খুঁজুন
                               
, ,
           

এলপিজি নিয়ে লুকোচুরি

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
এলপিজি নিয়ে লুকোচুরি

এক লাফে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ৩৮৭ টাকা বেড়েছে। অথচ সরকার নির্ধারিত এই দরে গ্যাস পাচ্ছেন না ভোক্তারা। উল্টো বিক্রেতাদের একের পর এক অজুহাতে ‘গ্যাস আছে-গ্যাস নেই’ এমন লুকোচুরিতে অসন্তুষ্টির মাত্রা উঠেছে চরমে। ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম আদায়ও বন্ধ হচ্ছে না কোনোভাবেই।

দেশে সরবরাহ করা এলপিজির ৯৮ শতাংশই আসছে বেসরকারিভাবে। মাত্র ২ শতাংশ এলপিজি সরকারিভাবে সরবরাহ হচ্ছে। কিন্তু সরকারি এ এলপিজি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। বর্তমানে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা। দীর্ঘদিন ধরেই এ দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। একই হারে সব সিলিন্ডারের দাম বাড়ার ঘোষণায় মোটাদাগে এক ধাক্কায় প্রতি কেজিতে বাড়ানো হয় ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। যদিও সরকার নির্ধারিত বাড়তি দামের সঙ্গে আরও বাড়তি অর্থ দেওয়ার বোঝা থেকে মুক্তি মেলেনি ভোক্তার। সিলিন্ডারপ্রতি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত আরো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

সার্বিক বিষয়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বর্তমানে পেট্রোল পাম্পগুলোই সামলানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় এলপিজির বাজার মনিটরিং করাটা তাদের জন্য ‘চ্যালেঞ্জিং’। তবে আমদানিকারক ও সরবরাহ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে তারা সামনের দিনে পরিস্থিতি ‘সমন্বয় করার চেষ্টা করবেন।’

জানতে চাইলে ক্যাবের জ্বাালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, মূলত বিইআরসির অদক্ষতা এবং তাদের জবাবদিহিতার অভাবের কারণেই এলপিজি নিয়ে এ নৈরাজ্য চলছে। তারা নিজেরাই নিজেদের আইন লঙ্ঘন করছে। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেজন্য কারাদন্ডের বিধান পর্যন্ত আছে। কিন্তু কমিশনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

এসবের প্রতিকার চেয়ে বিগত সরকারের আমলে কমিশনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্যাবের পক্ষ থেকে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এ জ্বাালানি বিশেষজ্ঞ।

কালের আলো/এম/এএইচ

কলাবাগানের বাসায় অশ্রুসিক্ত দীপু মনি, আবেগপ্রবণ স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
কলাবাগানের বাসায় অশ্রুসিক্ত দীপু মনি, আবেগপ্রবণ স্বজনরা

স্বামী তৌফিক নাওয়াজকে শেষ বিদায় জানাতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় এসেছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে তাকে মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে ভ্যানে করে কঠোর পুলিশি পাহারায় কলাবাগানের বাসায় নেওয়া হয়।

 সকাল সোয়া ৯টায় তিনি সেখানে পৌঁছান।

এ সময় প্রিজন ভ্যানে রাখা দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ দেখে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন দীপু মনি। তার স্বজনরাও আবেগপ্রবণ হয়ে যান।

এ বিষয়ে কলাবাগান থানার ওসি ফজলে আশিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তিনি কলাবাগানের বাসায় পৌঁছান।

তিনি এখন সেখানেই আছেন। আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি।’

দীপু মনির আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী ফয়সাল ইসলাম জানান, তারা চার দিনের প্যারোল চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দিনের আলোর ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে মুন্সীগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী দীপু মনির ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করেন। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তার প্যারোল কার্যকর থাকবে।

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চার দিনের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলাম। জেলা প্রশাসক ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ২০ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই মুক্তি কার্যকর থাকবে।

জানা যায়, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রয়াত তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার কলাবাগানে তার নিজ বাসভবনে নেওয়া হবে। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে গুলশান আজাদ মসজিদে। বাদ জোহর সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তারপরে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

দাফন শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দীপু মনিকে কারাগারে ফিরে যেতে হবে বলে তার আইনজীবী আইনজীবী গাজী ফয়সাল জানিয়েছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা একাধিক মামলার আসামি হিসেবে দীপু মনি মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী আছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তির জন্য বুধবার সকালে তার মেয়ে তানী দীপাবলি ও আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে যান।

কালের আলো/এমএসআইপি/ডিএইচ

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা বাংলাদেশের হাফেজ নুরুদ্দিন

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা বাংলাদেশের হাফেজ নুরুদ্দিন

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে এলো বাংলাদেশের জন্য গর্বের খবর। বিশ্বের ১৩৩ দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ৪৬তম ‘কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায়’ হিফজ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। একই প্রতিযোগিতায় ৩০ পারা হিফজ বিভাগে তৃতীয় হয়ে বাংলাদেশের সাফল্য আরও উজ্জ্বল করেছেন হাফেজ মাহমুদুল হাসান আশরাফী।

বুধবার (১৯ আগস্ট) মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসিরভিত্তিক আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন হাফেজ অংশ নেন। প্রতিযোগিতার ৪৬ বছরের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশের হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেরিয়ে তিনি হিফজ বিভাগে বিশ্বসেরার মর্যাদা অর্জন করেন।

মুসলিম তরুণদের কোরআন মুখস্থ করা, এর গভীর মর্মার্থ অনুধাবন এবং কোরআন চর্চায় অনুপ্রাণিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এছাড়া বিশ্বজুড়ে থাকা হাফেজদের সম্মান জানানো এবং তাদের মেধা মূল্যায়নে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে।

এবারের আসরে প্রথমবারের মতো নারী প্রতিযোগীদের জন্য পৃথক বিভাগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয় মক্কার হিলটন হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন হলে। অন্যদিকে পুরুষ বিভাগের সমাপনী ও মূল পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হয় মসজিদুল হারামে।

পাঁচটি বিভাগে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় মোট পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল ১ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার সৌদি রিয়াল। আয়োজকদের মতে, এটিই প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ পুরস্কার বাজেট।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে কারামুক্ত দীপু মনি

মুন্সিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে কারামুক্ত দীপু মনি

স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মেয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে ১২ ঘণ্টার জন্য তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে করে রাজধানীর কলাবাগানে নেওয়া হচ্ছে তাকে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি প্যারোলে মুক্ত থাকবেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার সঙ্গে থাকবেন।

এর আগে বুধবার দুপুরে মায়ের সঙ্গে দেখা করেন দীপু মনির মেয়ে তানি দীপাবলী। পরে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে চার দিনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন তিনি। পরে ১২ ঘণ্টার জন্য আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল জানিয়েছেন, মুক্তির পর রাজধানীর কলাবাগানে যাবেন দীপু মনি। সেখানে তার স্বামীর মরদেহ থাকবে। পরবর্তীতে গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজার পর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

চিকিৎসাসহ তার দেখভালের দায়িত্বে থাকা আপেল খকশি জানান, তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। সোমবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফিক নেওয়াজ ধ্রুপদি সংগীতেরও চর্চা করতেন। ২০১৯ সালে তিনি স্ট্রোক করেন। সর্বশেষ গত ২৭ মে হুইলচেয়ারে করে কারাবন্দি স্ত্রী দীপু মনিকে দেখতে তাকে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বজনেরা।

তৌফিক নেওয়াজ অসুস্থ থাকার কথা জানিয়ে গত ২৭ মে দীপু মনিকে সাত দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেছিলেন তাদের মেয়ে তানি দীপাবলী। মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে করা ওই আবেদনে পরে আর সাড়া মেলেনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১৬ দিন পর ১৯ আগস্ট বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় দীপু মনিকে। হাইকোর্টে কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও আরও মামলা থাকায় তিনি মুক্তি পাননি। ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে আছেন তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ