খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সুপার এল নিনো’ নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুন সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
সুপার এল নিনো’ নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুন সতর্কতা

আবহাওয়ার বিশেষ অবস্থা ‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে নতুন সতর্কতা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলেছেন, এ মুহূর্তে বিশ্বব্যাপী এল নিনোর তাণ্ডব চালানোর সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত কয়েক বছর ধরে রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু এল নিনো যদি সক্রিয় হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

সুপার এল নিনোর কারণে বিশ্বের অনেক দেশ তীব্র দাবদাহের কবলে পড়বে এবং অনেক দেশে হবে অস্বাভাবিক বৃষ্টি।

সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, বিজ্ঞানীরা তথ্য বিশ্লেষণ করে বলেছেন আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সুপার এল নিনো আঘাত হানবে। আর আগামী নভেম্বর পর্যন্ত এটির প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এল নিনো নিয়ে বলেছেন, “বিজ্ঞান খুবই স্পষ্ট। ৯০ শতাংশ নিশ্চিত আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আমাদের দোরগোড়ায় আসছে এল নিনো। বিশ্বকে এটিকে জরুরি আবহাওয়া সতর্কতা হিসেবে নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেছেন, “উষ্ণ বিশ্বের আগুনে আরও তেল ঢালবে এল নিনো। এটির প্রভাব হবে আরও ভয়াবহ। এল নিনো আরও সামনে এগিয়ে যাবে। সীমান্ত অতিক্রম করবে আরও বেশি ধ্বংসাত্মক গতি নিয়ে।”

“এই সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান হলো পরিস্থিতির সাথে মিল রেখে জলবায়ু সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া—যার মধ্যে রয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের রক্ষা করা এবং সবার জন্য আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থার সুবিধা নিশ্চিত করা।”— যোগ করেন গুতেরেস।

এল নিনোর সম্ভাব্য ভয়াবহতা নিয়ে এখন থেকেই সতর্ক করা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলেছেন, এটির প্রভাবে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের যোগান কমে যাওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। বিশ্ব তীব্র খড়া ও অস্বাভাবিক বন্যার কবলে পড়তে পারে।

এদিকে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে বিশ্বে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হতে পারে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে সরকারের মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অভিনন্দন জানানো হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় মন্ত্রিপরিষদের এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি শুরু হয়। বৈঠকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়।

মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ঐতিহাসিক অর্জন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গৌরব, শক্তিশালী কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং বহুপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর আস্থার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও অপারেশনাল সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করলো বিএনএফসি ‘বলীয়ান’ 

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও অপারেশনাল সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করলো বিএনএফসি ‘বলীয়ান’ 

নানা কারণে ২০০২ সালে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দেশের প্রথম ডকইয়ার্ড, নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড (ডিইডব্লিউ)। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের সবচেয়ে লাভজনক ডকইয়ার্ডগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে এটি। ভারতীয় উপমহাদেশে জাহাজ নির্মাণশিল্পের অন্যতম প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এবার ডিইডব্লিউ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মাণ করেছে ৭০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন বিএনএফসি ‘বলীয়ান’। বিএনএফসি ‘বলীয়ান’ নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও অপারেশনাল সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের (ডিইডব্লিউ) নির্মিত এই ক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘প্রতিরক্ষা শিল্পে নিজস্ব কারিগরি দক্ষতায় বাংলাদেশ বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করছে।’ তিনি বলেন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতিতে দেশীয় শিল্প গড়ে তোলার যে কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, এই ফ্লোটিং ক্রেন প্রকল্প তারই একটি সফল অংশ। ডিইডব্লিউ লিমিটেডকে একটি স্বনির্ভর শিপইয়ার্ডে রূপান্তর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

জানা যায়, প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জের বাণিজ্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ডিইডব্লিউ’র ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯২২ সালে ব্রিটিশ সরকার নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দা এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতীরে ডকইয়ার্ডটি গড়ে তোলে। শুরুতে নামকরণ হয় নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড। স্থানীয়ভাবে সোনাকান্দা ডকইয়ার্ড নামে পরিচিত। ১৯৫৬ সালে ডকইয়ার্ডটির নাম পাল্টে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার ওয়ার্কস লিমিটেড করা হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো এই ডকইয়ার্ড ২০২২ সালে শতবর্ষপূর্তি উদযাপন করে। ‘নিরাপত্তাই প্রথম’ স্লোগান নিয়ে কাজ করা ডিইডব্লিউ আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করে সব ধরনের নৌযান তৈরি করছে। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস বইয়ের তথ্যমতে, ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে কুয়েতে চারটি মালবাহী জাহাজ রপ্তানির মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে জাহাজ রপ্তানি শুরু করেছিল শতবর্ষী ডিইডব্লিউ।’

বাংলাদেশকে জাহাজ নির্মাণে স্বনির্ভর করতে  সরকার আন্তরিক

জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিদেশি নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে জাহাজ নির্মাণে স্বনির্ভর করেত সরকার আন্তরিক বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তরের (ট্রান্সফার অব টেকনোলজি) মাধ্যমে যৌথভাবে জাহাজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি দেশে উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারকে অবহিত করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নৌবাহিনীর সার্বিক অপারেশনাল ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই এই ফ্লোটিং ক্রেন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। এর সংযোজনের মাধ্যমে নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজের মেরামত, উদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

ফ্লোটিং ক্রেনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম 

নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের (ডিইডব্লিউ) এই ইয়ার্ডে ভবিষ্যতে বড় আকারের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। এটি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্য, ১৫ মিটার প্রস্থ এবং ৩ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট এই ফ্লোটিং ক্রেনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। ৭০ টন ওজন উত্তোলন ক্ষমতার এই ক্রেনটি জেটি এবং সমুদ্রে অবস্থানরত নৌবাহিনীর জাহাজসমূহের জটিল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে বৈপ্লবিক সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি এটি ভারী যন্ত্রপাতি ও নৌ-উপকরণ স্থানান্তরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করবে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৩০ জুন এই নির্মাণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্মিত এই ক্রেনটি দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। অনুষ্ঠানে ডিইডব্লিউ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়জুল হক, নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসও এবং ডিইডব্লিউ ও নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

 

আ.লীগের প্রেমে পড়েছে সরকার: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
আ.লীগের প্রেমে পড়েছে সরকার: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়েছে এবং তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। এভাবে চললে আওয়ামী লীগের যে পরিণতি হয়েছিল, এই সরকারেরও একই পরিণতি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলামোটরে দলটির কার্যালয়ে আসন্ন জাতীয় বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘সরকার ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলমের হাতে তুলে দেয়ার এজেন্ডা নিয়ে নেমেছে। তারা এখন আওয়ামী লীগের প্রেমে পড়েছে এবং তাদের ছাড় দিয়ে রেখেছে, যাতে তারা রাজনীতির অবাধ সুযোগ পায়।’

তিনি আরও বলেন, সংসদে ২০০ আসন পাওয়ার কারণে সরকার কোনো কিছুকেই গুরুত্ব দিচ্ছে না, সবকিছু নিজেদের মতো করছে। আওয়ামী লীগ যেভাবে চলত, সরকারও একই পদ্ধতিতে অগ্রসর হচ্ছে।

একই সেমিনারে অংশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘সরকার জুলাই সনদ নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে। এই প্রতারণা করে বেশি দিন টিকে থাকা যাবে না।’

অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যে পথে পরিচালিত করেছে, বিএনপি একই রাস্তায় চলছে। এই রাস্তায় চলতে থাকলে মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। সেটা কোন প্রক্রিয়ায় হবে, সেটাই এখন দেখার ব্যাপার।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ