খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের অনেক ভোগান্তি হয় : স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের অনেক ভোগান্তি হয় : স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) ছিল, তারা জনগণের জন্য তেমন কিছু করতে পারেনি মূলত অভিজ্ঞতার অভাবে। প্রফেসর ইউনূস ভালো ছিলেন, পৃথিবী বিখ্যাত লোক। তাদের পক্ষে দেশের মানুষের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়নি। অর্থনীতির সূচক নিচের দিকে নেমে গিয়েছে। এই যে হামের টিকা নেই, বহু লোক জীবন দিয়েছে। এভাবে অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে তখন জনগণের অনেক ভোগান্তি হয়।

তিনি বলেন, তারা নিরপেক্ষ সরকার ছিল, চেষ্টা করেছে। অভিজ্ঞতার অভাবে তারা সফল হতে পারেনি। তাদেরকে একটা কৃতিত্ব দেই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করেছে। বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। দেশ এখন আবার গণতন্ত্রের ট্র্যাকে উঠেছে। আশা করবো এ রাষ্ট্র সুন্দরভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অগ্রসর হবে, জাতি সমৃদ্ধ হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিন দিনের সরকারি সফরে ভোলায় এসে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের লিগেসি হিসেবে কতোগুলো বিষয় এখানে রয়ে গেছে, একটা হলো জুলাই সনদ। কয়েকজন ব্যক্তি তো রাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে না, সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে গণপ্রতিনিধিরা। আপনারা জনগণ যাদেরকে ভোট দিয়ে বানাবেন তারা দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। কিন্তু তারা কিছু উদ্ভট নিয়মও করে গিয়েছে যে- ব্যক্তির নির্দেশে সংবিধান পরিবর্তন হয়ে যায় অটোমেটিকলি।

তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি। তারা জুলাই সনদে সই করেছে, সংসদেও তারা বলেছে যে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। তবে কয়েকটি বিষয়ে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, জনগণ তাদেরকে রায় দিয়েছে। জুলাই সনদেও লেখা আছে যারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, তারা যদি জনগণের ম্যান্ডেট পায় তারা নোট অব ডিসেন্টকে কার্যকর করতে পারবে। মূলত আমি দেখতে পাই সরকার এবং বিরোধীদলের মধ্যে খুব বেশি মতভেদ নেই। অল্প কিছুটা আছে। রাজনৈতিক চাল কিছুটা আছে। আমার মনে হয় সরকার এবং বিরোধী মিলে একটা সমঝোতায় উপনীত হতে পারবে।

স্পিকার বলেন, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পরই দেখা গেল গণতন্ত্র বিদায় নিলো, এদেশে একদলীয় শাসন ও আমরা দেখেছি। গত ১৬-১৭ বছরে নির্বাচনের নামে কতগুলো প্রহসন মঞ্চস্থ হয়েছে। আমি নিজেই ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা থেকে যখন আমার নির্বাচনী এলাকায় (ভোলা-৩ লালমোহন-তজুমদ্দিন) গেলাম। যাওয়ার পর আমার বাড়িটা পুলিশ ঘিরে রেখেছিল, ১৬ দিন ঘর থেকেই বের হতে পারিনি। সেখান থেকে সন্ত্রাসী নির্বাচিত হয়ে গেল। এভাবেই বাংলাদেশে থেকে গণতন্ত্রকে ঝেটিয়ে বিদায় করা হয়েছিল। অবশেষে জনগণের ত্যাগ তিতিক্ষা বিশেষ করে ছাত্র-যুবক তাদের অভিভাবকরা রাজপথে নেমে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে আবু সাঈদ মুগ্ধ ওয়াসিমদের মতো তরুণরা জীবন দিয়ে দেশে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। মাফিয়া নেত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে।

এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা.শামীম রহমান, জেলা প্রশাসন,পুলিশ ও স্পিকারের সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

সাফের মহারণে মুখোমুখি ভারত-বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
সাফের মহারণে মুখোমুখি ভারত-বাংলাদেশ

 রোববার(৩১মে), বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা।গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের আলোয় যখন সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও বাংলাদেশ, তখন সেটি কেবল আর একটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ থাকবে না।

মালদ্বীপ ইতোমধ্যেই ছিটকে যাওয়ায় দুই দলই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে। তবে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি রূপ নিয়েছে এক মানসিক লড়াইয়ে।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অঙ্কটা এখানে বেশ পরিষ্কার। যে জিতবে, সে সেমিফাইনালে এড়াতে পারবে গ্রুপ এ-এর শক্তিশালী দল নেপালকে।

দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের ইতিহাসে ভারত বরাবরই আধিপত্য বিস্তার করে এসেছে। ২০১০ সালে ৭-০ গোলের জয় দিয়ে শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২ বারের দেখায় ৯ বারই জিতেছে ভারত।

তবে, বর্তমান ফুটবলের চিত্রপট এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি পুরোপুরি বেঙ্গল টাইগ্রেসদের পক্ষে।

২০২২ ও ২০২৪ সালের আসরে দারুণ সব জয়ের মাধ্যমে ভারতের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে বাংলাদেশ। টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন বাঘিনীরা এবার গোয়ায় পা রেখেছে হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে। অন্যদিকে, স্বাগতিক ভারতের জন্য এই ম্যাচটি হারানো সম্মান পুনরুদ্ধারের এক অগ্নিপরীক্ষা।

মালদ্বীপকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকেই আজ মাঠে নামবে ভারত। আভিকা সিংয়ের দুর্দান্ত চার গোল এবং এসিএল ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা প্রিয়াঙ্কা দেবী নাওরেমের জোড়া গোল ভারতের আক্রমণভাগের শক্তিমত্তারই প্রমাণ দেয়।

ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগের পর পাঁচ দিনের বিশ্রাম পাওয়া ব্লু টাইগ্রেসদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে আজ কেবল একটি ড্র প্রয়োজন।

তবে, ভারতীয় কোচ ক্রিসপিন ছেত্রী এসব সমীকরণে গা ভাসাতে নারাজ। তিনি বলেন, জয় তো জয়ই, তা ১১-০ হোক বা ১-০। কিন্তু আমরা আমাদের পরিকল্পনাগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করছি, সেটাই আসল।

তরুণ খেলোয়াড়দের চাপের কথা মাথায় রেখে তিনি আরও যোগ করেন, স্বাগতিক হিসেবে আমরা জিততে চাই এবং বাংলাদেশের জয়ের ধারা ভাঙতে চাই। তরুণদের এই চাপ সামলাতে হবে। যে দল চাপ সামলে নিজেদের খেলাটা খেলতে পারবে, তারাই আজ জিতবে।

অন্যদিকে, মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের জড়তা কাটিয়ে আজ আরও শাণিত রূপে মাঠে নামার অপেক্ষায় তারা। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো মাঝমাঠে ফিরছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা।

প্রতিপক্ষের মাঠে স্বাগতিক দর্শকদের চাপের মুখে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তার উপস্থিতি হবে টার্নিং পয়েন্ট।

বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার এই উচ্চ চাপের ম্যাচটিকে নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি দল সাজিয়েছেন একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে।

বাটলার বলেন, এই ম্যাচটি আমাদের কয়েকজন মেয়েকে আরও কিছু সময় মাঠে কাটানোর সুযোগ করে দেবে। মনিকাও ফিরছে আমি প্ল্যান এ এবং প্ল্যান বি নিয়ে কাজ করেছি। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী, তাই আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।

ভারতের বড় জয়ে মোটেও ভীত নন বাটলার। বরং ঋতুপর্ণা চাকমা এবং সৌরভী আকন্দ প্রীতির মতো তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে গড়া দলকে তিনি করে তুলেছেন আরও নির্ভীক। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দল। আমরা ভালো ফুটবল খেলি। তাদের আক্রমণভাগ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, আমাদেরও সেই সামর্থ্য আছে। প্রয়োজনে আমরা রক্ষণ সামলাতে পারি, আবার প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে সুযোগও তৈরি করতে পারি।

এই দুই কোচের কাছেই আজকের ম্যাচটি কেবল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের উভয়েরই চোখ আরও বহুদূরে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে।

ভারতীয় কোচ ছেত্রীর ভাষায়, আসল লক্ষ্য হলো নিজেদের দেশের ফুটবলের উন্নয়ন এবং এএফসির জন্য যোগ্যতা অর্জন করা। একই সুর বাটলারের কণ্ঠেও, কার বিপক্ষে খেলব, তা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। আমি তাদের মাঠে নামাতে প্রস্তুত।

গোয়ার তপ্ত রোদে অনুশীলনের ঘাম ঝরানো শেষ। এখন অপেক্ষা কেবল বাঁশির হুইসেলের। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই মহারণে আজ কে হাসবে শেষ হাসি? সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে রাতেই।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

হজ শেষে সোমবার দেশে ফিরবেন জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ
হজ শেষে সোমবার দেশে ফিরবেন জামায়াত আমির

পবিত্র হজ পালন শেষে আগামীকাল সোমবার দেশে ফিরবেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তিনি সোমবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এর আগে গত ২০ মে হজ পালনের উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। হজ যাত্রার আগে বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত নেতারা তার সুস্বাস্থ্য, নিরাপদ সফর এবং হজ পালন শেষে সুস্থভাবে দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দোয়া কামনা করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, হজকালীন ডা. শফিকুর রহমান দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রামিসা হত্যাকাণ্ডে আদালতে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যাকাণ্ডে আদালতে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আদালতের কাছে আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করা হবে।

রোববার (৩১ মে) সকালে ঝিনাই দহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অডিটোরিয়ামে ফুটবল ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ঝিনাই দহ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য প্রমাণ আছে তাতে আসামির সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত হবে এটা আমাদের প্রত্যাশা।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধীদল থেকে পাঁচজন সদস্য চাওয়া হয়েছে। তারা আমাদেরকে জানিয়েছেন, তারা পরে সিদ্ধান্ত জানাবে। এখন আমরা তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।

তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। সমাজের সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নয়।

তিনি আরও বলেন, সরকার সারা দেশে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামেলি কার্ড দেবে। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষক কার্ড চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কৃষক কার্ড চালু করা হবে। মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরহিতদের সরকারিভাবে ভাতা প্রদানের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে