খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যথেষ্ট বরাদ্দ নেই: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যথেষ্ট বরাদ্দ নেই: সিপিডি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সংস্থাটির মতে, বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও সামগ্রিক রাজস্ব ও প্রণোদনা কাঠামো এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিকেই বেশি সুবিধা দিচ্ছে। ফলে দেশের জ্বালানি রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জন এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণের পথে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কী পেল?’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তী।

সিপিডির বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বরাদ্দের মাত্র ২ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি ৯৮ শতাংশ বরাদ্দ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় হবে।

সংস্থাটি মনে করে, এই চিত্র সরকারের প্রশাসন ও জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিকেন্দ্রিক মানসিকতার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। তবে সামগ্রিক জাতীয় বাজেটে এ খাতের অংশ কমে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের বরাদ্দ কমে ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কম। অন্যদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বরাদ্দ প্রায় ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিপিডির মতে, মূলত গ্যাস অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও উত্তোলন কার্যক্রমে জোর দেওয়ার কারণেই এই বৃদ্ধি ঘটেছে। তবে বাজেটে প্রথমবারের মতো সৌরবিদ্যুৎ খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ করহার বা কর অবকাশের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তারা সৌরবিদ্যুতের বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রিবেট সুবিধা পাবেন।

‘এছাড়া সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের কাঠামো এবং বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক কন্ডাক্টরের ওপর বিদ্যমান উচ্চ করহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যে ৬২ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত করভার থাকলেও তা কমিয়ে ২৬ থেকে ৩৮ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ওপর করভার ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ, সোলার ইনভার্টারের কর ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সোলার প্যানেলের কর ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২২ দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং স্টেশনের ওপর আরোপিত কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং নিবন্ধন ফি কমানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে সিপিডি।

তবে সংস্থাটি বলছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য কিছু সুবিধা বাড়ানো হলেও একই সময়ে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক খাতেও উল্লেখযোগ্য কর ও শুল্ক সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। বাজেটে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি অব্যাহত রয়েছে, যা একে দেশের অন্যতম কম করযুক্ত জ্বালানি হিসেবে ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানিতে শুল্ক সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নতুন করে গুরুত্ব দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিপিডির মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তর কৌশল এবং জলবায়ুবান্ধব উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সরকার একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে উৎসাহিত করার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির জন্যও বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও কর-সুবিধা অব্যাহত রাখছে। ফলে নীতিগতভাবে একটি দ্বৈত অবস্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, যখন সরকার উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি না করার কথা বলছে, তখন একই সঙ্গে এলএনজির জন্য কর-সুবিধা বজায় রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে নতুন কয়লা অনুসন্ধান এবং কয়লা আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দীর্ঘমেয়াদি শুল্ক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট রাজস্ব কাঠামোর বিদ্যমান বৈষম্য পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক খাতগুলো এখনো তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছে। টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে হলে ভবিষ্যতে এসব বৈষম্য কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ ও প্রণোদনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, ডেমোক্রেটিক বাজেট মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা এবং ইডকলের চিফ রিস্ক অফিসার মোহাম্মদ জাবেদ ইমরানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দৌলতপুরে বন্যার অবনতি, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি-রাস্তাঘাট

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
দৌলতপুরে বন্যার অবনতি, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি-রাস্তাঘাট

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ। একই সঙ্গে বন্যার পানিতে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১৩ দশমিক ০২ মিটার রেকর্ড করা হয়। এ পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে পানি ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। ১৮ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও পানি দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৯০ মিটার। এ পয়েন্টে বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৫২ মিটার। পাউবো জানিয়েছে, সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে।

পানির নিচে রাস্তাঘাট, দুর্ভোগে মানুষ

চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।

বসতবাড়ির আশপাশে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের আশঙ্কা।

তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ

ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।

১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত

বন্যার পানিতে যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।

বন্যার সঙ্গে নদীভাঙনের আতঙ্ক

পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগরসহ কয়েকটি এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। পানিবন্দী মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পানি কমার আশা

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে পানি কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পানিবন্দী মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তার জন্য জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি

সরকারের ‘কোর টিমে’ তিন মন্ত্রীর দৃশ্যমানতা

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সরকারের ‘কোর টিমে’ তিন মন্ত্রীর দৃশ্যমানতা

জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিন মন্ত্রী—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা.আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত করেছে সরকার। নতুন এই দায়িত্ব বণ্টনে সরকারের নীতিনির্ধারণী ও সংসদীয় কার্যক্রমে তাদের ওপর সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বাধীন মন্ত্রণালয়-বিভাগসহ যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিয়োগপ্রাপ্ত নেই, সেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি নির্ধারিত বিকল্প মন্ত্রীরা পরিচালনা করবেন।

রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশনের সংসদীয় দায়িত্বে ড.মঈন খান
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংসদীয় কার্যাবলি পরিচালনার দায়িত্ব। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব একসঙ্গে পাওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত হওয়ায় সংসদীয় কার্যক্রমে মঈন খানের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার অনুপস্থিতিতে এ দায়িত্ব পালন করবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সালাহউদ্দিনের হাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা
নতুন দায়িত্ব বণ্টনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। রাষ্ট্র পরিচালনার দিক থেকে এই চারটি ক্ষেত্রই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কৌশলগত। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে দায়িত্ব পাওয়া সরকারের অভ্যন্তরে সালাহউদ্দিন আহমদের ওপর আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার অনুপস্থিতিতে এসব দায়িত্ব পালন করবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

জাহিদের ভূমিকাও হচ্ছে আরও গুরুত্বপূর্ণ
নতুন দায়িত্ব বণ্টনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অনুপস্থিতিতে বিকল্প দায়িত্ব তার ওপর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক নীতির দায়িত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সংসদীয় ব্যবস্থাপনাতেও জাহিদের ভূমিকা থাকছে।রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি তার ওপর সরকারপ্রধান তারেক রহমানের গভীর আস্থার একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে বিকল্প দায়িত্বের তালিকায় তার অবস্থান তাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারীদের একজন হিসেবে সামনে এনেছে।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস
এর আগে ২৪ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা ওই প্রজ্ঞাপন পরে বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়।সেই তালিকার ধারাবাহিকতায় এবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নতুনভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলো। এর মাধ্যমে সংসদ অধিবেশন চলাকালে কোনো মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রম যাতে থেমে না থাকে, সে ব্যবস্থাই নিশ্চিত করছে সরকার।

সরকারে তিন মন্ত্রীর অবস্থানের গুরুত্ব
সামগ্রিকভাবে নতুন দায়িত্ব বণ্টনকে শুধু প্রশাসনিক রুটিন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রতিরক্ষা, মন্ত্রিপরিষদ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ ও ডা.আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের ভূমিকা নির্ধারণ সরকারের ভেতরে তাদের অবস্থানের গুরুত্বই তুলে ধরে।

ড. মঈন খান দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও সংসদীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব পেয়েছেন সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামোর একটি বড় অংশের। আর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের ওপর অর্পিত বিকল্প দায়িত্ব তাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও সমন্বয় কাঠামোর আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। অর্থাৎ নতুন দায়িত্ব বণ্টনে শুধু দায়িত্বের পরিধিই বাড়েনি; সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সংসদীয় কার্যক্রমে এই তিন মন্ত্রীর আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকর ভূমিকার পরিসরও আরও দৃশ্যমান হয়েছে। সংসদ অধিবেশন চলাকালে তাদের এই বর্ধিত দায়িত্ব সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে মাঠে নামছে ডিএনসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে মাঠে নামছে ডিএনসিসি

ভয়ানক হয়ে ওঠা ডেঙ্গু জ্বর ও এর জীবাণুবাহিত এডিস মশা প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে জীবানু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাড়ি পরিদর্শন, সোর্স রিডাকশন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আগামীকাল থেকে ডিএনসিসির তত্ত্বাবধানে ১ হাজার ৫০০ সদস্যকে ২৪টি দলে ভাগ করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এসব দল ডিএনসিসির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস এবং নগরবাসীর মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানান ডিএনসিসির মুখপাত্র জাকির হোসেন।

তিনি জানান, জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পরপরই ডিএনসিসির উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হবে।

জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি স্টল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায়, করণীয় এবং এডিস মশার প্রজননস্থল সম্পর্কে নগরবাসীকে ধারণা দিতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক উপকরণ প্রদর্শন করা হবে।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বিশেষ মশকনিধন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বিশেষ করে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা, জমে থাকা পানির উৎস অপসারণ, সোর্স রিডাকশন এবং লার্ভা নিধনে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ডিএনসিসি জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশকনিধন কার্যক্রম নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন করাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ কারণে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করার পাশাপাশি নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি