খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

হামের চেয়ে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু বেশি, প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ৭০ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
হামের চেয়ে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু বেশি, প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ৭০ শিশু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের তুলনায় নিউমোনিয়ায় অনেক বেশি শিশু মারা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়। প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু এ রোগে প্রাণ হারাচ্ছে।

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। তবে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৯৫ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠছে। দেশে চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে ৯৫ শতাংশ শিশু এসেছে বলেও জানান তারা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হামে শিশুমৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সফল টিকাদান কর্মসূচির কারণে একসময় হামের প্রকোপ অনেক কমে এসেছিল। কিন্তু গত দুই বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে ছেদ পড়ায় এ বছর মার্চ থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি জানান, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত দুই মাসে ৫৪ হাজার ৪১৯ জনের মধ্যে হাম ও হাম সদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন হামে এবং ৩৬৯ জন হাম সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুমৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ এখনো নিউমোনিয়া। তারা বলেন, হামের চেয়ে নিউমোনিয়ায় সবচেয়ে বেশি শিশু মারা যাচ্ছে। নীরবে এই মৃত্যু হচ্ছে।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। চিকিৎসায় দেরি হলে জটিলতা বেড়ে যায়। হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ১ শতাংশের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বলেন, দেশে ব্রেস্ট ফিডিংয়ের হার এখন ৫৬ শতাংশ। বাকি শিশুরা মাতৃদুগ্ধের বাইরে থাকায় তাদের রোগপ্রবণতা বাড়ছে। পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীলতাও শিশুদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এসময় অধ্যাপক ডা. গোলাম সারওয়ার, অধ্যাপক ডা. আসিফ মোস্তফা এবং অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল কিবরিয়াসহ অন্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী

সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়, সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়, চেতনা ও সভ্যতার ভিত্তি বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীতে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে জাতি তার সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করতে পারে না, সে জাতি ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় টিকে থাকতে পারে না। হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, সহনশীলতা ও মুক্তচিন্তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাদের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনের মাধ্যমে সেই চেতনাকেই বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সংস্কৃতিকে রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করা, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং শিল্পী-সংস্কৃতি কর্মীদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য বিশেষ কল্যাণ কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যাতে তারা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসতে পারেন। পাশাপাশি দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, লোকঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। কারণ, ঐতিহ্য রক্ষা মানেই জাতির শেকড়কে সুরক্ষিত রাখা।’

ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার পবন বাধে।

অনুষ্ঠানে নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ ও শামীম আরা নীপার নির্দেশনায় ‘নৃত্যাঞ্চল’-এর শিল্পীরা নৃত্যগীতি পরিবেশন করেন। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক চেতনাকে কেন্দ্র করে প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ রেজা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন বগুড়া, প্রজ্ঞাপন জারি

বগুড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন বগুড়া, প্রজ্ঞাপন জারি

বগুড়া পৌরসভা ও এর আশেপাশের সম্প্রসারিত এলাকা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হলো ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’। এটি বাংলাদেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন। নতুন এই সিটি করপোরেশনে মোট ২১টি ওয়ার্ড রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা পরবর্তীতে সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

আলাদা একটি প্রজ্ঞাপনে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের প্রথম তফসিল সংশোধন করে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’ নামটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, গত ৭ মে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-র বৈঠকে বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন করেন।

নতুন এই সিটি করপোরেশনের চারপাশের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, পূর্বে : বগুড়া সদরের ২ নম্বর সাবগ্রাম ইউনিয়ন, ৫ নম্বর রাজাপুর ইউনিয়ন এবং শাহজাহানপুর উপজেলার ২ নম্বর মাদলা ইউনিয়ন। পশ্চিমে : বগুড়া সদরের ১ নম্বর ফাঁপড় ইউনিয়ন এবং ৪ নম্বর এরুলিয়া ইউনিয়ন। উত্তর : ৩ নম্বর নিশিন্দারা ইউনিয়ন, ৫ নম্বর রাজাপুর ইউনিয়নের অংশ এবং ৬ নম্বর শাখারিয়া ইউনিয়ন (সবগুলো বগুড়া সদর)। দক্ষিণে : শাহজাহানপুর উপজেলার ১ নম্বর আশেকপুর ইউনিয়ন, ২ নম্বর মাদলা ইউনিয়ন এবং ৩ নম্বর মাঝিড়া ইউনিয়ন।প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী বিদ্যমান বগুড়া পৌরসভা ও এর সংলগ্ন সম্প্রসারিত এলাকার সমন্বয়ে এই সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আইন অনুযায়ী স্থানীয় জনগণের মতামত যাচাইয়ের জন্য বগুড়ার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) গণবিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসক নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় জনসাধারণের ইতিবাচক মতামত সংবলিত একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সরকার বগুড়া সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।

কালের আলো/এসআইপি

ফতুল্লায় ‘গ্যাস বিস্ফোরণ’: একে একে চলে গেল পরিবারের ৫ জনই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
ফতুল্লায় ‘গ্যাস বিস্ফোরণ’: একে একে চলে গেল পরিবারের ৫ জনই

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় বাসায় গ্যাস লিক থেকে হওয়া বিস্ফোরণে একই পরিবারের দগ্ধ ৫ জনের কাউকেই আর বাঁচানো গেল না।ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় স্বামী ও তিন সন্তানের মৃত্যুর পর সবশেষ চিকিৎসাধীন থাকা সায়মা মারা গেলেন।শুক্রবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ৩২ বছর বয়সী সায়মার মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান।তিনি শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এর আগে গত দুই দিনে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সায়মার তিন সন্তান মারা যায়।বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে ১০ বছর বয়সি মুন্নি মারা যায়, তার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

এর ঘণ্টা তিনেক আগে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে মুন্নির ছোটভাই সাত বছর বয়সী মুন্না মারা যায়। তার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।আগের দিন বুধবার সন্ধ্যায় তাদের আরেক বোন কথা মারা যায়; তার শরীরের ৫২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে রোববার সকালে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে তিন শিশু সন্তানসহ এক দম্পতি দগ্ধ হন।

তাদের সবাইকে ভর্তি করা হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। তখনই তাদের অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’ ছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসক শাওন।পরদিন সকালেই মারা যান ৩৫ বছর বয়সী গৃহকর্তা মো. কালাম, তার শরীরে পোড়ার মাত্রা ছিল ৯৫ শতাংশ। এরপর একে একে তাদের সাবারই মৃত্যু হল।

গিরিধারার ওই বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন সবজি বিক্রেতা কালাম। তিতাসের লাইনের লিক থেকে গ্যাস জমে তাদের ঘরে বিস্ফোরণ ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ধারণা।

কালের আলো/এসআইপি