খুঁজুন
                               
, ,
           

হামে দিশেহারা অভিভাবক, নেই স্পষ্ট নির্দেশনা : তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
হামে দিশেহারা অভিভাবক, নেই স্পষ্ট নির্দেশনা : তাসনিম জারা

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যে শিশুদের নিয়ে চরম উদ্বেগে আছেন অভিভাবকরা। তবে এই পরিস্থিতিতে সরকার থেকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাতটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার জোট ‘কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইক্যুালিটি অ্যান্ড জাস্টিস ‌সমতা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়’ নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

তাসনিম জারা বলেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে অভিভাবকরা বুঝতে পারছেন না কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, জ্বর এলেই, নাকি র‍্যাশ উঠার পর। কোথায় যাবেন; উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, নাকি জেলা হাসপাতালে সেটিও পরিষ্কার নয়। এমনকি আক্রান্ত শিশুকে বাসায় আইসোলেশনে রাখবেন নাকি হাসপাতালে নিয়ে যাবেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তিনি বলেন, আক্রান্ত শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ দিতে হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। কিন্তু এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। ফলে অভিভাবকরা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরছেন, যা সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এবারের হামের প্রাদুর্ভাব আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আমাদের জনস্বাস্থ্য কাঠামো কতটা ভঙ্গুর।

তথ্যের ঘাটতিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, একটি প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশে এখনো হামে আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থ হওয়া বা মৃত্যুর নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না। জনগণ শঙ্কিত হবে নাকি আশ্বস্ত হবে তা নির্ভর করে তথ্যের ওপর। অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের পরও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ডিআইজি-এসপিসহ পুলিশের ২৪ কর্মকর্তার দপ্তর বদল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
ডিআইজি-এসপিসহ পুলিশের ২৪ কর্মকর্তার দপ্তর বদল

পুলিশের ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এসব বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটের (এসআরইউ) ডিআইজি ড. মো. আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়াকে পুলিশ স্টাফ কলেজে, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মো. মাহমুদুর রহমানকে পুলিশ স্টাফ কলেজে এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিআইজি মোহাম্মদ হাসান বারী নূরকে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটে (মেট্রোরেল) পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিআইডির পুলিশ সুপার এ টি এম মোশাররফ হোসেন ও ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলমকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সংযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে ট্যুরিস্ট পুলিশে এবং এসবির পুলিশ সুপার আশ্রাফুজ্জামানকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুনকে এসবিতে, পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি নিশাত এ্যঞ্জেলাকে ট্যুরিস্ট পুলিশে এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইনকে এসআরইউয়ের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার কবীর আহম্মেদকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্য এক প্রজ্ঞাপনে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার শেখ শরীফুল ইসলামকে শেরপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার এম এম শাকিলুজ্জামানকে ময়মনসিংহ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার ড. মো. সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ারকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে। রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) শাহ মমতাজুল ইসলামকে চট্টগ্রাম আরআরএফের কমান্ড্যান্ট অতিরিক্ত ডিআইজি এবং টিডিএসের অতিরিক্ত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে রংপুর পিটিসিতে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া এসআরইউয়ের পুলিশ সুপার মোছা. শিরিন আক্তার জাহানকে পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি ড. মো. মঞ্জুরে আলম প্রামাণিককে ট্যুরিস্ট পুলিশে, এসআরবির পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেনকে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি, টিডিএসের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল হালিমকে সিআইডিতে এবং সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদকে সাতক্ষীরা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিআইডির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে নীলফামারী ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে বর্তমানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাতেও পড়ছে।

বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক সহায়তা দিন দিন কমে আসছে। এতে বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা আগের মতো উচ্চ পর্যায়ে অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের পথ সহজ হবে।

আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইআইএমএমের দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দুই শতাধিক ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এসব তথ্য ও প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আইআইএমএমের তদন্ত শুধু ২০১৭ সালের ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘাতে বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সীমান্তে মিয়ানমার অংশে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার কারণে এসব মাইন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসায় কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে আইআইএমএম। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ওয়েজবোর্ডের জট খুলতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
ওয়েজবোর্ডের জট খুলতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের জট খুলতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। সাংবাদিকদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি প্রয়োজনে মন্ত্রিসভায় উত্থাপনেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, কল্যাণ, সাংবাদিকতার সংজ্ঞা নির্ধারণ, সাইবার নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—এসব ইস্যুতেও সরকার ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মধ্যে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।

রোববার (০৪ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

  • নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের পাশাপাশি দশম বোর্ডের দাবিও বিবেচনায়
  • প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভায় তোলার কথা জানালেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ওয়েজবোর্ডে দীর্ঘ অচলাবস্থা, সামনে দশম বোর্ডের দাবি

সাংবাদিকদের বেতন-কাঠামো ও পেশাগত অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওয়েজবোর্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অচলাবস্থা চলছে। নবম ওয়েজবোর্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। দশম ওয়েজবোর্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের দাবির পাশাপাশি নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এই উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিকদের স্বার্থে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

ডিইউজে নেতারাও ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়টিকে সাংবাদিকদের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরেন। সংগঠনটির সভাপতি মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনগণের সামনে দেশের খবর তুলে ধরেন। অনেক সময় তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও দায়িত্ব পালন করেন। অথচ তারা ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ দিদারুল আলম দিদার বলেন, দীর্ঘদিন ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাংবাদিকরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি অবিলম্বে দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করার দাবি জানান। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করে না এমন পত্রিকা ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে সরকারি বিজ্ঞাপন এবং ক্রোড়পত্র না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।

শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নেও মালিকদের দায়

সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেবল সরকারি সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়—গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষকেও দায়িত্বশীল হতে হবে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকরা জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে ভালো সাংবাদিকরা কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন এবং নতুন ভালো সাংবাদিক তৈরি হবে না।

তিনি বলেন, মিডিয়া হাউজের মালিকদেরও সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে। সরকার কোনো ঘোষণা দিলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তা বাস্তবায়ন না করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

অর্থাৎ, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের প্রশ্নটি শুধু সরকারি প্রজ্ঞাপন বা নীতিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি—বৈঠকের আলোচনায় বিষয়টি সেই দিকেই ইঙ্গিত করেছে।

‘কে সাংবাদিক’—সংজ্ঞা নির্ধারণে সংগঠনগুলোর প্রস্তাব চাইল সরকার

বৈঠকে সাংবাদিকতার পরিচয় ও পেশাগত স্বীকৃতির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করে আসা পেশাদার সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা যেমন হুমকির মুখে পড়ছেন, তেমনি জনগণ ও গণতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কারা সাংবাদিক হিসেবে বিবেচিত হবেন, সে বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমও এ বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া উচিত নয়। ফেসবুক পেজ খুলে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেন।

ফলে সাংবাদিকতার সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রশ্নটি এখন শুধু পেশাগত পরিচয়ের বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা, সাংবাদিকদের মর্যাদা এবং জনসাধারণের কাছে গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নও।

সাইবার নিরাপত্তা আইন: নিয়ন্ত্রণ নয়, নিরাপত্তার দাবি সরকারের

সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর উদ্বেগ ও সরকারের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এই আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বা সাংবাদিকদের লেখালেখি বন্ধ করার জন্য করা হচ্ছে না। জনগণকে নিরাপদ রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হয়রানি, অসত্য তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে মানুষকে ক্ষতির মুখে ফেলার ঘটনা মোকাবিলায় সাইবার নিরাপত্তা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকের প্রকাশিত কোনো সংবাদ ভুলবশত আইনের ব্যত্যয় ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার যে প্রস্তাব সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এসেছে, সরকার তা বিবেচনা করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় শব্দচয়ন ও বিধান কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়: প্রতিমন্ত্রী

সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। গণমাধ্যম কীভাবে চলবে সে বিষয়ে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

এই অবস্থানের সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকারকে একই কাঠামোর মধ্যে দেখার প্রয়োজনীয়তাও বৈঠকে উঠে আসে। একদিকে যেমন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে, অন্যদিকে সাংবাদিকতার নামে অপতথ্য, হয়রানি ও ভুয়া পরিচয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় এসেছে।

লিখিত দাবি দিতে বললেন প্রতিমন্ত্রী

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবি-দাওয়াগুলো লিখিতভাবে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, লিখিত প্রস্তাব পেলে সেগুলো বাস্তবায়ন ও পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণে সরকারের জন্য সুবিধা হবে।

একই সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় ডিইউজের সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, দপ্তর সম্পাদক ইকবাল মজুমদার তৌহিদ, কল্যাণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন রাজ্জাক, প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিক লিটন, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ গাজী আনোয়ার, তালুকদার এ এইচ এম নুরুল মোমেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিক মোহাম্মদ, নির্বাহী সদস্য এম. মোশররফ হোসাইন, আবদুল্লাহ মজুমদার, ফখরুল ইসলামসহ অন্যরা।

সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, কল্যাণ, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের সংজ্ঞা নির্ধারণ, সাইবার নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে