খুঁজুন
                               
, ,
           

অবশেষে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন মৌনি রায়

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
অবশেষে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন মৌনি রায়

গত কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল ঘর ভাঙছে বলিউড অভিনেত্রী মৌনি রায়ের। ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে আনফলো করলে বিচ্ছেদের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের বিচ্ছেদের খবর নিশ্চিত করেছেন এ তারকা।

বিবৃতির শুরুতেই সংবাদমাধ্যমের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মৌনি ও সুরজ বলেন, ‘গণমাধ্যমের একটি নির্দিষ্ট অংশের পক্ষ থেকে আমাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনধিকার চর্চায় আমরা মর্মাহত। আমরা জানাতে চাই যে, আমরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়গুলোকে ব্যক্তিগতভাবে সমাধানের জন্য আমরা সময় নিচ্ছি।’

বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন মৌনী রায়
নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে ছড়ানো নানা গুজবের কড়া সমালোচনা করে তারা আরও বলেন, ‘আমাদের ব্যক্তিগত জীবনকে মুখরোচক করার জন্য কিছু কাল্পনিক গল্প এবং চরম মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে। যা বাস্তবতার সাথে মোটেও মেলে না। আমাদের ব্যক্তিগত কথা বিবেচনা করে আমরা পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলাদা পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ মুহূর্তে আমরা অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই কঠিন সময়টি পার করার চেষ্টা করছি। আগামী দিনগুলোতে আমাদের বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করব।’

বিবৃতিতে ভক্ত এবং সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে তারা লিখেছেন, ‘সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি আমাদের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান রাখুন। আমাকে ও সুরজকে নিয়ে কোনো মিথ্যা গল্প ছড়াবেন না। এই কঠিন সময়ে আপনাদের সবার কাছ থেকে আমরা গোপনীয়তা প্রত্যাশা করছি। সমস্ত মিডিয়া হাউজের কাছে বিনীত অনুরোধ, দয়া করে এগুলো বন্ধ করুন।’

২০১৯ সালে দুবাইয়ে থার্টি ফার্স্ট নাইটের পার্টিতে মৌনী ও সুরজের পরিচয় হয়। সেখান থেকেই সম্পর্কের শুরু। এরপর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে গোয়ায় জমকালো আয়োজনে মালাবদল করেন তারা। মালয়ালি এবং বাঙালি—দুই রীতিতেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল।

কালের আলো/এসআর/এএএন

গান-গিটারের জাদুতে জেমসের ৬২তম জন্মদিন

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
গান-গিটারের জাদুতে জেমসের ৬২তম জন্মদিন

বাংলা রকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী ও গিটারিস্ট নগরবাউল জেমসের জন্মদিন আজ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ৬২ বছরে পা দিলেন মাহফুজ আনাম জেমস।

১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন জেমস। কৈশোরের বড় একটি সময় কেটেছে চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে। সেখানেই বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ব্যান্ড ‘ফিলিংস’। ১৯৮৭ সালে এই ব্যান্ডের সঙ্গে প্রকাশিত হয় তার প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’। পরের বছর প্রকাশ পায় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘অনন্যা’। পরবর্তী সময়ে ‘ফিলিংস’-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘নগর বাউল’।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে জেমস উপহার দিয়েছেন ‘লেইস ফিতা লেইস’, ‘নগর বাউল’, ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘পালাবে কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’ ও ‘কাল যমুনা’র মতো জনপ্রিয় অ্যালবাম। তার কণ্ঠে ‘তারায় তারায়’, ‘সুলতানা বিবিয়ানা’, ‘সুস্মিতার সবুজ ওড়না’, ‘হতেও পারে এই দেখা শেষ দেখা’, ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী’, ‘দিদিমনি’, ‘বাবা কত দিন দেখি না তোমায়’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কী দিয়া’, ‘লিখতে পারি না কোনো গান’ ও ‘এক নদী যমুনা’সহ অসংখ্য গান শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

শুধু ব্যান্ডসংগীতেই নয়, চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকেও নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন জেমস। সংগীতে অবদানের জন্য তিনি দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বলিউডেও কাজ করেছেন এই রক তারকা। তার গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’, ‘চাল চালে’, ‘আলবিদা’, ‘রিশতে’ ও ‘বেবাসি’ গানগুলোও শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলে।

জন্মদিন নিয়ে অবশ্য জেমসের ভাবনা অন্যরকম। তার ভাষায়, জন্মদিন একটাই—যেদিন মানুষ জন্ম নেয়। তাই বিশেষ কোনো আয়োজন করে জন্মদিন পালন করেন না তিনি। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটিয়েই দিনটি কাটানোর কথা জানিয়েছেন এই শিল্পী।

নিজের শিল্পীসত্তা নিয়েও জেমস বরাবরই স্বচ্ছ। তিনি বলেছেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য নয়, মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই তিনি গান করেন।

গান, গিটার আর স্বতন্ত্র কণ্ঠের জাদুতে কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখা নগরবাউল জেমস এবারও জন্মদিন কাটাবেন আপনজনদের সঙ্গে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ব্যবসায় আয়াতুল্লাহ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ব্যবসায় আয়াতুল্লাহ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের তেলকুপি গ্রামের বাসিন্দা আয়াতুল্লাহ। দুই হাত নেই, তবুও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি তিনি। ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে না নিয়ে হরেক মালের ব্যবসা করে সংসারের হাল ধরেছেন এই সংগ্রামী মানুষটি।

ছোট্ট একটি ভ্যানে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে হাট-বাজার ও গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেচাকেনা করেন আয়াতুল্লাহ। বাবা-মা, স্ত্রী, ছেলে ও ভাইসহ ছয় সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা লাভ করেন। এই আয় দিয়েই কোনোভাবে চলে তার সংসার।

২০১০ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই হাত হারান আয়াতুল্লাহ। দুর্ঘটনার পর সুস্থ হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে তার পরিবার। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও অভাবের কাছে হার মানেননি তিনি।

ভিক্ষাবৃত্তিতে না গিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে শুরু করেন হরেক মালের ব্যবসা। প্রথম দিকে কাঁধে ঝোলানো ডালি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ও বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে পণ্য বিক্রি করতেন। সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি ভ্যান ও কিছু পণ্য পাওয়ার পর সেই ভ্যানেই ব্যবসা করছেন তিনি। ব্যবসার কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার ছোট ভাই।

আয়াতুল্লাহ বলেন, এভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ব্যবসা করতে অনেক সময় অনিরাপদ মনে হয়। কোথাও একটি স্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা হলে নিরাপদে থেকে ব্যবসা করতে পারবেন এবং আয়ও বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ও আব্দুল মালেক জানান, কয়েক বছর ধরে তারা আয়াতুল্লাহকে এভাবেই সংসার চালাতে দেখছেন। আগে তিনি বড় একটি ডালিতে পণ্য নিয়ে গলায় ঝুলিয়ে হাট-বাজারে বিক্রি করতেন। এখন ভ্যান পাওয়ায় তার ব্যবসা কিছুটা সহজ হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, আয়াতুল্লাহকে একটি স্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হলে তাকে আর হাটে-ঘাটে ঘুরে ব্যবসা করতে হবে না। এতে ব্যবসা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারের জন্য আরও স্বচ্ছল জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

দুই হাত হারালেও বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তি হারাননি আয়াতুল্লাহ। ভিক্ষা নয়, নিজের শ্রম ও ব্যবসার আয়ে পরিবার চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি। এখন তার প্রত্যাশা, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে আরও একটু স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারে ওপেনএআইয়ের ৩ গবেষক বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারে ওপেনএআইয়ের ৩ গবেষক বরখাস্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে নিরাপত্তা ও ঝুঁকির বিতর্কের মধ্যেই সংবেদনশীল তথ্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যবহারের অভিযোগে তিন গবেষককে বরখাস্ত করেছে ওপেনএআই। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ওপেনএআই।

প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ

এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওপেনএআই জানিয়েছে, তদন্তে ওই তিন কর্মীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এ ঘটনায় তাদের নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরখাস্ত হওয়া তিন গবেষক হলেন জেসমিন ওয়াং, তোমেক কোরবাক ও মিকিতা বালেসনি। তবে তাঁদের কেউই এএফপির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত

বরখাস্ত হওয়া তিন গবেষকই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এআইয়ের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত মতামত প্রকাশ করে আসছিলেন।

মিকিতা বালেসনি ১০ সেপ্টেম্বর এক পোস্টে লিখেছিলেন, ওপেনএআইয়ে কাজ করার সুবাদে তাঁর ধারণা, এআইয়ের কারণে সব মানুষের মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি।

অন্যদিকে তোমেক কোরবাক ১১ সেপ্টেম্বর ওপেনএআইয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করলেও নিজের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন।

এআই নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

ওপেনএআইয়ের তিন কর্মীকে বরখাস্ত করার ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন শক্তিশালী এআই মডেলের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে এসব প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

গত মাসে ২৭ বছর বয়সী এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, ওপেনএআইসহ শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমে ‘আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে’।

এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এআই মডেলের নিরাপত্তা নিয়ে আরও কিছু ঘটনা সামনে এসেছে। ওপেনএআই তাদের নতুন ‘অ্যাস্ট্রা ৬.১’ মডেল প্রকাশের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পরীক্ষায় মডেলটিকে পুরোপুরি বিশ্বস্ত মনে হয়নি এবং এতে নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

ফলে শক্তিশালী এআই মডেল তৈরির পাশাপাশি এসব প্রযুক্তির নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে প্রযুক্তি খাতে বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ