খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বাজেটে সরকারের মূলনীতি ও ‘থ্রি-আর’ কৌশল জানালেন উপদেষ্টা মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
বাজেটে সরকারের মূলনীতি ও ‘থ্রি-আর’ কৌশল জানালেন উপদেষ্টা মাহদী আমিন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে তিন ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রাধিকার নির্ধারণে চারটি বিষয়কে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি জানান, অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে বাজেটে ঘোষিত পরিকল্পনা তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, যা ‘থ্রি-আর স্ট্র্যাটেজি’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

‘থ্রি-আর’ স্ট্র্যাটেজি

১. রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন:
অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার এ কার্যক্রমের মেয়াদ এক বছর।

২. রেস্টোরেশন:
অর্থনীতির উত্তরণ ও কাঠামোগত সংস্কারের এ ধাপ বর্তমান সরকারের প্রথম থেকে তৃতীয় বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

৩. রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন:
দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিনিয়োগের চার মূলনীতি

মাহদী আমিন জানান, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রকল্প নির্বাচন ও বাস্তবায়নে সরকার চারটি বিষয়কে প্রধান বিবেচনায় রেখেছে—

১. ভ্যালু ফর মানি:
সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।

২. রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট:
জনগণের অর্থ যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, সেগুলোর অর্থনৈতিক সুফল মূল্যায়ন করা।

৩. জব ক্রিয়েশন:
সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

৪. এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন:
প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

বাজেটের ১০ প্রধান অগ্রাধিকার

প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়নে সরকার ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো—

১. সবার জন্য উন্নয়ন
২. সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা
৩. সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা
৪. বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি
৫. বিনিয়ন্ত্রণকরণ
৬. আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা
৭. জ্বালানি নিরাপত্তা
৮. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ
৯. প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা
১০. স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

এছাড়া অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে তিন ধরনের ‘ডিভিডেন্ড’ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো: ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড, লংজিভিটি ডিভিডেন্ড এবং ডেমোক্রেটিক ডিভিডেন্ড।

প্রসঙ্গত, প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মাহদী আমিন বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বাজেটে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম কমানো হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু 

টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
বাজেটে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম কমানো হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু 

চলতি বাজেটে বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট ঘোষণা করেছেন তা বাস্তবভিত্তিক এবং দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে টাঙ্গাইলের জরাজীর্ণ ভাসানী হল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এটি উদ্বোধন করেছিলেন।

তিনি বলেন, টাঙ্গাইলকে এক সময় সাংস্কৃতিক নগরী বলা হতো। সেই নগরীতে এভাবে একটি মিলনায়তন পড়ে থাকবে তা হতে পারে না। ভাসানী হল ছিল টাঙ্গাইলের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম কেন্দ্র। এই হলকে ঘিরে নাটক, সংগীত, আলোচনা সভাসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হতো। ফলে টাঙ্গাইল সারাদেশে একটি সাংস্কৃতিক নগরী হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ভবনটি তার জৌলুস হারিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঐতিহাসিক এই ভবনটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। ফলে ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়। ঐতিহ্যবাহী এ স্থাপনাটিকে পুনরুজ্জীবিত করে টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, ভাসানী হলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাওলানা ভাসানী। তার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য জরাজীর্ণ ভবনটি সংস্কার করা হবে। সবার সহযোগিতায় টাঙ্গাইলকে আধুনিক মডেল টাউন হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

এ সময় গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

৮৯ দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৬৪৩ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
৮৯ দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৬৪৩ জনের

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬৪৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৫১ জনের। নিশ্চিত হামে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯২ জন।

শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২৭ জন। অন্যদিকে গত এক দিনে হাম আক্রান্ত রোগী ১২৪ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ২৬৬ জনে। মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৮৫ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৫ হাজার ২৭৫ জন।

হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) দেশে আরও একজন শিশু মারা গেছে। এ সময়ে সারা দেশে আরো ১ হাজার ১৫৩ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৫১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯২ শিশু। মোট মারা গেছে ৬৪৩ শিশু।

কালের আলো/এসএকে

হঠাৎ বৃষ্টিতে রাজধানীতে স্বস্তি, কোথাও ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
হঠাৎ বৃষ্টিতে রাজধানীতে স্বস্তি, কোথাও ভোগান্তি

সারাদিন রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার পর শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে হঠাৎ করেই রাজধানীর আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। এরপর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় বৃষ্টি, যা অনেক স্থানে মুষলধারে বর্ষণে রূপ নেয়। কোথাও কোথাও বজ্রপাতও দেখা গেছে।

রামপুরা, বনশ্রী, মালিবাগ, মগবাজার, বেইলি রোড, কাকরাইল, শান্তিনগর, মতিঝিল, পল্টন, কমলাপুর, শাহজাহানপুর, বাংলামোটর, শাহবাগ, পান্থপথ, ধানমন্ডি ও গ্রিন রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে।

হঠাৎ বৃষ্টিতে অনেক সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায়। কর্মস্থল থেকে ফেরা ও বাইরে থাকা মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেককে আশ্রয়ের খোঁজে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনার নিচে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ভারি বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে রাস্তায় পানি জমে গেছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি