খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতিতে ফোকাস সেনাপ্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতিতে ফোকাস সেনাপ্রধানের

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আগে দমন-পীড়নের হাতিয়ার হয়নি বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী। আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর বিষয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের একটি ঘোষণাই বদলে দেয় আন্দোলনের গতিপথ। ঐতিহাসিক এক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত হয় ছাত্র-জনতার। অনিবার্য গৃহযুদ্ধ ও রক্তবন্যার হাত থেকে রক্ষা পায় দেশ। টানা তিনদিন সরকারবিহীন দেশের দায়িত্ব নিজেদের স্কন্ধে তুলে নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে কার্যকর সহায়তার পাশাপাশি জননিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে ১৮ মাসের মধ্যেই একটি জাতীয় নির্বাচনের বন্দোবস্ত করে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী।

ক্ষমতা নয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সশস্ত্র বাহিনীর চেইন অব কমাণ্ড অটল-অনড় থাকায় চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যার মধ্যে দিয়ে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই অস্থিতিশীল-অস্থির সময় জয় করে প্রশ্নমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিতের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী প্রমাণ করেছে দেশের গণতন্ত্রের সবচেয়ে সহায়ক শক্তি তাঁরাই। দেখতে দেখতে কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। স্বাধীনতার পর আর এতো সময় কখনও ক্যান্টনমেন্টের বাইরে থাকেনি সামরিক বাহিনী। এবার তাঁরা ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানিয়েছেন, দেশ স্থিতিশীল থাকায় সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরতে শুরু করেছে। গত ১৮ মাস মাঠে দায়িত্ব পালন করেও সেনা সদস্যরা ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় যে দক্ষতা দেখিয়েছে তা সত্যিই অভূতপূর্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের যে কাজ সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা, ডিসিপ্লিন ঠিক রাখা সেগুলো আমরা শুরু করছি, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় নিজের নিশানাও পরখ করে নেন। এ সময় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কুমিল্লার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাজিম উদ দৌলা তাঁর পাশে ছিলেন।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের দায়িত্বশীলতায় দেশপ্রেমের অত্যুজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। ক’দিন আগে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিও দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুসংহত করতে জনগণের ভালোবাসায় ধন্য সশস্ত্র বাহিনীর অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচিত সরকারের বয়স তিন মাস ছুঁই ছুঁই। এই সময়টিতে পুলিশ নিজেদের গুছিয়ে তুলছে পুরোদমে। এবার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার কাণ্ডারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্থায়ী ঠিকানা ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যাবার পালা। দীর্ঘ মেয়াদে বেসামরিক দায়িত্ব সামরিক বাহিনীর উন্নত কঠোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বহি:শত্রুর আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় যুদ্ধ প্রস্তুতি ও আধুনিক সমরকৌশলের মাধ্যমে দ্রুত শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য পুরোমাত্রায় মাঠপর্যায়ের অনুশীলন ও ফরমেশন ট্রেনিং ও সামরিক পরিবেশ বা আবহের আর কোন বিকল্প নেই। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিরক্ষার এই প্রধান স্তম্ভটিকে নিজেদের স্বাভাবিক দায়িত্বে মনোযোগী হতে দিলে জাতির অস্তিত্ব ও মর্যাদাও সুসংহত হবে বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কথা বলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে এখনও ডেপ্লয়েড আছি। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে আমরা এই কাজ করে যাচ্ছি, এখনও আছি। এখন ১৬ থেকে ১৭ হাজার সারা বাংলাদেশের ৬২টি জেলায় আছে। আমরা অনেক সৈনিক আমরা উইথড্রো করেছি, বাট এখনো সম্পূর্ণ উইথড্রো হয়নি। ইনশাআল্লাহ আমরা আশা করছি যে কিছু সময়ের মধ্যে আমরা সবাই ব্যারাকে ফেরত আসতে পারবো। তারপরও দেশের প্রয়োজনে আমাদের কিছু কাজ করে যেতেই হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাদের চাইবে, মাঠে থেকে বিভিন্ন কাজ করে যাব। যেমন এখন ফিউল ডিপোগুলোতে আমাদের ডিপ্লয়মেন্ট আছে। এ রকম টাইম টু টাইম বিভিন্ন কাজে আমাদের হয়তো সরকারকে সহায়তা করতে হবে।’

সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘আমাদের যে প্রধান কাজ ক্যান্টনমেন্টে ফেরত এসে প্রশিক্ষণগুলো করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি, আমাদের নিজস্ব যে পদ্ধতি আছে, নিজস্ব ওয়ে আছে সেগুলো আস্তে আস্তে আমাদের শুরু করতে হবে। এজন্য ফায়ারিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এতদিন ফায়ারিং সেভাবে করতে পারিনি। এখন ফায়ারিং কমপ্রেশন হলো। আমি রেজাল্ট দেখলাম, দক্ষতা দেখলাম, আমি অত্যন্ত আশান্বিত যে এতদিন ফিল্ডে থাকার পরেও আমাদের ফায়ারিং সক্ষমতা কমেনি। এটা একটা ভালো লক্ষণ। আমাদের আস্তে আস্তে ট্রেনিং ইভেন্টগুলো শুরু করতে হবে। আমাদের যে কাজ সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা, ডিসিপ্লিন ঠিক রাখা সেগুলো আমরা শুরু করছি, ইনশাআল্লাহ।’

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আপন ঠিকানায় ফিরে গেলে পুলিশসহ অন্যরা নিজেদের কার্যকারিতা ও সক্ষমতা যাচাই করতে পারবে। সামরিক বাহিনী দিনের পর দিন ব্যারাকের বাইরে থেকে এই কাজটি করবে এটি প্রত্যাশাও ভূ-রাজনৈতিক জটিল সমীকরণে আত্মঘাতী। বিভিন্ন বাহানায় জাতির আস্থা-বিশ্বাস ও স্থিতিশীলতার প্রতীক এই বাহিনীকে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ব্যস্ত রাখলে জাতীয় নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা থাকে। সশস্ত্র বাহিনী সংকটময় মুহুর্ত থেকে গণতান্ত্রিক উত্তরণে পথ দেখিয়ে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে। এখন নিজেদের মূল পেশাগত দায়িত্বে ফোকাস করতে পারলেই সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরীরা নিরাপদ ও সুরক্ষিত করতে পারবে বাংলাদেশকে। পেশাগত আধুনিক প্রশিক্ষণ, কৌশলগত চিন্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের সময়োপযোগীতার মানদণ্ডে ভাবমূর্তিকেও করবে আরও উজ্জ্বল।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন ও প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় সৈনিক পিয়াল মন্ডল, ১৭ পদাতিক ডিভিশন শ্রেষ্ঠ ফায়ারার; সৈনিক তানভীর হোসেন, ১০ পদাতিক ডিভিশন দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ফায়ারার এবং সৈনিক জবা আক্তার, ২৪ পদাতিক ডিভিশন শ্রেষ্ঠ মহিলা ফায়ারার হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, চলতি বছরের ১৬ মে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সদর দপ্তরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল ফরমেশন, লজিস্টিকস্ এরিয়া, ৫টি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ সর্বমোট ১৭টি দল অংশগ্রহণ করে। এ সময় উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

এবার পাল্টা হামলা বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
এবার পাল্টা হামলা বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান 

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ রাখলে তেহরানও পালটা হামলা চালানো বন্ধ করেছে বলে জানিয়েছে ইরান।

ইরান জানিয়েছে, তারাও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ রেখেছে। খবর আল-জাজিরার।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে আলোচনায় বিশ্বাসঘাতকতা করলেও তেহরান ও ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা ১৩ রাত ধরে চলা মার্কিন বিমান হামলার পর গত শুক্রবার রাতে অভিযান স্থগিত করে পেন্টাগন।

এরপর শনিবার ও রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অবস্থান একই আছে-হামলার জবাব হামলা। হামলা বন্ধ হলে ইরানও অভিযান বন্ধ রাখবে। এ বার্তা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।’

এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির জন্য আরও সময় দিতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তার ভাষ্য, আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের অভিযানে পূর্বনির্ধারিত বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শেষ হয়ে এসেছে।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ কারণে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধের সিদ্ধান্তকে তেহরান এখনো স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না।

ওই সূত্রের দাবি, ইরানে ‘আশার চেয়ে সংশয়ই বেশি’ এবং অনেকের ধারণা, এই বিরতি কৌশলগত, প্রকৃত অর্থে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত নয়।

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নিয়মিত হামলা চালানোর কথা জানায়। পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালায়।

বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় অঞ্চলটির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, সেটি স্পষ্ট। তেহরানের একজন ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, দেশের সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। যুদ্ধ শেষও হচ্ছে না, আবার পুরোপুরি এগোচ্ছেও না। এই পরিস্থিতি খুবই ক্লান্তিকর।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

Oplus_131072

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান তার সঙ্গে ছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আজ এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, শাপলা চত্বরের এই মামলায় বর্তমানে ৯ জন আসামি গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন—সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

তদন্ত সংস্থার বরাতে প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় ১ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম

Oplus_131072

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার গহনার দাম। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পাকা) সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

এর আগে গত ২৪ জুলাই ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে তিন দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানো হলো।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রুপার গহনার দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম ৫৯ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ১১৬ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরির দাম ১১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে নতুন দামে সোনা ও রুপার গহনা বিক্রি শুরু হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে