খুঁজুন
                               
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় ধরনের সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কনটেন্ট নির্মাতা ও চিত্ত মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জুয়েল রানার সঙ্গে এক দীর্ঘ সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি জানিয়েছেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ওপর সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট আরোপের যে আলোচনা বা শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই। বরং যারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে নিয়ে আসছেন, তাদের জন্য রাষ্ট্রের আরও সহায়ক ভূমিকা থাকা উচিত বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকালে এমন কথা জানিয়েছেন জুয়েল রানা। তিনি বলেন, পুরো সাক্ষাৎকারটি ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। সেখানে রাজনীতির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে দেশের মানুষ, প্রকৃতি, সংস্কৃতি, মানবিকতা এবং তরুণদের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। সাক্ষাতের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জুয়েল রানার কনটেন্ট দেখে আসছেন। বিশেষ করে গ্রামবাংলার প্রকৃতি, নদী, মাঠ, মেঠোপথ, কৃষিজীবন এবং মানুষের সহজ-সরল জীবনযাপনকে তুলে ধরার বিষয়টি তার ভালো লাগে।

জুয়েল রানা জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন, ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে তিনি প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ পেয়েছেন এবং এখনো প্রকৃতির প্রতি তার আলাদা টান রয়েছে। ব্যস্ত রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মধ্যেও সময় পেলেই তিনি প্রকৃতিনির্ভর বিভিন্ন কনটেন্ট দেখেন। গ্রামবাংলার সৌন্দর্য, ঋতু পরিবর্তনের দৃশ্য, মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, তা তাকে আকৃষ্ট করে। শুধু দৃশ্য নয়, কনটেন্টে সাহিত্য, কবিতা বা বিভিন্ন উদ্ধৃতির ব্যবহারও তার কাছে ভালো লাগে।

আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জুয়েল রানার কাছে জানতে চান, রাষ্ট্রের জন্য তার কোনো পরামর্শ আছে কি না। জবাবে জুয়েল রানা বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে আত্মিক ও মানবিক পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কোনো দুর্ঘটনা বা বিপদে মানুষ সাহায্যের হাত বাড়ানোর আগে মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও ধারণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অথচ একজন বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত প্রথম কাজ। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো শিশু যদি লিচু গাছ থেকে কয়েকটি লিচু পাড়ে, তাহলে তাকে মারধর করার পরিবর্তে ভালোবাসা দিয়ে বোঝানো উচিত। একইভাবে প্রাণী, প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি সহমর্মিতা বাড়াতে হবে। রাষ্ট্র তখনই এগিয়ে যাবে, যখন মানুষের মন ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন সময়ের কিছু ঘটনা আমাকে ব্যথিত করে। কোনো অসহায় মানুষ যখন কষ্টে থাকে, তখন অনেকেই তা ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু সহানুভূতির জায়গা থেকে এগিয়ে আসেন না। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথাই আমি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন। তার মতে, দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মনন, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তবে পুরো সাক্ষাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ওপর প্রস্তাবিত সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাটের বিষয়টি। জুয়েল রানা জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি জানতে চান, এ বিষয়ে যে আলোচনা চলছে তা কতটুকু সত্য। কারণ দেশের হাজার হাজার তরুণ বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও নির্মাণ এবং বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক পেশার মাধ্যমে আয় করছেন। অনেকেই বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনছেন। এমন একটি খাতে অতিরিক্ত কর বা ভ্যাট আরোপ করা হলে তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।

জুয়েল রানা বলেন, বিষয়টি উত্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ডাকেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে বলেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে তরুণদের কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় ক্ষেত্র এখন ডিজিটাল অর্থনীতি। ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা শুধু নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করছেন না, তারা দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছেন। যারা বিদেশ থেকে আয় এনে দেশের ভেতরে ব্যয় করছেন, তাদের নিরুৎসাহিত করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত হবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, আপনারা নিশ্চিন্তে কাজ করুন। ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা দেশের সম্পদ। তারা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। তাদের জন্য অযৌক্তিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন এবং তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সুযোগ নেই।

আলোচনায় জুয়েল রানা আরও উল্লেখ করেন, ফ্রিল্যান্সাররা কোনোভাবেই দেশের অর্থ পাচার করছেন না; বরং উল্টো বিদেশ থেকে আয় এনে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরলে তিনি একমত পোষণ করেন এবং বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশে সরকার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে চায়।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী জুয়েল রানাকে তার বর্তমান কাজ চালিয়ে যাওয়ারও অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, প্রকৃতি, গ্রামবাংলা এবং মানুষের জীবনকে তুলে ধরার কাজ কখনো বন্ধ করা উচিত নয়। কারণ এসব কনটেন্ট মানুষকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং দেশের প্রকৃত সৌন্দর্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে। পাশাপাশি শিল্প ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে কনটেন্টকে আরও সমৃদ্ধ করার পরামর্শও দেন তিনি।

জুয়েল রানা জানান, আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রের কাছে কী চান। জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য যা ভালো হবে, সেটিই তার জন্য যথেষ্ট। তিনি কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা চান না। দেশের সব মানুষ ভালো থাকলে তিনিও ভালো থাকবেন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশের সম্পদ রক্ষা করা, মানুষকে বিভ্রান্ত না করা এবং দায়িত্বশীল আচরণ করাই তার লক্ষ্য।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্ত তরুণদের মধ্যে নতুন আশাবাদ সৃষ্টি করবে বলে তিনি মনে করেন তিনি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

ভাতা বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক শিক্ষানবিশকাল বাতিল ও বিসিএসে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। সারাদেশে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়।

রোববার সকাল  সোয়া ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ’-এর ব্যানারে কর্মবিরতি শুরু করেন ২২০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না পাওয়ায় তারা এবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মাসিক ভাতা বৃদ্ধি করে ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষানবিশকাল (ইন্টার্নশিপ) বাতিল করা এবং বিসিএস চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছরে উন্নীত করা। এছাড়া তাদের ঘোষিত ৬ দফা দাবির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

এদিকে কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় যেন কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসাসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের ওপর কাজের চাপ বেড়েছে।

উল্লেখ্য, ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয় ‘ইন্টার্ন চিকিৎসক ফোরাম’। এরপর থেকেই চূড়ান্ত আন্দোলনে নামেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

আদ্-দ্বীনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির, বললেন ‘আমি মধ্যস্থতাকারী’!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
আদ্-দ্বীনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির, বললেন ‘আমি মধ্যস্থতাকারী’!

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে মর্মে কর্তৃপক্ষকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো মন্ত্রণালয়কে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আজ বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শিশির মনির নিজেকে ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যকার একজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আজীবন তাদের দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পরিবারের কোনো সদস্য বাবা, মা, ভাই, বোন কিংবা সন্তান যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন তারা ওষুধ ছাড়া সব রোগের জন্য বিনামূল্যে এখানে চিকিৎসা পাবেন।

একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আদ্-দ্বীন পরিচালিত যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন।

তবে আদ্-দ্বীন পরিচালিত মেডিকেল কলেজ বা অধিক ব্যয়বহুল পেশাগত শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বিশেষ বৃত্তি, উল্লেখযোগ্য টিউশন ফি মওকুফ অথবা আর্থিক সহায়তার বিষয়টি সহানুভূতির ভিত্তিতে পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে।

এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের উপযুক্ত কোনো সদস্য আগ্রহী হলে হাসপাতালের যোগ্যতাসম্পন্ন পদে চাকরির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ও সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং কারণ দর্শানো প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গত বৃহস্পতিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তার জবাব আগামীকাল (রোববার) বিকেল ৫টার মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।

তবে নোটিশে ‘জবাব সন্তোষজনক না হলে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না’ বলা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করতে হবে। তার মতে, এ ধরনের নোটিশ সম্পূর্ণ ‘আন ল ফুল’ তথা বেআইনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের সারমর্ম নিয়ে শিশির মনির বলেন, শিশুদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ওই ওয়ার্ডে অক্সিজেনের মাত্রা কত ছিল এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত ছিল, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রতিবেদনে নেই। একইভাবে কতটুকু অক্সিজেন থাকলে শিশুদের মৃত্যু ঘটত না, সে বিষয়েও কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এ বিষয়ে কিছু অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে মৃত্যুর ঘটনা, গণমাধ্যমকর্মীদের হেনস্তা এবং বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে শিশির মনির প্রথমে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে সাংবাদিকদের চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও এক ভুক্তভোগী পরিবারকে কথা বলার সুযোগ দেন।

আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুরের কাছে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। তবে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে বিবেচনায় নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। এছাড়া ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন পরিবেশকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ সময় মারা যাওয়া এক শিশুর বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা চাই প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হোক। তবে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হোক, তা আমরা চাই না। এর আগেও আমার দুই সন্তানের জন্ম এই হাসপাতালে হয়েছে এবং তারা সুস্থ ছিল। আমাদের সন্তানদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এজন্য আমরা মামলা চালিয়ে যাব।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সম্ভবত ছোট কক্ষে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। প্রয়োজনীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়।

প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী রোববারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইনের আওতায় যতটা কঠোর হওয়া সম্ভব, আমরা ততটাই হব। এবার আর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঈদযাত্রায় সড়ক-রেল-নৌপথে নিহত ৪৩৮

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় সড়ক-রেল-নৌপথে নিহত ৪৩৮

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো ও কর্মস্থলে ফেরা মানুষের যাতায়াতকে কেন্দ্র করে গত ১৫ দিনে সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং এক হাজার ৩৪০ জন আহত হয়েছেন। এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন। সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদকে কেন্দ্র করে সারাদেশে মোট ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং এক হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হন। এ ছাড়া নৌপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৮ জন।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর দুই ঈদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। তাই কেবল ঈদকেন্দ্রিক স্বল্পমেয়াদি তৎপরতা নয়, মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। গণপরিবহন ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, মহাসড়ক থেকে ধীরে ধীরে ছোট যানবাহন অপসারণ, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন উচ্ছেদের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে আন্তর্জাতিক মানের ‘স্টার’ সড়ক নিরাপত্তা করিডোর গড়ে তোলার দাবি জানাই।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কিছু পরিবহন মালিক আয়ুষ্কাল শেষ হওয়া এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন প্রয়োজনীয় মেরামত ছাড়াই সড়কে নামিয়েছেন। এর ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদ, খাল বা রাস্তার পাশে পড়ে যাওয়ার ঘটনা এবারের ঈদে তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

সংগঠনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক, বিদ্যমান অবকাঠামোগত ত্রুটি এবং চালকদের আইন অমান্যের প্রবণতা দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চালক সংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একজন চালকের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পরিচালিত হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে কর্মস্থলে ফেরার শেষ দিন ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও এক হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত এবং এক হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছিলেন। সেই হিসাবে এ বছর সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত এবং ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

এ সময়ে নিহত ও আহতদের মধ্যে ৮০ জন চালক, ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তিনজন শিক্ষক, একজন চিকিৎসক, তিনজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং চারজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ কার ও মাইক্রোবাস, ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ নছিমন-করিমন এবং ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়ির চাপা বা ধাক্কায়, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার কারণে, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ ট্রেন ও যানবাহনের সংঘর্ষে এবং ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোট দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক সড়ক ও মহানগর এলাকায়, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে এবং ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনার পেছনে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, সড়ক চিহ্ন ও মার্কিংয়ের অভাব, মিডিয়ান না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, উল্টো পথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, বিরামহীন ড্রাইভিং এবং বৃষ্টিজনিত সড়ক ক্ষতিকে দায়ী করেছে।

এসব সমস্যা সমাধানে সংগঠনটি ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, চালকদের প্রশিক্ষণ উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, রোড সাইন ও মার্কিং স্থাপন, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ, নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা, ফিটনেস ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন অপসারণ এবং পরিবহন খাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধের সুপারিশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাস, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দফতর সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বিটু এবং মনজুর হোসেন ইসা।

কালের আলো/এসআর/এএএন