খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ইপিআই কর্মসূচির জন্য ৪১২ কোটি টাকার টিকা কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ইপিআই কর্মসূচির জন্য ৪১২ কোটি টাকার টিকা কিনবে সরকার

জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৬তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে এসব টিকা সংগ্রহ করা হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) একই সঙ্গে ক্রয়কারী সংস্থা ও সরবরাহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

কর্মকর্তারা বলেন, সময়মতো টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এ ক্রয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।

কর্মকর্তারা জানান, শিশুদের সংক্রামক ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে ইপিআই দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি হিসেবে কাজ করছে। টিকার নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় সেই শিবির নেতাকে বহিষ্কার

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় সেই শিবির নেতাকে বহিষ্কার

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধানকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১৩ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

ওই পোস্টে ফরহাদ বলেন, গতরাতে পুলিশ জিসানকে উদ্ধার করার পর থেকে শনিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধি দল কিংবা জিসানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়নি প্রশাসন। এখনও জিসান পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। ফলে নিখোঁজ সংক্রান্ত তার বিস্তারিত বক্তব্য জানবার সুযোগ আমরা পাইনি। ফলশ্রুতিতে, নিখোঁজ কিংবা অপহরণ সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া দ্বিতীয় কোনো সোর্স এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই।

তিনি বলেন, জিসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী বিধবা নারী লিজা আক্তারের বড় বোন জানিয়েছেন, গতকাল বিকালে ১৫-২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের লোক তাদের বাড়ি থেকে লিজাকে নিয়ে যায়। এসময় পরিবারের অন্য সদস্যদের তার সঙ্গে যেতে দেয়া হয়নি। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, লিজা ও তার বাবাকে এখনও পুলিশের জিম্মায় আইসোলেটেড অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। লিজার বড় বোন সাবিকুন্নাহার জানান, বাড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় থেকে শুরু করে থানায় নেয়া, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এবং বর্তমান পরিস্থিতি—কোনো বিষয় সম্পর্কেই তিনি বিস্তারিত অবগত নন। কারণ, তিনি বা তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের জিম্মায় থাকা তার বোন লিজা ও তার বাবার সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করতে পারেনি। তবে, তিনি জিসান এবং লিজার প্রেমের সম্পর্কের ব্যাপারে আগে থেকেই অবগত বলে জানিয়েছেন।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় এখন পর্যন্ত আমরা নিখোঁজ ঘটনার প্রকৃত রহস্য বা বাস্তবতা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হইনি। তবে প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরণের অপরাধ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন মর্মে পরদিন দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদ। পরে পুলিশ জানায়, মূলত বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ, পরবর্তীতে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত (ভ্রূণ হত্যা) করানো এবং ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান জিসান। এদিকে উদ্ধার হওয়ার পর জিসানের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি থানায় ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জনগণের বয়ানেই নির্ধারিত হয় বাংলাদেশের গতিপ্রবাহ: তথ্য মন্ত্রী 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
জনগণের বয়ানেই নির্ধারিত হয় বাংলাদেশের গতিপ্রবাহ: তথ্য মন্ত্রী 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার গতিপ্রবাহ নির্ধারিত হয় এ দেশের জনগণের বয়ানে; কোনো পরগাছা, ধার করা বা কৃত্রিম বয়ানে নয়। জনগণের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, ইতিহাস ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মিত হবে। জনগণের তৈরি করা বয়ানই সকল কৃত্রিম বয়ানকে ভেঙে দেবে এবং গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করবে।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘আমরা বাংলাদেশি’ আয়োজিত ‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী শক্তি নিজেদের রাজনৈতিক প্রয়োজনেই বাংলাদেশের রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে বিভক্ত ও মেরুকরণ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জনগণের শক্তি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সত্য ইতিহাসের প্রবাহ সেই কৃত্রিম বয়ানকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, ইতিহাসের বাস্তবতা যখন স্পষ্টভাবে সামনে আসে, তখন ইতিহাস বিকৃতকারীরা টিকে থাকতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস যেখানে সঠিকভাবে কথা বলে সেখানে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নিজস্ব ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা গড়ে তুলেছে। এ দেশের মানুষকে তাদের পরিচয়ের বৈধতা প্রতিষ্ঠার জন্য সীমান্তের ওপারে গিয়ে কারও কাছ থেকে সনদ নিতে হয় না। বাংলাদেশের স্বকীয়তা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এ দেশের ইতিহাস ও বাস্তবতার মধ্যেই প্রোথিত।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের স্বতন্ত্র পরিচয়কে রাজনৈতিক দর্শনে রূপ দিয়েছিলেন। ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জাতীয়তাবাদ আজও বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম ভিত্তি।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই হতে হবে সকল নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু। আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সার্ক এবং বৈশ্বিক পরিসরে জাতিসংঘের কাঠামোর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ তার মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারে। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ২২০ কোটিরও বেশি মানুষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সার্ককে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিএনপি নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান।

উপস্থিত বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চান বিরোধী দলীয় নেতা

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চান বিরোধী দলীয় নেতা

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর একটি বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গতকাল বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার পৌঁছানোর পর তার একটি বক্তব্য তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেখানে ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে সরকারের উচিত তার কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেওয়া।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভারত যেমন একটি স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশও তেমনি একটি স্বাধীন দেশ। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে অবশ্যই বিভ্রান্তি তৈরি হবে।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের সরকারের কাছে এ বিষয়টির সুরাহা চাই। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।

ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন এবং এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ও ব্যাখ্যা কামনা করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ