের এ প্রতিবেদনকে ‘পুরো ভুল’ বলে দাবি করেছেন। পার্নেল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানি শাসন ব্যবস্থার ওপর চরম আঘাত হেনেছে। আমাদের লক্ষ্যগুলো সময়ের আগেই অর্জিত হচ্ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং তাদের প্রক্সি বাহিনীকে নির্মূল করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

যদিও, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানের আকাশসীমায় আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান। তেহরান এটিকে ‘এফ-৩৫’ বলে দাবি করলেও পেন্টাগন বিমান বিধ্বস্তের কথা স্বীকার করলেও মডেলটি সুনির্দিষ্ট করেনি। একই সঙ্গে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজতে মার্কিন একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ওই এলাকায় গেলে সেটিকেও ভূপাতিত করা হয়।

অন্যদিকে, গত পাঁচ সপ্তাহের হামলায় ইরানের ইস্পাত শিল্পের ৭০ ভাগই ধ্বংস করা হয়েছে বলে দম্ভোক্তি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু একে একটি বিরাট সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের আর্থিক ও সামরিক সংস্থান থেকে বঞ্চিত হবে।

বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “আরো কিছুটা সময় পেলে আমরা খুব সহজেই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে পারি এবং ইরানের তেল দখল করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারি।”

তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের হুমকির মুখে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাজাচ্ছে তেহরান। প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও সমুদ্রসীমায় বিপুল মাইন স্থাপন করা শুরু করেছে আইআরজিসি। এমনকি পরিস্থিতি এতটাই চরম রূপ নিয়েছে যে, ১২ বছর বয়সী কিশোর শিশুদেরও সামরিক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ‘জানফাদা’ বা ‘উৎসর্গ’ নামক এক বিশেষ জাতীয় অভিযানের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার উন্মাদনা ছড়ানো হচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে

ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ায় নৌকাডুবি, নিহত ১১ নিখোঁজ ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ায় নৌকাডুবি, নিহত ১১ নিখোঁজ ৬

ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) তিউনিসিয়ার ন্যাশনাল গার্ডের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড, সেনাবাহিনী ও সিভিল প্রোটেকশন বিভাগের সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছেন। দুইটি হেলিকপ্টারও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে।

নৌকাটি গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোরে তিউনিসিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। এতে বেশিরভাগই তরুণ অভিবাসী ছিলেন।

তিউনিসিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, নৌকাটিতে একই পরিবারের সাতজন সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া এক ব্যক্তি তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে নৌকায় উঠেছিলেন।

দুর্ঘটনার পর মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, উদ্ধারের আগে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সাগরে ভেসে ছিলেন। পরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাঁকে উদ্ধার করে।

নৌকায় থাকা সবাই তিউনিসিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেন গেরদানে এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান জোরদারের দাবিতে শনিবার রাতে শহরটিতে কয়েক ডজন তরুণ বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

কালের আলো/এসএ

‘এক ফোঁটা তেলও যেতে দেব না’, হরমুজ নিয়ে ইরানের হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
‘এক ফোঁটা তেলও যেতে দেব না’, হরমুজ নিয়ে ইরানের হুমকি

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের তেল পরিবহন করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন প্রধান মোহসেন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালি কিংবা পারস্য উপসাগরের কোনো পথ দিয়েই ইরান এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেবে না।

ইরানি এই কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে অবৈধ বলে দাবি করেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক নীতিকে যেসব দেশ সমর্থন বা সহযোগিতা করবে, তাদের ভূমিকাকে তেহরান ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে।

এর আগে ইরান জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা স্থানীয় উপকূলীয় দেশগুলোর হাতেই থাকা উচিত।

এ ছাড়া যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি পরিচালনার সুযোগ দেবে কিংবা ওয়াশিংটনকে অন্য কোনো ধরনের সহায়তা করবে, তাদেরও কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদক দেশগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই সরু জলপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এখানে তেল চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

ইরানের এই হুমকি তাই শুধু দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের বিষয় নয়; এর প্রভাব বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

কালের আলো/এসএ

ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল বিক্রি ৩৩ লাখ ডলারে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল বিক্রি ৩৩ লাখ ডলারে

১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল নিলামে বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ পাউন্ডে, যা ৩৩ লাখ ডলারেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের হেরিটেজ অকশনসে শনিবার বলটি বিক্রি হয়।

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২–১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথম গোলটি করেছিলেন ম্যারাডোনা—গোলরক্ষক পিটার শিলটনের মাথার ওপর দিয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। তিউনিসিয়ার রেফারি আলী বিন নাসের গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন।

ম্যাচের পর গোলটি নিয়ে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, সেটি হয়েছিল ‘কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে এবং কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে। এরপর থেকেই গোলটি ফুটবল ইতিহাসে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

একই ম্যাচে ম্যারাডোনা আরও একটি অবিশ্বাস্য গোল করেন। ইংল্যান্ডের পাঁচজন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে পরাস্ত করে গোলটি করেন তিনি। পরে সেটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

নিলামের আগে ধারণা করা হয়েছিল, ঐতিহাসিক অ্যাডিডাস আজটেকা বলটির দাম প্রায় ৭৩ লাখ পাউন্ড বা এক কোটি ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এটি বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ পাউন্ডে।

নিলামের আগে হেরিটেজ অকশনসের বিশেষজ্ঞ মাইক প্রোভেনজালে বলটিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ম্যাচের পর বলটি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন রেফারি আলী বিন নাসের। তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি এটি সংরক্ষণ করেন। ২০২৩ সালে স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে বিন নাসের নিশ্চিত করেন, পুরো ম্যাচে এই একটি বলই ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে স্বাধীন যাচাইয়েও এর সত্যতা নিশ্চিত হয়।

এর আগে ২০২২ সালে বলটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে নতুন মালিক আবার সেটি নিলামে তুললেও নির্ধারিত সর্বনিম্ন দাম না ওঠায় বিক্রি হয়নি।

এদিকে ওই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সিও ২০২২ সালে নিলামে ৭১ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছিল

কালের আলো/এসএ