খুঁজুন
                               
, ,
           

স্কুলে সংস্কৃতিচর্চা নিশ্চিত হলে দেশে উগ্রবাদের স্থান হবে না : ববি হাজ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
স্কুলে সংস্কৃতিচর্চা নিশ্চিত হলে দেশে উগ্রবাদের স্থান হবে না : ববি হাজ্জ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, স্কুল পর্যায়ে সংস্কৃতিচর্চা নিশ্চিত হলে দেশে উগ্রবাদের স্থান হবে না। প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। সেই ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলামে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নিমিত্তে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা কারিকুলামে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তার নির্দেশনার আলোকে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক চেতনা বিকাশে সহায়ক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে পাঠ্যক্রমে আরও বিস্তৃত ও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংগীত, নাটক, বিতর্ক, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ হয় এবং দলগত চেতনা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। এতে তাদের মধ্যে উগ্র চিন্তার প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। ফলে সাংস্কৃতিক চর্চা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক প্রজন্ম গঠনের কার্যকর উপায় হিসেবে কাজ করে।

সংশ্লিষ্ট বিষয় শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক দলের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, একটি সুস্থ, সৃজনশীল ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মাঝে সংস্কৃতিচর্চা আরও বিস্তৃত ও বিকশিত করতে আমরা সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করছি। নির্ধারিত লক্ষ্য দ্রুত অর্জনের জন্য এসব কার্যক্রম অচিরেই বাস্তবায়ন করা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।

কালের আলো/এসএকে

প্রবাসীর জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি, দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
প্রবাসীর জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি, দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল

প্রবাসীর কেনা কৃষিজমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এক দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব এবং ভুক্তভোগী দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলী—উভয়ের বাড়ি তাড়াশ পৌর এলাকার কহিত গ্রামে।

অভিযোগকারী, দলিল সম্পাদনকারী, দলিল লেখক, দলিলের সাক্ষী ও স্থানীয় গ্রামবাসীর লিখিত বক্তব্য, সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সরেজমিন তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পান তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. রবিউল ইসলাম।

পরে বিধি অনুযায়ী জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু লাইসেন্স বাতিল করলেই হবে না, প্রকৃত মালিককে তার জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগম জেলা প্রশাসক ও জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক।

একমাত্র সম্বল সোয়া বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠান। পরে ফরহাদ আলী বিদেশে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কহিত মৌজায় দেড় বিঘা কৃষিজমি ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় কেনেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জমির রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাড়াশ দলিল লেখক অফিসের দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবকে। কিন্তু তিনি ফরহাদ আলীর বাবা-মায়ের অজ্ঞতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে জমিটি ক্রেতার নামে না করে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।

ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম (৭৭) বলেন, বিদেশে আমার ছেলের আয় খুবই কম। ঠিকমতো টাকাও পাঠাতে পারে না। গত রমজানে পান্তা ভাত খেয়েও রোজা রেখেছি। বসতবাড়ি আর ছেলের কেনা জমিটুকুই আমাদের শেষ সম্বল। জমি ফেরত না পেলে শোকে হয়তো মরেই যাব।

জমির বিক্রেতা কহিত তেতুলিয়া গ্রামের মৃত সোলেমানের সন্তান বাবলু মিয়া, কালাম হোসেন, শামীমা খাতুন ও সুমি খাতুন জানান, তারা চার ভাই-বোন ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরহাদ আলীর কাছে দেড় বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করেন।

কিন্তু পরে জানতে পারেন, প্রতারণার মাধ্যমে দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন।

জানা গেছে, পরে নুরুল ইসলাম দলিল লেখকের কাছে দলিলের জাবেদা নকল চাইলে তিনি দীর্ঘদিন তা দেননি। পরে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্য মাধ্যমে দলিলের নকল সংগ্রহ করে পরিবারটি বিষয়টি জানতে পারে।

এরপর খাজনা ও নামজারি করতে ভূমি অফিসে গেলে তাদের জানানো হয়, দলিল অনুযায়ী জমির মালিক মির্জা আব্দুর রব। যদিও শুরু থেকেই জমিটি ভোগদখলে রয়েছে ফরহাদ আলীর পরিবারের।

জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, প্রবাসী ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগমের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই বিধি অনুযায়ী তাড়াশ দলিল লেখক অফিসে কর্মরত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দাবি পূরণের আশ্বাসে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
দাবি পূরণের আশ্বাসে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহার

আগামী এক মাসের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো সমাধানের আশ্বাসে দেশব্যাপী ডাকা অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতের পর ন্যাম ভবনের অভ‍্যর্থনা কক্ষে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বৈঠক শেষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহারের এই যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস এমপি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ফুয়াদসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বাণিজ্যিক রেজিস্ট্রেশন প্রদান, অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত বাণিজ্যিক নীতিমালার বাস্তবায়ন, সরকারি হাসপাতালে পার্কিং সুবিধা, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যান ও অ্যাম্বুলেন্সকে টোলমুক্ত রাখা এবং ২৪ ঘণ্টা জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ মালিকদের একগুচ্ছ যৌক্তিক দাবির বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে এসব দাবি নিষ্পত্তির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে।

এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জনদুর্ভোগ এড়াতে এবং অচল অবস্থা নিরসনে তাৎক্ষণিকভাবে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক আয়োজন করা হয়। এক মাসের মধ্যে এসব দাবি আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করা হবে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ফুয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

গোলাম মোস্তফা ফুয়াদ বলেন, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে এবং জনদুর্ভোগ এড়াতে সরকারের আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে আমরা আগামীকালকের (বুধবার) ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলাম।

তিনি সারা দেশের সাড়ে সাত হাজার অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও শ্রমিকদের অবিলম্বে গাড়ি চালু রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ঘোষণার পরপরই যেন কোনো রোগী বা মৃতদেহের স্বজনরা কষ্ট না পান, সেদিকে খেয়াল রেখে সকল অ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শিল্পখাতে গ্যাস সংকট কাটাতে সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
শিল্পখাতে গ্যাস সংকট কাটাতে সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

শিল্পখাতে গ্যাস সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণেই শিল্পখাতে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে শিল্পখাতে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী টেক্সটাইল খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। এ খাতের সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতায় উদ্যোক্তারা উৎসাহিত বোধ করছেন।

তিনি জানান, পুরোপুরি বন্ধ এবং আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর কোথায় কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করতে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে সরকার। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসএকে