কঠোর বাজার তদারকির বিকল্প নেই
বাজারে আবারও বেড়েছে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম। বৈশাখের শুরুতে সবজির দাম কিছুটা কমেছিল। মুরগি দামও ২০ থেকে ৫০ টাকা নেমেছিল। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে সেই চিত্র আর নেই। বিক্রেতাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে সবজিসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। এতে দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, তদারকির অভাবে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। এতে করে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সিন্ডিকেটের কারণে এমন অস্থিরতা চলছে। এসব কারণে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ডিম, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে সবজির দাম একযোগে বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের, অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন খাদ্য তালিকা সীমিত করতে।
সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিপাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজি উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। কৃষকেরা সময়মতো ফসল তুলতে না পারায় এবং পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে খুচরা বাজারে। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজি কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চ্যালেঞ্জিং হলেও সরকারকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। বাংলাদেশ ভোক্তা সমিতি (ক্যাব) বলছে, মুদ্রাস্ফীতির নিয়ন্ত্রণে অর্থ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব রয়েছে।
যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তরফে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার দাবি করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির চেয়ে মার্চে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ হলো পণ্যের দাম কমছে। তবে বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। বেশির ভাগ জিনিসপত্রের দাম বাড়তি। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহকে কেন্দ্র করেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা ফ্রি স্টাইলে দাম বাড়িয়ে ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষকে যেন জিম্মি করতে না পারে, সে জন্য সরকারকে কঠোর হতে হবে। এজন্য কঠোর বাজার তদারকির বিকল্প নেই। প্রশাসনের পাশাপাশি বাজার কমিটিকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, তাদের চিহ্নিত করে শুধু জরিমানা নয়, কারাগারেও পাঠাতে হবে। এছাড়া সরকারকে সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগামী দু-তিন মাসের মজুতের বিষয়ে জনগণকে তথ্য দিয়ে আশ্বস্ত করতে হবে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array