খুঁজুন
                               
, ,
           

শাহজালালে স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রাসহ হজ এজেন্সির মোয়াল্লেম গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
শাহজালালে স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রাসহ হজ এজেন্সির মোয়াল্লেম গ্রেফতার

রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৫০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। গ্রেফতার মফিদুল ইসলাম (৪৩) উমরাহ্ হজ কাফেলার মোয়াল্লেম হিসেবে কাজ করেন। তার গ্রামের বাড়ি খুলনার লবণচরা থানায়।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সৌদি আরব থেকে আসা একটি ফ্লাইট থেকে নামার পর বিমানবন্দরের আগমনী ক্যানোপি-২ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এপিবিএন।

এপিবিএন সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মফিদুলকে ক্যানোপি-২ এলাকায় তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। তার হাতে থাকা হাতব্যাগ থেকে ৪৯৯ দশমিক ১ গ্রাম স্বর্ণ, ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৮ হাজার ৫০১ সৌদি রিয়াল, এক হাজার ৮০০ মিশরীয় পাউন্ড, ১৫০ রোমানিয়ান লিউ এবং ৮০ হাজার ১১৭ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য ৮৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮০ টাকা।

জিজ্ঞাসাবাদে মফিদুল স্বীকার করেন, তিনি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব স্বর্ণ এনেছেন।

এপিবিএন জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত এবং রিসিভার হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।

এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল কবির জানান, স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালান রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সরকারের ‘কোর টিমে’ তিন মন্ত্রীর দৃশ্যমানতা

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সরকারের ‘কোর টিমে’ তিন মন্ত্রীর দৃশ্যমানতা

জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিন মন্ত্রী—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা.আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত করেছে সরকার। নতুন এই দায়িত্ব বণ্টনে সরকারের নীতিনির্ধারণী ও সংসদীয় কার্যক্রমে তাদের ওপর সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বাধীন মন্ত্রণালয়-বিভাগসহ যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিয়োগপ্রাপ্ত নেই, সেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি নির্ধারিত বিকল্প মন্ত্রীরা পরিচালনা করবেন।

রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশনের সংসদীয় দায়িত্বে ড.মঈন খান
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংসদীয় কার্যাবলি পরিচালনার দায়িত্ব। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব একসঙ্গে পাওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত হওয়ায় সংসদীয় কার্যক্রমে মঈন খানের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার অনুপস্থিতিতে এ দায়িত্ব পালন করবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সালাহউদ্দিনের হাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা
নতুন দায়িত্ব বণ্টনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। রাষ্ট্র পরিচালনার দিক থেকে এই চারটি ক্ষেত্রই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কৌশলগত। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে দায়িত্ব পাওয়া সরকারের অভ্যন্তরে সালাহউদ্দিন আহমদের ওপর আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার অনুপস্থিতিতে এসব দায়িত্ব পালন করবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

জাহিদের ভূমিকাও হচ্ছে আরও গুরুত্বপূর্ণ
নতুন দায়িত্ব বণ্টনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অনুপস্থিতিতে বিকল্প দায়িত্ব তার ওপর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক নীতির দায়িত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সংসদীয় ব্যবস্থাপনাতেও জাহিদের ভূমিকা থাকছে।রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি তার ওপর সরকারপ্রধান তারেক রহমানের গভীর আস্থার একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে বিকল্প দায়িত্বের তালিকায় তার অবস্থান তাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারীদের একজন হিসেবে সামনে এনেছে।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস
এর আগে ২৪ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা ওই প্রজ্ঞাপন পরে বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়।সেই তালিকার ধারাবাহিকতায় এবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নতুনভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলো। এর মাধ্যমে সংসদ অধিবেশন চলাকালে কোনো মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রম যাতে থেমে না থাকে, সে ব্যবস্থাই নিশ্চিত করছে সরকার।

সরকারে তিন মন্ত্রীর অবস্থানের গুরুত্ব
সামগ্রিকভাবে নতুন দায়িত্ব বণ্টনকে শুধু প্রশাসনিক রুটিন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রতিরক্ষা, মন্ত্রিপরিষদ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ ও ডা.আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের ভূমিকা নির্ধারণ সরকারের ভেতরে তাদের অবস্থানের গুরুত্বই তুলে ধরে।

ড. মঈন খান দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও সংসদীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব পেয়েছেন সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামোর একটি বড় অংশের। আর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের ওপর অর্পিত বিকল্প দায়িত্ব তাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও সমন্বয় কাঠামোর আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। অর্থাৎ নতুন দায়িত্ব বণ্টনে শুধু দায়িত্বের পরিধিই বাড়েনি; সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সংসদীয় কার্যক্রমে এই তিন মন্ত্রীর আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকর ভূমিকার পরিসরও আরও দৃশ্যমান হয়েছে। সংসদ অধিবেশন চলাকালে তাদের এই বর্ধিত দায়িত্ব সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে মাঠে নামছে ডিএনসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে মাঠে নামছে ডিএনসিসি

ভয়ানক হয়ে ওঠা ডেঙ্গু জ্বর ও এর জীবাণুবাহিত এডিস মশা প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে জীবানু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাড়ি পরিদর্শন, সোর্স রিডাকশন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আগামীকাল থেকে ডিএনসিসির তত্ত্বাবধানে ১ হাজার ৫০০ সদস্যকে ২৪টি দলে ভাগ করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এসব দল ডিএনসিসির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস এবং নগরবাসীর মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানান ডিএনসিসির মুখপাত্র জাকির হোসেন।

তিনি জানান, জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পরপরই ডিএনসিসির উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হবে।

জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি স্টল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায়, করণীয় এবং এডিস মশার প্রজননস্থল সম্পর্কে নগরবাসীকে ধারণা দিতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক উপকরণ প্রদর্শন করা হবে।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বিশেষ মশকনিধন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বিশেষ করে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা, জমে থাকা পানির উৎস অপসারণ, সোর্স রিডাকশন এবং লার্ভা নিধনে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ডিএনসিসি জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশকনিধন কার্যক্রম নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন করাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ কারণে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করার পাশাপাশি নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও চড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রীষ্মকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামে তার প্রভাব পড়েনি। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারে। অধিকাংশ মাছ ও মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তালতলা ও আগারগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে বর্তমানে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২০ টাকা বেশি। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পেঁপে ও আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। বটবটি ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক হালি লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি ধনেপাতা কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮৯০ থেকে ২০০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্য মাছের মধ্যে চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও সবজির বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচও বেড়ে গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ