খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন শ্রমজীবী মানুষই দেশের অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তি: উপদেষ্টা মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন শ্রমজীবী মানুষই দেশের অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তি: উপদেষ্টা মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন শ্রমজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি। শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো এবং একটি শক্তিশালী অর্থনীতি। সুতরাং তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, এগুলো একটি দায়িত্বশীল সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রাধান্য ঠিক তাই। আমরা বিশ্বাস করি, শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

শুক্রবার রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

বক্তব্যের শুরুতেই মাহদী আমিন ১৮৮৬ সালের মে মাসে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসসহ শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমেরিকার শিকাগো শহরের হ্যা-মার্কেট অ্যাফেয়ারে যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং সেই থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের দু’টি হাতই রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে তিনি গ্রহণ করেছিলেন নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমবাজার সৃষ্টি, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক নতুন ভিত্তি দিয়েছে, যা আজও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকাকালীন প্রতিবার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকীকরণ, মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন, শ্রমিক পরিবারের চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ নানা কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিক সমাজের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা হয়েছে। দেশের বৃহত্তম শ্রমঘন খাত তথা পোশাক শিল্প আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে এসব উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিটি সরকারের ধারাবাহিকতায় শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং শ্রমজীবী মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা- এগুলো আজও তারেক রহমানের সরকারের নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপে প্রাধান্য পাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও)-এর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান, মজুরি পর্যালোচনা, নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত হলেই একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর দেখানো পথেই সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দায়বদ্ধতার মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।

মাহদী আমিন বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী কর্মদিবসে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে। তিনি যে উদার, বাস্তবসম্মত ও রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন, তাতে স্পষ্ট যে, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জনগণ এবং দেশের সার্বভৌমত্বই তাঁর কাছে সর্বোচ্চ প্রাধান্য পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরো বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আদর্শিক অবস্থানের সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এ পার্থক্য যেমন ঐতিহাসিকভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার প্রশ্নে প্রযোজ্য, তেমনি বর্তমান সময়ে নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত। তবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া, গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, জনগণের জীবনের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান করা এবং একটি স্থিতিশীল সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। যে গতিশীল ও কার্যকর সংসদীয় অধিবেশন আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, তা নিঃসন্দেহে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নতা ও আদর্শিক অবস্থানকে পাশে রেখে দেশকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়ার যে রাজনীতি, দেশ ও জনগণের কল্যাণের যে রাষ্ট্রনীতি, সেটিই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দার্শনিক ভিত্তি। মহান সংসদের প্রথম অধিবেশনে যে প্রাণচাঞ্চল্য, জনগণের সমস্যা নিয়ে যে গভীর আলোচনা, এবং মুক্ত বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকারের পক্ষে যে সম্মিলিত অবস্থান আমরা দেখেছি, তা জনগণের ক্ষমতায়নেরই প্রতীক। আগামী দিনগুলোতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই ইতিবাচক ধারা ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে, এটি বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি।

মাহদী আমিন বলেন, এরই ধারাবাহিকতায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন যেমন সুসংহত হবে, তেমনি যুবসমাজের ক্ষমতায়নও আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি, শ্রমিকদের ক্ষমতায়নেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রতিটি শ্রমিকের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নই আগামী বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ শ্রমজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিল্পোদ্যোক্তারা।

কালের আলো/এম/এএইচ

অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে আশ্রয় নিয়েছে, অভিযোগ রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে আশ্রয় নিয়েছে, অভিযোগ রিজভীর

অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে ইসলামীতে আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

রোববার (৩১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এমন অভিযোগ করেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘ওনারা (জামায়াতে ইসলামী) বড় বড় কথা বলছেন, টেলিফোনে চাঁদাবাজি হয়েছে। তো নিজেদের দিকে একবার তাকান। মিরেরসরাইয়ে ফেনী নদীর বালু তুলতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন জামায়াতের দুই নেতা…একজনের নাম জাহাঙ্গীর আরেকজনের নাম রবিউল। ফেনীতে মামলার থেকে অব্যাহতি দেবে বলে এক নেতা সে আবার রোকন তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে সেটাও পত্রপত্রিকায় এসেছে। আমি তো একটা কি দুইটা উদাহরণ দিলাম। তাহলে তো জামায়াত প্রশ্রয় দেয়।’

রিজভী বলেন, ‘ধর্মের নামে রাজনীতি করেন সব নাকি পবিত্র মানুষ। এখানে যেমন তারা গুপ্ত রাজনীতি করেছে ছাত্রলীগের মধ্যে আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে থেকে। অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজও জামায়াতের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে আছে। আপনারা (জামায়াতে ইসলাম) একটা আরবি শব্দ ব্যবহার করেন। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি না বলে আপনারা সেটাকে হাদিয়াবাজি করেন, ইয়ানতবাজি করেন …আরবি শব্দ দিয়ে ওটাকে একটা কাভার দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটা একটা বড় ধরনের এই হাদিয়াবাজি-ইয়ানতবাজি আপনারা কম করেন না এবং বহু জায়গায় প্রমাণ আছে যে ধমক দিয়ে থ্রেট করে করছেন আমি তো দুই তিনটার নাম মাত্র বললাম, অসংখ্য আছে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার কথা হলো রাজনৈতিক দলগুলো তো থাকতে পারে, ঢুকে যেতে পারে কিন্তু সেই দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না? বিএনপির মধ্যে ৫ আগস্টে এই ধরনের কিছু কর্মকাণ্ড হয়েছে আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে শত শত নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছেন, দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে শোকজ করা হয়েছে…কেউ বাদ যায়নি। শক্তিশালী নেতা থেকে শুরু করে একবারে তৃণমূল পর্যন্ত কেউ বাদ যায়নি।’

রিজভী বলেন, ‘তারপরে চাঁদাবাজির অভিযোগ আপনাদের নামে এবং আপনাদের অধিকাংশ রোকন সদস্য… আপনাদের যে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নানা স্তরের লোক আছেন তারা অভিযুক্ত হয়েছে। যখন পেপারে এসেছে তখন আপনারা বহিষ্কার করেছেন। আপনারা ফেরেশতা হয়ে গেলেন কি করে? এত একেবারে পরিশুদ্ধ হলেন কি করে? তাহলে যেগুলো ধরা পড়েনি। তারা তো আছেই আপনার দলের মধ্যে। তাহলে বড় বড় কথা বলছেন যে। এটা কথা বলছেন এই কারণে যে বোধহয় পাওয়ারে চলে আসবে। কিন্তু এদেশের মানুষের মানে মাইন্ডসেটটা আপনারা বুঝতে পারেননি। এদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু জামায়াতকে পছন্দ করে না, এদেশের মানুষ ধর্মভীরু অতিরিক্ত ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডও পছন্দ করে না।’

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই আলোচনা সভা হয়। এর আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)।

রিজভী বলেন, ‘একদিকে যেমন ধর্ম ব্যবসা জামায়াত করেছে তাদেরকেও পছন্দ করে না। এদেশের মানুষ আবার একবারে ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী আওয়ামী লীগের যে সমস্ত সহযোগীরা আছে তাদের যে কর্মকাণ্ড সেটাও পছন্দ করে না। আওয়ামী লীগের এক নেতা যেমন বলেছিলেন মনে নাই আপনাদের..লতিফ সিদ্দিকী যে হজ মক্কা শরীফে এগুলো নিয়ে কি মন্তব্য করেছিলেন…হজ আরবরা অর্থনৈতিক কারণে করেছে…মানুষ এগুলো পছন্দ করেনি। আবার ধর্মের নাম বিক্রি করে ধর্ম ব্যবসা করে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া এটাও এদেশের মানুষ কোনদিনই এটা পছন্দ করেনি।’

জাসাসের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘আমি মনে করি যে, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন তারা একটা এদেশের মৃত্তিকা থেকে উৎসারিত আমাদের যে সংস্কৃতির যে স্ফুরণ সেটার অনুশীলন এবং চর্চা করা এর সঙ্গে সংস্কৃতি মানেই শুধু নিজস্ব সেটা না। পৃথিবীর ভালো ভালো যে সাংস্কৃতিক অর্জনগুলো সেগুলোকে গ্রহণ করতেও তো কোনো অসুবিধা নেই।’

জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের লিয়াকত আলী লাকি, ফেরদৌস ফকির, জাবেদ আহমেদ কিসলু, খালেদুজ্জামান জুয়েল, ফরহাদ হোসেন নিয়ন, রাফিজা আলম লাকি প্রমুখ বক্তব্য দেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

দক্ষিণ লেবাননে ‘বড় অভিযানের’ ঘোষণা ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ লেবাননে ‘বড় অভিযানের’ ঘোষণা ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে ইসরায়েল। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিয়েহ শহরের কাছে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্রুসেডারদের বোফোর্ট দুর্গ (কালাআত আল-শাকিফ) দখল করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে বড় অভিযানের ঘোষণাও দিয়েছে।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ বোফোর্ট দুর্গের ওপর ইসরায়েলি পতাকা উড়তে থাকা ছবি প্রকাশ করার পর দুর্গটি দখলের খবর সামনে আসে। ক্রুসেডার আমলে নির্মিত এই দুর্গটি লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি উঁচু পাহাড়ি রিজের ওপর অবস্থিত।

তবে এ বিষয়ে লেবাননের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যটি নিশ্চিত হলে, ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে এটি ইসরায়েলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। ইউনেস্কো-সুরক্ষিত এই ঐতিহাসিক দুর্গটি ২০০০ সালে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগে ১৮ বছর ধরে ইসরায়েলের দখলে ছিল।

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র এলা ওয়াওইয়া জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের বোফোর্ট রিজ এবং ওয়াদি আল-সালুকি এলাকায় একটি ‘বৃহৎ পরিসরের অভিযান’ শুরু হয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দক্ষিণ লেবাননে কার্যক্রমগত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং গালিলি প্যানহ্যান্ডেল অঞ্চল ও মেতুলা বসতির প্রতি সরাসরি হুমকি দূর করার অংশ হিসেবে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস ও নাশকতাকারীদের নির্মূল করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

ওয়াওইয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে বিপুলসংখ্যক স্থলবাহিনী নিয়ে অভিযানটি শুরু হয়েছে। সামনের প্রতিরক্ষা রেখা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে সেনারা বর্তমানে আক্রমণাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদী অতিক্রম করেছে এবং নদীর উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করেছে। একই সঙ্গে অভিযান অতিরিক্ত এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

ওয়াওইয়া বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে নাবাতিয়েহ এলাকার আশপাশে অভিযান পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজন হলে হামলা আরও বিস্তৃত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

১৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল তার সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ করে চলেছে। অভিযোগ রয়েছে, দেশটি বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অভিযানটি গত এক-চতুর্থাংশ শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নবজাতক বাঁচলেও ফিরলেন না মা, ভুল রক্ত প্রয়োগের অভিযোগ

বগুড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
নবজাতক বাঁচলেও ফিরলেন না মা, ভুল রক্ত প্রয়োগের অভিযোগ

বগুড়ায় সিজারের সময় ভুল রক্ত প্রয়োগ ও চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগে অহনা (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।তবে, মায়ের মৃত্যু হলেও নবজাতক বেঁচে আছে। শনিবার (৩০ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত অহনা বগুড়া শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপালশা চৌকিরপাড় এলাকার বাসিন্দা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্তান প্রসবের জন্য অহনাকে শহরের খান্দার এলাকার সুস্বাস্থ্য নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। তবে, অপারেশনের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়। বারবার জানতে চাইলেও রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘বি’ পজিটিভ বলে জানানো হয়।

ওই তথ্যের ভিত্তিতেই রক্ত সংগ্রহ ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অহনাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে পরীক্ষা করে তার রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজিটিভ পাওয়া যায়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা আব্দুস সালাম ও মা অভিযোগ করেন, ভুল রক্ত প্রয়োগ এবং চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তাদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

নিহতের স্বামী মৃদুল ইসলাম বলেন, আমার সুস্থ স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আমার স্ত্রীকে হারাতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে ক্লিনিকে গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বগুড়ার সিভিল সার্জন খুরশীদ আলম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নবজাতক পৃথিবীর আলো দেখলেও তার মা আর সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারলেন না।

ঘটনাটি ঘিরে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি