খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার-ইভিএম

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার-ইভিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার বন্ধ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাতিল হচ্ছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল ও ইভিএম ব্যবহারের বিধান। সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে থাকছে না কোনো দলীয় প্রতীক।

এসব তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। আগামী জুনের মধ্যেই পুরো বিধি প্রণয়নের কাজ শেষ হবে এবং আগামী অক্টোবর থেকে এই নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে আশা করছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঈদের পর সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত করে আগামী জুন মাসের মধ্যেই পুরো বিধি প্রণয়নের কাজ শেষ করা হবে। আগামী অক্টোবর থেকেই এই নির্বাচন শুরু করা যাবে বলে আশা করছে কমিশন।

প্রস্তাবিত সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনে কোনও দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। বর্তমানে নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য সমর্থন হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটিও বাতিল করা হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্যান্য সব স্তরের নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে এই জামানতের পরিমাণ কত হবে তা এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি।

নতুন বিধিমালায় প্রবাসী ভোট বা পোস্টাল ভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না। পাশাপাশি ফেরারি আসামিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কোনো ব্যক্তি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

প্রথমত, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বলেন, সরকার কী চায় এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী-সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সরকারকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি। তারা কী চায়? তারা কি মারামারি-হানাহানির পথে যাবে, নাকি দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণ করবে? তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সংঘর্ষ নয়।

তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের আপসহীন মনোভাব। তিনি বলেন, ইসি নিরপেক্ষ থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও ইসির নিজস্ব কোনো শক্তি নেই; তবুও নীতি ও দৃঢ়তার জায়গা থেকে ‘হুংকার’ দিতে হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠু থাকে।

চতুর্থত, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের আচরণ। লাখ লাখ মানুষ নির্বাচনি দায়িত্বে থাকেন। প্রিজাইডিং অফিসার যদি আন্তরিকভাবে বলেন— জাল ভোট আমি করতে দেব না, বা দুই নম্বর কাজ হবে না— তাহলে তা তার সততা, ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলির ওপর নির্ভর করে।

সহিংসতাহীন নির্বাচন প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, সহিংসতা মূলত আইন-শৃঙ্খলার বিষয়। কেউ সংঘর্ষ সৃষ্টি করলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তি হবে। তবে শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগ দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়, দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, সহযোগিতা না করলে আমরা কী করব? খেলোয়াড় যদি সারাদিন ফাউল করে, রেফারি কয়টা ফাউল ধরবে?

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দুটি রাজনৈতিক জোট আচরণবিধি মেনে চলায় কেন্দ্র দখল বা ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা খুব কম হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনেও ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। তবে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভেজাল ধরা পড়লে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: বাসস
কালের আলো/এসআর/এএএন

আগামী অর্থবছরে বিড়ির দাম বাড়বে না : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
আগামী অর্থবছরে বিড়ির দাম বাড়বে না : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির মূল্য ও করহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসন-৩ এর এমপি রাশেদা বেগম হীরার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

রাশেদা বেগম হীরা প্রশ্ন করেছিলেন, তামাকের ওপর সুনির্দিষ্ট হারে কর বৃদ্ধি যেমন বিড়ির খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখিয়া ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য আরও বৃদ্ধি করিয়া অধিক সম্পূরক শুল্ক এবং সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করিবেন কিনা?

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে বিড়ি ক্ষেত্রে মূল্য এবং করহার পূর্বের বছরের ন্যায় অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ

চলছে ফিফা বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাতে চলবে ৪৮ দলের ফুটবল যুদ্ধ। আর বাকি ২ দিন। ফিফা প্রতিদিনের পরিসংখ্যানমূলক প্রতিবেদনের মাধ্যমে ক্ষণগণনা করছে।

২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা মনে আছে? সেদিন ফ্রান্স ও ইতালি মুখোমুখি হয়েছিল। ১-১ গোলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে অতিরিক্ত সময়েও স্কোর পাল্টায়নি। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ‘আলোচিত’ কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেন জিনেদিন জিদান।

ফ্রান্সের অধিনায়ক প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় মার্কো মাতেরাজ্জির উসকানিমূলক মন্তব্যে মেজাজ হারিয়ে তাকে ঢুস মারেন। ১১০ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জিদান। বাকি ১০ মিনিট তো বটেই, তার শূন্যতা টাইব্রেকারে ভালোভাবে টের পেয়েছিল ফ্রান্স। পেনাল্টি শুটআউটে হেরে হতাশায় ভাসে তারা।

যে মাথা দিয়ে গুঁতো মেরে জিদানে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হারিয়েছিলেন, সেই মাথার নৈপুণ্যে ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে ফ্রান্সকে প্রথম শিরোপা জেতান জিজু!

বিশ্বকাপ ফাইনালে হেড করে দুটি গোল করা একমাত্র খেলোয়াড় জিদান। প্রথমার্ধে কর্নার থেকে দুইবার জাল কাঁপান তিনি হেডারে। দুই প্রান্ত থেকে কর্নার কিক নিয়েছিলেন এমানুয়েল পেতিত ও ইউরি জোর্কায়েফ। ৩-০ গোলে ম্যাচটি জেতে ফরাসিরা।

স্তাদে দে ফ্রান্সে ২০ মিনিটের ব্যবধানে হেডে একাধিক গোল করেন জিদান, যা পরের তিনটি বিশ্বকাপে দলটির হেড গোলের চেয়ে বেশি। জিজুর পর পরের তিন আসরে কেবল প্যাট্রিক ভিয়েইরা হেড থেকে একমাত্র গোল করেন, ২০০৬ সালে স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে।

পায়ের ক্ষিপ্রতার কারণে বিশেষভাবে সুপরিচিত জিদান। কিন্তু হেড থেকেও গোল করতে পারদর্শী। হেড থেকে চেক রিপাবলিক, মাল্টা ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও তিনি গোল করেছিলেন। ২০০৬ সালের ফাইনালে গিগি বুফন তার একটা দুর্দান্ত হেড ঠেকিয়ে স্বস্তি ফেরান।

জিদান ছাড়া একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে একাধিক হেড গোল করেছেন পেলে, যদিও দুটি ভিন্ন আসরে: ১৯৫৮ সালে সুইডেন ও ১৯৭০ সালে ইতালির বিপক্ষে। কিন্তু এক ফাইনালে দুটি হেড গোলের কীর্তি কেবলই জিদানের।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিনা খরচে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার করবে বিটিভি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
বিনা খরচে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার করবে বিটিভি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আগামী ফুটবল বিশ্বকাপ বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিফার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় বিটিভি এবার প্রায় বিনা খরচে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করতে পারবে। মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সময়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব অর্জনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্প্রচার স্বত্ব অর্জনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ফিফা থেকে স্বত্ব কিনে নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান প্রথমদিকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা দাবি করেছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়।’

তিনি জানান, এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং এর সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে সম্পৃক্ত করা হয়। দীর্ঘ আলোচনা ও দরকষাকষির মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং নীতিমালার আলোকে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। ভ্যাট ও আয়করসহ মোট ব্যয় হবে প্রায় ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৯৩ হাজার ১২৫ টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ অর্থের প্রায় পুরোটাই টেলিযোগাযোগ কোম্পানি, স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাছে বিজ্ঞাপন ও সম্প্রচার অধিকার বিক্রির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বিটিভির নিজস্ব আর্থিক দায় থাকবে না।’

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনকল্যাণমুখী সেবায় নিয়োজিত রাখা। এ উদ্যোগ তারই একটি উদাহরণ।’

তিনি দেশের ফুটবলপ্রেমীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘সকল জটিলতা কাটিয়ে দেশের কোটি কোটি দর্শক এবার বিটিভির মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা উপভোগ করতে পারবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকসহ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ