খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করলো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করলো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস

শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন কুঁড়ির। বাংলাদেশ টেলিভিশনের আশির দশকের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা উঠে এসে শিল্প অঙ্গনে। বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে এসেছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠ-গালিচায়। যাত্রা শুরু হলো নতুন এক স্বপ্ন- ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’এর। শনিবার (২ মে) বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’এর উদ্বোধন করেন। ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিভা অন্বেষণের এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে। একই সঙ্গে সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুদে ক্রীড়াবিদরা। এ সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলাধুলার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার জন্য খুদে ক্রীড়াবিদদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি খুদে ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা স্পোর্টসের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরবে। প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হবে।’

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার সিলেট সফর করেছেন তারেক রহমান। শনিবার (০২ মে) সকালে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই তিনি সিলেটে পৌঁছান। হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি মাজার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ১০টা ৫০ মিনিটে বেরিয়ে যান। তার সফরসঙ্গী হিসেবে বরাবরের মতোই ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। সিলেট সিটি করপোরেশনের সুধী সমাবেশ শেষে তিনি বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনের জন্য যাওয়ার পথে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে সিটি পয়েন্ট, বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও দাঁড়িয়েছিলেন সড়কের দুই পাশে। বাসে থেকে হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

স্পোর্টসের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরবে
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’এর উদ্বোধন করে খুদে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাস আছে, তাই না? দূতাবাস যে রকম আছে, সেখানে আমাদের অ্যাম্বাসেডর আছেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে তাঁরা বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। আমি চাই, তোমরা যারা এখানে বসে আছো, সারা বাংলাদেশে আজকে যারা স্টেডিয়ামগুলোতে বসে আছো ছোট বন্ধুরা, ইনশা আল্লাহ তোমরা স্পোর্টসের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরবে।’ খুদে ক্রীড়াবিদ ও শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘তোমাদের বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে। তোমাদের মধ্যে থেকে ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে। তোমাদের মধ্যে থেকে ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের বড় ডাক্তার, আইনজীবী, ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হবে। তোমাদের ভেতর থেকে ভবিষ্যতে ইনশা আল্লাহ আন্তর্জাতিক মানের নেতৃত্ব তৈরি হবে। এ দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে। তোমাদের মধ্যে থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে। তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ।’

শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পড়ালেখা তো সবাইকে করতে হবে, পড়ালেখা কিন্তু মাফ করা যাবে না। কিন্তু পড়ালেখার পাশাপাশি প্রত্যেককে খেলতে হবে। নিজেদের তৈরি করতে হবে। তোমাকে ঠিক করে নিতে হবে, তুমি কী করবে এবং তুমি যখন নিজেকে ঠিক করে নিতে পারবে, নিজের লক্ষ্যকে স্থির করে নিতে পারবে, তখন সেই টার্গেট অ্যাচিভ করার জন্য সামনের দিকে তোমাকে এগোতে হবে।’

এরপর তারেক রহমান বলেন, ‘খেলার ক্ষেত্রে হোক, পড়ালেখার ক্ষেত্রে হোক, সরকার থেকে আমরা আমাদের দেশের যেই সামর্থ্য আছে, যতটুকু আমাদের ক্যাপাবিলিটি আছে, আমরা আমাদের ছোট বন্ধুদের পাশে আছি। কেউ গায়ক হবে, কেউ মিউজিশিয়ান হবে। একেকজন একেকটা হবে। সরকার, রাষ্ট্র তোমাদের পাশে আছে। কারণ, ওই যে একটু আগে বলেছি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ। তোমরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিজেদের সুন্দরভাবে তৈরি করতে হবে। যে খেলোয়াড় হতে চাও, তাকে খেলোয়াড় হতে হবে। যে গায়ক হতে চাও, তাকে গায়ক হতে হবে। যে মিউজিশিয়ান হতে চাও, তাকে মিউজিশিয়ান হতে হবে। যে আর্কিটেক্ট হতে চাও, তাকে আর্কিটেক্ট হতে হবে। যে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাও, তাকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। যে ডাক্তার হতে চাও, তাকে ডাক্তার হতে হবে। প্রত্যেককে তোমাদের গড়ে উঠতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের ওপরে।’

স্টেডিয়ামে থাকা খুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা যত ভালোভাবে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশ তত সুন্দরভাবে, তত শক্তিশালী ভিত্তির ওপরে গড়ে উঠবে। কাজেই ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। তোমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে।’ এ সময় তিনি খুদে ক্রীড়াবিদদের ‘চিফ গেস্ট’ বলে আখ্যায়িত করেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে বেলা পৌনে চারটায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। এরপর নিজের বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভা অন্বেষণ করতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও বিকাশের সুযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে নতুন কুঁড়ি স্পোটর্সের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এতে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মেধাবিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। আটটি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা হবে। এগুলো হচ্ছে ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকস, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, মার্শাল আর্ট, সাঁতার ও দাবা।

সিলেট নগরকে বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প
সিলেট নগরকে বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) সকাল ১১টায় সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তিনি। সিসিক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুরমা নদীর সংযোগস্থলে জলকপাট বা স্লুইস গেট নির্মাণ, তীর উঁচু করা ও পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্বোধন শেষে প্রকল্পের সার্বিক দিক প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর। এই সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, এমরান আহমদ এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটে প্রতিবছর বেশকিছু আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়ানোর আগেই তলিয়ে যায়। ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের বন্যার অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই বিষয়ে একাধিক সভা ও সেমিনার হয়েছে। বাংলাদেশের প্রখ্যাত পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত এরই মধ্যে সিলেট পরিদর্শন করে নিজের মতামত দিয়েছেন। সিসিকের প্রকৌশল শাখা জানায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট প্রস্তাব করা হয়েছে সরকারের কাছে। এখনো এটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়নি। তবে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে সরকার প্রজেক্টটি গ্রহণ করেছে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। প্রকল্পটির জন্য প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা রয়েছে।

জানা গেছে, প্রকল্পটিতে স্লুইস গেট প্রস্তাবনা আছে তিনটি। একটি নগরের কাজিরবাজার এলাকায় বৈঠাখাল, ছড়ার পাড় এলাকার গোয়ালীছড়া ও বোরহানউদ্দিন এলাকার হলদিছড়া। স্লুইস গেটগুলোর পাশে পাম্প বসানো হবে। নদীর পানি শহরে প্রবেশ না করার জন্য স্লুইস গেট বন্ধ রাখা হবে। আবার বৃষ্টির পানিতে ছড়া ভরে গেলে সেই পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প দেওয়া হবে। এ ছাড়া সিলেট তামাবিল বাইপাস রোডের শাহপরান ব্রিজ থেকে বাধাঘাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার নদীর দুই পাড় উঁচু করা হবে। যেখানে পাড় উঁচু করার জায়গা নেই, সেখানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ দেয়াল নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতেই এই প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে এটি গ্রহণ করেছে। শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন আসবে।

শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাট এলাকায় আয়োজিত সুধী সমাবেশে শিগগিরই সিলেট মেডিকেল কলেজে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দেন সরকারপ্রধান। পর্যায়ক্রমে তা ১২’শ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত আছেন।

কোদাল দিয়ে মাটি কেটে বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন
সিলেটের বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বেলা ১টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটি খনন করেছিলেন। সময়ের ব্যবধানে খালটি ভরাট হয়ে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এটি পুনরায় খননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, খালটি পুনঃখনন করা হলে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক সরাসরি, এবং দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। খালের দুই পাশের জমিতে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু বাসিয়া নয়, সারাদেশে এ ধরনের খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ৬০টি স্থানে খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। এ কাজ সম্পন্ন করতে দুইটি শুকনো মৌসুম লাগবে। চলতি বর্ষা শেষে আগামী নভেম্বর থেকে আবারও কাজ শুরু হবে, এবং আগামী বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে। খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দুই পাড়ে ৫০ হাজার গাছ রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। এতে পরিবেশ সংরক্ষণ, খাল রক্ষা এবং স্থানীয়দের জন্য বসার জায়গা তৈরি হবে। কৃষকদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক সুবিধা সরাসরি দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকরা বছরে আড়াই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা, বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন। “কাজ কম নয়, কথা কম—কাজ বেশি” এই নীতিতে দেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরও জানান, বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ধাপে ধাপে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু করা হবে। একইসঙ্গে দেশের বাইরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও সরকার কাজ করছে। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বাসিয়া নদীর খালটি সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় ছিল। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এ পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেয়।

ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ উন্নয়নে কাজ চলছে
ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ সরকার শুরু করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (০২ মে) সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় যখন আমি এসেছিলাম আমি প্লেনে এসেছিলাম কিন্তু যাবার সময় আমি সড়ক পথে গিয়েছিলাম নির্বাচনি জনসভা করতে করতে এবং সেদিন আমি বলেছিলাম যে সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব নয় সাড়ে নয় ঘণ্টা সময় লাগে কিন্তু বাই রোড যাবার অবস্থা রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায় এবং সেদিন বলেছিলাম যে আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ইনশা আল্লাহ আমরা এই কাজটিতে হাত দেব যাতে এটা দ্রুত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই ১ লাখের মধ্যে ৮০ শতাংশ থাকবে নারী স্বাস্থ্যকর্মী। এই মানুষগুলোর দায়িত্ব হবে গ্রামে গ্রামে, ঘরে ঘরে যাওয়া। শহরেও তারা থাকবে। তবে আমরা জোর দেব, গ্রামের মানুষের ওপরে বেশি। তারা বিশেষ করে পরিবারের নারীদের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা চালাবে।’

তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠন করার পরে এই দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে আমি তাদের সাথে কথা বলেছি। আমি তখন জানতে পারলাম, খুব সম্ভবত কাজটি যখন শুরু হয় বিভিন্ন জায়গায় তাদের যে কোম্পানিগুলো কাজ করবে তাদের যে সাইট অফিস থাকে সেখানে জমি একোয়ার করতে হয় সাইট অফিস এবং বিভিন্ন কারণে ১১টি জায়গায় যেখানে সমস্যা রয়ে গেছে… প্রশাসনিক সমস্যা রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। আমি আশা করছি ইনশা আল্লাহ দ্রুততম সময় আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। সময় লাগবে তবে কাজটি শুরু করলে ইনশাআল্লাহ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এটা ইনশা আল্লাহ শেষ করতে পারব। তার ফলে মানুষের যাতায়াতে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোড যাতায়াতের এত কষ্ট মানুষকে ইনশা আল্লাহ ভোগ করতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি উদ্যোগ গ্রহণ করছে-সারাদেশে কিভাবে রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করা যায়। রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করলে স্বাভাবিকভাবে অধিকাংশ মানুষ এটিতে যাতায়াত করবেন, এটিতে খরচ কম হবে, সেটি ব্যবসার খরচও কম হবে। সড়ক পথের থেকে রেল পথের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। বলেন, আমরা রাস্তা যতই বড় করতে থাকি ততই গাড়ি নামবে রাস্তায়। ট্রাফিক বাড়বেই। আরেকটি বিষয় আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন জনসংখ্যার ভিত্তিতে আমরা পৃথিবীর খুব সম্ভবত অষ্টম স্থানে আছি। কিন্তু আমরা ল্যান্ডওয়ে যদি চিন্তা করি আমাদের দেশটা হয়তো অত বড় না। অনেক দেশ থেকেই ছোট। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাংলাদেশ হচ্ছে একটি কৃষি প্রধান দেশ। সেজন্য রাস্তা যদি নির্মাণ করি আমরা একই সাথে কিন্তু আমাদের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে….সেই বিষয়টাকে আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, এত বিপুল সংখ্যক জনগণের খাবার তো আমরা বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করা সম্ভব না এবং আমরা আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটিভাবে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ। কাজেই এটিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করব কিন্তু রেলটাকে আমরা ডেভেলপ করতে চাই। আপনারা নিশ্চয়ই ইন্টারেস্টেড হবেন যে, ঢাকা-সিলেট বা সিলেট-ঢাকার রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন। আমরা চেষ্টা করছি সিলেটে ডবল লাইন কিভাবে করা যায়? ডাবল লাইনের মাধ্যমে এই সমস্যাটা সমাধান করা যায়? শুধু সিলেট নয় সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করছে বলে সরকারের উদ্যোগের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্য বর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ হয়। এছাড়া সিলেটে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ সিটি করপোরেশনের প্রকল্প গ্রহণের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। খাবার পানির সমস্যার সমাধানে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার ভবিষ্যতে সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্ডারগ্রাউন্ড পানি ব্যবহার বেশি করে মাটির নিচে এই পানির ওয়াটার লেভেল যেটা আছে সেটা ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে সেটিও মাথায় রাখতে হবে…। আমরা যে খাল খনন একটি কর্মসূচি শুরু করেছি এই কর্মসূচির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কিন্তু এই সমস্যাগুলোকে অ্যাড্রেস করার জন্য। আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল যেটা আছে সেটা শুধু সিলেট সিটি করপোরেশনে নয় এই সমস্যা ঢাকাতে হচ্ছে, এই সমস্যা অন্য অনেক শহরে বড় সমস্যা হচ্ছে। যেভাবে আমরা মাটির নিচে যে পানি আছে এটিকে যেভাবে টেনে তুলছি…এটি ধীরে ধীরে একটি ভয়াবহ অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা পুরো পরিস্থিতিটাকে এখনই অ্যাড্রেস করতে চাই তাহলে সবচেয়ে প্রথম যে উপায়টি হচ্ছে আমাদেরকে খাল খনন করতে হবে এবং খাল খননের মাধ্যমে এই যে পানিগুলো দেখুন বর্ষার সময়, বৃষ্টির সময় এত পানি আসছে তা জলাধার তৈরি হয়েছে কাজে লাগাতে হবে।

সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে ময়লা-আবর্জনা-পলিথিন ইত্যাদি অপসারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি করপোরেশনকে আমি অনুরোধ করব, অবশ্যই আপনারা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করবেন, মানুষ যাতে সেবা পায়, কিন্তু একই সাথে যদি আপনারা মানুষকে অবহিত করার জন্য, সচেতন করার জন্য কতগুলো উদ্যোগ নেন। যেমন প্লাস্টিক, পলিথিন, কাগজ, যেকোনো বর্জ্যদ্রব্য হোক না কেন, এই জিনিসগুলো যত্রতত্র যাতে আমরা না ফেলি তার উদ্যোগ নিতে হবে। আপনারা বিশেষ করে যতগুলো সিটি করপোরেশন স্কুল আছে, ছোট ছোট বাচ্চা, বিশেষ করে প্রাইমারি স্কুল, হাই স্কুল—এই বাচ্চাদেরকে যদি এই জিনিসটা শেখানোর উদ্যোগ নেন, সেটা ভালো ফল দেবে। কারণ কি? বড়রা শিখলেও কিছু শুনলেও সমাজে শিখতে চায় না। ২৫, ৩০, ৩৫ ও ৪০ বছরের মানুষকে যদি আপনি কিছু শিখাতে চান, অনেক বেগ পেতে হয়। আর আপনি যদি একটা ছোট বাচ্চাকে ভালো কিছু শেখান, ওটা কিন্তু তার মাথায় ঢুকে যায় এবং ছোট বাচ্চাকে যদি আপনি সেটা শিখিয়ে ফেলতে পারেন, সবচেয়ে বড় যেটা সুবিধা হয়, সে স্কুলে ভালো জিনিস যে শিখে আসবে, সেটা সে যেমন ফলো করবে, সে তার বাবা-মাকেও মানতে বাধ্য করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেজন্য আমি সিলেটসহ সব সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করবো, আপনারা যদি অন্তত আপনাদের এলাকায় সিটি করপোরেশনের ভিতরে যে সকল স্কুল আছে, সে স্কুলগুলোতে যদি আপনারা কোনো উদ্যোগ দিয়ে বাচ্চাদেরকে এই বিষয়গুলোতে সচেতন করতে পারেন, তাহলে আমরা ধীরে ধীরে এই কাজটি শুরু করতে পারব। এতে পরিবেশকে আমরা আস্তে আস্তে ঠিক করে আনতে পারব। মনে রাখতে হবে, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তারা দেশ এবং জাতির জন্য ভালো কোনো কিছু আজকে যেটা শিখবে, নিশ্চয়ই তারা যখন বড় হবে, তারা ইনশাআল্লাহ, যখন একটি অবস্থানে যাবে, কেউ না কেউ, তারা সেটি দেশের জন্য, সমাজের জন্য, মানুষের জন্য তারা প্রয়োগ করবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ প্রমুখ, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী।

শ্বশুরবাড়ি সিলেটে মধুর বিড়ম্বনায় পড়লেন তারেক রহমান
সিলেট সফরে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তা ‘মধুর বিড়ম্বনা’। তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বিরাইমপুরে। তাই সিলেটে বাসিয়া নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনে গেলে সেখানকার মানুষ ‘দুলাভাই, দুলাভাই, স্বাগতম, শুভেচ্ছা’ স্লোগানে স্বাগত জানান তাকে। শনিবার (২ মে) দুপুরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই সিলেট শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে কাশিপুরে বাসিয়া নদী পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঠিক তখনই গ্রামবাসীরা ‘দুলাভাই দুলাভাই’ বলে মুহুমুহু স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘বৃষ্টি হচ্ছে আকাশে সবাই ভিজে যাবেন। আস্তে, আস্তে, স্লোগান দিলে কথা শুনতে পাবা না তো! আস্তে আস্তে, এক মিনিট এক মিনিট, একটু চুপ করতে হবে, একটু চুপ করতে হবে।’ রসিকতা করে তিনি আরও বলেন, ‘দুলাভাইকে কথা বলতে না দিলে তো দুলাভাই যাবে গিয়া। যাই আমি? কথা বলব, না যাবো? আচ্ছা, তাহলে চুপ করতে হবে, কথা শুনতে হলে চুপ করতে হবে।’ এসময় গ্রামবাসীরা নীরব হয়ে গেলে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি কথা বললে তাহলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে শুনতে হবে, কথা ঠিক আছে। আচ্ছা ঠিক আছে।’ বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী বিদায় নিলে গ্রামবাসী আবারও ‘দুলাভাই, দুলাভাই’ স্লোগানে সরব হয়ে ওঠেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের কাছ থেকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে বিদায় নেন। তবে বাসিয়া নদী খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ছিলেন না। তিনি এর আগের কর্মসূচি সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়োজিত সুধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন মারা গেছে নিশ্চিত হামে এবং বাকি ৯ জন মারা গেছে হাম সন্দেহে বা হামের উপসর্গ নিয়ে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১৩৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫৫৫ শিশু।

মঙ্গলবার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দুই মাসে সারা দেশে ৫৫৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৮ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৬৭ জন।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৮ হাজার ৭৭২ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৬৬ হাজার ২৩ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৩৬ জন ও আক্রান্ত ৩৭ হাজার ২২৯ জন।

এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ ২৬ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ফের হাসপাতালে নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
ফের হাসপাতালে নেতানিয়াহু

স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ফের হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় জেরুজালেমের হাদাসাহ আইন কেরেম মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয় তাকে।

দেশটির হিব্রু গণমাধ্যমগুলোতে নেতানিয়াহুর হাসপাতালে ভর্তি খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তার কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে বিবৃতি জারি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দাঁতের চিকিৎসার জন্য নেতানিয়াহুকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং রাতেই তিনি বাড়ি ফিরে গেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ৭৬ বছর বয়সি নেতানিয়াহুর স্বাস্থ্য ইসরায়েলি রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, কয়েকটি ঘটনার মাধ্যমে তার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জনসাধারণের কাছ থেকে গোপন রাখার অভিযোগ উঠে আসে এবং এ নিয়ে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। এর ফলে ইসরায়েলের অনেকের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

এরআগে গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে নেতানিয়াহু জানান, তিনি সম্প্রতি হাদাসাহ মেডিকেল সেন্টারে প্রোস্টেটের ম্যালিগন্যান্ট (ক্যান্সার) টিউমারের জন্য সফলভাবে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তবে এই খবর  প্রকাশে বিলম্ব করার অনুরোধ করেছিলেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের সময় তা প্রকাশ না হয় এবং ইরান এটিকে প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে না পারে।

পোস্টে ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু বলেছেন, বর্ধিত প্রোস্টেটের সফল অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের সময় চিকিৎসকরা একটি প্রাথমিক পর্যায়ের ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শনাক্ত করেন। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে ‘সমস্যাটি দূর করা হয়েছে এবং এর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই’।

এদিকে নেতানিয়াহুর ঘোষণার পরই তার বার্ষিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন এবং ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্পর্কিত একটি অতিরিক্ত নথি প্রকাশ করা হয়। তবে সেই প্রতিবেদনে অর্ধেক পৃষ্ঠাজুড়ে মাত্র পাঁচটি অস্পষ্ট বিষয় ছিল এবং এটি কোন বছরের প্রতিবেদন সেটিও উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া কোনো নথিতেই হাসপাতালের লোগো বা আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা বিবৃতির ইঙ্গিত ছিল না।

এরআগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নেতানিয়াহুর শরীরে একটি পেসমেকার বসানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে তার হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়।

নেতানিয়াহুর পেসমেকার বসানোর সময় প্রথমদিকে জানানো হয়েছিল, তিনি পানিশূন্যতা পর্যবেক্ষণের জন্য রামাত গানের সেবা মেডিকেল সেন্টারে এক রাত অবস্থান করেছিলেন বলে জানিয়েছিল তার কার্যালয় ও হাসপাতাল। তবে হাসপাতাল জানায়, বাস্তবে তার শরীরে একটি সাবকিউটেনিয়াস হার্ট মনিটর বসানো হয়েছিল। এ নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

একসপ্তাহ পরে চিকিৎসকরা স্বীকার করেন তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় করা একটি ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) পরীক্ষায় তারা কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছিলেন।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

টানা তিন বিশ্বকাপে ভবিষ্যদ্বাণী ফলেছে তার, এবার কাকে বলছেন চ্যাম্পিয়ন?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
টানা তিন বিশ্বকাপে ভবিষ্যদ্বাণী ফলেছে তার, এবার কাকে বলছেন চ্যাম্পিয়ন?

২০১০ সালের ফিফা বিশ্বকাপে জার্মানির প্রতিটি ম্যাচের ফল সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিল ‘পল দ্য অক্টোপাস’। তবে এবার সেই জনপ্রিয় ভবিষ্যদ্বক্তাকেও ছাড়িয়ে গেছেন জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট।

জটিল পরিসংখ্যানভিত্তিক একটি মডেল ব্যবহার করে তিনি ২০১৪ সাল থেকে টানা তিনটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। এবার তার মডেল বলছে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ফাইনালে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে নেদারল্যান্ডস।

ক্লেমেন্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডস শিরোপা জিততে পারলে এটি হবে তার টানা চতুর্থ সফল ভবিষ্যদ্বাণী। এর আগে তিনি সঠিকভাবে জার্মানির ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়, ফ্রান্সের ২০১৮ শিরোপা এবং আর্জেন্টিনার ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

তার মডেলে শুধু চ্যাম্পিয়ন নয়, পুরো ৪৮ দলের টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, জাপান দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলকে হারিয়ে চমক দেখাবে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ড গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেবে।

এছাড়া ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের কাছে হেরে যাবে বলে ধারণা করছে মডেলটি।

তবে ক্লেমেন্ট নিজেই এই পূর্বাভাসকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নিষেধ করেছেন। তার মতে, ফুটবলে সাফল্যনির্ভর করে অনেক অনিশ্চিত বিষয়ের ওপর।

তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যা, অর্থনীতি, আবহাওয়া কিংবা ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের মতো বিষয় কিছুটা ধারণা দেয় ঠিকই, কিন্তু ম্যাচের অন্তত ৫০ শতাংশ নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর।’

তার ভাষায়, ‘একটি ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত, খেলোয়াড়দের দিনের পারফরম্যান্স কিংবা বল পোস্টে লেগে বাইরে যাওয়া—এসব কিছুই আগে থেকে বলা অসম্ভব।’

বর্তমানে বিনিয়োগ ব্যাংক প্যানমিউর লিবারামের কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করছেন ক্লেমেন্ট। বিশ্বকাপ ঘিরে তার পূর্বাভাস এখন সহকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মজার ছলে তিনি বলেন, ‘আমার কয়েকজন সহকর্মী নেদারল্যান্ডসের পক্ষে বাজিও ধরেছে। যদি তারা বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে, তাহলে হয়তো পরদিন আমাকে বাসা থেকে কাজ করতে হবে!’

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এম/এএইচ