খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির অভিযোগ গঠন শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির অভিযোগ গঠন শুনানি আজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি আজ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

এদিন প্রথমে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করবে প্রসিকিউশন। এরপর ডিসচার্জ চেয়ে শুনানি করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গত ১৫ এপ্রিল এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা দ্বিতীয়বারের মতো পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়।

ওই দিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, আমরা এক সপ্তাহ সময়ের আবেদন করছি। নির্ধারিত তারিখে প্রথমে প্রসিকিউশন, পরে আসামিপক্ষ শুনানি উপস্থাপন করবে।

এ মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ মোট আসামি ২৮ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন চারজন। তারা হলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।

পলাতকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন। তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ৮ এপ্রিল শুনানির কথা ছিল। তবে প্রসিকিউশন থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পুরোনো রূপে ফিরছে ঢাকা, বেড়েছে গণপরিবহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
পুরোনো রূপে ফিরছে ঢাকা, বেড়েছে গণপরিবহন

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছু টি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। ফলে ঢাকার সড়কে বাড়তে শুরু করেছে গণপরিবহন। আবারও নিজস্বরূপে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী।

রোববার (৩১ মে) ঢাকার কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে, সড়কে যান চলাচল সীমিত। তবে বিগত কয়েকদিনের তুলনায় আজ সড়কে যানবাহনে উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

গণপরিবহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির উপস্থিতিও বেড়েছে। তবে কোথাও কোনো যানজট ও সিগনালে গাড়ির দীর্ঘ অপেক্ষা চোখে পড়েনি। বাসের জন্য যাত্রীর অপেক্ষার দৃশ্যও সেভাবে চোখে পড়েনি।

বৈশাখী পরিবহনের চালকের সহকারী রশিদ বলেন, ঈ দের ছু টি শুরুর পর থেকে যাত্রী নেই। আজও যাত্রী কম। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ রাস্তায় গাড়ি বেড়েছে।

সাভার পরিবহনের চালকের সহকারী সবুজ বলেন, মানুষ ঢাকায় ফেরা শুরু করেছে। আজ অধিকাংশ মানুষ চলে আসবে। আশা করি কাল থেকে যাত্রীর চাপ বাড়বে।

শুভযাত্রা পরিবহনের চালকের সহকারী মারুফ বলেন, যেসব গাড়ি ঈ দের ছু টির কারণে বসেছিল, আজ অধিকাংশ গাড়িই বের হয়েছে। ঢাকার মধ্যে তো আজও যাত্রী নেই। বেশিরভাগ কোম্পানির গাড়ি আজ লোকাল ভাড়া মারবে। ফাঁকা গাড়ি নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে চলে যাবে, সেখান থেকে ফু ল গাড়ি ভর্তি যাত্রী নিয়ে চলে আসবে। সব গাড়ি ঢাকার মধ্যে চললে কি তে ল খরচ উঠবে। কাল থেকে ঢাকার ভেতরে যাত্রীর চাপ বাড়বে।

কালের আলো/এসএকে

নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ফেরাতে চায় সরকার: নৌ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ফেরাতে চায় সরকার: নৌ প্রতিমন্ত্রী

Oplus_131072

সরকার দেশের নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ফেরাতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান।

রোববার (৩১ মে) দুপুরে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজিব আহসান বলেন, আমরা যদি লঞ্চঘাটের পন্টুনগুলোর আধুনিকায়ন করতে পারি ও সেই সঙ্গে ড্রেজিং করে নদী পথগুলো সচল রাখতে পারি, তাহলে নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ফিরে আসবে এবং এর সুফল জনগণই পাবে।

তিনি আরও বলেন, শতবছরের পুরনো স্টিমারগুলো বারবার মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে একটি সচল থাকলেও বাকিগুলো নৌপথে চলাচলের জন্য উপযোগী নয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হয়। তবে এসব ঐতিহ্যবাহী স্টিমারকে বিকল্প পদ্ধতিতে কীভাবে জনসেবায় কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই নৌপথ তার পুরনো ঐতিহ্যে ফিরে যাক। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থার বাহন হিসেবে ফিরে আসুক। সে লক্ষ্যে নৌ মন্ত্রণালয় কাজ করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, সদস্য প্রকৌশল রকিবুল ইসলাম তালুকদার, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম, চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সহসভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান আকাশ, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।

কালের আলো/এসএকে

সাফের মহারণে মুখোমুখি ভারত-বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
সাফের মহারণে মুখোমুখি ভারত-বাংলাদেশ

 রোববার(৩১মে), বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা।গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের আলোয় যখন সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও বাংলাদেশ, তখন সেটি কেবল আর একটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ থাকবে না।

মালদ্বীপ ইতোমধ্যেই ছিটকে যাওয়ায় দুই দলই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে। তবে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি রূপ নিয়েছে এক মানসিক লড়াইয়ে।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অঙ্কটা এখানে বেশ পরিষ্কার। যে জিতবে, সে সেমিফাইনালে এড়াতে পারবে গ্রুপ এ-এর শক্তিশালী দল নেপালকে।

দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের ইতিহাসে ভারত বরাবরই আধিপত্য বিস্তার করে এসেছে। ২০১০ সালে ৭-০ গোলের জয় দিয়ে শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২ বারের দেখায় ৯ বারই জিতেছে ভারত।

তবে, বর্তমান ফুটবলের চিত্রপট এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি পুরোপুরি বেঙ্গল টাইগ্রেসদের পক্ষে।

২০২২ ও ২০২৪ সালের আসরে দারুণ সব জয়ের মাধ্যমে ভারতের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে বাংলাদেশ। টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন বাঘিনীরা এবার গোয়ায় পা রেখেছে হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে। অন্যদিকে, স্বাগতিক ভারতের জন্য এই ম্যাচটি হারানো সম্মান পুনরুদ্ধারের এক অগ্নিপরীক্ষা।

মালদ্বীপকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকেই আজ মাঠে নামবে ভারত। আভিকা সিংয়ের দুর্দান্ত চার গোল এবং এসিএল ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা প্রিয়াঙ্কা দেবী নাওরেমের জোড়া গোল ভারতের আক্রমণভাগের শক্তিমত্তারই প্রমাণ দেয়।

ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগের পর পাঁচ দিনের বিশ্রাম পাওয়া ব্লু টাইগ্রেসদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে আজ কেবল একটি ড্র প্রয়োজন।

তবে, ভারতীয় কোচ ক্রিসপিন ছেত্রী এসব সমীকরণে গা ভাসাতে নারাজ। তিনি বলেন, জয় তো জয়ই, তা ১১-০ হোক বা ১-০। কিন্তু আমরা আমাদের পরিকল্পনাগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করছি, সেটাই আসল।

তরুণ খেলোয়াড়দের চাপের কথা মাথায় রেখে তিনি আরও যোগ করেন, স্বাগতিক হিসেবে আমরা জিততে চাই এবং বাংলাদেশের জয়ের ধারা ভাঙতে চাই। তরুণদের এই চাপ সামলাতে হবে। যে দল চাপ সামলে নিজেদের খেলাটা খেলতে পারবে, তারাই আজ জিতবে।

অন্যদিকে, মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের জড়তা কাটিয়ে আজ আরও শাণিত রূপে মাঠে নামার অপেক্ষায় তারা। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো মাঝমাঠে ফিরছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা।

প্রতিপক্ষের মাঠে স্বাগতিক দর্শকদের চাপের মুখে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তার উপস্থিতি হবে টার্নিং পয়েন্ট।

বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার এই উচ্চ চাপের ম্যাচটিকে নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি দল সাজিয়েছেন একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে।

বাটলার বলেন, এই ম্যাচটি আমাদের কয়েকজন মেয়েকে আরও কিছু সময় মাঠে কাটানোর সুযোগ করে দেবে। মনিকাও ফিরছে আমি প্ল্যান এ এবং প্ল্যান বি নিয়ে কাজ করেছি। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী, তাই আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।

ভারতের বড় জয়ে মোটেও ভীত নন বাটলার। বরং ঋতুপর্ণা চাকমা এবং সৌরভী আকন্দ প্রীতির মতো তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে গড়া দলকে তিনি করে তুলেছেন আরও নির্ভীক। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দল। আমরা ভালো ফুটবল খেলি। তাদের আক্রমণভাগ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, আমাদেরও সেই সামর্থ্য আছে। প্রয়োজনে আমরা রক্ষণ সামলাতে পারি, আবার প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে সুযোগও তৈরি করতে পারি।

এই দুই কোচের কাছেই আজকের ম্যাচটি কেবল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের উভয়েরই চোখ আরও বহুদূরে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে।

ভারতীয় কোচ ছেত্রীর ভাষায়, আসল লক্ষ্য হলো নিজেদের দেশের ফুটবলের উন্নয়ন এবং এএফসির জন্য যোগ্যতা অর্জন করা। একই সুর বাটলারের কণ্ঠেও, কার বিপক্ষে খেলব, তা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। আমি তাদের মাঠে নামাতে প্রস্তুত।

গোয়ার তপ্ত রোদে অনুশীলনের ঘাম ঝরানো শেষ। এখন অপেক্ষা কেবল বাঁশির হুইসেলের। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই মহারণে আজ কে হাসবে শেষ হাসি? সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে রাতেই।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি