পুলিশ সপ্তাহে একগুচ্ছ দাবি
প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রযুক্তি সম্পৃক্ত অপরাধ। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে। ব্ল্যাকমেইলিংসহ নানা ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছে মানুষ। তাই এবার স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব উঠতে পারে চলতি বছরের পুলিশ সপ্তাহে। আগামী ১০ মে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে চার দিনের পুলিশ সপ্তাহে প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের পুলিশ সপ্তাহে ১১৫ জন সদস্য পদক পাচ্ছেন। এবার পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি দেখা যেতে পারে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, প্রতি বছরই পুলিশ সপ্তাহে পুলিশের পক্ষ থেকে ঝুঁকিভাতা, ছুটি ও পদোন্নতি নিয়ে দাবি তোলা হয়। জানা যায়, এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এ সংক্রান্ত পুরোনো দাবিগুলোও নতুন করে উত্থাপিত হতে পারে পুলিশের পক্ষ থেকে। ছুটি ও প্রণোদনা নিয়ে পুলিশের দাবি দীর্ঘদিনের। পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
তাদের মতে, সরকারের অন্যান্য বিভাগের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বছরে সব মিলিয়ে প্রায় ১২৯ দিন ছুটি ভোগ করেন। কাজের ধরন ও চাপের কারণে পুলিশ সদস্যরা কখনো এ ছুটি ভোগ করতে পারেন না। তাই এ সময় কর্মকাল হওয়ায় পুলিশ সদস্যদের কমপক্ষে ৩০ দিন বা এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ ভাতা দেওয়ার দাবি তারা একাধিকবার পুলিশ সপ্তাহে উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু সেই দাবি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
ঝুঁকিভাতা নিয়েও পুলিশের ভেতর অসন্তুষ্টি আছে। বর্তমানে কন্সস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত ঝুঁকিভাতা থাকলেও তাদেও দাবি কনস্টেবল থেকে আইজিপি পর্যন্ত ঝুঁকিভাতা চালু করা। ব্যারাক নিয়েও পুলিশের অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় তাদের। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটের জন্য জমি, নিজস্ব ভবন প্রতিষ্ঠা করা ও ব্যারাকভিত্তিক ইউনিটকে ভাড়া জায়গা থেকে সরিয়ে নিজস্ব স্থাপনায় নেওয়ার বিষয়টিও উত্থাপিত হতে পারে তাদের দাবির মধ্যে।
এবার পুলিশ সপ্তাহে দাবি তোলা হতে পারে পুলিশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, পর্যাপ্ত ছুটির অভাব, কাজের চাপসহ বিভিন্ন কারণে এরকম মানসিক চাপের ফলে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদস্যদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি উত্থাপিত হতে পারে পুলিশ সপ্তাহে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array