খুঁজুন
                               
, ,
           

বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ

চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) ৫ম সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য ও চীনের উপ তথ‍্যমন্ত্রী।

১০জুন (বুধবার) চীনের চংচিং শহরে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন তারা। এবারের সিএমজি সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘গণমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার’।

চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শহর হিসেবে পরিচিত চংচিং-এ এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল যুগে তথ্য বিনিময়, কনটেন্ট শেয়ারিং এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এ ছাড়া, ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন, শান্তি ও জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।

তিনি দুই দেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ প্রদর্শন করা হয়।

এ আয়োজনের মাধ্যমে বৈশ্বিক গণমাধ্যম সহযোগিতা, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

হরমুজে নৌমাইনের আঘাতে তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
হরমুজে নৌমাইনের আঘাতে তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ

হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইনে ধাক্কা খেয়ে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান-অনুমোদিত নির্ধারিত রুট থেকে সরে যাওয়ার পর জাহাজটি মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে এ ঘটনায় এখনো ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় ট্যাংকারটি বিস্ফোরণের শিকার হয়।

তাসনিমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনীর নির্ধারিত নৌপথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার পর তেলবাহী জাহাজটি একটি নৌমাইনে আঘাত করে। এর ফলেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগে ইরান একাধিকবার সতর্ক করেছিল যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরানি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত পথ থেকে সরে গেলে এর দায় সংশ্লিষ্ট জাহাজকেই নিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।

এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কয়েকটি জাহাজ আটক ও হামলার ঘটনার পর জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে ইচ্ছুক সব জাহাজকে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি ইরান নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

কালের আলো/এসএ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে ২ সাংবাদিক ও ২৫ অভিনয়শিল্পীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে ২ সাংবাদিক ও ২৫ অভিনয়শিল্পীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দুই সাংবাদিক ও ২৫ জন নাট্যব্যক্তিত্ব এবং অভিনয়শিল্পীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি, সহযোগিতা ও প্ররোচনার অভিযোগ জমা দিয়েছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম নামে একটি সংগঠন। রোববার ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।

অভিযোগে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও সোমা ইসলাম রয়েছেন।

এছাড়া অভিনয়শিল্পী ও সংস্কৃতি অঙ্গনের ২৫ জনের মধ্যে রয়েছেন কারাবন্দী সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, অভিনেতা রিয়াজ আহমেদ, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, আশনা হাবীব ভাবনা, সাইমন সাদিক, সুজাতা আজিম, জায়েদ খান, আজিজুল হাকিম, চন্দন রেজা, মারিয়া কিসপট্টা, শান্তা ফারজানা, মোবিন মেহেদী এবং হিরো আলম।

অভিযোগ জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস। তিনি দাবি করেন, অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে প্ররোচনা, সহযোগিতা ও উসকানি দিয়েছেন। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তাঁর কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত বিষয়বস্তু তিনি তখনও পর্যালোচনা করেননি। তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগটি তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠানো হবে এবং তদন্ত সংস্থা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, অভিযোগ দাখিল করা মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি নয়। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসএ

রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার

রাজধানীতে চলাচলের সময় ১৮ জন মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ থাকা পুলিশের এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে রাজধানীতে কেবল ছয়জন মন্ত্রী ও একজন মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা বহর বা এসকর্ট সুবিধা পাবেন। তবে ঢাকার বাইরে সরকারি সফরের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সব মন্ত্রীর জন্য নিরাপত্তা ও পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের ব্যয় সাশ্রয়, যানবাহনের কার্যকর ব্যবহার এবং প্রটোকল বহর ছোট করার নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে যাঁরা রাজধানীতে এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা হলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তবে কোন নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সাতজনকে এসকর্ট সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় তাঁদের জন্য এই ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে।

ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি এসকর্ট গাড়িতে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল দায়িত্ব পালন করে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে রাজধানীতে এসকর্টের জন্য ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা ২৫টি থেকে কমে সাতটিতে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৯০ জন পুলিশ সদস্যকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য পুলিশি কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ১২০ জন সদস্য এ দায়িত্বে ছিলেন, এখন থাকবেন ৩০ থেকে ৩৫ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। জ্বালানি ব্যয় কমানো, পুলিশের যানবাহনের স্বল্পতা দূর করা, জনবলকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো এবং সরকারি প্রটোকল বহর ছোট করার নীতিই প্রধান বিবেচ্য ছিল। এছাড়া রাজধানীর যানজট কমাতেও এই পদক্ষেপ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীও নিজের বহর থেকে পুলিশের দুটি প্রটোকল গাড়ি বাদ দিয়েছেন। তাঁর নিরাপত্তায় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কেবল মোটরসাইকেল পাইলট টিম দায়িত্বে থাকছে।

ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, এসকর্ট সুবিধা সীমিত করার ফলে জ্বালানি ব্যয় কমবে, পাশাপাশি পুলিশ সদস্য ও যানবাহনের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। এতে মুক্ত হওয়া জনবল ও গাড়ি রাজধানীর নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

কালের আলো/এসএ