খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রকাশ হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার ১৪ দফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
প্রকাশ হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার ১৪ দফা

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি সম্পাদিত বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পূর্ণাঙ্গ ১৪ দফা অবশেষে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

কয়েকদিন ধরে নথিটির বিস্তারিত গোপন রাখার কারণে সমালোচনা বাড়তে থাকলে বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিষয়বস্তু জনসমক্ষে আনে।

মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চুক্তির প্রধান বিষয়গুলো তুলে ধরে জানান, এতে হরমুজ প্রণালি দ্রুত চালু করা, ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিটুইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা অ্যান্ড দ্য ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’ শিরোনামের এ সমঝোতায় আগামী ১৯ জুন আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

স্বাক্ষরের পর উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ৬০ দিনের আলোচনার সুযোগ পাবে। এর আগে সংবাদমাধ্যম সিএনএন যে খসড়া প্রকাশ করেছিল, প্রকাশিত সরকারি নথির সঙ্গে তার উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া গেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দ্রুত উন্মুক্ত করা হবে এবং ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে উৎপন্ন বর্জ্য অপসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। এর বিনিময়ে তেহরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে ওয়াশিংটন ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সুবিধা ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগ বাড়াবে।

প্রকাশিত ১৪ দফার প্রথম ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের সংশ্লিষ্ট মিত্ররা লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সব ধরনের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করবে। পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ বা সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধারায় দুই দেশ পরস্পরের স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করেছে। তৃতীয় ধারায় ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও পারস্পরিক সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যাবে।

চতুর্থ ও পঞ্চম ধারায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক চলাচলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সমঝোতা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে, যা ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

একই সময়ে ইরান পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করবে। সমুদ্রপথে থাকা মাইন ও অন্যান্য বাধা অপসারণের কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম ধারায় বলা হয়েছে, ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং তার আঞ্চলিক অংশীদাররা অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়টি চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হবে।

পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত অষ্টম ধারায় ইরান পুনরায় জানিয়েছে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। দেশটির মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক চাহিদা কীভাবে পূরণ হবে, তা আইএইএ’র তত্ত্বাবধানে চূড়ান্ত চুক্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

নবম ধারায় বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকবে। এ সময় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করবে না।

দশম ও একাদশ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি, ব্যাংকিং কার্যক্রম, বীমা এবং পরিবহন খাতে বিশেষ ছাড় দেবে। একই সঙ্গে ইরানের স্থগিত বা জব্দ করা সম্পদ ও তহবিল ধাপে ধাপে মুক্ত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

শেষ তিনটি ধারায় সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য একটি তদারকি কাঠামো গঠনের কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু প্রাথমিক শর্ত বাস্তবায়নের পর বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে হোয়াইট হাউস এই সমঝোতা স্মারককে মূলত একটি রাজনৈতিক দলিল হিসেবে উল্লেখ করে এর গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার সব গোপন বোঝাপড়ার পূর্ণ প্রতিফলন নয়।

অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম আগে ফাঁস হওয়া খসড়ার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তবে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ
শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নগরের সদরঘাট থানায় দশ বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় মো.আকতার সর্দার (২৪) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।

মো.আকতার সর্দার সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার কুকড়াপর্শি এলাকার কাদের সর্দার বাড়ির মো.সাত্তার সর্দারের ছেলে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নগরের সদরঘাট থানাধীন পূর্ব মাদারবাড়ী সাহেবপাড়া এলাকার ইউনুছ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

শিশুর পিতা একটি জুতার কারখানায় এবং মা একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে শিশুটি নগরের পূর্ব মাদারবাড়ীর সাহেবপাড়ার নার্গিস কলোনির একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতো।

অভিযুক্ত মো.আকতার সর্দার প্রতিবেশী হওয়ায় প্রায়ই বাসায় যাতায়াত করতো এবং শিশুটিকে বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতো। ২০২২ সালের ২ জুলাই সকালে শিশুটির বাবা-মা কর্মস্থলে গেলে বিকেল দিকে বাসায় একা থাকা শিশুটির কাছে যায় অভিযুক্ত।

এ সময় সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেয়। ঘটনার পর ভয়ভীতির কারণে শিশুটি কাউকে কিছু জানায়নি। পরে ৬ জুলাই বিকেলে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। শিশুটি তখন মাকে জানায়, কয়েকদিন আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসায় ঢুকে তাকে মারধর করে এবং কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে পরীক্ষা করে শারীরিক আঘাতের আলামত দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শিশুর বাবা মনির হোসেন সদরঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বাংলানিউজকে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো.আকতার সর্দারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। সাজা পরোয়ানা মূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ও বিক্ষোভের বিষয়ে সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো বিষয় দেখেনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিকভাবে সবার কথা বলার ও প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা রয়েছে।

তবে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে সরকারের আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য নেই।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি শারীরিক কারণ দেখিয়ে সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগপত্রে বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে এবং সাংবিধানিক বিধান অনুসারে তা জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়।

স্পিকার তা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে তিনি অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে সংবিধান অনুযায়ী বিশেষ সুবিধা (প্রিভিলেজ) ও দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) ভোগ করেন।

দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তবে দায়িত্বের বাইরের কোনো বিষয়ে কেউ অভিযোগ বা বক্তব্য দিলে তা আইন অনুযায়ী বিবেচিত হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতির একটি কথিত অডিও রেকর্ড প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তারা শুধু পত্রিকায় দেখেছেন। এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। তিনি বলেন, কোনো পত্রিকা যদি এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করে, তাহলে তাদের কাছে কী তথ্যপ্রমাণ আছে, সেটি তাদেরই জিজ্ঞেস করতে হবে। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।

সাবেক রাষ্ট্রপতির অতীত দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে যদি কোনো বিষয় থেকে থাকে, তা সে সময়কার আইন ও বিধি অনুযায়ী বিবেচিত হবে। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আইন অনুযায়ী যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, সেগুলো তিনি পাবেন।

তিনি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার জন্য আইন অনুযায়ী ছয় মাস পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা রয়েছে। এ সময় তিনি এসএসএফ, পিজিআরসহ নির্ধারিত নিরাপত্তা পাবেন। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

সরকার এক সপ্তাহের বেশি টিকবে না, এক বিরোধী নেতার এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এক সপ্তাহ পরে কী হয়, সেটার জন্য অপেক্ষা করি। সব বিষয়ে মন্তব্য করার মতো যোগ্য আমি নই।

রাজধানীর মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্তৃপক্ষের চাওয়া তথ্য সরকার দ্রুত পাঠাচ্ছে। প্রথম দফায় ৩০ দিনের মধ্যে যেসব নথি চাওয়া হয়েছিল, সেগুলো তিন দিনের মধ্যেই পাঠানো হয়। পরে সংশ্লিষ্ট আদালত আরও কিছু তথ্য চেয়েছে। সেগুলোর জবাবও এক-দুদিনের মধ্যে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

জুলাই-আগস্টের ঘটনায় স্নাইপার রাইফেল ও ৭ দশমিক ৬২ ক্যালিবারের গুলি ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য দেখে সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২৬ জুলাই) সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

এ সময় দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর এই ত্যাগের জন্য সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

এর আগে সেনাবাহিনী সদর দফতরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১ম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল হতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল হতে কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।

পদোন্নতি পর্ষদের বক্তব্যে শুরুতেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন তারেক রহমান।  এছাড়াও, তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে সব আহত ও শহীদ সেনা সদস্যদের।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনাবাহিনীর শহীদসহ সব বীর সেনানীদের জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান এবং চীফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় সেনাবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি