খুঁজুন
                               
, ,
           

মামলার চাপ সামলাতে বাড়তে পারে ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশনের সংখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
মামলার চাপ সামলাতে বাড়তে পারে ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশনের সংখ্যা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্রমবর্ধমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার চাপ মোকাবিলায় ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনাল এবং প্রসিকিউশন টিমের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (২০ জুন) সকালে ঢাকা ক্লাবে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ চলছে এবং প্রায় ৩০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত নতুন মামলাও যুক্ত হচ্ছে। একটি মামলার বিচার সম্পন্ন করতে সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগে, যদিও পরিস্থিতিভেদে এই সময় কম-বেশি হতে পারে।

তিনি জানান, মামলার সংখ্যা ও তদন্ত প্রতিবেদন বাড়তে থাকায় বিদ্যমান দুটি ট্রাইব্যুনালের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন টিম এবং তদন্ত সংস্থার জনবল বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ৫ থেকে ৬টি মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটির পুনঃতদন্ত শেষ হয়ে নতুন প্রতিবেদনও জমা পড়েছে। প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও সততার সঙ্গে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

তার ভাষ্য, কোনো নিরীহ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধীও যেন আইনের ফাঁক গলে রেহাই না পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে প্রতিহিংসামূলক বা ভিত্তিহীন অভিযোগ এড়িয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।

এসআরএফ সভাপতি মাসউদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনিরসহ বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে জিতবে কে, জানালো সুপার কম্পিউটার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে জিতবে কে, জানালো সুপার কম্পিউটার

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আগামীকাল সকালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড মুখোমুখি হতে চলেছে। এই লড়াইয়ে কে জিততে পারে, তা নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে অপ্টার সুপার কম্পিউটার।

এই ম্যাচ শুরুর আগে ২৫ হাজার সিমুলেশন চালিয়েছে অপ্টা। তারই ফলাফলে দেখা গেছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৫৭ দশমিক ১ শতাংশ।

একই সিমুলেশনে সুইজারল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। বাকি ২৪ দশমিক ২ শতাংশ ক্ষেত্রে ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, অর্থাৎ খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে।

তবে বারবার প্রত্যাশিত হিসাবনিকাশ উল্টে দেওয়ার অভ্যাস যেন গড়ে তুলেছে আর্জেন্টিনা। এরপরও সার্বিকভাবে শেষ চারে উঠে শিরোপা রক্ষার লড়াই টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তাদের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড বা নরওয়ের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা সুইজারল্যান্ডের জন্য দেখানো হয়েছে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

ঢাকাসহ ১৬ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস, জলাবদ্ধতার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
ঢাকাসহ ১৬ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস, জলাবদ্ধতার শঙ্কা

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৬টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে।

এতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪–৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে অধিদপ্তর জানায়, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে এবং এটি আরও দুর্বল হতে পারে।

তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরগুলোকে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে গত ৭ দিন ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এ জেলায় পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার (১০জুলাই)দুপুরে, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার (১২) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঝর্ণার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় স্থানীয়  সোলতান আহমদের ২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চকরিয়া থেকে বিভক্ত হয় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্পর (৩) এর মৃত্যু হয়। এছাড়া একইদিন ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে মারা যায় একটি পরিবারের দুই শিশু। কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি  সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান শহর থেকে পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরি নদীর পানিও বেড়েছে। তাই চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার (মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি দ্রুত নামাতে স্লুইস গেটগুলো সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, সরকারি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন যার মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৪ হাজার ৬১ জন।

এছাড়া তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকা। ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত জেলায় গত ৬ দিনে ৭শ  মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি