খুঁজুন
                               
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

ছাত্রজনতাকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিল হাসিনা: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
ছাত্রজনতাকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিল হাসিনা: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ছাত্রজনতাকে হত্যা করেছে। আর আেইনশৃখঙ্খলা বাহিনীকে ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করে ‘সোজা গুলি করার’ নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (১০ মে) নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনকক্ষে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। এদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‌‘আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে’ শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের কথোপকথনে এমন নির্দেশনার বিষয় উঠে আসে। একজন সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনা ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। এর ফলেই সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং হাজারো মানুষ নিহত হয়।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বহু মানুষ হতাহত হন। সবচেয়ে আবেগের জায়গা হচ্ছে ফাইয়াজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হত্যাকাণ্ডে আবেগাপ্লুত হয়েছিল পুরো বাংলাদেশ।

আমিনুল বলেন, মোহাম্মদপুরের এ মামলায় সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি, ইন্ডিভিজুয়াল রেসপনসিবিলিটি ও টার্গেটেড কিলিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৮ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

কামিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৮৯.৮২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
কামিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৮৯.৮২ শতাংশ

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত কামিল মাদরাসাগুলোর দুই বছর মেয়াদি কামিল (স্নাতকোত্তর) পরীক্ষা-২০২৪ এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় মোট ৮৯ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

রোববার (১০ মে) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবু জাফর খান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম উপাচার্যের কাছে ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন।

ফলাফল প্রকাশকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অল্প সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এ এস এম মামুনুর রহমান খলিলী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ফাহাদ আহমদ মোমতাজী, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. জিয়াউর রহমানসহ পরীক্ষা দপ্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হলো, যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ফলাফল প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের হাতে সময় মতো সনদ ও নম্বরপত্র পৌঁছে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এক বছর মেয়াদি কামিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এ পরীক্ষার ফলাফলও দ্রুত প্রকাশ করা হবে। মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শুধু পরীক্ষা পরিদর্শনই যথেষ্ট নয়। পরীক্ষা গ্রহণে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

অধ্যাপক আবু জাফর খান বলেন, যুগোপযোগী ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বিষয়ে দেশের সব মাদ্রাসাকে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা ও আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই সচেষ্ট থাকবেন।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, আগামী দিনে দ্রুত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ করার মাধ্যমে সেশনজট শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এ বছর কামিল পরীক্ষার মেধাতালিকায় চূড়ান্ত বর্ষে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসা, ছারছীনা দারুসুন্নত কামিল মাদ্রাসা, ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা শীর্ষস্থান লাভ করেছে। এ ছাড়া প্রথম বর্ষে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা শীর্ষস্থানে রয়েছে।

সারা দেশের ১৬৭টি কেন্দ্রে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ও চূড়ান্ত বর্ষ মিলিয়ে মোট ৪২ হাজার ৩৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৬২২ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রথম বর্ষে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং চূড়ান্ত বর্ষে ৯৬ দশমিক ১২ শতাংশ।

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার ফলাফল-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট পাওয়া যাবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১৮৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে মামলা গায়িকার

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
১৮৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে মামলা গায়িকার

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন জনপ্রিয় পপ তারকা দুয়া লিপা। গায়িকার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি তার অনুমতি ছাড়াই পণ্যের বিজ্ঞাপনে ছবি ব্যবহার করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যারাইটি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৮ মে) ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছর থেকে স্যামসাং তাদের টিভির প্যাকেজিংয়ে দুয়া লিপার একটি ছবি ব্যবহার করে আসছে। ছবিটি মূলত ‘অস্টিন সিটি লিমিটস ফেস্টিভ্যাল’-এ তার পারফর্ম করার সময়ের।

বিষয়টি নজরে আসার পর দুয়া লিপা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছবিটি সরিয়ে ফেলার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে তার দাবি, স্যামসাং কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়নি।

মামলার অভিযোগে পপ তারকা উল্লেখ করেন, ‘আমার অগোচরে এবং কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।’ তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি এমন কাজের জন্য কখনোই অনুমতি দিইনি এবং ভবিষ্যতে দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।’

গায়িকার অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ডুয়ার এক ভক্ত লিখেছেন, ‘আমি টিভি কেনার কথা ভাবিওনি। কিন্তু বক্সে তার (দুয়া লিপা) ছবি দেখে এটি কেনার সিদ্ধান্ত নিই।’ অন্য এক ভক্ত জানান, শুধুমাত্র প্রিয় তারকার ছবি থাকার কারণে তিনি পণ্যটি কিনেছেন।

পপ তারকার ভাষ্যমতে, বিশ্বজুড়ে তার একটি ‘প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ভ্যালু’ রয়েছে। তিনি অত্যন্ত বাছাই করা কিছু কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেন। স্যামসাংয়ের কর্মকাণ্ডে গায়িকার ব্র্যান্ড ইমেজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

গায়িকার আইনজীবী জানিয়েছেন, স্যামসাং কপিরাইট আইন লঙ্ঘন ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ার ‘রাইট-অফ-পাবলিসিটি’ আইন, ল্যানহ্যাম অ্যাক্ট এবং ট্রেডমার্ক নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

কাতার-কুয়েত-আমিরাতে ড্রোন হামলা, জাহাজে অগ্নিকাণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
কাতার-কুয়েত-আমিরাতে ড্রোন হামলা, জাহাজে অগ্নিকাণ্ড

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের কথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে ড্রোন হামলা হয়েছে। এই হামলায় কাতারে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন ধরে গেলেও কুয়েত এবং আমিরাতে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য জানা যায়নি। রোববার (১০ মে) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন থেকে পৃথক এসব হামলার তথ্য জানা যায়।

এতে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া অন্তত দুটি ড্রোনকে নিজেদের আকাশে শনাক্ত এবং বাধা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনী।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের এসব প্রকাশ্য হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত মোট ৫৫১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২৬৫টি ড্রোন মোকাবিলা করেছে।

এদিকে, একই দিনে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রোববার আবুধাবি থেকে দেশটির জলসীমায় প্রবেশ করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে জাহাজটিতে সামান্য আগুন ধরে গেলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘রোববার সকালে আবুধাবি থেকে আসা পণ্যবাহী ওই বাণিজ্যিক জাহাজ মেসাইদ বন্দরের উত্তর-পূর্ব দিকে কাতারের জলসীমায় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এই ঘটনার ফলে জাহাজে সীমিত পর্যায়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও কেউ আহত হননি।’

এর আগে, ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক একটি সংস্থা দোহার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে।

এ ছাড়া কুয়েতের সামরিক বাহিনী রোববার ভোরের দিকে দেশটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে।

দেশটির সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, ‘আজ ভোরে সশস্ত্র বাহিনী কুয়েতের আকাশসীমায় বেশ কিছু শত্রু ড্রোন শনাক্ত করেছে। এসব ড্রোনকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মোকাবিলা করা হয়েছে।’ তবে ড্রোনগুলো কোথা থেকে এসেছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি কুয়েত।

সূত্র: এএফপি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ