খুঁজুন
                               
, ,
           

একদলীয় ব্যবস্থায় ফিরতেই পঞ্চদশ সংশোধনী: অ্যাটর্নি জেনারেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
একদলীয় ব্যবস্থায় ফিরতেই পঞ্চদশ সংশোধনী: অ্যাটর্নি জেনারেল

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেশের মানুষকে আবারও একদলীয় শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিতেই সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস।

বুধবার (৮ জুলাই) পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের বিষয়ে আপিল বিভাগে শুনানি শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা এ কথা বলেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হবে। আজ শুনানির তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক।

পঞ্চদশ সংশোধনীকে একদলীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার একটি অপপ্রয়াস আখ্যা দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটি সেটি হচ্ছে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা—যার মাধ্যমে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল কমপক্ষে দুটি। কিন্তু সেই পথযাত্রাকে রোধ করে আবারও একদলীয় ব্যবস্থায় ফিরে নেওয়ার জন্যেই মূলত পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছিল।’

গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার ওপর এই সংশোধনীর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশের সংবিধানের আমূল পরিবর্তন সাধন করা হয়েছিল। এবং এই পরিবর্তনটার সঙ্গে মানুষের বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র, আগামী দিনের অগ্রযাত্রা, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা—সবকিছুই বাধাগ্রস্ত ছিল।’

আদালতে রাষ্ট্রের পক্ষের যুক্তি তুলে ধরে রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ—নির্বাহী বিভাগ, পার্লামেন্ট এবং বিচার বিভাগ স্বতন্ত্রভাবে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে, কিন্তু কেউ কারও কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনি যে ব্যাখ্যা, কাঠামো, সেই কাঠামোর মধ্য থেকে ইতোপূর্বের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিপন্থী কোনো যদি সংশোধনী হয়। তাহলে বাতিল করার যে বিধান এবং যে রায় ইতোপূর্বে প্রচারিত হয়েছে, আমরা সেটি বলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একইসঙ্গে, সংবিধান-বহির্ভূত যদি কোনো প্রভিশন পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্যে থেকে থাকে, সেটিও পূর্বের রায়ের নজিরের আলোকে বাতিল চেয়েছি।’

এর আগে হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল হওয়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনাসহ কমপক্ষে চারটি বিষয় বাতিল করেছিল এবং বাকি বিষয়গুলো পরবর্তী সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

বাকি বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ছাড়তে হবে বলে কোনো কথা বলিনি। আমরা হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণটা সম্পর্কে বলেছি। হাইকোর্টের আর্গুমেন্টের মধ্যে যে দুটি প্রিন্সিপালের উপরে হাইকোর্ট রায় দিয়েছে, আমরা বললাম ওই প্রিন্সিপালের উপর ভিত্তি করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের যদি মনে হয় যে সংবিধানের আরও কিছু বিধান সংবিধানে থাকা উচিত না, তাহলে আদালত যেন সেই ক্ষেত্রে তার রায় প্রদান করেন।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে পঞ্চদশ সংশোধনীর পূর্বের সংবিধানের কী অবস্থা ছিল এবং পরের কী অবস্থা, আমরা প্রত্যেকটা ক্যাটাগরিক্যালি আদালতকে দেখিয়েছি।’

পুরো সংশোধনী বাতিল হলে আবারও ‘বাকশাল’ ফিরে আসবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চায়। সুতরাং কোনো একদলীয় স্বৈরশাসন বাংলাদেশের কোনো মানুষ প্রত্যাশা করে না।’

বর্তমান সংসদকে ‘অত্যন্ত কার্যকর’ (ভেরি ভাইব্রেন্ট) উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পার্লামেন্টে সরকার ও বিরোধী দলের নানা রকম বিতর্ক বাংলাদেশের মানুষকে উদ্বেলিত করছে এবং দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা চলছে।’

বর্তমান সংসদে থাকা সদস্যদের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘তিক্ত অতীত পার করে আজকে এই পর্যায়ে এসেছে, তারাও নিশ্চয়ই এই জাতিকে, বাংলাদেশের মানুষকে সেই পুরোনো কালো অন্ধকার যুগের দিকে ধাবিত করবেন না।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আপিল বিভাগের রায়ের যে পর্যবেক্ষণ হবে, রায়ের যে অপারেটিং পার্ট হবে, তার উপরে সংসদ নিশ্চয়ই সে অনুযায়ী পরবর্তী সংবিধান সংশোধনী ও প্রয়োজনীয় সংযোজনের ক্ষেত্রে কাজ করবে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে শুরু করতে ঐকমত্য হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে শুরু করতে ঐকমত্য হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কিছু কিছু ‘ইরিটেশন’ (অস্বস্তি) রয়েছে। এগুলো নিরসন করা খুবই প্রয়োজন এবং সেই প্রয়োজনীয়তা উভয় পক্ষই উপলব্ধি করে।

তবে দুই দেশের সম্পর্ক ‘রিসেট’ (নতুন করে শুরু) করার বিষয়ে দুই পক্ষই ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে আজ আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছে।

এটি ছিল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমরা বিস্তারিত কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করিনি।

এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে আলোচনা হবে না। সামনে আমাদের যথেষ্ট সময় রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে শুরু করার বিষয়ে আমরা আগেও বলেছি এবং এ বিষয়ে আমরা দুজনেই একমত। আগামীতে পারস্পরিক স্বার্থকে সামনে রেখে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই। আমি সব সময়ই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বলি, এখনও বলছি।

সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমরা সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই। বিশেষ কোনো ইস্যু নিয়ে আজ দীর্ঘ আলোচনা হয়নি; কেবল দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সে বিষয়েই কথা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যে বিষয়টি বলেছেন, আমরা সেটি পর্যালোচনা করছি। এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আপনাদের জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে একাধিক আমন্ত্রণ রয়েছে। সবকিছুই তার সময়সূচির ওপর নির্ভর করছে।

তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাবেন। তাই সব বিষয় সম্মিলিতভাবে বিবেচনা করতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করিনি। কিছু কিছু অস্বস্তির বিষয় রয়েছে, যা তিনি জানেন, আমিও জানি। এগুলো নিরসন করা প্রয়োজন এবং সে প্রয়োজনীয়তা সবাই উপলব্ধি করেন।

কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী এটি ছিল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। বিশেষ ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সামনে আরও সুযোগ রয়েছে।’

আগামীকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তার সঙ্গে ইতোমধ্যে ম্যানিলায় আমার সাক্ষাৎ, বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে। আমরা দুই দেশের সম্পর্ক পর্যালোচনা করেছি। আপনারা জানেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। তারাও এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে চায়।’

‘তিনি শুধু ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিও। এই অঞ্চলে এটি তার প্রথম সফর। দক্ষিণ এশিয়া তার দায়িত্বের আওতায় থাকায় বাংলাদেশও সেই সফরের অংশ। আমরা মনে করছি, এটি একটি অনুসন্ধানমূলক (এক্সপ্লোরেটরি) সফর।’

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা যে বৈদেশিক সহায়তা পেয়েছি, তার জন্য সব আন্তর্জাতিক অংশীদারকে ধন্যবাদ জানাই। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, যা আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করি।’

তিনি বলেন, ‘তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন বলে আমরা আশা করছি। পারস্পরিক সম্পর্কের সব গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে তিনি ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করবেন। কাল সন্ধ্যায় তার সঙ্গে আমার বৈঠক হবে। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রীদের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হবে। ম্যানিলায় আমাদের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল।’

ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগেই বলেছি, এটি ছিল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে আমাদের কাছে উপস্থাপন করেছেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ করেছেন। বিশেষ কোনো ইস্যু নিয়ে এবার আলোচনা হয়নি। ভবিষ্যতে যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো নিয়েই আমরা আলোচনা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘অজিত দোভাল সাহেবের সঙ্গে ম্যানিলায় আমার দেখা হয়নি, তবে জয়শঙ্কর সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি জানতেন যে দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে আমার বৈঠক রয়েছে। আমরা দুজনেই আশা প্রকাশ করেছি, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে উভয় পক্ষই কাজ করবে।’

দীনেশ ত্রিবেদীর এই বৈঠকটি শুধুই আনুষ্ঠানিক ছিল কি না, কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের সফরের ঠিক আগে ভারতীয় হাইকমিশনারের এই সাক্ষাৎ কোনো বার্তা বহন করে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, এর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

আমি গতকাল দেশে ফিরেছি। তার সঙ্গে এই বৈঠকটি প্রয়োজন ছিল, তাই যত দ্রুত সম্ভব করেছি। এসব বিষয়ে আমরা কোনো ধরনের চাপ অনুভব করছি না

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এদিন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দীনেশ ত্রিবেদী প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে এবং পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, স্বার্থের ভিত্তিতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া হবে। দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, যোগাযোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় ভারতের হাইকমিশনার
ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কালের আলো/এসএকে

গুলশান থেকে লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
গুলশান থেকে লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের মামলায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার(ডিবি-উত্তর) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

এর আগে আজ সকালে রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। হাজিরা শেষে তিনি জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার না হলে আগামী সপ্তাহের রোববার বা সোমবার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করবেন।

হাজিরা শেষে আদালত থেকে বের হয়ে লতিফ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অভিযুক্ত, এ জন্য আজ আদালতে এসেছি। যে মামলায় আমি ২০২৫ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলাম। আজকে কিন্তু আমি একটা বিশেষ প্রয়োজনে এসেছি। আপনারা (সাংবাদিকেরা) জানেন কি না জানি না, আমাকে আজকে সকাল বেলা জানানো হলো, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা হয়েছে, শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের সমাবেশের ওই মামলা। সেই মামলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি জানি, আজকে যদি আমি আদালতে না আসি, তাহলে মনে করা হবে আমি বোধহয় আত্মগোপনে চলে গেছি। আমি সাধারণত আত্মগোপন করি না; সব সময় আত্মপ্রকাশ করতে চাই। সেজন্যই আজকে এসেছি। এখন পুলিশ যদি আমাকে গ্রেপ্তার না করে, তাহলে আগামী রোববার বা সোমবার আদালতে গিয়ে নিজেকে সমর্পণ করবো। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, আমাকে যেতে হবে না? এর মধ্যে যদি পুলিশ ধরে নিয়ে যায়, তাহলে তো ভিন্ন কথা। আমি কিন্তু এবার আর ২৮ তারিখের মতো অপ্রস্তুত নই, প্রস্তুত হয়েই এসেছি। আমার গাড়িতে ব্যাগ আছে, লেখালেখির জন্য খাতা-কলম আছে।

কালের আলো/এসএকে