খুঁজুন
                               
, ,
           

তামাক পণ্য নিষিদ্ধের ধারা বাতিল করা সরকারের প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
তামাক পণ্য নিষিদ্ধের ধারা বাতিল করা সরকারের প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী

‎জাতীয় সংসদে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাস হয়েছে, যেখানে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাক পণ্য নিষিদ্ধের বিধান বাতিল করা হয়েছে। ফলে এ সব দ্রব্য কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বাজারে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, যা জনস্বাস্থ্য ও বিশেষ করে দেশের যুবসমাজের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে বলে জানিয়েছে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো।
‎
‎শনিবার (১১ এপ্রিল) সংগঠনগুলোর যৌথ বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) মিডিয়া অফিসার নাজমুন নাহার নীপা।
‎
‎বিবৃতি দেওয়া সংগঠনগুলো হলো— বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস (বিটিসিএ), বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল রিসার্চ নেটওয়ার্ক (বিটিসিআরএন), বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, এইড সোস্যাইটি, আর্থ ফাউন্ডেশন, সেতু, লিডার্স ইন টোব্যাকো কন্ট্রোল এলামনাই এসোসিয়েশন, লেটথ ওয়ার্ক, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন, পাবলিক হেলথ ল’ইয়ার্স নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্য আন্দোলন, তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ), ইউনাইটেড ফোরাম এগেইনস্ট টোব্যাকো, স্কুল অব লাইফ, ইয়ুথ ফর টোব্যাকো ফ্রি বাংলাদেশন।
‎
‎গতকাল শুক্রবার সংসদে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাস হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ্য করে বিবৃতিতে বলা হয়, আপিল বিভাগ সিভিল (আপিল নং ২০৪-২০৫/২০০১) মামলায় ২০১৬ সালে ১ মার্চ এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বাংলাদেশে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং নিকোটিন পাউচ বৈধ করার পদক্ষেপ আদালতের সিদ্ধান্তের পরিপন্থি।
‎
‎বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। সেই ঐতিহাসিক উদ্যোগ বাংলাদেশকে তামাক নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্রণী ভূমিকায় নিয়ে এসেছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান বাতিল করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রোগ ও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু সেই অগ্রগতির বিপরীতমুখীই নয়, বরং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিরও পরিপন্থী।
‎
‎বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সংসদে বলেছেন, রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ই-সিগারেট বিধান বাতিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এ সিদ্ধান্ত রোগের অর্থনীতির জন্ম দেবে। বাংলাদেশে তামাকের কারণে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা রাজস্ব আয়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অর্থনীতির ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
‎
‎সংগঠনগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক গবেষণা ও তথ্য অনুযায়ী, ই-সিগারেটের ক্ষতিকর প্রভাব ইতোমধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত। ২০২৩ সালে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল টোব্যাকো কন্ট্রোল (আইজিটিসি)-এর এক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বের ১৩২টি দেশ ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করেছে, যার মধ্যে ৪৬টি দেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। এটি প্রমাণ করে যে বৈশ্বিকভাবে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশ উল্টো পথে হাঁটছে।
‎
‎সংগঠনগুলো আরও বলছে, ই-সিগারেট শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণই নয়, এটি বর্তমানে মাদক গ্রহণের একটি মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, কিছু চক্র ই-সিগারেট বা ভ্যাপের লিকুইডে এমডিএমবি নামক মারাত্মক মাদক মিশিয়ে সরবরাহ করছে, যা ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত এবং বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ই-সিগারেটকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাজারে ছেড়ে দেওয়া দেশের যুবসমাজকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।
‎
‎‘এছাড়াও, মাত্র ৬১ কোটি টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে একটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানিকে দেশে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। বিশ্বের বহু দেশ যেখানে নিকোটিন পাউচ নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে এ ধরনের উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া জনস্বার্থের পরিপন্থী। বৈশ্বিক বাস্তবতায় যখন অধিকাংশ দেশ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশ বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে’, বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।
‎
‎২০০৫ সালে যেভাবে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, সেই অঙ্গীকার রক্ষার্থে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাক পণ্য নিষিদ্ধের জন্য দ্রুত কার্যকর আইন প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানায় তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো। পাশাপাশি ফিলিপ মরিসকে দেওয়া নিকোটিন পাউচ কারখানার অনুমোদন বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাত প্রাণহানির পর রাজিব বাস বন্ধে কাফন পরে প্রতিবাদ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২০ পূর্বাহ্ণ
সাত প্রাণহানির পর রাজিব বাস বন্ধে কাফন পরে প্রতিবাদ

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ‘বেপরোয়া’ গতির অভিযোগ ওঠা রাজিব পরিবহনের বাস বন্ধ ও রোড পারমিট বাতিলের দাবিতে কাফন পরে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন একদল যুবক। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার পৌরসভা সিএনজি স্টেশন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যুবকদের হাতে ছিল খাতা-কলম। তারা পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর নিয়ে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।

কর্মসূচির আয়োজক মুক্তাগাছা উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব শেখ তুহিন জানান, বেপরোয়া গতির রাজিব পরিবহনের রোড পারমিট বাতিল এবং সড়কে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি এক সপ্তাহ চলবে।

তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই কাফনের কাপড় পরে তারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন। এক দিনেই বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। রাজিব বাসের বেপরোয়া গতি ও দুর্ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শেখ তুহিনের দাবি, রাজিব পরিবহনের রোড পারমিট জামালপুর থেকে টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকা মহাসড়কের জন্য হলেও দীর্ঘদিন ধরে বাসটি জামালপুর-মুক্তাগাছা-ঢাকা রুটে চলাচল করছে। মোটর মালিক ও শ্রমিক নেতাদের ম্যানেজ করে বাসটি এভাবে চলাচল করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শেষে রাজিব পরিবহনের রোড পারমিট বাতিলের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাজিব পরিবহনের কারণে কত পরিবার স্বজন হারিয়েছে তার হিসাব নেই। সড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাসটির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, সড়কে জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগ ও থানা পুলিশ কাজ করছে। কর্মসূচির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। নাগরিক অধিকার হিসেবে যে কেউ দাবি জানাতে পারেন। দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এখনো লিখিত কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। লিখিত আবেদন পেলে দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাস পূর্ব গন্ড্রপা এলাকায় রাজিব পরিবহনের বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই রাজিব পরিবহনের বাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জোরালো হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ নিয়ে প্রশ্ন, অসুস্থ ৩৬ শিক্ষার্থী

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫১ পূর্বাহ্ণ
পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ নিয়ে প্রশ্ন, অসুস্থ ৩৬ শিক্ষার্থী

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা প্যাকেটজাত দুধ পান করে ৩৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মাথা ঘোরা, পেটব্যথা, খিঁচুনি ও শারীরিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের ‘আরডি’ ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত দুধ বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় শিক্ষকরা কয়েকটি প্যাকেট ফুটো এবং কিছু প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো জমাট অবস্থায় দেখতে পান।

বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ওই দুধ পান না করানোর পরামর্শ দেন। পরে মনোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ে এসে নিজে দুধ পান করে পরীক্ষা করেন এবং দুধে সমস্যা নেই বলে জানান। এরপর শিক্ষার্থীদের দুধ পান করতে বলা হয়।

দুধ পান করার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে একে একে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন জানায়, দুধ পান করার পর তার মাথা ও পেটব্যথা শুরু হয়। দাঁড়িয়ে থাকতে না পারায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, দুধ বিতরণের সময় কয়েকটি প্যাকেট ফুটো এবং দুধ দইয়ের মতো জমাট অবস্থায় দেখা যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দুধ বিতরণ না করার অনুরোধ করা হলেও পরে দুধ পান করতে বলা হয়। এরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. বিমন দেবনাথ বলেন, হাসপাতালে ১৬–১৭ জন শিক্ষার্থী এসেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং অনেকেই ভালো আছে। সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন। দুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

রাডার থেকে নিখোঁজের পর সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
রাডার থেকে নিখোঁজের পর সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৩২

নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক বাহিনীর একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩২ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রু সদস্য ছিলেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু দুর্ঘটনায় কেউ বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দেশটির অর্থনৈতিক কেন্দ্র লাগোসে একটি রুটিন মিশনে যাওয়ার সময় অনডো প্রদেশের ইগবোকোডা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

নাইজেরিয়ার এভিয়েশনবিষয়ক মন্ত্রী ফেসটাস কেয়ামো জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে উড্ডয়নের পর বিমানটির সঙ্গে রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে এডো প্রদেশ থেকে লাগোস যাওয়ার পথে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

একটি নৌঘাঁটির কাছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই দেশটির বিমানবাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল এটিআর-৪২ মডেলের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের নৌকায় করে দুর্ঘটনাস্থলে যেতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশে স্থানীয় মানুষের ভিড়ও দেখা গেছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনের দেহাবশেষ, পোশাক ও জুতা পাওয়া যায়।

দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি