খুঁজুন
                               
, ,
           

ট্রাকে ধাক্কা দিয়ে দুমড়েমুচড়ে গেল পিকআপ, নিহত ৪

টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাকে ধাক্কা দিয়ে দুমড়েমুচড়ে গেল পিকআপ, নিহত ৪

টাঙ্গাইলের সখীপু্রে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিয়ে দুমড়েমুচড়ে গেছে মুরগি বহন করা একটি পিকআপ। এতে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একজন। হতাহতরা পিকআপের যাত্রী ছিলেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে উপজেলার সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের কালিয়া ঘোনারচালা বাজার নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সখীপুর থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার আবুল হাকিমের ছেলে পিকআপ চালক নুর নবী (৬৪), নওগাঁর পত্নীতলার পলাশের ছেলে পিকআপ চালকের সহকারী রফিকুল (১৮), নেত্রকোনার কেন্দুয়ার এরশাদের ছেলে সাগর (২২) এবং ঢাকার মিরপুর-১ এর বাসিন্দা সেলিমের ছেলে সুজন (২৬)। আহত ব্যক্তির নাম জহিরুল ইসলাম (৪০)। তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষীণদর এলাকার আফছার আলী মন্ডলের ছেলে।

ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, ভোর চারটার দিকে উপজেলার কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাঁশবোঝাই ট্রাকে মুরগিবাহী একটি পিকআপ ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন।

ওসি আরো জানান, নিহতদের মরদেহ সখীপুর থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রচলিত ধানের চেয়ে কয়েক গুণ দাম, ব্ল্যাক রাইস চাষে আশাবাদী কৃষক

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০১ পূর্বাহ্ণ
প্রচলিত ধানের চেয়ে কয়েক গুণ দাম, ব্ল্যাক রাইস চাষে আশাবাদী কৃষক

দেশে প্রচলিত ধানের পাশাপাশি এবার পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ বিশেষ জাতের ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো এ ধানের আবাদ করে আশাবাদী হয়েছেন কৃষকেরা। প্রচলিত ধানের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে কালো ধান বিক্রির সম্ভাবনা থাকায় নতুন এ ফসল ঘিরে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। ফলন ও বাজারজাতকরণের সম্ভাবনা যাচাই করে এ ধানের আবাদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের উদ্যোক্তা সোহান আলী শালঘরিয়া মাঠে ১৬ কাঠা জমিতে এবং মাড়িয়া ইউনিয়নের পালি গ্রামের কৃষক আবু তালেব আড়াই বিঘা জমিতে কালো ধান চাষ করছেন। নতুন এ ধানের চাষাবাদ, ফলন ও বাজারজাতকরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

কৃষক আবু তালেব বলেন, কৃষি বিভাগের উৎসাহ ও সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো আড়াই বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কালো ধান চাষ করেছেন তিনি। ফলন ভালো হলে এবং বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া গেলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ ধানের আবাদ করবেন। নতুন জাতের ধান দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা আসছেন বলেও জানান তিনি।

প্রতি মণ কালো ধানের দাম ৪ হাজার টাকা

দুর্গাপুরের দুই কৃষকের আশা, প্রতি বিঘায় ১৬ থেকে ১৮ মণ কালো ধান উৎপাদন হবে। বর্তমানে প্রচলিত ধানের প্রতি মণের দাম প্রায় ১ হাজার ১০০ টাকা। অন্যদিকে কালো ধানের প্রতি মণ প্রায় ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

এই হিসাবে প্রতি বিঘায় ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান উৎপাদিত হলে সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য দাঁড়াবে ৬৪ থেকে ৭২ হাজার টাকা। বিভিন্ন বাণিজ্যিক কৃষি প্রতিষ্ঠান কালো ধানের চাল কেনার বিষয়ে যোগাযোগ করছে বলেও জানা গেছে। কৃষকদের দাবি, প্রচলিত ধানের মতোই এ ধান চাষে খরচ হতে পারে। তবে প্রকৃত লাভ নির্ভর করবে ফলন, উৎপাদন ব্যয়, চালের গুণগত মান ও বাজারদরের ওপর।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রচলিত কিছু জাতের ধানে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ ফলন পাওয়া যায়। অন্যদিকে কালো ধানে প্রতি বিঘায় সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ মণ ফলনের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। তবে দুর্গাপুরে পরীক্ষামূলক চাষের প্রকৃত ফলন পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

কালো চালে কী কী পুষ্টিগুণ রয়েছে?

ব্ল্যাক রাইস বা কালো চালের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর গাঢ় বেগুনি বা কালো রং। এতে অ্যান্থোসায়ানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক উপাদান থাকে। এ ছাড়া কালো চালে খাদ্যআঁশসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। জাত ও প্রক্রিয়াজাতকরণভেদে এর পুষ্টিমান ভিন্ন হতে পারে।

বিশেষ রং ও পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে কালো চালের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি হতে পারে। দেশের বিভিন্ন চেইন শপ ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে এ চালের চাহিদা বাড়ছে বলে কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে বাজারের চাহিদা ধরে রাখতে মানসম্মত উৎপাদন, সঠিক সংরক্ষণ এবং কার্যকর বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আবাদ সম্প্রসারণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাহানা পারভীন লাবণী বলেন, উপজেলায় প্রথমবারের মতো কালো ধানের চাষ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও তদারকি করা হচ্ছে। ফলন, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজার সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে এ ধানের আবাদ সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কালো ধান চাষের খরচ প্রচলিত ধানের মতোই। দেশের চেইন শপ ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে কালো চালের চাহিদা এ ধানের আবাদ সম্প্রসারণে আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা তৈরি করছে। এর ফলে কৃষকেরা লাভবান হতে পারেন।

কৃষি খাতে নতুন ফসলের সংযোজন হিসেবে দুর্গাপুরে কালো ধানের পরীক্ষামূলক আবাদ সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে। তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দিতে প্রয়োজন হবে সন্তোষজনক ফলন, লাভজনক বাজারদর এবং নিয়মিত ক্রেতা নিশ্চিত করা। পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য এলে রাজশাহীর কৃষিতে নতুন বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে ব্ল্যাক রাইস।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের খবরে শোক, তবু মেয়ের ফেরার আশায় সুইটির মা

টাংগাইল সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের খবরে শোক, তবু মেয়ের ফেরার আশায় সুইটির মা

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সুইটি আক্তারের পরিবার। মেয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শুনে শোকে ভেঙে পড়েছেন তাঁর বাবা-মা। তবে নানা তথ্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের কারণে এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না, সত্যিই তাঁদের মেয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে কি না। একদিকে মেয়েকে হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে সঠিক তথ্য না পাওয়ার অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটছে পরিবারটির।

সুইটির বাবা ফজল মিয়া জানান, গত ১৩ অক্টোবরও সৌদি আরবে কারাবন্দি মেয়ের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছিল। তখন মেয়ে বিচার বা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে কিছু জানাননি। ফলে এমন পরিণতির খবর তাঁদের কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।

গত ১৫ অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যমে আগের দিন দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয় নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার হিসেবে। তবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে তাঁদের পরিচয় সুইটি আক্তার ও নজরুল ইসলাম বলে জানা যায়।

সুইটির বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে। অন্যদিকে নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। দুজনই সৌদি আরবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। পরে গ্রেপ্তার হয়ে দেশটির কারাগারে বন্দি ছিলেন।

সুইটির বাবা ফজল মিয়া বলেন, ‘গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুইটির সঙ্গে কথা হয়। তবে বিচার বা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সে কিছু বলেনি। আমাদের জিজ্ঞেস করেছে, আমরা কেমন আছি। এর বাইরে টুকটাক আলাপ হয়েছে। আমরা তার কথা থেকে বুঝতে পারিনি যে এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, এ খবরও আমরা জানতাম না।’

এদিকে সুইটি ও নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের পরিচয় ও সৌদি আরবে যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে নানা তথ্য ছড়ায়। কেউ কেউ দাবি করেন, তাঁরা ওমরাহ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও প্রথমে একজন প্রবাসী কর্মী ও অন্যজন ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুজনই প্রবাসী কর্মী ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে সুইটির ছবি বলে প্রচার করা হলেও তাঁর পরিবার জানিয়েছে, ছবিটি তাঁদের মেয়ের নয়। এসব পরস্পরবিরোধী তথ্য তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারও এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বাংলাদেশ সরকার। জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তির পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং শাস্তি কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে অবহিত না করার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

মেয়ে এখনো বেঁচে থাকতে পারে—এ আশাতেই রয়েছেন সুইটির মা জোহরা বেগম। তিনি বলেন, ‘আজ জানতে পারলাম, আমার মেয়েকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমরা দিশেহারা। সরকারের কাছে আমার মেয়েকে বাঁচানোর আকুল আবেদন জানাই।’

সুইটির বাবা ফজল মিয়া বলেন, যদি তাঁর মেয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে থাকে, তাহলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।

সরকারি নথি অনুযায়ী, সুইটির জন্ম ২০০১ সালের ১১ আগস্ট। ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘এস রানা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়ার বহির্গমন ছাড়পত্র পান তিনি। দেশটিতে তাঁর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ‘আল মাজাল আল আরাবি গ্রুপ কোম্পানি’।

স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর পরিবারের সহায়তায় শ্রমিক হিসেবে সৌদি আরবে পাড়ি জমান সুইটি। তাঁর মা জানান, স্বামী আরেকটি বিয়ে করায় মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তাঁরা। পরে সুইটি আর সংসার করতে চাননি। একপর্যায়ে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।

জোহরা বেগম বলেন, প্রথম দিকে মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক মাস আগে সুইটির এক বান্ধবীর মাধ্যমে জানতে পারেন, তাঁর মেয়ে এক বছর ধরে সৌদি আরবের কারাগারে রয়েছেন।

সুইটির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন তাঁর গ্রামবাসীও। মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও স্পর্শকাতর। সুইটির পরিবার যেন সঠিক তথ্য পায় এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা পায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সুইটিকে দেশে ফিরিয়ে আনা কিংবা তাঁর সাজা পুনর্বিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সুইটি ও নজরুলকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও রাজকীয় আদেশের পর ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের এ সাজা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় ছয় মাসের মাথায় গ্রেপ্তার হন সুইটি। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে যান। তাঁর গ্রেপ্তারের খবরও প্রায় ছয় মাসের মধ্যে পরিবারের কাছে পৌঁছায়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পরও পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি সুইটির পরিবারের। এখন তাঁদের একটাই প্রত্যাশা—সরকার দ্রুত সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ছোট ঘরে মাশরুম চাষ, বদলে গেছে আব্দুল মোমিনের জীবন

বগুড়া সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ পূর্বাহ্ণ
ছোট ঘরে মাশরুম চাষ, বদলে গেছে আব্দুল মোমিনের জীবন

পড়াশোনা শেষ করে কী করবেন, তা নিয়ে একসময় দুশ্চিন্তায় ছিলেন বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার শালিখা গ্রামের আব্দুল মোমিন। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অল্প পুঁজিতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাত্র ১২ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেন মাশরুম চাষ। সময়ের সঙ্গে তাঁর সেই ছোট উদ্যোগ এখন বড় খামারে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে খামারে রয়েছে ১২ হাজারের বেশি মাশরুমের স্পন প্যাকেট। প্রতিদিন বিক্রি করছেন ৩০ থেকে ৪০ কেজি মাশরুম।

মোমিনের এই সাফল্য স্থানীয় তরুণদের মধ্যেও মাশরুম চাষে আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর খামার দেখতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন উৎসাহী মানুষ। এখন তাজা মাশরুম বিক্রির পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি করে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন তিনি।

মোমিন স্থানীয় শালিখা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর বয়রা টেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে এইচএসসি পাস করার পর চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। স্কুলজীবনে পাঠ্যবইয়ে মাশরুমের ছবি দেখে এ বিষয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগিয়ে যান তিনি।

২০২২ সালের নভেম্বরে মাগুরার গ্রিন মাশরুম সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নেন মোমিন। প্রশিক্ষণ শেষে ঢাকার সাভার থেকে প্রায় ১২ হাজার টাকার মাশরুমের বীজ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনেন। বাড়ির একটি ছোট ঘরে সীমিত পরিসরে শুরু করেন চাষ। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও উৎপাদন বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালে মামা আতাউর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে খামার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন তিনি।

মোমিন জানান, মাশরুম চাষ করে বর্তমানে সব খরচ বাদ দিয়ে ভালো আয় করতে পারছেন। একটি স্পন প্যাকেট থেকে ২৫ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। দুই কেজির একটি স্পন প্যাকেট থেকে এক দফায় ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম মাশরুম উৎপাদিত হয়। বর্তমানে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ কেজি মাশরুম বিক্রি করছেন তিনি। প্রতি কেজি মাশরুম বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। অবিক্রীত মাশরুম রোদে শুকিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করেন।

বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ১২ হাজারের বেশি স্পন প্যাকেট। এসব প্যাকেট থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার কেজি মাশরুম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তিনি।

তবে শুধু তাজা মাশরুম বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না মোমিন। মাশরুম দিয়ে আচার তৈরি এবং শুকিয়ে গুঁড়া উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এতে পণ্য সংরক্ষণের সময় বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

মোমিন বলেন, ‘আচার আমাদের সবার পছন্দ। মাশরুম দিয়ে আচার তৈরি করতে চাই। পাশাপাশি মাশরুম শুকিয়ে গুঁড়া তৈরির কাজও শুরু করার ইচ্ছা আছে। সরকারি সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে খামারের পরিধি আরও বাড়াতে পারব। আমার লক্ষ্য, এ চাষের মাধ্যমে আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।’

মাশরুম পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি খাদ্য। এতে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। পুষ্টিকর এই খাদ্যের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, মাশরুম খামারে ঋতু ও পরিবেশের উপযোগী বিভিন্ন ধরনের মাশরুম চাষ করা যায়। মোমিনের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ দেখে স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুবকদের মধ্যেও এ চাষে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব না হলেও চাষিদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মাশরুমের উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে এ খাত গ্রামীণ তরুণদের স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ তৈরি করতে পারে। মাত্র ১২ হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে মোমিনের শুরু করা উদ্যোগ এখন সেই সম্ভাবনারই একটি উদাহরণ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি