খুঁজুন
                               
, ,
           

ট্রাকে ধাক্কা দিয়ে দুমড়েমুচড়ে গেল পিকআপ, নিহত ৪

টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাকে ধাক্কা দিয়ে দুমড়েমুচড়ে গেল পিকআপ, নিহত ৪

টাঙ্গাইলের সখীপু্রে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিয়ে দুমড়েমুচড়ে গেছে মুরগি বহন করা একটি পিকআপ। এতে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একজন। হতাহতরা পিকআপের যাত্রী ছিলেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে উপজেলার সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের কালিয়া ঘোনারচালা বাজার নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সখীপুর থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার আবুল হাকিমের ছেলে পিকআপ চালক নুর নবী (৬৪), নওগাঁর পত্নীতলার পলাশের ছেলে পিকআপ চালকের সহকারী রফিকুল (১৮), নেত্রকোনার কেন্দুয়ার এরশাদের ছেলে সাগর (২২) এবং ঢাকার মিরপুর-১ এর বাসিন্দা সেলিমের ছেলে সুজন (২৬)। আহত ব্যক্তির নাম জহিরুল ইসলাম (৪০)। তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষীণদর এলাকার আফছার আলী মন্ডলের ছেলে।

ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, ভোর চারটার দিকে উপজেলার কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাঁশবোঝাই ট্রাকে মুরগিবাহী একটি পিকআপ ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন।

ওসি আরো জানান, নিহতদের মরদেহ সখীপুর থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রধানমন্ত্রীর বাস নিয়ে পোস্টে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, গ্রেপ্তার একজন

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর বাস নিয়ে পোস্টে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, গ্রেপ্তার একজন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্নাইপার’ সংক্রান্ত মন্তব্য করার অভিযোগে মো. আবু বকর সিদ্দিক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) এডিসি মিডিয়া মো. গাজিউর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), এসআরবি ও আরএমপির যৌথ প্রচেষ্টায় আবু বকরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে একটি সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে নগরীতে প্রবেশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত বাস নিয়ে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাস ব্যবহার না করে রুয়েটের বাস ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবিও যুক্ত করা হয়।

ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে আবু বকর সিদ্দিক লেখেন, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’ মন্তব্যটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যয় ৯৮৭ কোটি টাকা, ব্যবহার কমেছে দেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যয় ৯৮৭ কোটি টাকা, ব্যবহার কমেছে দেশে

দেশে ব্যাংক কার্ডের ব্যবহার ও লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে ১০৩ শতাংশ। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এসব কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৭৭০ কোটি টাকায়। তবে দীর্ঘমেয়াদে লেনদেন বাড়লেও গত জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে দেশে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যয় কমেছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে কার্ডের সংখ্যা, লেনদেনের পরিমাণ, ব্যয়ের খাত এবং দেশি-বিদেশি কার্ডধারীদের ব্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, কার্ডের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি নগদনির্ভরতা, ডিজিটাল অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা ও সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ নগদবিহীন লেনদেনের সম্প্রসারণে চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

  • কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৯৬ শতাংশ, প্রিপেইডে প্রবৃদ্ধি ৮০৩%
  • পাঁচ বছরে কার্ড লেনদেন বেড়েছে ১০৩ শতাংশ
  • আগস্টে ক্রেডিট কার্ডের ব্যয় কমেছে ৫.৪৪ শতাংশ
  • পাঁচ বছরে কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৯৬ শতাংশ

২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেশে ইস্যু করা ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯৬ শতাংশ। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এই তিন ধরনের কার্ডের মোট সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৭২২টি। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজারে।

কার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধির হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে প্রিপেইড কার্ড। পাঁচ বছরে এ ধরনের কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০৩ শতাংশ। একই সময়ে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৬৯ শতাংশ এবং ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৫৯ শতাংশ। তবে মোট কার্ডের সংখ্যায় এখনো ডেবিট কার্ডের আধিপত্য রয়েছে।

কার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রবণতা দেশে কার্ডভিত্তিক আর্থিক সেবার বিস্তার নির্দেশ করে। তবে কার্ড ইস্যুর সংখ্যা বাড়া এবং সেগুলোর নিয়মিত ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নগদবিহীন লেনদেনের প্রকৃত অগ্রগতি মূল্যায়নে কার্ডের সংখ্যা ও লেনদেনের অর্থমূল্য—উভয় সূচকই গুরুত্বপূর্ণ।

আগস্টে ক্রেডিট কার্ডের ব্যয় কমেছে ৫.৪৪ শতাংশ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। জুলাইয়ে এ পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। ফলে এক মাসের ব্যবধানে ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন কমেছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

আগস্টে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোর বা বড় বিপণিবিতানে। এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা, যা মোট ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের প্রায় ৪৮ শতাংশ। জুলাইয়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ২ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। তবে সব খাতে ব্যয় কমেনি। খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। জুলাইয়ে এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৪৮৮ কোটি টাকা, যা আগস্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১৮ কোটি টাকায়।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন পরিষেবার বিল পরিশোধে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয় হয়েছে ৪৪২ কোটি টাকা। ওষুধ ও ফার্মেসিতে ২৮৪ কোটি, পোশাকের দোকানে ১৯৬ কোটি এবং পরিবহন খাতে ১২৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন কার্ডধারীরা। অর্থাৎ, আগস্টে ক্রেডিট কার্ডের মোট লেনদেন কমলেও কয়েকটি খাতে ব্যয় বেড়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান থেকে সামগ্রিক ব্যয় কমে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যয় ৯৮৭ কোটি টাকা
আগস্টে বাংলাদেশে ইস্যু করা ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশে ৯৮৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন বাংলাদেশিরা। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ৫০৫ কোটি, ডেবিট কার্ডে ৪২২ কোটি এবং প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মোট ব্যয়ের ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে দেশটিতে। এরপর থাইল্যান্ডে ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ভারতে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সিঙ্গাপুরে ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।

ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে ব্যয়ের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে মোট ব্যয়ের ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ হার ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং ভারতে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে, বিদেশে প্রিপেইড কার্ডে বাংলাদেশিদের মোট ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ হয়েছে ভারতে। দেশটিতে এ ধরনের কার্ডের মোট ব্যয়ের ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ হয়েছে।

বাংলাদেশে বিদেশিদের কার্ড ব্যয় বেড়েছে ৩৪.৬৬ শতাংশ
আগস্টে বিদেশে ইস্যু করা কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে ২৪৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন বিদেশিরা। জুলাইয়ে এ পরিমাণ ছিল ২৩৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক মাসে তাঁদের কার্ড ব্যয় বেড়েছে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে ব্যয় বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

তবে বাংলাদেশে বিদেশিদের কার্ড ব্যয়ের তুলনায় বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যয় প্রায় চার গুণ বেশি। আগস্টে বিদেশে বাংলাদেশিদের ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৯৮৭ কোটি টাকা, বিপরীতে বাংলাদেশে বিদেশিদের ব্যয় ছিল ২৪৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে বিদেশি কার্ডধারীদের সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে। মোট ব্যয়ের ৩৫ দশমিক ২৫ শতাংশ হয়েছে এ খাতে। নগদ অর্থ উত্তোলনে ব্যয় হয়েছে ২৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ, পরিবহন খাতে ১২ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং পোশাকের দোকানে ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।

দেশভিত্তিক হিসাবে, বাংলাদেশে বিদেশি কার্ডের মাধ্যমে মোট লেনদেনের ২১ দশমিক ২৯ শতাংশ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ইস্যু করা কার্ড ব্যবহার করে। যুক্তরাজ্যে ইস্যু করা কার্ডের অংশ ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং ভারতে ইস্যু করা কার্ডের অংশ ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

নগদনির্ভরতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্ডের ব্যবহার বাড়লেও নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা, ডিজিটাল অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, আর্থিক সাক্ষরতার ঘাটতি, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং ডিজিটাল লেনদেনের প্রতি আস্থার অভাব নগদবিহীন লেনদেনের সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করছে।

কার্ডের সংখ্যা ও লেনদেনের অর্থমূল্য বৃদ্ধি ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে শুধু কার্ডের সংখ্যা বাড়লেই নগদনির্ভরতা কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো, নিরাপদ লেনদেনব্যবস্থা এবং গ্রাহকদের আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি।

কার্ডভিত্তিক লেনদেনের সম্প্রসারণের পাশাপাশি জালিয়াতি প্রতিরোধ, গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। গত পাঁচ বছরে ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের অর্থমূল্য ১০৩ শতাংশ বৃদ্ধি দেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণের চিত্র তুলে ধরে। তবে আগস্টে ক্রেডিট কার্ডের ব্যয় হ্রাস এবং নগদনির্ভরতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ থেকে বোঝা যায়, এই অগ্রগতিকে টেকসই করতে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। নিরাপদ লেনদেনব্যবস্থা, উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো এবং গ্রাহকের আস্থা নিশ্চিত করা গেলে দেশে নগদবিহীন লেনদেনের বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এমকে

শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত চান্দিনার কৃষকরা

কুমিল্লা সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত চান্দিনার কৃষকরা

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লার চান্দিনায় আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় টমেটোসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকছেন তারা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত রয়েছেন পরিচর্যায়। তবে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাদের।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর চান্দিনায় ১ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে ৪৩ হাজার ৭৫৫ মেট্রিক টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৫৮ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে।

উপজেলার এতবারপুর, বাড়েরা, মাইজখার, চিলোড়া, এওয়াজবন্দ ও পূর্ব অম্বরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে এখন কৃষকদের কর্মব্যস্ততা। টমেটো, শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপির আবাদে বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকে জমিতে নেমে পড়ছেন পরিচর্যার কাজে।

কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। এ সময় সরবরাহ কম থাকায় চাহিদাও বেশি থাকে। ফলে উৎপাদন ভালো হলে লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে আসতে শুরু করবে এসব সবজি। তবে বাড়তি উৎপাদন খরচের কারণে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে তাদের।

বাড়েরা ইউনিয়নের চিলোড়া গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, এ বছর তিনি ২৫২ শতক জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি। তবে সার ও কীটনাশকের দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

টমেটোচাষি আবুল খায়ের বলেন, প্রতি শতকে টমেটো উৎপাদনে আনুমানিক ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। ফলন ভালো হলে প্রতি শতকের উৎপাদিত ফসল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে। তবে পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিলে লাভের পরিমাণ খুব সামান্য থাকতে পারে।

কেরণখাল ইউনিয়নের পূর্ব অম্বরপুর গ্রামের কৃষক তাজুল গাজী বলেন, ১২০ শতক জমিতে টমেটো চাষ করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ফসলের অবস্থা ভালো। গত বছরের তুলনায় এবার আগেই জমি প্রস্তুত করতে পেরেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

পূর্ব মাইজখার গ্রামের কৃষক শরীফ মোল্লা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আগাম শীতকালীন সবজি দ্রুত বাজারে আসবে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন।

চান্দিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, আগাম শীতকালীন সবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ আবাদ বাড়ছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি