খুঁজুন
                               
, ,
           

অর্থনীতির দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
অর্থনীতির দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের অবনতি, ব্যাংকিং খাতের সংকট, ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব তুলে ধরে অর্থনীতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এটি প্রথম বাজেট। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও এটি প্রথম বাজেট।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের সময় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। কিন্তু তা বেড়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্পদের অসম বণ্টন, সুশাসনের অভাব এবং দুর্নীতির কারণে দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্যও বেড়েছে। ২০০৫ সালে আয়ভিত্তিক জিনি সহগ ছিল ০ দশমিক ৪৬৭, যা ২০২২ সালের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বেড়ে ০ দশমিক ৪৯৯ হয়েছে।

রাজস্ব আহরণের দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত এখনও প্রায় ৮ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। ২০০৫ সালে ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততার হার ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষে তা ঋণাত্মক হয়ে মাইনাস ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিও ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

পুঁজিবাজারের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং ভুল নীতির কারণে পুঁজিবাজার কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দেশের ঋণের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৬ সালে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালে তা প্রায় সাড়ে ছয় গুণ বেড়ে ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ ঋণ ৬৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ১৬ গুণের বেশি বেড়ে ১০ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় ছিল ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ১৩ গুণের বেশি বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী বাংলাদেশের ঋণঝুঁকির অবস্থান ‘নিম্ন’ ঝুঁকি থেকে ‘মধ্যম’ ঝুঁকির পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বৈদেশিক বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ২১ দশমিক ৬ এবং ১২ দশমিক ২ শতাংশ ছিল। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উভয় সূচকের প্রবৃদ্ধিই ঋণাত্মক হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ছিল ৬৮ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছেছে, যা বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

বাজেট বক্তৃতায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার গঠনের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ, কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি ও ভর্তুকির চাপ আরও বেড়েছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের সবচেয়ে বড় কর্মক্ষেত্র হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা প্রবাসী আয় ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, উচ্চ সুদহার, বাণিজ্য শুল্কের অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এসব বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা করেও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি থাকতে পারে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে সাড়ে ৭ শতাংশ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রন্ধনশিল্পী মাদিহাকে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফারুক হাসানের অভিনন্দন, আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ফাইনালে দেখার প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
রন্ধনশিল্পী মাদিহাকে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফারুক হাসানের অভিনন্দন, আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ফাইনালে দেখার প্রত্যাশা

আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’ প্রতিযোগিতার সেরা পাঁচ প্রতিযোগীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন কানাডিয়ান-বাংলাদেশি সমসাময়িক রন্ধনশিল্পী শেফ মাদিহা তুরশীন। প্রকৃতি, টেকসই উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যনির্ভর আধুনিক রন্ধনশৈলীর জন্য তিনি এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। বিশ্বজুড়ে রন্ধনশিল্পের অসাধারণ প্রতিভাকে তুলে ধরার লক্ষে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সেমিফাইনালে উন্নীত হওয়ায় মাদিহা তুরশিনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি হলেন ফারুক হাসান।

রোববার (২৬ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি রন্ধনশিল্পী শেফ মাদিহা তুরশীন এর অনন্য এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয় তুলে ধরেছেন। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়-মস্তিষ্ককে নাড়িয়ে দিয়েছেন। ফাইনালে তাকে দেখার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তাঁর জন্য ভোট প্রার্থনা করেছেন। মাহিদার পরিহিত শেফ-পোশাকটি বাংলাদেশে তৈরি এবং তাঁর বাবা এম এ মোত্তালিব খোকন এবং মা শামীমা নাসরিন চুমকি—উভয়েই দীর্ঘ সময় ধরে বিজিএমইএ-এর গর্বিত সদস্য বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মাদিহার জন্য প্রতিটি ভোট আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ খাদ্য ঐতিহ্য, প্রকৃতিনির্ভর সমসাময়িক রন্ধনশিল্প এবং টেকসই কুলিনারি দর্শনকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি হলেন ফারুক হাসান বলেন, ‘একজন আধুনিক ধারার শেফ, রন্ধন-অভিজ্ঞতা পরিকল্পনাকারী ও ফুড আর্টিস্ট হিসেবে মাদিহা ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। তাঁর এই অনন্য যাত্রার মাধ্যমে তিনি কেবল নিজের প্রতিভাই তুলে ধরছেন না, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও করছেন অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে। এই অর্জনের বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ তাঁর পরিহিত শেফ-পোশাকটি গর্বের সাথে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বা বাংলাদেশে তৈরি। এটি আমাদের দেশের বিশ্বখ্যাত পোশাক শিল্পের এক শক্তিশালী প্রতীক—যে শিল্প তার গুণমান, কারুকার্য, উদ্ভাবনী শক্তি এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকারের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।’

তিনি বলেন, ‘এই গর্বের মুহূর্তটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে এই বিষয়টি যে, মাদিহার বাবা এম এ মোত্তালিব খোকন এবং মা শামীমা নাসরিন চুমকি—উভয়েই দীর্ঘ সময় ধরে বিজিএমইএ-এর গর্বিত সদস্য। এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সাথে তাঁদের গভীর সম্পৃক্ততারই প্রতিফলন—যে শিল্প বিশ্বজুড়ে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল করে চলেছে। আপনাদের অনেকের ভোটেই তিনি সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছেন। আজ মাদিহার আবারও আমাদের সমর্থন প্রয়োজন। আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি ভোট প্রদানের মাধ্যমে তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠতে সহায়তা করার জন্য। প্রতিটি ভোটই হলো বাংলাদেশের জন্য, আমাদের প্রতিভার জন্য এবং আমাদের গর্বের জন্য একটি ভোট।’

ভোটারদের উদ্দেশ্যে ফারুক হাসান আরও বলেন, ‘আপনাদের সমর্থনে তিনি (মাদিহা তুরশীন) নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে পারবেন। অন্যদের এমন উদ্যোগে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের দেশের সুনাম আরও সুদৃঢ় করতে পারবেন। আমি মাদিহা তুরশিনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। আসুন, আমরা সবাই মিলে তাঁর পাশে দাঁড়াই এবং এই বৈশ্বিক স্বীকৃতিকে বাংলাদেশে বয়ে আনতে সহায়তা করি।’

ভোট দেওয়ার নিয়মাবলী

• কিউআর (QR) কোডটি স্ক্যান করুন অথবা ভোটিং পেজটি ভিজিট করুন (favchef.com/2026/madiha-turshin)।
• কমলা রঙের ‘Vote’ বোতামটিতে ট্যাপ করুন।
• “1 Vote – Free” অপশনটি নির্বাচন করুন।
• ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার ভোটটি ভেরিফাই বা নিশ্চিত করুন—এতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগবে।
• প্রতি ২৪ ঘণ্টা পর পর ফিরে আসুন এবং আবারও বিনামূল্যে ভোট দিন।

কালের আলো/জেএন/এএইচ

নতুন কুঁড়ির প্রথম আসরের পর্দা নামছে সোমবার, পুরস্কার দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
নতুন কুঁড়ির প্রথম আসরের পর্দা নামছে সোমবার, পুরস্কার দেবেন প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ রোমাঞ্চকর পথচলা শেষে পর্দা নামতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’-এর প্রথম আসরের। আগামীকাল সোমবার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দেশব্যাপী আয়োজিত এই বিশাল ক্রীড়া উৎসবের জাতীয় পর্বের গ্র্যান্ড ফাইনাল ও জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

সোমবার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হতে যাওয়া এই সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের খুদে ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতে মাঠের কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিকেল ৪টায় ভেন্যুতে আগমনের পর প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মধ্যে অনুষ্ঠিত বালিকা বিভাগের ফুটবল ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধ উপভোগ করবেন। ফুটবল ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত হবে বালক ও বালিকা বিভাগের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল।

খেলা শেষে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং থিম সং-এর সাথে শিশু শিল্পীদের মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা উপভোগ করবেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। প্রধান অতিথির দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের পর বিজয়ী খুদে অ্যাথলেটদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে এবং তাদের সাথে অফিশিয়াল ফটো সেশনে অংশ নেবেন অতিথিবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এই ক্রীড়া মেগার আঞ্চলিক পর্বের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের সকল উপজেলা ও জেলা থেকে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার শিশু-কিশোর ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টস—এই ৮টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়।

আঞ্চলিক পর্ব পেরিয়ে গত ২০ জুলাই ঢাকার বিভিন্ন ভেন্যুতে শুরু হওয়া জাতীয় পর্বে ১০টি অঞ্চলের প্রায় ১,৭০০ ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা অংশ নেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা খেলোয়াড়দের ইতোমধ্যে বিশেষ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাছাইকৃত এসব খুদে প্রতিভাকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) বিভিন্ন শাখায় রেখে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

পাশাপাশি এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কোমলমতি শিশুদের ডিজিটাল গ্যাজেট আসক্তি থেকে মুক্ত করে পুনরায় খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনা।

কালের আলো/এসএকে

ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ৪৫৮

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ৪৫৮

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৫৮ জন রোগী।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৮ জন।

রোববার (২৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৭২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৮ জন, খুলনা বিভাগে ৪৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৬ জন, রংপুর বিভাগে ১০ জন এবং বরিশালে বিভাগে ৯৯ জন রয়েছেন।

এদিকে চলতি বছরে মোট ১১ হাজার ৯৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এর আগে গত বছর দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং মারা গিয়েছিলেন মোট ৪১৩ জন।

কালের আলো/এমএসআইপি