খুঁজুন
                               
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

হামের চেয়ে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু বেশি, প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ৭০ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
হামের চেয়ে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু বেশি, প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ৭০ শিশু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের তুলনায় নিউমোনিয়ায় অনেক বেশি শিশু মারা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়। প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু এ রোগে প্রাণ হারাচ্ছে।

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। তবে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৯৫ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠছে। দেশে চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে ৯৫ শতাংশ শিশু এসেছে বলেও জানান তারা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হামে শিশুমৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সফল টিকাদান কর্মসূচির কারণে একসময় হামের প্রকোপ অনেক কমে এসেছিল। কিন্তু গত দুই বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে ছেদ পড়ায় এ বছর মার্চ থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি জানান, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত দুই মাসে ৫৪ হাজার ৪১৯ জনের মধ্যে হাম ও হাম সদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন হামে এবং ৩৬৯ জন হাম সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুমৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ এখনো নিউমোনিয়া। তারা বলেন, হামের চেয়ে নিউমোনিয়ায় সবচেয়ে বেশি শিশু মারা যাচ্ছে। নীরবে এই মৃত্যু হচ্ছে।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। চিকিৎসায় দেরি হলে জটিলতা বেড়ে যায়। হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ১ শতাংশের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বলেন, দেশে ব্রেস্ট ফিডিংয়ের হার এখন ৫৬ শতাংশ। বাকি শিশুরা মাতৃদুগ্ধের বাইরে থাকায় তাদের রোগপ্রবণতা বাড়ছে। পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীলতাও শিশুদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এসময় অধ্যাপক ডা. গোলাম সারওয়ার, অধ্যাপক ডা. আসিফ মোস্তফা এবং অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল কিবরিয়াসহ অন্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বিকেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
বিকেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বিকেলে ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে সরাসরি চীনে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দুই দেশ মালয়েশিয়া ও চীন সফর শুরুর আগে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সময় বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে।

আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ‘এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর।’

তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে, এতে ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য রয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এটিকে একটি যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, এই সফরগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন।

সরকারি সফরের অংশ হিসেবে তিনি ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন।

‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ ফোরামে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে।

সফরে মালয়েশিয়া পর্বে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে, চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সংযোগ এবং উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৬ জুন রাতে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

স্বর্ণার ঝড়ো ব্যাটিং, পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
স্বর্ণার ঝড়ো ব্যাটিং, পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

সাউদাম্পটনে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মাত্র ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। সেই সংকটময় মুহূর্তে এক প্রান্ত আগলে রাখেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।

দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে উজ্জ্বল ছিলেন স্বর্ণা আক্তার। সাত নম্বরে নেমে তিনি ২২ বলে ৫ চারসহ অপরাজিত ৩৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জ্যোতি করেন ৩৮ বলে ৩৬ রান।

১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং করে পাকিস্তান। কিন্তু বাংলাদেশের বোলাররা শুরু থেকেই আঁটসাঁট বোলিং করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। নতুন বলে মারুফা আক্তার ইনিংসের প্রথম ওভারটি মেইডেন করে দারুণ সূচনা এনে দেন।

যদিও পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ৪৯ রান যোগ করে, অষ্টম ওভারে নাহিদা আক্তার সেই জুটি ভাঙার পর ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে। এরপর দুই প্রান্ত থেকে স্পিন আক্রমণে যান অধিনায়ক জ্যোতি। রাবেয়া খান, নাহিদা আক্তার ও সানজিদা আক্তার মেঘলাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রয়োজনীয় রানরেট বাড়তে থাকে পাকিস্তানের।

চাপ সামলাতে শেষদিকে বড় শট খেলতে গিয়ে দ্রুত উইকেট হারায় পাকিস্তান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তারা তুলতে পারে মাত্র ১০০ রান। ফলে ২৩ রানের দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

ব্যাট হাতে স্বর্ণা আক্তার এবং নেতৃত্বে জ্যোতির দায়িত্বশীল ইনিংসের পাশাপাশি বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে বিশ্বকাপ মঞ্চে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিল টাইগ্রেসরা।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

রাজশাহীতে জেএফএ নারী ফুটবলে জয়পুরহাটের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে জেএফএ নারী ফুটবলে জয়পুরহাটের জয়

জেএফএ অনুর্দ্ধ-১৪ জাতীয় যুব নারী ফুটবল প্রতিযোগিতার রাজশাহী ভেন্যুর ম্যাচে জয় পেয়েছে জয়পুরহাট জেলা।

শনিবার (২০ জুন) রাজশাহী  মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্টিত ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে জয়পুরহাট  জেলা ৩-১ গোলে নওগাঁ জেলাকে পরাজিত করে।

জয়পুরহাট জেলার খালকো ম্যাচের ১৪ মিনিটে প্রথম গোল করে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন। আর্জিনা ম্যাচের ৬০ মিনিটে গোল করলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২-০। দলের পক্ষে ৭৪ মিনিটে রিয়া গোল করলে জয়পুরহাট ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়। ম্যাচের ৮১ মিনিটে নওগাঁর মরিয়ম দলের পক্ষে একমাত্র গোলটি করলে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-১।

ম্যাচে রেফারীর দায়িত্ব পালন করেন সুমাইয়া আফরিন শাহীন। তাকে সহযোগিতা করেন আইরিন আকতার, সরেন ও লিজা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি