দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে রামিসার বাবা নিজেও অত্যন্ত আশ্বস্ত এবং কৃতজ্ঞ। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে রামিসা দর্শন হত্যাকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। যেদিন প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনমন্ত্রী রামিজ স্যার বাসায় গেলেন। সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেয়া হলো। এই স্লোগানটি কারা দিলেন। সাধারণ জনগণ । মোটেও না। বরং প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইন মন্ত্রী রামেশ্বর বাসায় যাওয়ায় সাধারণ মানুষ খুবই সন্তুষ্ট এবং প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের মানবিক আচরণে পুরা দেশের মানুষ অত্যন্ত আশ্বস্ত বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। যখন আইনমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী একযোগে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। আসামীকে নজিরবিহীন দ্রুততম সময় গ্রেফতার করা হয়েছে। তখন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোক বিশেষ করে নাটক সিনেমার কিছু লোক এবং পতিত প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর লোকজন বিষয়টিকে ঘিরে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছে।
বিষয়টা যেন এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি জেগে উঠেছে। রামই শহর তারপর সম্ভবত বাংলাদেশে আমি প্রথম সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি। এ নিয়ে আমি একাধিক আর্টিকেল লিখেছি। আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আর্টিকেল শেয়ার করেছি। পরে যখন প্রধানমন্ত্রী রামেশ্বর বাসায় ছুটে গেলেন সেটা নিয়ে আমি আর্টিকেল লিখেছি। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে রামিশা ধর্ষণ ও হত্যার পর যারা চুপচাপ বসে ছিলেন কোন প্রতিক্রিয়া জানাননি। প্রধানমন্ত্রী রামিশার বাসায় যাওয়ার পর তারা হঠাৎ করে মানবতাবাদী হয়ে উঠলেন তারা সোচ্চার হয়ে উঠলেন তারা রাস্তায় নামলেন। কারণটা কি?
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এটা আমার মুখের কথা নয়। সরকারি পরিসংখ্যান দেখলেই সেটা বোঝা যায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে সেই তুলনা চোখে পড়ছে না। বরং সত্যনির্বাচিত সরকারি জানো ধর্ষণ এবং নারীর নির্যাতনে সহায়তা করছে এরকম একটা আবহাওয়া তৈরি চেষ্টা চলছে। হ্যাঁ এটা স্বীকার করতেই হবে যে যে কোন সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে যেকোনো ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সেটা ধর্ষণ হোক কিংবা অন্য কোন অপরাধ। কিন্তু আমাকে এটাও স্বীকার করতে হবে যে বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার যে ষড়যন্ত্র সেটার অস্তিত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মতো একটি পতিত শক্তি এই সরকারকে স্বস্তিতে পাঁচ বছর দেশ চালাতে দেবে এটা মনে করার কোন কারণ নেই। ফলে তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করবে গুজব ছড়াবে। তারা যে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে পাচার করেছে। সেই পাচারকৃত অর্থের সামান্য একটি অংশ খরচ করলেও এই সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সত্যিই অত্যন্ত কঠিন কাজ হবে। কারণ অর্থের একটা বিশাল শক্তি আছে। এবং এই শক্তি পৃথিবীর সব সমাজেই ক্রিয়াশীল হয়। এখানে স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইউনিসেফ একটি বিবৃতি প্রদান করেছে।
যেখানে তারা গভীর উদ্বেগ ও খুব প্রকাশ করেছে। অথচ শেখ হাসিনার আমলে এর চেয়ে বেশি মাত্রায় শিশু ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনে ঘটনা ঘটলেও। ইউনিসেফ কিংবা জাতিসংঘ কিংবা অন্য কোন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে এতটা কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখা যায়নি।
একদিকে অর্থনৈতিক সংকট একদিকে হামের মত একটি প্রায় নিয়ন্ত্রিত রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রাত দিন পরিশ্রম করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যে জঞ্জাল পূর্ববর্তী সরকার সৃষ্টি করে গেছে তা এখন মোকাবেলা করতে হচ্ছে বিএনপি সরকারকে।
এরকম একটি প্রেক্ষাপটে সরকার যখন তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিতে চাইছে তখন সেই প্রতিক্রিয়াশীল পতিত শক্তি যেকোন মূল্যে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।
এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো বিএনপি সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য ডক্টর ইউনুস এর নেতৃত্বাধীন সরকার একটি প্লট সাজিয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। যিনি শান্তিতে নোবেল জয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস সারা বিশ্ব যাকে এক নামে চেনেন। জাতিসংঘ ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা পৃথিবীর নামকরা সকল সংস্থা ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসকে যথেষ্ট সম্মানের চোখে দেখেন। তো সেই ব্যক্তিটি যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন তিনি মিউনিসিপ এর কথা কেন শুনলেন না। অর্থাৎ হামে টিকা ক্রয়ের ব্যাপারে ইউনিসেফ একবার দুইবার নয় অনেকবার চিঠি দিয়েছেন সতর্ক করেছেন। ডঃ মোঃ ইউনূস কিংবা তার সরকার সেটা কেন আমলে নেননি। এটা কি শুধুই অবহেলা নাকি পরিকল্পিত কোন ষড়যন্ত্র। অর্থাৎ বিএনপি সরকার যাতে কোনোভাবে সফল হতে না পারে সেই ব্যবস্থাই পাকাপোক্ত করে গেছে ডঃ মুহাম্মদ ইউনু সরকার। এবং ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূস এর প্রত্যক্ষ মদদে গঠিত এনসিপি এবং তাদের নেতাকর্মীদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বক্তৃতা বিবৃতি তাদের সামগ্রিক কর্মকান্ড টিকে তাকালে এ বিষয়টি খুবই পরিষ্কার যে এটা অন্তর্বর্তী সরকারের সুপরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র।
সবচেয়ে বড় কথা হল এনসিপির নেতারা যারা কদিন আগেও ডাল ভাত খাওয়ার জন্য হিমশিম খেতে হয়েছে ক্যাম্পাসে তারা এখন ৮২ জীবন যাপন করছেন। প্রায় সবাই কোটিপতি বনে গেছেন। কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাজনৈতিক দল পরিচালনা করছেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো বিএনপি আওয়ামী লীগ জন্মের পর অনেক বছর সময় লেগেছে একটি ভাল অফিস মেইনটেইন করতে। অর্থাৎ একটি অফিসের ভাড়া খরচ বহন করার তাদের মত বড় দলের পক্ষেও অত সহজ ছিল না। কিন্তু এমসিপি ছাত্রদের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক দলের যে কার্যালয় বাংলা মটরে। সেটার যে চাকচিক্য সেটার যে ভাড়ার পরিমাণ। লক্ষ লক্ষ টাকা ভাড়ার টাকা তারা কোথা থেকে পান। তাদের এই টাকার খনি আলাদিনের চেরাগ তারা কোথায় পেলেন। আগে জাতিকে এই বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে। শুধু মুখে সুন্দর সুন্দর কথা বললেই তো চলবে না। মানুষ এখন আর বোকা নয় মানুষ সবকিছু দেখে শুনে এবং বুঝে।
এনসিপি কার্যত বিপথগামী একটি দল। তারা সেই পরাজিত পতিত শক্তির সঙ্গে গোপনে আঘাত করে বিএনপি’র বিরুদ্ধে এক যুগে ষড়যন্ত্র করছে। এবং ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস পেছন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সম্পাদক, আমার দিন।
আপনার মতামত লিখুন
Array