খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা

চলতি বৈশাখ মাসে শুরু হওয়ার পর থেকে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে রাজশাহীর বাসিন্দারা। কয়েক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত তিনদিন ধরে রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

তিনি বলেন, রাজশাহীর আশেপাশের জেলাতেও একই অবস্থা। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ফলে টানা কয়েকদিনের এই তাপপ্রবাহে বেড়েছে মানুষের ভোগান্তি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬-৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর বেশি হলে তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। সেই হিসাবে রাজশাহীতে বুধবার তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম বলেন, বুধবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

আজ পবিত্র হজ, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার প্রান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
আজ পবিত্র হজ, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার প্রান্তর

আজ পবিত্র হজ। আরাফাতের ময়দানে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হওয়ার অপেক্ষায় ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক।’ এর বাংলা অর্থ—‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’

গতকাল থেকেই পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে তাঁবুর নগরী খ্যাত মিনায় অবস্থান নেন লাখ লাখ হাজি। তারা সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবুতে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকেন। মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর আল্লাহর মেহমানরা রওনা হচ্ছেন আরাফাতের ময়দানে।

ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে পবিত্র হজ। আর পবিত্র হজের তিনটি ফরজের অন্যতম হচ্ছে আরাফাতের ময়দানে হাজিদের অবস্থান। এটিই হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

সারা বিশ্ব থেকে এবার ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী পবিত্র হজব্রত পালন করতে মক্কায় জড়ো হয়েছেন। নানা বর্ণের, নানা ভাষার মুসলিমরা মিশেছেন একই স্রোতে। আল্লাহর মেহমানরা আজ আরাফাতের ময়দানে দিনভর অবস্থান করবেন। এই মরুর ময়দানে ১৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে আজ হজের খুতবা দেওয়া হবে। এবার মসজিদে নববির প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফির খুতবা দেওয়ার কথা রয়েছে। খুতবা ও নামাজের মধ্য দিয়ে এই বিস্তীর্ণ ময়দানে হাজিরা সারা দিন পার করবেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে হাজিরা আল্লাহর জিকির-আসগার, তিলাওয়াত, দোয়া-মোনাজাতে নিমগ্ন থাকবেন।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানের দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। হাজিরা জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে গেলে হাজিরা অত্যন্ত কাতর ও বিনয়ী কণ্ঠে একযোগে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। অশ্রুভেজা কণ্ঠে পার্থিব দুনিয়ার যত অপরাধ, পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন। একই সঙ্গে পরিবার-আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী-পরিচিতজন, দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করেন। সব চাওয়া-পাওয়া, মনের আকাঙ্ক্ষা আল্লাহ–তাআলার কাছে ব্যক্ত করবেন হাজিরা।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের প্রতিদানস্বরূপ আল্লাহ হাজিদের নিষ্পাপ ঘোষণা করেন। হাদিসে আছে, ‘আরাফাহর দিন আল্লাহ এত বেশি পরিমাণ জাহান্নামিকে অগ্নি থেকে মুক্তি দেন, যা অন্য কোনো দিবসে দেন না।’ (মুসলিম শরিফ)

হজের অংশ হিসেবে হাজিরা আরাফাতের ময়দান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় যাবেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো ওয়াজিব। ফজর নামাজের পর তাঁরা সাতটি পাথর সংগ্রহ করবেন। ১০ জিলহজ মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে আবার মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন।

এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ‘সাঈ’ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। কাবা শরিফ তাওয়াফ (তাওয়াফ আল-ইফাদাহ) করবেন। তাওয়াফ শেষে মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান ও প্রতিদিন তিন (ছোট, মেজ ও বড় শয়তান) শয়তানকে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন।

পবিত্র কাবা তাওয়াফ, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়ানো, মিনার জামারায় পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি ইত্যাদি হজের ইবাদত। জামারায় শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের পর হাজিদের পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিতে হয়। তারা আগামীকাল বুধবার কোরবানি দেবেন। অধিকাংশ হাজি নিজে বা বিশ্বস্ত লোক দিয়ে মুস্তাহালাকায় (পশুর হাট ও জবাইয়ের স্থান) গিয়ে কোরবানি দেন। কেউ কেউ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে অর্থ জমা দিয়ে কোরবানি দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে নতুন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে নতুন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় থাকা নৌযানকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, হামলাগুলো ‘আত্মরক্ষা’ এবং ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সৈন্যদের রক্ষার জন্য চালানো হয়েছে।

সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী চলমান যুদ্ধবিরতির নীতি বজায় রেখে আমাদের বাহিনীকে রক্ষা করে চলেছে।

এদিকে, এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হলো যখন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু সংঘাত নিরসনের কোনো চুক্তি ‘আসন্ন নয়’।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, ক্যাপ্টেন হকিন্স বলেছেন, হামলাগুলো বন্দর আব্বাসের কাছাকাছি একটি এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। বন্দর আব্বাস ইরানের দক্ষিণের একটি বন্দর শহর এবং হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত একটি ইরানি নৌঘাঁটির আবাসস্থল।

এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর বন্দর আব্বাসের স্থানীয় কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন।

তবে সবশেষ মার্কিন হামলার জবাবে ইরান এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। নতুন করে হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ওপর এর কী প্রভাব পড়বে, তা এখনোও স্পষ্ট নয়।

সূত্র : বিবিসি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজশাহীতে ৪৫০ টাকার জন্য বন্ধুকে ছুরি মেরে হত্যা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
রাজশাহীতে ৪৫০ টাকার জন্য বন্ধুকে ছুরি মেরে হত্যা

রাজশাহীতে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন আশিকুর রহমান (২৮) নামের এক যুবক। সোমবার সকালে রাজশাহীর দামকুড়া থানার জোতরাবোন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ধার নেওয়া ৪৫০ টাকা ফেরত না দেওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটান আশিকুরের বন্ধু ফয়সাল আলী জয় (২৬)।

নিহত আশিকুর জোতরাবোন গ্রামের আকরাম আলীর ছেলে। আর তার বন্ধু ফয়সালের বাবার নাম মোন্তাজ আলী। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছে। পেশায় তিনি অটোরিকশা চালক। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি জব্দ করা হয়েছে।

দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, গত ২১ মে বন্ধু ফয়সালের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা ধার নেন আশিকুর। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ফয়সাল সেই টাকা চাইতে আশিকুরের বাড়ি যান। তখন দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

এরপর ফয়সাল ফিরে আসেন। সকাল ১১টার দিকে তিনি ভাড়া মারতে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। তখন আবার আশিকুরের সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় আবার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়।

তখন ছুরি দিয়ে আশিকুরের বাম পাজরে আঘাত করেন ফয়সাল। এরপর কৌশলে ফয়সাল পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা আশিকুরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি জানান, ঘটনার পর ফয়সালকে ধরতে তারা অভিযান শুরু করেন। পরে রাজশাহী নগরের আলুপট্টি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। সেই মামলায় আসামিকে আদালতে তোলা হবে। আদালতে আসামির রিমান্ডও চাওয়া হবে। আর ময়নাতদন্তের পর নিহত যুবকের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি