খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার খোঁজে ২ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার খোঁজে ২ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিকা উইটকে ধরিয়ে দিতে ২ লাখ ডলার (প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা) পুরস্কার ঘোষণা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ২০১৩ সালে তিনি ইরানে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে তিনি সেখানে বসেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। খবর  টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

এফবিআই এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের ইতিহাসের এই ‘সংকটময় মুহূর্তে’ মনিকা উইটের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা যেন সংস্থাকে জানানো হয়। ওয়াশিংটনে এফবিআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ওয়াইরজবিকি বলেন, এফবিআই তাকে ভুলে যায়নি এবং তাকে বিচারের আওতায় আনতে তারা সবার সহযোগিতা চাইছেন।

মনিকা উইট মার্কিন বিমানবাহিনীর ‘অফিস অব স্পেশাল ইনভেস্টিগেশনস’-এ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল জন ডেমার্স অভিযোগ করেছিলেন, ইরান সুকৌশলে মনিকাকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে গেছে। এরপর তিনি ইরানে পালিয়ে যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ কর্মসূচি ফাঁস করে দেন। এমনকি তিনি একজন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার আসল পরিচয়ও প্রকাশ করে দেন, যার ফলে ওই কর্মকর্তার জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মনিকা ইরান ও ইরানের বাইরের গোয়েন্দাদের সঙ্গে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত এমন সব গুরুত্বপূর্ণ নথি ও গোপন তথ্য সরবরাহ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি এবং ইরানের সুবিধায় ব্যবহৃত হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ইরানে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে মনিকাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ঘরবাড়ি, আধুনিক কম্পিউটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সেবা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মনিকা উইটের কোনো আইনি প্রতিনিধি বা আইনজীবী রয়েছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিন প্রশাসন তাকে যেকোনো মূল্যে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে

ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান

পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নতুন মহাসচিব মনোনীত হয়েছেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি এতদিন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

প্রায় ১৮ বছর ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমদকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরের ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে দলের মজলিসে শুরার বিশেষ অধিবেশনে গাজী আতাউর রহমানকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া মজলিসে শূরার বৈঠকে দলে আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের মহাসচিব হওয়ার বিষয়টি দলটির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। যদিও দল থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর জানানো হয়।

মসলিসে শূরার বৈঠকে দলের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম সভাপতিত্ব করছেন। সারাদেশ থেকে শূরা সদস্যরা এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ছাত্রজীবন থেকে পীর সাহেব চরমোনাই নেতৃত্বাধীন দলের সঙ্গে যুক্ত। তিনি ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত কয়েক বছর ধরে তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দলের নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। দলের মুখপাত্রের দায়িত্বও পালন করছেন।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে। তিনি গাজীপুর-৫ আসন থেকে একাধিকবার হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সবার সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ: তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সবার সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ: তথ্য উপদেষ্টা

নিজ দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে বাংলাদেশ যে কোনো দেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, চীন ও মালয়েশিয়া সফরেও বাংলাদেশ একই বার্তা তুলে ধরেছে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) আয়োজিত প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ কোর্সের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে এক সাংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারতের রাষ্ট্রদূতকে মন্ত্রী মর্যাদা দেয়ায় নতুন করে বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে না, বরং এটি দ্বিপাক্ষিক ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া এবং চীন দুই দেশের সরকারই বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থ বজায় রেখেই তাদের সঙ্গে কাজ করে যাবে।

তিনি আরও বলেন, যারা চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করতে চান, সরকার সব সময় তাদের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতেও সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। বিসিটিআই-এর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের বিষয়েও সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

কালের আলো/এসএকে

গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায়, প্রকল্প চূড়ান্ত: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায়, প্রকল্প চূড়ান্ত: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায়, এজন্য বিশেষ প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যাচ্ছে বিশেষ শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, এ নিয়ে বড় প্রকল্প প্রস্তুত ও প্রণয়ন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৩০ জুনে পাস হতে যাওয়া নতুন জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ ও হ্রাসের জন্য সুনির্দিষ্ট ও বিশেষ অর্থনৈতিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ‘সিএসএফ সেন্টার’ এর সেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘প্রতিটি শিশুর সম্ভাবনার বিকাশে প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ, পুনর্বাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কেন্দ্রটি তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে।

সমাজের প্রতিটি পিছিয়ে পড়া মানুষের মানবিক উন্নয়ন ও সম-অধিকার নিশ্চিত করাই আসল অগ্রগতি বলে মন্তব্য করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার তার নীতি প্রণয়ন, বাজেট এবং ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন এনে দেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী মানুষকে অন্য সকল নাগরিকের সমতুল্য অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা অনেক সময় উন্নয়ন বলতে বুঝি অনেক টাকা হওয়া কিংবা বড় বড় বিল্ডিং বানানো। কিন্তু শুধু বিল্ডিং দিয়ে তো সমাজের আসল উন্নয়ন হবে না, মানবিক উন্নয়ন হবে না।

মানুষ হিসেবে যদি আমরা উন্নত হতে চাই, তবে সমাজে যে মানুষটির সামান্য অসুবিধা বা প্রতিবন্ধিতা আছে, তার প্রতি আমাদের মমত্ববোধ থাকতে হবে। অন্যথায় কেবল ইটের দালানকোঠার উন্নয়ন হবে, সমাজের প্রকৃত রূপান্তর ঘটবে না।

সরকারকে একটি অত্যন্ত ‘মানবিক সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জন্মগতভাবে বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত শিশুরা যাতে অবহেলায় হারিয়ে না যায় এবং সমাজের মূলস্রোতে মিশে লেখাপড়া, কর্মসংস্থান ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সেজন্য রাষ্ট্র তার কাঠামোতে স্থায়ী পরিবর্তন আনছে। আগামী ৩০ জুনে পাস হতে যাওয়া নতুন জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ ও হ্রাসের জন্য সুনির্দিষ্ট ও বিশেষ অর্থনৈতিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রান্তিক পর্যায়ে প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতিমধ্যে একটি সমন্বিত প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শেষ করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো শহর, নগর কিংবা দূরবর্তী গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি বিশেষ শিশু যেন সরাসরি সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রী জানান, একই সাথে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কেবল স্বাস্থ্যসেবাই নয়, বরং শিক্ষাক্ষেত্রেও সম-অধিকার নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা যাতে অন্য সব স্বাভাবিক শিশুদের মতোই সমান মর্যাদা নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পায়, সেজন্য শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই স্কুলগুলোর পরিবেশ ও অবকাঠামো বিশেষ শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কড়াইল বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান এই কড়াইলে এসে যে ‘শিশু স্বর্গ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন, সেই মানবিক উদ্যোগটি বছরব্যাপী সচল থাকবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিয়মিত এই সিএসএফ সেন্টারে এসে প্রান্তিক শিশুদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী ও সিএসএফ সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারী আবু ঈসা মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন।

কালের আলো/এসআর/এএএন